| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   জাতীয় -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
নারায়ণগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: ডিএনএ পরীক্ষায় ৪৫ জনের পরিচয় শনাক্ত

কাউসার আহমেদ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুডস লি. কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনে পুড়ে নিহতদের মধ্যে পঁয়তাল্লিশ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি।

সংস্থাটি অচিরেই আলাদাভাবে নিহতদের প্রত্যেকের পরিচয়ের তালিকা প্রকাশ করবে। এমনকি সেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

রোববার (০১ আগস্ট) রাতে সময় নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন আগুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি’র অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।
সময় নিউজকে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর থেকে আমরা সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব ও প্রাধান্য দিয়ে নিবিড়ভাবে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি, যা তদন্তের প্রতিবেদন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সবকিছু খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে আগুনের সূত্রপাত ও পরবর্তীতে এতোগুলো মানুষের প্রাণহানি কেন হলো সেই প্রশ্নকে সামনে এনে আমরা তদন্ত কাজ করছি।
ইতোমধ্যে তদন্তের বেশ অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, আমরা আশা করছি সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণাদিসহ স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে সক্ষম হবো।
 
পরিচয় শনাক্ত হওয়া লাশগুলোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা পঁয়তাল্লিশটি লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছি। বাকীগুলো খুব শিগগিরই ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। এই ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লাশের পরিচয়সহ পূর্ণ তালিকা বুঝিয়ে দেব। পরে জেলা প্রশাসক সেই তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ নির্দিষ্ট স্বজনদের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করবেন।
এ ব্যাপারে সিআইডির নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন সময় নিউজকে বলেন, আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও তদন্ত প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত কাজ করছি। যার কাছ থেকে যা যা তথ্য পেয়েছি সবগুলো গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে তদন্ত কাজ করছি।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ সময় নিউজকে বলেন, সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে কিনা বিষয়টি আমাকে এখনও নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। তবে সিআইডি যদি ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সবার পরিচয় শনাক্ত করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে আমারা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সেগুলো বুঝে নিয়ে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবো। লাশ দাফনের জন্য নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
গত ৮ জুলাই রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড কারখানায় আগুনে পুড়ে ৪৮ ও ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়। ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত তিনজন ঢাকা মেডিকেলে মারা গেলে তাদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় তখনই স্বজনদের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়। পরে ভবন থেকে উদ্ধার ৪৮ জনের লাশগুলো আগুনে এতটাই পুড়ে যায় যে দেখে চেনা বা শনাক্ত করা তখন সম্ভব হয়নি। যে কারণে ওই লাশগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেম, তার চার ছেলেসহ আটজনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করলে ওই মামলায় গত ১০ জুলাই আবুল হাসেম, তার চার ছেলেসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলাটি অধিক তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অপরদিকে, স্বজনরা এখন পর্যন্ত লাশ বুঝে না পেলেও হাসেম ফুড বেভারেজের মালিক আবুল হাসেম, ও তার চার ছেলে জামিনে মুক্তি  পেয়েছেন। হাসেম ফুডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহান শাহ আজাদ, উপ-মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: ডিএনএ পরীক্ষায় ৪৫ জনের পরিচয় শনাক্ত
                                  

কাউসার আহমেদ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুডস লি. কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আগুনে পুড়ে নিহতদের মধ্যে পঁয়তাল্লিশ জনের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি।

সংস্থাটি অচিরেই আলাদাভাবে নিহতদের প্রত্যেকের পরিচয়ের তালিকা প্রকাশ করবে। এমনকি সেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

রোববার (০১ আগস্ট) রাতে সময় নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন আগুনের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি’র অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন।
সময় নিউজকে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর থেকে আমরা সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব ও প্রাধান্য দিয়ে নিবিড়ভাবে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীসহ সংশ্লিষ্ট অনেকের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি, যা তদন্তের প্রতিবেদন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সবকিছু খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে আগুনের সূত্রপাত ও পরবর্তীতে এতোগুলো মানুষের প্রাণহানি কেন হলো সেই প্রশ্নকে সামনে এনে আমরা তদন্ত কাজ করছি।
ইতোমধ্যে তদন্তের বেশ অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি ইমাম হোসেন বলেন, আমরা আশা করছি সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণাদিসহ স্বল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে সক্ষম হবো।
 
পরিচয় শনাক্ত হওয়া লাশগুলোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে আমরা পঁয়তাল্লিশটি লাশের পরিচয় শনাক্ত করতে পেরেছি। বাকীগুলো খুব শিগগিরই ডিএনএ পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। এই ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন হলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কাছে লাশের পরিচয়সহ পূর্ণ তালিকা বুঝিয়ে দেব। পরে জেলা প্রশাসক সেই তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ নির্দিষ্ট স্বজনদের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করবেন।
এ ব্যাপারে সিআইডির নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন সময় নিউজকে বলেন, আমাদের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ ও তদন্ত প্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মাঠ পর্যায়ে তদন্ত কাজ করছি। যার কাছ থেকে যা যা তথ্য পেয়েছি সবগুলো গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করে তদন্ত কাজ করছি।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ সময় নিউজকে বলেন, সিআইডির ফরেনসিক বিভাগ লাশের পরিচয় শনাক্ত করেছে কিনা বিষয়টি আমাকে এখনও নিশ্চিত করে জানানো হয়নি। তবে সিআইডি যদি ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে সবার পরিচয় শনাক্ত করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে আমারা একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে সেগুলো বুঝে নিয়ে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবো। লাশ দাফনের জন্য নিহত ব্যক্তির পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
গত ৮ জুলাই রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় হাসেম ফুড কারখানায় আগুনে পুড়ে ৪৮ ও ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়। ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত তিনজন ঢাকা মেডিকেলে মারা গেলে তাদের পরিচয় শনাক্ত হওয়ায় তখনই স্বজনদের কাছে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়। পরে ভবন থেকে উদ্ধার ৪৮ জনের লাশগুলো আগুনে এতটাই পুড়ে যায় যে দেখে চেনা বা শনাক্ত করা তখন সম্ভব হয়নি। যে কারণে ওই লাশগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিকে, এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানার ভুলতা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে কারখানার মালিক আবুল হাসেম, তার চার ছেলেসহ আটজনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করলে ওই মামলায় গত ১০ জুলাই আবুল হাসেম, তার চার ছেলেসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলাটি অধিক তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অপরদিকে, স্বজনরা এখন পর্যন্ত লাশ বুঝে না পেলেও হাসেম ফুড বেভারেজের মালিক আবুল হাসেম, ও তার চার ছেলে জামিনে মুক্তি  পেয়েছেন। হাসেম ফুডসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহান শাহ আজাদ, উপ-মহাব্যবস্থাপক মামুনুর রশিদ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে রয়েছেন।
দশ বছরের ভাইটাকেও সবশেষে হত্যা করে ঘাতকরা: শেখ হাসিনা
                                  

জাতির পিতার পরিবারের কেউ যেন আর বেঁচে না থাকে, পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে সেভাবেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড চালায় ঘাতকরা। দশ বছরের ভাইটাকেও সবশেষে হত্যা করে তারা। আবেগাপ্লুত কণ্ঠে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (০১ আগস্ট) সকালে শোকাবহ আগস্টের সূচনাতে ধানমন্ডির বত্রিশ নম্বরে বাংলাদেশ কৃষক লীগ আয়োজিত রক্তদান ও অসচ্ছলদের জন্য খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
 

এসময় নিজ পরিবারের সদস্যদের হারানোর বেদনার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘাতকরা সেদিন মা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, দুই ভাই,  ভাইয়ের বৌকে হত্যা করে। আবেগজড়ানো কণ্ঠে তিনি বলেন, দশ বছরের ছোট ভাইটাকেও সবশেষে হত্যা করে ঘাতকরা।
 
তিনি বলেন, সেদিনের হত্যাকাণ্ড কেবল একটি বাড়িতে হয়নি। সেদিন যুব নেতা শেখ ফজলুল হক মনিকে হত্যা করা হয়। কর্নেল জামিল, যিনি খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছিলেন তাকেও হত্যা করা হয়। ঘাতকদের আক্রমণে সেদিন ফুফু ও ফুফাতো বোন বেঁচে গেলেও তারা আছেন পঙ্গু হয়ে।
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় ছোট বোন শেখ রেহানা ও তিনি জার্মানিতে ছিলেন। ৩১ জুলাই সেখানে পৌঁছান তারা। আর ১৫ আগস্ট এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। এমন কিছু ঘটতে পারে এবং এই দুঃসংবাদ পাবেন এটি ভাবতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে, একটি আশঙ্কা ছিল বলেও জানান তিনি।
 
এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাওয়ার অধিকারও সেদিন ছিল না জানিয়ে গভীর দুঃখের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করা হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বিচারের ব্যবস্থা করা হয় বলে জানান তিনি।
 
 
এসময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পনের আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের নাম পরিবর্তন করে ইসলামী রাষ্ট্র, বাংলাদেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে, এটি টিকাতে পারেনি তারা।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। তবে হত্যার পেছনে যে ষড়যন্ত্র রয়েছে, বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্যের সেই ষড়যন্ত্রও একদিন উন্মোচিত হবে। জড়িতদের বিচার হবে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, তবে তার আগে এদেশের মানুষের জীবনমান উন্নত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
ডেঙ্গু: মন্ত্রী দিলেন ভয়, মেয়রের অভয়
                                  

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম নিজস্ব প্রতিনিধি

করোনা(কোভিড-১৯) মহামারির মধ্যেই রাজধানীর হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। বাড়ছে আক্রান্তের হারও। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। যদিও ২০১৯ সালের মতো ডেঙ্গু পরিস্থিতি অতটা খারাপ না বলে দাবি মেয়রদের। সেসময় জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার। বর্তমানে তা ১৬০০’র মতো।

তবে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে বৃষ্টির প্রবণতা বেশি থাকায় পানি জমে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এমন বাস্তবতায় দুই সিটি করপোরেশনই তৎপর মাঠে। অভিযান চলছে বিভিন্ন স্থাপনায়।
 
এ কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের আরও সম্পৃক্ত করতে দক্ষিণ সিটির নগরভবনে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন ৭৫ কাউন্সিলর। সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রতিটি ওয়ার্ডকে কয়েকটি এলাকায় ভাগ করে এডিসের লার্ভা নিধন অভিযানের আহ্বান জানান।
 
 
মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন,  ডেঙ্গু রোগীর ৩১ শতাংশ ঢাকা উত্তর সিটিতে আর বাকিটা দক্ষিণের। অর্থাৎ দক্ষিণ সিটিতে ডেঙ্গু প্রকোপ তুলনামূলক অনেক বেশি। তাই কাউন্সিলরদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে।
 
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি কর্পোরেশনের জন্য আলাদা বরাদ্দ রেখেছে। তিনি দুই সিটির মেয়রদের ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন তারা মাঠে আছেন এবং অনেক উদ্যোমী।
 
মন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। অদৃশ্য জীবাণুর সাথে লড়াই যেহেতু করছি তাই ডেঙ্গুর বাহক দৃশ্যমান এডিস মশা নিধন করা সম্ভব। প্রয়োজনে আরও কঠোর অবস্থানে যাওয়া হবে। এডিসের উৎস খুঁজে পেলে দায়ী ব্যক্তিদের জেল জরিমানায় ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেন তাজুল ইসলাম।
 
তার মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিকদেরও সচেতনভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কেউ মরতে চাইলে সরকার তাকে বাঁচাতে পারবে না। কারণ ঢাকা সিটিতে ২ কোটির বেশি মানুষ বাস করে। এত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা খুব কঠিন কাজ।
 
নগর ভবনে সোমবারেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সহায়তা ও পর্যবেক্ষণে একটি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হবে বলে জানান দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।
 
তিনি বলেন, দক্ষিণ সিটির ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও আশঙ্কাজনক নয়। তারপরও এটাকে গুরুত্ব দিয়ে কাউন্সিলরদের এলাকা ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে ডেঙ্গুর উৎস খুঁজে লার্ভা নিধন অভিযান পরিচালনা করতে বলা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের জনবল তাদের সঙ্গে থাকবে। আমরা চাই আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন হোক, আক্রান্তের হার কমে আসুক আরও। 

এক্ষেত্রে সর্বাধুনিক পদ্ধতিই ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি তার। তিনি বলেন, লার্ভার উৎস খুঁজে তা নিধন করা, কীটনাশক দেওয়া হচ্ছে।
 
ঢাকার এ অংশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি কেন এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দক্ষিণের এলাকা জনবহুল, পুরানা ঢাকা এবং এ অংশে সরকারি ভবন, কলোনি অনেক। সেসব জায়গায় এডিস মশার প্রজননও হয় বেশি।
 
মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী খাল ও জমি দখলসহ সব রকম অনিয়মের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে কাউন্সিলরদের প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
শামসুল আলম আনুর মৃত্যুতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর শোক
                                  

বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক শামসুল আলম আনুর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল। শনিবার (৩১ জুলাই) এক শোক বার্তায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, শামসুল আলম আনু দেশের একজন প্রথিতযশা ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন।

এ ছাড়া তিনি দেশের অন্যতম প্রাচীন ক্লাব ওয়ারী  ও বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন- তাঁর মৃত্যু দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি। ক্রীড়াঙ্গণের উন্নয়নে তাঁর অবদান জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করবে। প্রতিমন্ত্রী শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শিল্প-কারখানা শ্রমিকদের সুবিধার্থে লঞ্চ চালু
                                  

গার্মেন্টসহ সব কলকারখানার শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরার সুবিধার্থে আগামীকাল রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সব জেলায় এবং শিমুলিয়া-বাংলাবাজার, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করবে। শনিবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক।

এদিকে কঠোর বিধিনিষেধ চলাকালে শ্রমিকদের গ্রামে অবস্থানের অনুরোধ জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)।শনিবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি ফারুক হাসান কারখানা মালিকদের উদ্দেশে বলেন, বিধিনিষেধ পুরোপুরি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত গ্রামে অবস্থানরত কোনো শ্রমিক-কর্মচারী কাজে যোগদান করতে না পারলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। কারখানার আশপাশে অবস্থানরত শ্রমিকদের নিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সদস্যদের আহ্বান জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (৩০ জুলাই) বিকেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ১ আগস্ট (রোববার) থেকে গার্মেন্টসহ রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ১ আগস্ট (রোববার) সকাল ৬টা থেকে রফতানিমুখী সব শিল্প-কারখানা বিধিনিষেধের আওতাবহির্ভূত রাখা হলো। এ ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে আজ সকাল থেকেই ঢাকামুখী শ্রমিকদের ঢল নামে।

বয়স ২৫ হলেই নেওয়া যাবে করোনার টিকা
                                  

বয়স ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব হলেই এখন থেকে করোনার টিকা নিতে পারবেন বাংলাদেশিরা। করোনার টিকার জন্য নিবন্ধনের অ্যাপ ‘সুরক্ষা’য় বয়সসীমা ইতোমধ্যে ২৫ বছরে নামিয়ে আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে গিয়ে দেখা যায়, ২৫ বছর ও এর তদূর্ধ্ব বয়সীদের টিকার নিবন্ধনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে গত ১৯ জুলাই টিকা নেওয়ার সর্বনিম্ন বয়সসীমা কমিয়ে ৩০ নির্ধারণ করেছিল সরকার। তার আগে গত ৫ জুলাই টিকা নিবন্ধনের বয়সসীমা ৩৫ করা হয়েছিল।
তবে গত শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর মুগদা হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম জানান, টিকা গ্রহণের সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৮ করা হবে। এরইমধ্যে টিকা নিবন্ধনের জন্য বয়সসীমা ২৫ বছরে নামিয়ে আনা হলো।
দেশে গত ৭ ফেব্রুয়ারি গণটিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়। এর পরের দিন করোনার টিকার জন্য নিববন্ধনের জন্য ৪০ বছর বয়সসীমা নির্ধারণ করে সরকার। সেদিন দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ নির্দেশনা দেন। এর আগে ৫৫ বছর বয়সীদের টিকার জন্য নিবন্ধন করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।
কোরবানির গরু উপহার দিলেন আইনমন্ত্রী
                                  

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৬০টি পরিবারের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে কোরবানির পশু দিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক।

মঙ্গলবার (২০ জুলাই) সকালে মন্ত্রীর উপহারটি প্রকল্পের বাসিন্দাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আইনমন্ত্রী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য।

দুপুরে আইনমন্ত্রীর পক্ষে আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মো. তাকজিল খলিফা কাজল নিজ বাসভবনে উপজেলার চরনারায়নপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক পল্লী বাসিন্দাদের হাতে কোরবানির পশু তুলে দেন।
এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মমিন বাবুল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খালেক্কুজ্জামান আলমগীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, পল্লীর সাধারণ সম্পাদক মো. হাসেম মিয়া, সহ-সভাপতি মো. লিটন মিয়া প্রমুখ। 
দেশব্যাপী এক কোটি মাস্ক দেবে এফবিসিসিআই
                                  

করনো সংক্রমণের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সারাদেশে এক কোটি ফেস মাস্ক বিতরণ করবে ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)। পাশাপাশি ২০০০ অক্সিজেন সিলিন্ডার, ২০০ হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, ২০০ অক্সিজেন কনসেনট্রেটর বিতরণ এবং বিভিন্ন হাসপাতালরে সামনে অক্সিজেন বুথ স্থাপন কার্যক্রম শুরু করেছে এফবিসিসিআই।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) মতিঝিলের ফেডারেশন ভবনে এফবিসিসিআই আয়োজিত দেশব্যাপী স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে সংযুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমান। এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।
এতে অংশ নিয়েছেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রহমান, মেট্রোপলিটন চেম্বারের সভাপতি নিহাদ কবির, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রথম সহসভাপতি মনোয়রা হাকিম আলী, বিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে দেশের ৬৪ জেলার চেম্বার ও এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ সংযুক্ত ছিলেন।
ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি এম এ মোমেন, আমিন হেলালী, হাবিব উল্লাহ ডনসহ অন্যান্য পরিচালকবৃন্দ।
 
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক ও ই-কমার্স এসাসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর সভাপতি শমী কায়সার।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষকে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে আরও কিছু সময় লাগবে। এসময়ের মধ্যে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে, পাশাপাশি ভ্যাকসিন কার্যক্রম চলবে। এফবিসিসিআইয়ের এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ‘মানুষ মানুষের জন্য` এ বার্তা বয়ে আনবে। মানুষ উৎসাহিত হবে।
ব্যবসায়ীরা আজ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও দাড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, আমরা যেহেতু এখনও শতভাগ টিকার আওতায় আসিনি, তাই মাস্ক পরা, স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলাসহ জনসচেতনতা সৃষ্টির কোনো বিকল্প নেই।
তিনি জানান, জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হলেই করোনা সংক্রমণ অনেকাংশে কমে আসবে; লকডাউনের মত অবস্থায় আমাদের যেতে হবে না। আমরা লক্ষ্য করেছি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব রয়েছে। দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের সহায়তা প্রদানে তিন হাজার ২০০ কোটি টাকার নতুন প্রণোদনা প্যাকজে ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান এফবিসিসিআই সভাপতি।
এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, করোনাজনিত সংক্রমণ রোধকল্পে বাংলাদশে সরকার কর্তৃক বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে এবং অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখতে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রণোদনা প্যাকজে ঘোষণা করা হচ্ছে।
২৩ জুলাই থেকে আবারো কঠোর বিধিনিষেধ
                                  

ঈদকে সামনে রেখে চলমান কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) আগামী ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত শিথিল করা হয়েছে। কিন্তু ঈদের একদিন পরই আবারো কঠোর বিধিনিষেধের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো।

এ সময় বিধিনিষেধের আগের কিছু শর্তের সঙ্গে নতুন শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়। শর্তগুলো হলো-১. সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসসমূহ বন্ধ থাকবে।

২. সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব প্রকার যন্ত্রচালিত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

 

৩. শপিংমল/মার্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

 

৪. সব পর্যটনকেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

 

৫. সকল প্রকার শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে।

 

৬. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক (বিবাহ, বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে

 

৭. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আদালতসমূহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

 

৮. ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

 

৯. সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাপ্তরিক কাজসমূহ ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এমএমএস, হোয়াটসঅ্যাপ-সহ অন্যান্য মাধ্যমে) কাজ সম্পাদন করবেন।

 

১০ আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষিপণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস-জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসহ অনান্য জরুরি/অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।

 

১১. বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা পর্যায়ে হিসাব সংরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় খোলা রাখার বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

 

১২. জরুরি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক/লরি/কাভার্ড ভ্যান/নৌযান/পণ্যবাহী রেল/ফেরি এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

 

১৩. বন্দরগুলো (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

 

১৪. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে। সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠন/বাজার কর্তৃপক্ষ/স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

 

১৫. অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

১৬. টিকা কার্ড প্রদর্শন সাপেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাবে।

 

১৭. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার বিক্রয় (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।

 

১৮. আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট/প্রমাণক প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহারপূর্বক যাতায়াত করতে পারবেন।

 

১৯. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।

 

২০. ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠ পর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি নিশ্চিত করবেন।

 

২১. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি/কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, পদ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করবেন। সেসঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোনো কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

 

২২. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখাক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

 

২৩. সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮-এর আওতায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা প্রদান করবেন।

 

এর আগে, গত সোমবার (১২ জুলাই) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়, করোনা মহামারি বিস্তার রোধে সরকার ঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) আগামী ১৫ জুলাই থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত শিথিল করা হচ্ছে।
সাবেক এমপি তুহিন এর সৌজন্যে ‘করোনা প্রতিরোধক বুথ’
                                  

আবু ইউসুফ নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে মহামারী করোনা প্রকোপ বেড়ে গিয়ে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে ফেলেছে। মৃত্যুর সংখ্যা যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে মানবিক উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে এসেছেন সাবেক সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত) সাবিনা আক্তার তুহিন।

ঢাকা-১৪ আসনের আওতাধীন মিরপুর ১নং বাসস্টেশন এবং শহীদ বুদ্ধিজীবি স্মৃতিসৌধের সামনে তার উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে করোনা প্রতিরোধক বুথ। বুধবার (৭ জুলাই) দুটি ‘করোনা প্রতিরোধক বুথ’ উদ্বোধন করেছেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক সাংসদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সভাপতি সাবিনা আক্তার তুহিন। জানা যায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে করোনা প্রতিরোধক বুথগুলো স্থাপন করা হয়েছে। এটিএম বুথের আদলে তৈরি এই বুথের মাধ্যমে দ্বিতীয় ব্যক্তির সহযোগিতা ছাড়াই জনসাধারণ ‘সেল্ফ হেল্প’ পদ্ধতিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারবে এবং একইসাথে নিজের ব্যবহৃত মাস্ক ডিসপোজ করে সহজেই নতুন মাস্ক সংগ্রহ করা যাবে৷ সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই বুথে সেবা মিলবে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। সাবিনা আক্তার তুহিন বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে মানুষের নিয়মিত হাত ধোয়া এবং মাস্ক পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার জন্যই এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে৷

নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে ১ টন আম উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী
                                  
মো.বাবুল হোসেন পঞ্চগড় 
নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি প্রসাদ শর্মা অলিকে উপহার সামগ্রী হিসেবে ১ টন হাড়িভাঙ্গা আম পাঠিয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার বিকেল ৬ টায় পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সিএন্ডএফ এজেন্ট দাস এন্ড সন্সের মাধ্যেমে উপহার সামগ্রী গুলো নিয়ে ভারতের ফুলবাড়ি স্থলবন্দর হয়ে নেপালের উদ্যেশে যাত্রা করে একটি পিকআপ। ১০০ টি কার্টুনে করে পাঠানো হয় আমগুলো।
এসময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ, স্থলবন্দরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো শওকত আলী, কাস্টমস সুপার রতন চন্দ্র শীল, তেতুঁলিয়া মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বেনজির আহমেদ, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশনের পরিদর্শক নজরুল ইসলাম, ট্রাফিক পরিদর্শক সাইদুর রহমান সাগর, ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বাংলাবান্ধা কোম্পানীর কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো ওয়াহিদ, সিএন্ডএফ এজেন্ট দাস এন্ড সন্সের আব্দুল্লাহ আল মামুন মুসা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
 
জলাবদ্ধতা নিরসনে সব দপ্তরের সমন্বয় প্রয়োজন’
                                  

এম এ মান্নান নারায়ণগঞ্জ 

চলতি বর্ষায় নারায়ণগঞ্জে ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান। রোববার (০৪ জুলাই) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা জানান। জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আস আলোচনা সভায়।

নারায়ণগঞ্জে ডিএনডি এলাকায় জলাবদ্ধতা বহু বছরের সমস্যা। ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন নিচু এলাকায় গত প্রায় দুই মাস যাবৎ ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন দুই লাখেরও বেশি মানুষ।

 

জলাবদ্ধতা নিরসনে রোববার (৪ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্প কাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন প্রকল্প প্রধান।

 

সভায় নারায়ণগঞ্জ চার আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের স্থায়ী সমাধানের জন্য সব দপ্তরের সমন্বয় প্রয়োজন। 

 

তার ভাষায়, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত অল দ্য গর্ভমেন্ট মেশিনারিজ এখানে সমন্বয় না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ সমস্যার সমাধান হবে না। সিটি করপোরেশনকেও আজকে এখানে থাকার কথা ছিল, থাকেন নাই। আমার মনে হয় সমন্বয় হলেও সমস্যাগুলো সমাধান হবে। মানুষের জন্য কাজ করাই আমাদের মূল কাজ।’আগামী বর্ষা মৌসুমে যাতে পুনরায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি না হয় সেজন্য নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।
যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় তৎপর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়
                                  

দেশের বন্যাসহ যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় তৎপর রয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। স্কুল-কলেজ, হাট-বাজারসহ নদীভাঙন রোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত আছে। কোথাও বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলেই ব্যবস্থা নিচ্ছে প্রকৌশলীরা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারা দেশে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা এবং অনলাইনে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

রোববার (৪ জুলাই) দুপুরে মন্ত্রণালয়ের নিজ অফিস কক্ষে এক বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল জাহিদ ফারুক। 

 

এ সময় মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) রোকন উদ দৌলা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক ফজলুর রশিদ উপস্থিত ছিলেন। 

 

জাহিদ ফারুক আরও বলেন, অনিয়ম রোধে জরুরি বাঁধ মেরামতের কাজ জেলা প্রশাসককে অন্তর্ভুক্ত করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে করতে হবে। করোনার মাঝেও সব প্রকৌশলী দুর্যোগ মোকাবিলায় দিনরাত কাজ করছেন।

 

এদিকে, জলাবদ্ধতার বিষয়ে সংসদ সদস্য (নারায়নগঞ্জ-৪) শামীম ওসমান মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, ‘ডিএনডি প্রকল্পাধীন এলাকার বাইরের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া খনন করা খালে ময়লা ফেলা এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ না হলে প্রকল্পের সুফল পাওয়া যাবে না। এখন আবাসিক হলেও অতীতে সেচ সম্প্রসারণ এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল।’বিদ্যমান সমস্যা সরাসরি জানতে আগামী রোববার নারায়ণগঞ্জের ডিএনডি প্রকল্পাধীন এলাকা পরিদর্শনে যাবেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।
ভাসানী থেকে হাসিনা যুগ
                                  

আবু ইউসুফ 

পাকিস্তান হওয়ার আগেই সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে মুসলিম লীগে ভাঙন ধরেছিল। তখন প্রাদেশিক বঙ্গীয় মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন মওলানা আকরম খাঁ। ঢাকার উর্দুভাষী নবাব পরিবারের খাজা নাজিমুদ্দীন ছিলেন মুসলিম লীগের ডানপন্থী অংশের নেতা। কিন্তু দলের সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম ছিলেন সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী এবং প্রগতিশীল মনের লোক। তাঁর নেতৃত্বে মুসলিম লীগে এবং মুসলিম ছাত্রলীগে প্রগতিশীল অংশ তৈরি হয়। এই প্রগতিশীল অংশ কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছিল। তৎকালীন কমিউনিস্ট পার্টিও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় সম্মতি দেয়। কমিউনিস্ট পার্টির তাত্ত্বিক ড. গোবিন্দ অধিকারী ‘পাকিস্তান ও জাতীয় ঐক্য’ গ্রন্থে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা কেন দরকার তা বিশ্লেষণ করেন। শেখ মুজিবুর রহমান, নুরুর রহমান, নুরুদ্দিন, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ প্রগতিশীল ছাত্রনেতারা ছাত্রলীগের প্রগতিশীল অংশে ছিলেন। মুসলিম লীগের প্রগতিশীল অংশে শহীদ সোহরাওয়ার্দী অন্যতম ছিলেন। আবুল হাশেম কংগ্রেসের শরৎ বসুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্ত বাংলা গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তা ব্যর্থ হয়। এভাবে মুসলিম লীগের ভেতরে একটি প্রগতিশীল অংশ তৈরি হয়। দেশভাগের সময় জিন্নাহ ও লিয়াকত আলীর চক্রান্তে খাজা নাজিমুদ্দীন মুসলিম লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা হন এবং পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী হন। ঢাকায় রাজধানী হয় এবং বাঙালি মুসলমানদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকায় চলে আসে।

পূর্ব পাকিস্তানে নাজিমুদ্দীন মন্ত্রিসভা বাঙালির অধিকারবিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। ছাত্রলীগের প্রগতিশীল অংশ শেখ মুজিব, আনোয়ার হোসেন প্রমুখের নেতৃত্বে একটি বিরোধী দল গঠনের উদ্যোগ নেয়। তাঁরা পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালির বিভিন্ন দাবিদাওয়ার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক কর্মী শিবির গঠন করেন। তখন অলি আহাদ এবং আরো অনেক প্রগতিশীল যুবনেতা যোগদান করেন। এই সময় আসাম থেকে মওলানা ভাসানী বাংলাদেশে আসেন। ১৯৪৯ সালে ঢাকার রোজ গার্ডেনে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে সরকারবিরোধী নেতাদের সভা হয়। তাতে মওলানা ভাসানীকে সভাপতি করে পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। তিনি মুসলিম লীগে ছিলেন কিন্তু বাংলাদেশে এসে মুসলিম লীগ ত্যাগ করেন। এই সময় শহীদ সোহরাওয়ার্দীও করাচিতে ছিলেন। তিনি সেখানে জিন্নাহ মুসলিম লীগ নামে একটি দল গঠন করেন। শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশের তরুণ নেতা করাচিতে যান এবং শহীদ সাহেবের সঙ্গে আলোচনা করেন। শহীদ সাহেব তাঁর দল ভেঙে দেন এবং আওয়ামী লীগে যোগ দেন। তাঁকে করা হয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক। আজকের ৭২ বছরের সংগঠন আওয়ামী লীগের যাত্রা এভাবেই শুরু। এই দীর্ঘ ৭২ বছরেও বার্ধক্য তাঁকে স্পর্শ করেনি। কারণ প্রতি যুগেই আওয়ামী লীগ নতুন করে তারুণ্য গ্রহণ করেছে এবং জাতিকে নতুন নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রথম যুগটি হচ্ছে ভাসানী যুগ। এই যুগের প্রথম দিকে দলটি ছিল সাম্প্রদায়িক। নাম মুসলিম আওয়ামী লীগ। শেখ মুজিব তখন ছিলেন ছাত্রলীগের নেতা। তারপর তিনি হন যুবনেতা। নেতা হওয়ার পরেই তিনি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হন এবং পরে সাধারণ সম্পাদক হন। ভাসানী-মুজিব নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িকতার খোলস ত্যাগ করে, হয় অসাম্প্রদায়িক আওয়ামী লীগ। পূর্ব পাকিস্তানে তখন মুসলিম মধ্যবিত্ত শ্রেণি ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে। সামন্তবাদে ভাঙন ধরেছে। দেশের মানুষের রাজনৈতিক চেতনা উন্নত হয়েছে। ১৯৫২ সালেই তারা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন করে। বহু তরুণ শহীদ হন। আওয়ামী লীগ ভাষার অধিকার এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানে নির্বাচন হয় এবং হক-ভাসানীর নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী এই মন্ত্রিসভা ভেঙে দেয়। মাঝখানে আওয়ামী লীগের শহীদ সোহরাওয়ার্দী কিছুদিনের জন্য কেন্দ্রীয় প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। কিন্তু তাঁকেও অপসারণ করা হয়। ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হয় এবং জেনারেল আইয়ুব ক্ষমতা দখল করেন। সব রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ হয় এবং বহু নেতা কারাবন্দি হন। ১৯৫৭ সালে আওয়ামী লীগ ছিল পূর্ব পাকিস্তানে এক বিশাল দল। কমিউনিস্ট পার্টি তখন নিষিদ্ধ এবং অনেক বড় বড় কমিউনিস্ট নেতা আওয়ামী লীগে আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাজনীতিতে তাঁদের সমর্থন ছিল মওলানা ভাসানীর দিকে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক ডানপন্থী ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ভাসানীর মতবিরোধ বড় হয়ে ওঠে। ওই সালেই কাগমারীতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে আওয়ামী লীগ ভাগ হয়ে যায়। মওলানা ভাসানী একদল প্রগতিশীল নেতাসহ আওয়ামী লীগ ত্যাগ করেন এবং ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি নামে একটি নতুন দল গঠন করেন। আমার ধারণা, এই সময় পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে দল ভাগ করা একটা বড় ভুল হয়েছিল। তাতে পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের জাতীয় ঐক্য ভেঙে যায়। এতে করে আইয়ুব খানের পক্ষে সামরিক শাসন প্রবর্তন সহজ হয়েছিল। কাগমারীতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ভাসানী যুগের অবসান হয়। শুরু হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দীর যুগ। এই সময় আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ প্রগতিশীল নেতা ভাসানীর নবগঠিত দল ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে যোগ দেন। কিন্তু শেখ মুজিব দল ত্যাগ করেননি। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি তিনি ভাসানীর প্রগতিশীল নীতি পরিত্যাগ করেছেন? এর সহজ উত্তর, তিনি তা করেননি। পররাষ্ট্রনীতির মতো একটি প্রশ্নে দল ভাগ করা তিনি সঠিক মনে করেননি। তিনি জানতেন কংগ্রেস থেকে দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ, সুভাষ বসুর মতো নেতাদের দল ত্যাগ করা সম্ভবত ঠিক হয়নি। তাতে কংগ্রেস নেতৃত্ব ডানপন্থীরা দখল করার সুযোগ পেয়েছিল। নেহরু থাকায় কংগ্রেস ডান দিকে হেলে পড়েনি। শেখ মুজিব সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগে ডানপন্থীদের মাথা তুলতে দেননি। তিনি শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে নানা ব্যাপারে মতের মিল দেখেননি তথাপি আপস করে চলেছেন। ১৯৫৫ সালে দলকে অসাম্প্রদায়িক করার ব্যাপারে শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মত ছিল না। কিন্তু ভাসানী ও মুজিবের চাপে তিনি তা মেনে নেন। তারপর যুক্ত নির্বাচনের প্রশ্নেও শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত নির্বাচনের বিরোধী ছিলেন। কিন্তু ভাসানী-মুজিবের চাপে তিনি তা-ও মেনে নিতে বাধ্য হন। ভাসানী চলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ ডান দিকে হেলবে এই আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তত দিনে পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের মধ্যে স্বাধিকার চেতনা প্রবল হয়ে উঠেছে। এবং তারা নেতা হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন শেখ মুজিবকে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী আইয়ুবের সামরিক শাসন অবসানের লক্ষ্যে বিরোধী দলের সব নেতাকে নিয়ে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট গঠন করেছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুর পর খাজা নাজিমুদ্দীন এই নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনিও মারা যান। আইয়ুবের আমলেই রাজনৈতিক দলগুলো পুনরুজ্জীবনের অধিকার পায়। সব প্রবীণ নেতার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শেখ মুজিব আওয়ামী লীগ পুনরুজ্জীবিত করেন এবং দলের নেতৃত্বও গ্রহণ করেন। প্রবীণ নেতারা দূরে সরে যান। বাঙালির মুক্তি সনদ হিসেবে তিনি যখন পূর্ব পাকিস্তানে ছয় দফা ঘোষণা করেন তখন বাকি প্রবীণ নেতারা দল থেকে চলে যান। তাঁরা আওয়ামী লীগ নামে পাল্টা দল গঠন করে শেখ মুজিবকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। তাঁদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। শেখ মুজিব জেলে বসে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন করেন এবং সভাপতির পদ গ্রহণ করেন। তাজউদ্দীন আহমদকে করেন সাধারণ সম্পাদক। পূর্ব পাকিস্তানের তরুণ নেতাকর্মীরা তাঁকে সমর্থন দেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের শুরু হয় মুজিব নেতৃত্বের যুগ। শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ডানপন্থী নীতির ফলে আওয়ামী লীগ কিছুটা সাধারণ মানুষের সমর্থন হারিয়েছিল। শেখ মুজিবের নেতৃত্বে পুনর্গঠিত আওয়ামী লীগে দলে দলে তরুণ নেতা ও কর্মীরা আসেন। দল একটি মধ্য বামপন্থী দল হয়ে দাঁড়ায় এবং দলের মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র যুক্ত হয়।

আওয়ামী লীগে মুজিব যুগই হচ্ছে সবচেয়ে গৌরবোজ্জ্বল যুগ। মধ্যপ্রাচ্যে জামাল নাসের আরব জাতীয়তাবাদ প্রচারের কিছু আগে বাংলাদেশে শেখ মুজিব অসাম্প্রদায়িক বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রচার করেন। তিনি ঘোষণা করেন পূর্ব পাকিস্তান নয়, এই ভূখণ্ডের নাম বাংলাদেশ। আমরা হাজার বছর ধরে বাঙালি। এখনো আমাদের পরিচয় হবে বাঙালি। মধ্যপ্রাচ্যে আরব জাতীয়তাবাদ যতটা ঢেউ তুলে ছিল তার চেয়ে বড় ঢেউ তোলে বাংলাদেশে বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালির যে হাজার বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তার মিল দেখা যায় মিসরের কয়েক হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার সঙ্গে। নাসের সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করেছিলেন। বাংলাদেশে সেই ঐতিহ্য ধারণ করেন শেখ মুজিব এবং সেই জাতীয়তার বাহক হয়ে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ। শেরেবাংলা ফজলুল হকও মারা যান ষাটের দশকের গোড়াতেই। তাঁর কৃষক-প্রজা ভিত্তিক রাজনীতির আদর্শ শেখ মুজিব গ্রহণ করেছিলেন। গ্রহণ করেছিলেন দেশবন্ধুর স্বাদেশিকতা এবং সুভাষ চন্দ্রের সংগ্রামী আদর্শ। শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক জীবন গড়ার প্রাথমিক গুরু। সেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির খোলস তিনি ত্যাগ করেছিলেন দেশ ভাগের পরই। তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একটি প্রকৃত বাঙালি জাতীয়তাবাদী সংগঠন হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে যুদ্ধ হয় তাতে দেখা যায় ভারত পূর্ব পাকিস্তান আক্রমণ করেনি। তারা পশ্চিম পাকিস্তান আক্রমণ করেছে। পাকিস্তানের শাসকরা পূর্ব পাকিস্তান রক্ষায় কোনো প্রকার চেষ্টা করেনি। ফলে এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের দুই অংশ ধর্মীয় জাতীয়তার ভিত্তিতে এক থাকতে পারে না। তাদের ভাষা, খাদ্য, পরিধানের কাপড়, জীবনযাত্রা সবই ভিন্ন। পশ্চিম পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবেও উন্নত হচ্ছিল পূর্ব পাকিস্তানকে শোষণ করে। যখনই কোনো বাঙালি নেতা এই বৈষম্য দূর করতে চেয়েছেন, তাঁদের ক্ষমতা থেকে সরানো হয়েছে। এমনকি রাজনীতি থেকে সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। শেখ মুজিব এই বঞ্চনা-বৈষম্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধিকার চান। তাঁকে দমন করার জন্য পাকিস্তানের সামরিক জান্তা বহু চেষ্টা করে। কিন্তু জনগণের বিপুল সমর্থন তাঁর পেছনে থাকায় তাঁকে দমন করা সম্ভব হয়নি। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব তাঁর ঐতিহাসিক ছয় দফা ঘোষণা করেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলে নেওয়া হয়। পরে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়। বলা হয় তিনি পূর্ব পাকিস্তানকে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন। উনসত্তরের গণ-আন্দোলনের ফলে শেখ মুজিব কারামুক্ত হন। আইয়ুব খান তাঁকে রাজনৈতিক আলোচনার জন্য গোলটেবিল বৈঠকে ডাকেন। সেখানেও ছয় দফার প্রশ্নে তিনি অটল থাকেন। ছয় দফায় ছিল পূর্ব পাকিস্তানকে একটি প্যারামিলিশিয়া গঠনের অধিকার দিতে হবে। বৈদেশিক বাণিজ্য থাকবে পূর্ব পাকিস্তানের হাতে।

আইয়ুব এই ছয় দফা মানতে অস্বীকার করেন। বৈঠক ভেঙে যায়। শেখ মুজিব ঢাকায় ফিরে আসেন। জনগণ তাঁকে বঙ্গবন্ধু আখ্যা দেয়। সারা পূর্ব পাকিস্তানের মানুষ তাঁর নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়। আইয়ুবের পর জেনারেল ইয়াহিয়া ক্ষমতায় আসেন এবং পাকিস্তানের উভয় অংশে একটি সাধারণ নির্বাচন দেন। আওয়ামী লীগ বিপুল ভোটে জয়ী হয়। পশ্চিম পাকিস্তানে জুলফিকার আলী ভুট্টোর দল পিপলস পার্টি জয়ী হয়। সামরিক জান্তা সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ডাকে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিরোধ সংগ্রাম শুরু করে। তাতে সাধারণ মানুষ যোগ দেয়। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। আওয়ামী লীগ নেতারা প্রতিবেশী ভারতে চলে যান এবং তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে একটি প্রবাসী সরকার গঠন করেন। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি হন জেলে বন্দি বঙ্গবন্ধু। তাঁর নামে মুক্তিসংগ্রাম শুরু হয় এবং ভারতের সাহায্য-সহায়তায় ৯ মাসেই মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি হানাদারদের পরাজিত করতে সক্ষম হন। বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসেন। তাঁর নেতৃত্বে তৈরি হয় স্বাধীনতা-উত্তর প্রথম সরকার। শেখ মুজিবের নেতৃত্ব তখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। নেহরু, নাসের, টিটো, ইন্দিরা, হো চি মিনের সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বের তুলনা হয়। এই সময় দিল্লির একটি পত্রিকায় বলা হয়, ‘বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে ও সংগ্রামে নিখিল ভারত কংগ্রেসকে ছাড়িয়ে গেছে। আওয়ামী লীগকে এখন অনায়াসে একটি বাম ঘেঁষা গণতান্ত্রিক দল হিসাবে গণ্য করা যায়। এই দলের নেতা শেখ মুজিবের কৃতিত্ব অনন্য। তাঁর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একটি জাতি পুনর্গঠন করেছে। একটি ভূখণ্ডকে স্বাধীন করেছে। তার জাতীয় পরিচয় নির্ধারণ করেছে এবং বিশ্বের মানচিত্রে এই দেশটি একটি গৌরবের স্থান করে নিয়েছে।’

মুজিব যুগের আওয়ামী লীগ আন্তর্জাতিক সোশ্যালিস্ট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হয়। শুধু পশ্চিম ইউরোপীয় সোশ্যালিস্ট নেতারা নন, পূর্ব ইউরোপের গোঁড়া কমিউনিস্ট দেশগুলোও বাংলাদেশের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করে। তখনকার সুপার পাওয়ারের একটি সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সাহায্যদাতা এবং এখন স্বাধীন দেশটির মিত্র। বঙ্গবন্ধু বিশ্ব শান্তি পরিষদ থেকে আন্তর্জাতিক জুলিও কুরি শান্তি পদক পান। তাঁকে আখ্যা দেওয়া হয় বিশ্ববন্ধু। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বিরাট রূপান্তর ঘটে। আরো কয়েকটি বাম দলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আওয়ামী লীগ নাম নেয় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ বা বাকশাল। বঙ্গবন্ধুর শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সফল হলে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এক বিরাট জয়যাত্রা শুরু হতো। কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতীয় প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ষড়যন্ত্রের ফলে ১৯৭৫ সালে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।

মানুষের মৃত্যু হয় কিন্তু আদর্শের মৃত্যু হয় না। সেটা আরো বেশি করে প্রমাণ হলো আওয়ামী লীগের বেলায়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ইতিহাস বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস এবং বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস আওয়ামী লীগের ইতিহাস। আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করে সব সময় ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে স্ফুলিঙ্গের মতো জ্বলে উঠেছে। বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সব সদস্যকে হত্যা করা হলেও তাঁর দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা তখন বিদেশে ছিলেন, তাঁরা বেঁচে যান। শেখ হাসিনা বিদেশ থেকে এসে অনেক বাধাবিঘ্ন পেরিয়ে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। আশির দশকের গোড়ায়। শুরু হয় আওয়ামী লীগের হাসিনা যুগ। বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যে স্বৈরাচারী শাসকরা প্রায় ২১ বছর ক্ষমতা দখল করে রাখেন, তাঁরা রাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক ভিত্তি বদল করে পচনশীল পশ্চিমা ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে যান। দেশে দুর্নীতির পাহাড় তৈরি করে যান। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে একদিকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস দমন এবং অন্যদিকে সাম্প্রদায়িকতার অভ্যুত্থান রোখার কাজে ব্রতী হন। পাশাপাশি অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের কাজে হাত দেন। তাঁর আমলে ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। একটি কৃষিভিত্তিক দেশকে তিনি শিল্পোন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যান। হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের এই সময়টা বাংলাদেশের উন্নতির স্বর্ণযুগ। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিশাল আয়তনে অনেক দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি এখন আশ্রয় নিয়েছে এবং দলটিকে বিপথে চালনার চেষ্টা করছে। শেখ হাসিনা দলের ভেতরে কঠোর হাতে শুদ্ধি অভিযান চালিয়েছেন। যার ফলে আওয়ামী লীগ এখনো ভারতের কংগ্রেসের পরিণতি বরণ করেনি। আওয়ামী লীগের হাসিনা যুগ নিয়ে একদিন গবেষকরা গবেষণা করবেন, যেমন তাঁরা এখনো গবেষণা করেন শায়েস্তা খাঁর আমল নিয়ে। শেখ হাসিনার আমল ভালো-মন্দে মিশিয়ে বাংলাদেশকে বিশ্বসভায় যতটা উন্নত করেছে, আগে তা কখনো হয়নি। এই গৌরব আওয়ামী লীগেরও। আওয়ামী লীগ তার ৭২ বছর বয়সের মধ্যে জাতি গঠন করেছে, স্বাধীন রাষ্ট্রের পত্তন করেছে—এর তুলনা বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। আর কোনো রাজনৈতিক দল এই গৌরব অর্জন করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ আজ ৭৩ বছরে পা দিল। কিন্তু তাঁর নেতৃত্বে অনেক তরুণ নেতা আওয়ামী লীগে এসেছেন। শেখ হাসিনাকে ঘিরে যে তরুণ নেতৃত্ব গড়ে উঠেছে তাতে মনে হয় আওয়ামী লীগ শিগগিরই বৃদ্ধ হবে না। সব ভুলত্রুটি কাটিয়ে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে টিকে থাকবে। কারণ ভাসানী যুগ, সোহরাওয়ার্দী যুগ, মুজিব যুগ পেরিয়ে আজকের হাসিনা যুগে যে আওয়ামী লীগ পা দিয়েছে তার মৃত্যু আছে বলে আমি মনে করি না। দলটির ৭৩তম জন্মদিবসে অভিনন্দন জানাই। জয়তু আওয়ামী লীগ। জয়তু শেখ হাসিনা।

 

নাসির দোষী সাব্যস্ত হলে ব্যবস্থা: জিএম কাদের
                                  

নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরপর তিনবার উত্তরা ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন, যেখানে সবাই শিক্ষিত। সে কখনো এমন কিছু করেনি যে, তিনি দুর্নাম করতে পারে। কখনো তার নামে খারাপ কিছু শুনিনি। এ ঘটনাটি শুনে আমরা বিস্মিত, হতচকিত।

ঢালিউডের চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার নাসির উদ্দিন মাহমুদ দোষী সাব্যস্ত হলে তার বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির (জাপা) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সোমবার (১৪ জুন) রাতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের সংবাদমাধ্যমকে এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নাসির জাতীয় পার্টির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পর্ষদ প্রেসিডিয়াম সদস্য। জাপা গঠনের সময় থেকেই তিনি যুক্ত ছিলেন।

 

জিএম কাদের বলেন, ‘নাসির উদ্দিন মাহমুদ পরপর তিনবার উত্তরা ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হন, যেখানে সবাই শিক্ষিত। সে কখনো এমন কিছু করেনি যে, তিনি দুর্নাম করতে পারে। কখনো তার নামে খারাপ কিছু শুনিনি। এ ঘটনাটি শুনে আমরা বিস্মিত, হতচকিত।’

 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিষয়টি আমরা দেখছি, পর্যবেক্ষণ করছি। তিনি যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

 
দলীয় সূত্র জানায়, নাসির উদ্দিন মাহমুদ জাতীয় পার্টির গঠনের সময় থেকে দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মাঝখানে অনেক দিন দলে সক্রিয় ছিলেন না, ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। সবশেষ ২০২০ সালের জাতীয় পার্টির সম্মেলনে তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য করা হয়।

 

জানা গেছে, নাসির ইউ মাহমুদ ঢাকা বোট ক্লাবের সদস্য। তিনি ৩৭ বছর ধরে ডেভেলপার ব্যবসায়ে আছেন। ১০ বছর ধরে মাহমুদ কুঞ্জ ডেভেলপার্স লিমিটেডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন। কুঞ্জ ডেভেলপার্সের আগে তিনি মাহমুদ বিল্ডার্স অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের এমডি ছিলেন।

 

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগ থেকে পড়াশোনা করেন। তিনি ও তার প্রতিষ্ঠান সরকারের গণপূর্ত অধিদফতর, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি), রাজউক, রেলওয়েসহ সরকারি-বেসরকারি নানা ঠিকাদারি কাজ করেন।

 

নাসির ইউ মাহমুদ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনস্ট্রাকশন ইন্ডাস্ট্রির (বিএসিআই) সাবেক নির্বাহী পরিষদের সদস্য। তিনি ২০১৫, ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের উত্তরা ক্লাবের নির্বাচিত সভাপতি, লায়ন ক্লাবের ঢাকা জোনের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

 

এদিকে, ধর্ষণ এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পরীমনির করা মামলায় প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ জুন) দুপুরে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদেরে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিদেশি মদসহ অন্যান্য মাদক দ্রব্য।

 

রোববার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার দাবি করেন পরীমনি। এরপর রাত সাড়ে ১০টায় বনানীর বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিস্তারিত জানান তিনি।

 

ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে সোমবার ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ ছয়জনের নামে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন পরীমনি।

 

আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সোমবার (১৪ জুন) সকাল থেকেই রাজধানীর উত্তরা এলাকায় অভিযান শুরু করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের গুলশান বিভাগ। গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয় উত্তরার এই বাড়িটিতে অবস্থান করছেন প্রধান আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ।

 

বাড়িটির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি অমিসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় আরও তিন নারীকে। তারা হলেন- লিপি আক্তার (১৮), সুমি আক্তার (১৯) ও নাজমা আমিন স্নিগ্ধা (২৪)। জব্দ করা হয় দেশি-বিদেশ মদসহ মাদকদ্রব্য।

 

পুলিশ বলছে, এই বাসায় প্রতিদিন ডিজে পার্টির আয়োজন করতেন নাসির। উঠতি বয়সী তরুণীদের দিয়ে অনৈতিক কার্যকলাপ করানো হত। বাড়িটিতে যাতায়াত ছিল অনেকের।

 

গোয়েন্দা বিভাগ (উত্তর-তেজগাঁও, গুলশান, মিরপুর ও উত্তরা) এবং সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার হারুন-অর-রশীদ বলেন, জনপ্রিয় নায়িকা পরীমনির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

অভিযানকালে নাসিরের বাসা থেকে বিদেশি মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। তার বাসায় উঠতি বয়সী নারীরা এসে মদপান করতেন বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তার বাসায় ডিজে পার্টির আয়োজন ছিল বলেও জানান এ পুলিশ কর্মকর্তা।

 

৬ দিন বিরতির পর সংসদ অধিবেশন শুরু
                                  

বৈঠকে আজকে তিনটি বিল হওয়ার কথা রয়েছে। বিলগুলো হলো- বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১, ব্যাংকার্স বহি সাক্ষ্য বিল-২০২১ এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ বিল-২০২১।

টানা ছয় দিন বিরতির পর একাদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ (বাজেট) অধিবেশন শুরু হয়েছে। সোমবার (১৪ জুন) সকাল ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে পুনরায় সংসদ শুরু হয়। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অধিবেশন শুরু হয়।

 

এর আগে গত ৭ জুন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদের বৈঠক ১৪ জুন সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন। খবর বাসসের।

 

ওই দিন জাতীয় সংসদে ২০২১ সালের ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরে সংযুক্ত তহবিল থেকে মঞ্জুরিকৃত অর্থের অধিক ১৩ হাজার ৯৮৭ কোটি ২৭ লাখ ৩২ হাজার টাকা প্রদান ও ব্যয়ের অনুমোদন দিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস করা হয়েছে।

 

আজকের কার্যসূচি থেকে জানা গেছে, বৈঠকে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং ডাক টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি বিভাগের প্রশ্নোত্তর পর্ব রয়েছে। আর ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৯-২০, নৌপরিবহন মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নদী রক্ষা কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৯ এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ৪৬টি অডিট ও হিসাব রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন।
আইন-বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন হবে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম সিমিন হোসেন (রিমি) স্থায়ী কমিটির প্রথম রিপোর্ট উপস্থাপন করবেন বৈঠকে।

 

বৈঠকে আজকে তিনটি বিল হওয়ার কথা রয়েছে। বিলগুলো হলো- বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২১, ব্যাংকার্স বহি সাক্ষ্য বিল-২০২১ এবং আয়োডিনযুক্ত লবণ বিল-২০২১।

 

এ ছাড়া আজকের সংসদের বৈঠকে প্রস্তাবিত ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হবে।

 

এর আগে গত ৭ জুন সংসদের চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হওয়ার পর ১৪ জুন সোমবার সকাল ১১টা পর্যন্ত বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

   Page 1 of 86
     জাতীয়
নারায়ণগঞ্জ অগ্নিকাণ্ড: ডিএনএ পরীক্ষায় ৪৫ জনের পরিচয় শনাক্ত
.............................................................................................
দশ বছরের ভাইটাকেও সবশেষে হত্যা করে ঘাতকরা: শেখ হাসিনা
.............................................................................................
ডেঙ্গু: মন্ত্রী দিলেন ভয়, মেয়রের অভয়
.............................................................................................
শামসুল আলম আনুর মৃত্যুতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর শোক
.............................................................................................
শিল্প-কারখানা শ্রমিকদের সুবিধার্থে লঞ্চ চালু
.............................................................................................
বয়স ২৫ হলেই নেওয়া যাবে করোনার টিকা
.............................................................................................
কোরবানির গরু উপহার দিলেন আইনমন্ত্রী
.............................................................................................
দেশব্যাপী এক কোটি মাস্ক দেবে এফবিসিসিআই
.............................................................................................
২৩ জুলাই থেকে আবারো কঠোর বিধিনিষেধ
.............................................................................................
সাবেক এমপি তুহিন এর সৌজন্যে ‘করোনা প্রতিরোধক বুথ’
.............................................................................................
নেপালের প্রধানমন্ত্রীকে ১ টন আম উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
জলাবদ্ধতা নিরসনে সব দপ্তরের সমন্বয় প্রয়োজন’
.............................................................................................
যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় তৎপর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়
.............................................................................................
ভাসানী থেকে হাসিনা যুগ
.............................................................................................
নাসির দোষী সাব্যস্ত হলে ব্যবস্থা: জিএম কাদের
.............................................................................................
৬ দিন বিরতির পর সংসদ অধিবেশন শুরু
.............................................................................................
কারা অর্থ পাচার করে, জানেন না অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
বাজেটে যেসব পণ্যের দাম বাড়বে
.............................................................................................
বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমবে
.............................................................................................
প্রস্তাবিত বাজেট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
.............................................................................................
সংসদে বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী
.............................................................................................
ধূমপায়ীদের জন্য দুঃসংবাদ
.............................................................................................
বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সব সময় প্রস্তুত: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
করোনা মহামারি নতুন অনেক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে, প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
ঢাকার রাজধানীতে স্বস্তির বৃষ্টি
.............................................................................................
করোনার দ্বিতীয় ডোজ নিলেন সেতুমন্ত্রী কাদের
.............................................................................................
বৃষ্টি কখন আসবে জানাল আবহাওয়া অফিস
.............................................................................................
রোজিনার মামলা প্রত্যাহার নিয়ে যা বলেন আইনমন্ত্রীর
.............................................................................................
শর্তসাপেক্ষে জামিন রোজিনার
.............................................................................................
ফেসবুকে পুলিশকে বার্তা পাঠিয়ে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি
.............................................................................................
নিখোঁজের একদিন পর খালে মিলল শিশুর লাশ
.............................................................................................
বাংলাদেশকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেবে যুক্তরাষ্ট্র: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
.............................................................................................
তিনি শেষ কথাটিও এলাকার উন্নয়নের জন্য বলেছিলেন: তাপস
.............................................................................................
লকডাউন কি আরও বাড়ছে?
.............................................................................................
বাংলাদেশকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দিল বিশ্ববাংক
.............................................................................................
জেবুন্নেসার বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে খতিয়ে দেখা হবে: দুদক
.............................................................................................
সংসদে বাজেট পেশ ৩ জুন
.............................................................................................
সাংবাদিক রোজিনার জামিন না হলে ২৬ মে দিনব্যাপী অবরোধ
.............................................................................................
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলন বয়কট
.............................................................................................
সাংবাদিক রোজিনার রিমান্ড খারিজ,
.............................................................................................
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের যা বললেন রোজিনা
.............................................................................................
নোবেলের বিরুদ্ধে থানায় জিডি,
.............................................................................................
ইসরায়েল কি আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে: তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
কর্মস্থল পেলেন পদোন্নতি পাওয়া ৬৩ এসপি
.............................................................................................
বিএনপির উচিত প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানো: তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
ঈদ নেই ভোলার জেলেদের!
.............................................................................................
ঈদে গ্রামে ফেরাদের ঢাকায় না ফেরার অনুরোধ মেয়র তাপসের
.............................................................................................
খালেদা জিয়া ও রওশনের ঈদ কেমন কাটছে?
.............................................................................................
আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মানার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ হাজী মোবারক হোসেন।। সহ-সম্পাদক : কাউসার আহম্মেদ।সহ সম্পাদক মুশিদুল আলম
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু। র্বাতা সম্পাদক আবু ইউসুফ আলী মন্ডল, ফোন ০১৬১৮৮৬৮৬৮২

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, মোবাইল : 01731190131, 01930226862, E-mail : mannannews0@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- notunbazar / সম্পাদক dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop