| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অপরাধ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
বগুড়ার কাহালুতে কিশোরী ধর্ষণ, ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা, আদালতে মামলা

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার সদর ইউনিয়নের কানোড়া গ্রামে এক কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ই নভেম্বর ২০ইং রবিবার দুপুর ১:৩০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবাবের সাথে আলাপকালে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসে। কানোড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রী অনাথ চন্দ্রের ছেলে অভিযুক্ত ধর্ষক, শ্রী সমর চন্দ্র (২২) দীর্ঘদিন থেকে পাশের বাড়ির মৃত কল্পনা রানীর একমাত্র মেয়ে কবিতা (১১) কে প্রেমের প্রস্তাব ও নানান কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। কিশোরী কবিতা সমরের দেয়া প্রেম ও কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নানান সময় কবিতার ক্ষতি করতে ওত পেতে থাকতো সমর। ভুক্তভোগির পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ই নভেম্বর ২০ইং বিগত তিন মাস আগে কবিতার নানী কবিতাকে বাসার সামনের গলিতে রেখে গরুকে ঘাস খাওয়াতে মাঠে নিয়ে যায় এবং কবিতার বিধবা মামী প্রতিদিনের ন্যায় সরকারী রাস্তার মাটি কাটার কাজে বেড়িয়ে পড়ে । ঠিক এসময় কবিতা ও তার বান্ধবী জয়া (১২) বাড়ির সামনের গলিতে খেলছিলো। সেই সময় কবিতার বাড়ী ফাঁকা থাকার সুযোগ নেয় শ্রী সমর চন্দ্র, বাড়ীর গলি থেকে কবিতাকে পাঞ্জাকোলে কবিতার ঘরেই তুলে নিয়ে যায় ধর্ষক সমর। ঘরে নিয়েই সমর প্রথমে দরজা বন্ধ করে দিয়ে কবিতার মুখের ভিতর গামছা দিয়ে হাত, পা বেঁধে ফেলে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে কবিতা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, ততক্ষণে কবিতার বান্ধবী জয়ার চিৎকারে আসেপাশের বাড়ির লোকজন ও কবিতার নানী চলে আসে। কবিতার নানী ও আশেপাশের লোকজন সমরকে দরজা খুলতে বললে সমর দরজা খুলেই দৌড়ে পালিয়ে যায়। কবিতার নানি ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে তার নাতনী কবিতা বিবস্ত্র অবস্থায় বিছানায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। তাৎক্ষনিক কবিতার মাথায় পানি ঢেলে সাময়িক সুস্থ করে তোলা হয়। কবিতার নানী তাৎক্ষনিক বিষয়টি শ্রী সমর চন্দ্রের পরিবারকে জানালে,বিষয়টি সমরের মা ও এলাকার মাতব্বররা কবিতার নানীকে অর্থ প্রদান ও হত্যা করে ফেলার হুমকি ধামকি প্রদান করে, এবং কোন মানুষ যেন এই ঘটনা না জানে সেই কথাও উচ্চসরে বলে দেয়া হয়। দীর্ঘ দিন পর কানোড়ার কিছু মানুষ গণমাধ্যমকে জানালে, ঘটনাটি খুব দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর পরিবার এবং এলাকার কিছু ব্যাক্তিবর্গ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি মিমাংসা করে দেয়ার জন্য এলাকার কিছু মাতব্বরেরা ধর্ষক সমরের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা নেয়। টাকা গুলো নেয়ার সময় মাতব্বররা সমরের পরিবারকে বলেন, এই টাকা গুলোর মধ্যে পঞ্চাশ হাজার টাকা ধর্ষিতার পরিরার পাবে এবং বাকি এক লাখ টাকা কাহালু থানায় দেয়া হবে। তবে ধর্ষিতার পরিবার ও থানায় কথা বলে জানা যায় ঐসব মাতব্বররা কোন ধরনের টাকা পয়সা কাউকে না দিয়েই নিজেরাই আত্মসাৎ করেন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, কানোড়ার হিন্দু সম্প্রদায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রদীপ বর্মন, শ্রী নির্মল চন্দ্র, শ্রী অনিল চন্দ্র, শ্রী ধলা চন্দ্র, একই এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের পুত্র সোহেল (৩৩) সহ বেশ কয়েকজন মিলে সমরের পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষিতার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে মাতব্বরগন, কিন্তু এতে রাজি হয়নি মেয়েটির পরিবার। অত্বপর ধর্ষিতার অসহায় পরিবারের পাশে এসে দাড়ান কানোড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে, তরুন সমাজসেবক এস,এম শামীম। শামীমের সহযোগিতার সর্বাত্মক সহযোগিতায় গত ৮ ফেব্রুয়ারী ২১ইং সোমবার কবিতার পক্ষে বাদী হয়ে তার নানী সুলুকা বালা (৪৫) বগুড়া জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-পি/২০২১। এছাড়াও কানোড়া এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছর খানেক আগে এই ধর্ষক আসামি সমর একই এলাকার জয়েনটুর মেয়ে শিউলি (১৪) কে যৌন হয়রানি করেছিলেন। সেই ঘটনাটিও ধামাচাপা দিয়ে দেন সমরের পরিবার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেয়েটির পরিবার হতদরিদ্র হওয়ায় এবং ছোট বেলায় মা মারা যাওয়ায় কবিতা ছোটবেলা থেকে কাহালু উপজেলার সদর ইউনিয়নের কানোড়া গ্রামে নানার বাড়িতে থাকে। মামলা হওয়ার আগে বিগত দিনগুলোতে হতদরিদ্র ও ভুক্তভোগী এই পরিবারটি সঠিক বিচারের আশায় অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ব্যর্থ হয়েছে। মামলার পর ধর্ষিতার পরিবার সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

বগুড়ার কাহালুতে কিশোরী ধর্ষণ, ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা, আদালতে মামলা
                                  

স্টাফ রিপোর্টারঃ বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার সদর ইউনিয়নের কানোড়া গ্রামে এক কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৫ই নভেম্বর ২০ইং রবিবার দুপুর ১:৩০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবাবের সাথে আলাপকালে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসে। কানোড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রী অনাথ চন্দ্রের ছেলে অভিযুক্ত ধর্ষক, শ্রী সমর চন্দ্র (২২) দীর্ঘদিন থেকে পাশের বাড়ির মৃত কল্পনা রানীর একমাত্র মেয়ে কবিতা (১১) কে প্রেমের প্রস্তাব ও নানান কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। কিশোরী কবিতা সমরের দেয়া প্রেম ও কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নানান সময় কবিতার ক্ষতি করতে ওত পেতে থাকতো সমর। ভুক্তভোগির পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ই নভেম্বর ২০ইং বিগত তিন মাস আগে কবিতার নানী কবিতাকে বাসার সামনের গলিতে রেখে গরুকে ঘাস খাওয়াতে মাঠে নিয়ে যায় এবং কবিতার বিধবা মামী প্রতিদিনের ন্যায় সরকারী রাস্তার মাটি কাটার কাজে বেড়িয়ে পড়ে । ঠিক এসময় কবিতা ও তার বান্ধবী জয়া (১২) বাড়ির সামনের গলিতে খেলছিলো। সেই সময় কবিতার বাড়ী ফাঁকা থাকার সুযোগ নেয় শ্রী সমর চন্দ্র, বাড়ীর গলি থেকে কবিতাকে পাঞ্জাকোলে কবিতার ঘরেই তুলে নিয়ে যায় ধর্ষক সমর। ঘরে নিয়েই সমর প্রথমে দরজা বন্ধ করে দিয়ে কবিতার মুখের ভিতর গামছা দিয়ে হাত, পা বেঁধে ফেলে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণের এক পর্যায়ে কবিতা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, ততক্ষণে কবিতার বান্ধবী জয়ার চিৎকারে আসেপাশের বাড়ির লোকজন ও কবিতার নানী চলে আসে। কবিতার নানী ও আশেপাশের লোকজন সমরকে দরজা খুলতে বললে সমর দরজা খুলেই দৌড়ে পালিয়ে যায়। কবিতার নানি ঘরে ঢুকতেই চোখে পড়ে তার নাতনী কবিতা বিবস্ত্র অবস্থায় বিছানায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। তাৎক্ষনিক কবিতার মাথায় পানি ঢেলে সাময়িক সুস্থ করে তোলা হয়। কবিতার নানী তাৎক্ষনিক বিষয়টি শ্রী সমর চন্দ্রের পরিবারকে জানালে,বিষয়টি সমরের মা ও এলাকার মাতব্বররা কবিতার নানীকে অর্থ প্রদান ও হত্যা করে ফেলার হুমকি ধামকি প্রদান করে, এবং কোন মানুষ যেন এই ঘটনা না জানে সেই কথাও উচ্চসরে বলে দেয়া হয়। দীর্ঘ দিন পর কানোড়ার কিছু মানুষ গণমাধ্যমকে জানালে, ঘটনাটি খুব দ্রুত আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর পরিবার এবং এলাকার কিছু ব্যাক্তিবর্গ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি মিমাংসা করে দেয়ার জন্য এলাকার কিছু মাতব্বরেরা ধর্ষক সমরের পরিবারের কাছ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা নেয়। টাকা গুলো নেয়ার সময় মাতব্বররা সমরের পরিবারকে বলেন, এই টাকা গুলোর মধ্যে পঞ্চাশ হাজার টাকা ধর্ষিতার পরিরার পাবে এবং বাকি এক লাখ টাকা কাহালু থানায় দেয়া হবে। তবে ধর্ষিতার পরিবার ও থানায় কথা বলে জানা যায় ঐসব মাতব্বররা কোন ধরনের টাকা পয়সা কাউকে না দিয়েই নিজেরাই আত্মসাৎ করেন। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, কানোড়ার হিন্দু সম্প্রদায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রী প্রদীপ বর্মন, শ্রী নির্মল চন্দ্র, শ্রী অনিল চন্দ্র, শ্রী ধলা চন্দ্র, একই এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের পুত্র সোহেল (৩৩) সহ বেশ কয়েকজন মিলে সমরের পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষিতার পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে মাতব্বরগন, কিন্তু এতে রাজি হয়নি মেয়েটির পরিবার। অত্বপর ধর্ষিতার অসহায় পরিবারের পাশে এসে দাড়ান কানোড়া গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে, তরুন সমাজসেবক এস,এম শামীম। শামীমের সহযোগিতার সর্বাত্মক সহযোগিতায় গত ৮ ফেব্রুয়ারী ২১ইং সোমবার কবিতার পক্ষে বাদী হয়ে তার নানী সুলুকা বালা (৪৫) বগুড়া জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-পি/২০২১। এছাড়াও কানোড়া এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বছর খানেক আগে এই ধর্ষক আসামি সমর একই এলাকার জয়েনটুর মেয়ে শিউলি (১৪) কে যৌন হয়রানি করেছিলেন। সেই ঘটনাটিও ধামাচাপা দিয়ে দেন সমরের পরিবার। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেয়েটির পরিবার হতদরিদ্র হওয়ায় এবং ছোট বেলায় মা মারা যাওয়ায় কবিতা ছোটবেলা থেকে কাহালু উপজেলার সদর ইউনিয়নের কানোড়া গ্রামে নানার বাড়িতে থাকে। মামলা হওয়ার আগে বিগত দিনগুলোতে হতদরিদ্র ও ভুক্তভোগী এই পরিবারটি সঠিক বিচারের আশায় অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ব্যর্থ হয়েছে। মামলার পর ধর্ষিতার পরিবার সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

ভালুকায় মাকে মারধর করে মেয়েকে অপহরণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার
                                  

ময়মনসিংহের ভালুকায় বাসায় ঢুকে মাকে মারধর করে মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত জহিরুল ইসলাম ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জামিরদিয়া গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে।

সোমবার (০৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার মিলি আক্তারের মা শাহানাজ বেগম বাদী হয়ে ভালুকা মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ, স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, মারধরের শিকার মা মেয়ে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা। বেশ কয়েক দিন ধরে জহিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিল ওই কিশোরীকে। এই ভয়ে মা-মেয়ে ভালুকা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। 

সোমবার রাত ১০টার দিকে জহিরুল ইসলাম ও তার সঙ্গে আরও কয়েকজনকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে ভাড়া বাসায় ঢুকে মিলি আক্তারকে মুখে টেপ লাগিয়ে দেয়। মাকে মারধর করে তার মেয়েকে জোরপূর্বক উঠিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় মা ও মেয়ের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা অপহরণকারীদের ধাওয়া করে ওই মা ও মেয়েকে উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পালিয়ে যাওয়ার সময় জহিরুল ও তার এক সহযোগীকে আটক করে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ভালুকা মডেল থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করে।

এ বিষয়ে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাঈন উদ্দিন জানান, মেয়েটির মা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিকে আদালতের নির্দেশে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আড়াইহাজারে মোবাইলের বায়না ধরে পিতা ও সৎ সাথে অভিমান করে কিশোরির আত্মহত্যা
                                  

প্রতিনিধি আড়াইহাজার(নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পিতা ও সৎ মায়ের কাছে মোবাইল কেনার বায়না ধরে না পেয়ে অভিমান করে আনিকা(১৪) নামে এক কিশোরি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে জানাগেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে,১০ ফেব্রæয়ারী বুধবার সকালে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের নরিংদী এলাকার ইব্রাহিমের কিশোরী কন্যা আনিকা তার পিতা ও সৎ মায়ের কাছে একটি মোবাইল কিনে দেওয়ার জন্য বায়না ধরে। কিন্তু অভাবের সংসারে পিতা ইব্রাহিম ও সৎ মা জান্নাতি তার এ বায়নায় সায় না দিয়ে তাকে বকাঝকা করে। সকাল ৯টার দিকে তাদের ঘরের দরজা বন্ধ দেখে পিতা-মাতা ও বাড়ির লোকজন দরজা খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দরজা ভেঙ্গে ভিতরে গিয়ে দেখতে পান ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে আনিকা। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।
থানা পুলিশের উপপরিদর্শক রিয়াজ হোসেন জানান, নিহত আনিকা উপজেলার দুপ্তারা এলাকায় সামির আলীর স্পিনিং মিলের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। তার আয় করা টাকা দিয়ে মোবাইল ক্রয় করতে না পারায় তার মন খারাপ ছিল।
আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান,এ ব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা রুজু করা হচ্ছে।

 

রাতের আঁধারে তরুণীর ঘরে গিয়ে ধরা দোকানি
                                  

জয়পুরহাটে শয়নকক্ষে প্রবেশ করে এক তরুণীকে (২১) যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মুমিনুল ইসলাম রানা (৩০) নামে এক ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (০৭ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ভাদসা বড় মাঝি পাড়া গ্রাম থেকে তাকে গভীর রাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। রানা ওই ইউনিয়নের হরিপুর পূর্ব পাড়া গ্রামের মৃত. সোলায়মান আলীর ছেলে। 

জয়পুরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর জাহান জানান, বড় মাঝি পাড়া গ্রামে ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করা রানা ওই তরুণীর পূর্বপরিচিত। তার দোকান থেকে নিয়মিত ফ্লেক্সিলোডও দিতেন তিনি। এরই সুবাধে শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ওই তরুণী টয়লেটে যান। 

আর এই সুযোগে দুই সন্তানের জনক রানা তার শয়নকক্ষে প্রবেশ করে। পরে তিনি ঘরে ফিরলে রানা তাকে জাপটে ধরে শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দিতে থাকলে ওই তরুণী চিৎকার দেন। 

এ সময় প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। পরে ওই তরুণী বাদী হয়ে জয়পুরহাট থানায় রানাকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

ফুলবাড়ীর পলি শিবনগর গ্রামে পারিবারিক কলহে মারপিটের ঘটনায় আহত ১
                                  

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউপির পলিশিবনগর গ্রামে পারিবারিক কলহে মারপিটের ঘটনায় কুড়ালের আঘাতে এজাজুল হক মারাত্মকভাবে আহত হন। ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউপির পলিশিবনগর গ্রামের আব্দুল ওয়াহেদের পুত্র মোঃ এজাজুল হকের অভিযোগে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধা ৭টায় পলিশিবনগর গ্রামের মৃত আব্দুল বাকির পুত্র মোঃ আশরাফুল (৪০), মোঃ হাসানুল (৫০), আশরাফুলের পুত্র মোঃ রিপন (২৫), আশরাফুলের স্ত্রী মোছাঃ নুরবানু এবং অন্যান্যরা দলবদ্ধ হয়ে ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পলিশিবনগর গ্রামের মসজিদের সামনে এজাজুল হক ও তার ভাই জামিউল (৪৫) সন্ধ্যা ৭টায় উপস্থিত হলে উল্লেখ্য ব্যক্তিরা মারপিট করেন। এতে আব্দুল ওয়াহেদের পুত্র মোঃ এজাজুল কুড়ালের আঘাতে আহত হন। এ সময় বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে তাকে রক্তাত্ব অবস্থায় উদ্ধার করে রাত ৮টায় ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। বর্তমানে ১৮নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি জসিউল ও তার স্ত্রী মুক্তারিনা (৩০) মারপিটে তারা হলে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। উল্লেখ্য যে, প্রতিপক্ষরা দফায় দফায় তাদের উপর লাঠিসোটা নিয়ে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এদের উপর চড়াও হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।
 

আমতলীতে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রী উদ্ধার।
                                  

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
বরগুনার আমতলীতে নিখোঁজের এক মাস আট দিন পর এক স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর জেলার কাউনিয়া থানার নিজপাড়া গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। শনিবার দুপুরে আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার ওই স্কুল ছাত্রীকে তার মায়ের হাতে তুলে দিয়েছেন।
জানাগেছে, উপজেলার দক্ষিণ পশ্চিম আমতলী গ্রামের মোঃ ইব্রাহিম হাওলাদারের স্কুল পড়–য়া কন্যা কুলসুম আক্তার গত বছর ২৯ ডিসেম্বর আমতলী বন্দর থেকে নিখোঁজ হয়। মেয়ে নিখোঁজের ঘটনায় মা শেফালী বেগম গত ১৮ জানুয়ারী আমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরী করেন। ওই ডায়েরীর সুত্র ধরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় স্কুল ছাত্রীর অবস্থান চিহিৃত করে আমতলী থানা পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় আমতলী থানার এসআই শুভ বাড়ৈর নেতৃত্বে কাউনিয়া থানা পুলিশের সহায়তায় স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করে। শনিবার সকালে ওই ছাত্রীকে আমতলী থানায় নিয়ে আসে। ওইদিন দুপুরে ওসি শাহ আলম হাওলাদার স্কুল ছাত্রীকে তার মা শেফালী বেগমের হাতে তুলে দিয়েছেন।
স্কুল ছাত্রীর মা শেফালী বেগম বলেন, নিখোঁজ মেয়েকে পুলিশ উদ্ধার করে আমার হাতে তুলে দিয়েছেন।
আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নিখোঁজ স্কুল ছাত্রীর অবস্থান চিহিৃত করে উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ছাত্রীকে তার মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
-------------------------------------------------------------------------------
শেখের বেটির উছিলায় মুই ঘর পারছি।
মুই ভগবানের দ্বারে কই শেখের বেডিরে যেন বাঁচাইয়্যা রাহে।
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
শেখের বেটির উছিলায় মুই বুড়া বয়সে একখানা ঘর পাইছি। হেই ঘরে মুই পোলা-বউ ও নাতি লইয়্যা থাহা শুরু হরছি। মুই হারা জীবন ভাঙ্গা নারার ঘরে রইছি। বইন্ন্যা আর দেউইতে মুই ভিজজি। এ্যাহন শেখের বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোরে থাহার লইগ্যা একটা ইডের ঘর দেছে। মুই হেই ইডের ঘরে পোলা-বউ ও দুইডা নাতি লইয়্যা থাহি। এ্যাহন আর মোর দেওইয় আর শীতের ডর নাই। মোর দেওইতে-শীতে আর কষ্ট হরতে অইবে না। মুই শেখের বেটির জন্য ভগবানের দ্বারে দোয়া হরি যেন হ্যারে অনেক বচ্ছর বাচাঁইয়্যা রাহে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর ঘর পেয়ে আনন্দে এ কথা বলেছেন, তালতলী উপজেলার বড় অংকুজানপাড়া গ্রামের ৮০ বছর বয়সি বৃদ্ধা বিধবা অতুলরানী।
প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানাগেছে, মুজিব শত বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এ আওতাধীন আমতলী ও তালতলীতে দুই কোটি ৫৯ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে ১’শ ৫২ টি গৃহ নির্মাণের বরাদ্দ দেয় সরকার। এর মধ্যে উপকুলীয় তালতলী উপজেলায় এক’শ এবং আমতলীতে ৫২ টি। দুই উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের এক’শ ৫২ টি হতদরিদ্র ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে এ ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি গৃহ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লক্ষ ৭১ হাজার টাকা। পাকা টিন শেডের এ ঘরে রয়েছে দুইটি থাকার কক্ষ, রান্নাঘর, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট, গোসলখানা ও বেলকুনি। একটি ছোট পরিবারের জন্য উপযুক্ত থাকার ঘর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভালো উদ্যোগের ফলে দুই উপজেলার ১’শ ৫২ টি হতদরিদ্র ও গৃহহীন পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাই পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলার সমুদয় হতদরিদ্র পরিবারগুলোকে এ গৃহ নির্মাণের আওতায় আনার দাবী জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
শনিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখাগেছে, হতদরিদ্র মানুষগুলো প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পেয়ে খুবই আনন্দিত। তারা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে শান্তিতে বসবাস করছে। উৎসবমুখর আশ্রায়ণ প্রকল্প এলাকাগুলো।
তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের কালাম মিয়া ও শাহিনুর বেগম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর পাইছি। খুব ভালো ঘর। আরাম আয়েশেই দিন কাটছে।
রাখাইন মাখেন বলেন, উহ প্রধানমন্ত্রী ঘর দিছে। ভালাই অইছে। ঘর পেয়ে শান্তি লাগছে।
আমতলী সদর ইউনিয়নের বিধবা রওশন আরা বেগম বলেন,মুই বিধরা মানু মোরে সরহার একটা ঘর দেছে। মুই প্রেধানমন্ত্রীর লইগ্যা দোয়া হরি।
তালতলীর পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নজির হোসেন কালু পাটোয়ারী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া ১০ টি ঘর পেয়েছি। নির্মাণ শেষে ওই ঘরে হত দরিদ্র পরিবারগুলো বসবাস করছে। তিনি আরো বলেন, গৃহ নির্মাণ কাজ ভালোই হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রুনু বেগম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর তালতলীতে এক’শ ঘর পেয়েছি। ওই ঘর ইউএনও স্যারের তদারকিতে নির্মিত হয়েছে।
আমতলী ও তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর দুই উপজেলার এক’শ ৫২ টি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। ওই ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ। শতাধিক পরিবার ইতিমধ্যে ঘরে বসবাস করছে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনা অনুযায়ী উপজেলার সকল হতদরিদ্র ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে গৃহ নির্মাণের আওতায় আনা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেই ঘোষনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি।

গোলাপগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের নামে ফেসবুকে অপপ্রচার, অভিযোগ দায়ের
                                  

 গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: গোলাপগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সালাহ উদ্দিন সিপার (৫০) এর নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে মহি উদ্দিন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত যুবক মহি উদ্দিন (৩৫) উপর বারকোট গ্রামের আব্দুস সালামের পুত্র। এ ঘটনায় ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের বারকোট খর্দ্দা পাড়া গ্রামের মৃত আজির উদ্দিনের পুত্র সাবেক ইউপি সদস্য সালাহ উদ্দিন সিপার গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে সিপার আহমদ উল্লেখ করেন, মহি উদ্দিন বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে জড়িত। তার বিরুদ্ধে ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদে একটি রেজুলেশন রয়েছে। সে ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে এলাকায় একের পর এক অপকর্ম করেই যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় এর প্রতিবাদ করেন সালাহ উদ্দিন সিপার। গত ১১ জানুয়ারি আনুমানিক সকাল ১১ টার দিকে জামিটিকি বাজারে অভিযুক্তের সাথে সিপারের দেখা হলে তাকে দেখে মুহি উদ্দিন বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করতে থাকে। এ সময় তিনি প্রতিবাদ জানালে সে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় ফেসবুক সে প্রচার করবে বলে হুমকি প্রদান করে। সেই সাথে সালাহ উদ্দিন আগামী ইউনিয়ন নির্বাচনে যাতে প্রতিদ্ব›দ্বীতা করলে ওনার মান-সম্মান ক্ষুন্ন হয় এ জন্য সে ফেসবুকে অপপ্রচার চালাবে বলেও হুমকি দেয়। বিষয়টি সাথে সাথে তিনি আশপাশের লোকজনকে অবগত করলে সে দ্রæত পালিয়ে যায়।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, গত ১ ফেব্রæয়ারি জামিটিকি-পুরকায়স্হ বাজার সড়কের সংস্কার কাজে অনিয়মের অভিযোগ পেলে সেটি দেখার জন্য সেখানে যান ঐ সাবেক ইউপি সদস্য সালাহ উদ্দিন সিপার । তিনি এ সময় রাস্তার কাজে অনিয়মের দেখতে পেয়ে কাজ করতে বাঁধা প্রদান করেন। এসময় অভিযুক্ত মহি উদ্দিন সিলেট বøগ নামের একটি ফেইসবুক পেইজে সালাহ উদ্দিন সিপারকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহার করে পোস্ট করে।

এবিষয়ে জানতে ৩ ফেব্রæয়ারি সকাল ৯টার দিকে মহি উদ্দিনের বাড়িতে যান সালাহ উদ্দিন সিপার। ফেসবুক কুরুচিপূর্ণ ভাষা ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে সে বলে আমি আপনাকে আগেই বলেছি ২ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য। কিন্তু আপনি সেটি দেননি। যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি ২ লক্ষ টাকা না দিবেন ততক্ষণ পর্যন্ত বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে আপনার বিরুদ্ধে ফেসবুকে লিখা অব্যহত থাকবে। কোন কিছু করে আমার লিখা বন্ধ করতে পারবেন না। বিষয়টি সাথে সাথেই সালাহ উদ্দিন সিপার অভিযুক্তের চাচা আব্দুল মতিন সহ এলাকার কয়েকজনকে অবহিত করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এ ব্যাপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার এস আই আশীষ তালুকদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আমতলীতে যৌতুকের বলি রাবেয়া শিশু কন্যার সামনেই নির্মমভাবে পিটিয়ে মাকে হত্যা।
                                  

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।
আমতলীতে যৌতুকের বলি হলেন দুই সন্তানের জননী রাবেয়া আক্তার। শিশু কন্যার সামনেই স্ত্রীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করলো ঘাতক স্বামী মোঃ অলি উল্লাহ হাওলাদার। ঘাতক স্বামী এনজিও কর্মী অলি উল্লাহকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনা ঘটেছে আমতলী পৌর শহরের সিকদার বাড়ী সড়কে সোমবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে।
জানাগেছে, ২০০৮ সালে উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ডালাচারা গ্রামের আব্দুস ছত্তার হাওলাদারের ছেলে মোঃ অলি উল্লাহ সাথে চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামের আব্দুল আজিজ মোল্লার কন্যা রায়েরা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রাবেয়াকে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছে স্বামী অলি উল্লাহ। ঠুনকো ঘটনায় অলি উল্লাহ মা রাবেয়া বেগমের (৫৮) প্ররোচনায় স্ত্রী রাবেয়াকে মারধর করতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে রাবেয়া কয়েকবার বাবার বাড়ীতে চলে যায়। বিয়ের দুই বছরের মাথায় শিশু কন্যা সানজিদার জন্ম হয়। মেয়ের মুখের দিতে তাকিয়ে রাবেয়া ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহ’র নির্যাতন সহ্য করে আসছে। ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহ বে-সরকারী সংস্থা কোডেক বরগুনার পুরাকাটা শাখায় ব্যবস্থাপক পদে চাকুরী করে। বর্তমান আমতলী পৌর শহরে শিকদার বাড়ী সড়কে জমি কিনে বাসা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছে। ওই বাসা সংলগ্ন আরো জমি ক্রয়ের জন্য দুই লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়। ওই টাকা স্ত্রী রাবেয়াকে তার বাবার বাড়ী থেকে এনে দিতে বলে। কিন্তু রায়েবা বাবার বাড়ী থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকার করে। এ নিয়ে স্বামী অলি উল্লাহ গত দুই মাসে কয়েক দফায় স্ত্রী রাবেয়াকে মারধর করেছে। রবিবার রাতে স্ত্রী রাবেয়াকে তার ভাই বশির উদ্দিনের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা এনে দিতে বলে। এ নিয়ে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায় স্বামী অলি উল্লাহ স্ত্রী রাবেয়াকে বেধরক মারধর করে। সোমবার সকালে অলি উল্লাহ’র মা রাবেয়া বেগম (৫৮) ছেলের বাসায় এসে পুত্র বধুকে গালাগাল করে। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে অলি উল্লাহ লোহার এঙ্গেল দিয়ে শিশু কন্যা সানজিদা ও পুত্র সাজিদের সামনে স্ত্রী রাবেয়াকে পিটিয়ে বাম হাত ভেঙ্গে দেয়। শিশু কন্যা বাবার নির্মম নির্যাতন থেকে মাকে রক্ষায় এগিয়ে গেলেও রক্ষা করতে পারেনি। এদিকে স্বাশুড়ী রাবেয়া বেগম পুত্রবধুকে রক্ষা না করে তিনিও ছেলের সাথে পুত্রবধুকে মারধরে মেতে উঠেন। শিশু কন্যা সানজিদা বাবার হাত থেকে লোহার এঙ্গেল নিয়ে যায়। এ সময় মা রাবেয়া বেগম ইট এনে ছেলের হাতে তুলে দেয়। ওই ইট দিয়ে পিটিয়ে মাথা থেতলে স্ত্রী রাবেয়ার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। শিশু কন্যার সামনেই স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যা করে তার শ্যালক বশির উদ্দিন মোল্লাকে মুঠোফোনে জানায় তোর বোনকে আমি পিটিয়ে হত্যা করেছি। তুই এসে লাশ নিয়ে যা। শিশু কন্যার ডাক চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে আসে এবং ওই সময়েই ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মোঃ বশির উদ্দিন বাদী হয়ে ওই দিন দুপুরে ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহ ও তার মা রাবেয়া বেগমকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরন করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই অলি উল্লাহ ও তার মা রাবেয়া বেগম পুত্রবধু রাবেয়াকে নির্যাতন করে আসছে। এ নিয়ে কয়েক দফায় শালিস বৈঠক হয়েছে। তারা আরো বলেন, প্রায়ই স্বামী অলি উল্লাহ স্ত্রীকে মারধর করতো।
নিহতের শিশু কন্যা সানজিদা (১০) জানান, বাবার অত্যাচারে মা সকালের খাবার খেতে পারেনি। বাবা দাদীর সহযোগীতায় মাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমি বাবার হাত থেকে লোহার এঙ্গেল নিয়ে গেলে দাদী বাবার হাতে ইট তুলে দেয়। ওই ইট দিয়েই পিটিয়ে মায়ের মাথা থেতলে দিয়েছে। এরপর মা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
নিহত রাবেয়া আক্তারের ভাই স্কুল শিক্ষক মোঃ বশির উদ্দিন বলেন, সোমবার খুব সকালে আমার বোন আমাকে মুঠোফোনে জানায় ভাইয়া দুই লক্ষ টাকা দিতে আমি অস্বীকার করায় আমাকে অলি রাতে মারধর করেছে। আমি আর নির্যাতন সহ্য করতে পারছি না। আমাকে ভাইয়া রক্ষা কর। তিনি আরো বলেন, ওই দিন সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আমার ভগ্নিপতি অলি উল্লাহ আমাকে মুঠোফোনে বলেন, তোর বোনকে আমি পিটিয়ে হত্যা করেছি। তুই এসে তোর বোনের লাশ নিয়ে যা।
আমতলী থানায় এসআই নাসরিন আক্তার বলেন, নিহত রাবেয়া আক্তারের বাম হাত ভাঙ্গা, ডান হাতের আঙ্গুল থেতলানো, বাম চোখ রক্তাক্ত, মাথা থেতলানো, কোমড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের চিহৃ রয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ঘাতক স্বামী অলি উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে প্রেরন করা হয়। তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রæত গ্রেফতার করা হবে।

ফুলবাড়ীতে আদালতের রায় পাওয়ার পরেও জমির মালিক জমি ছাড়ছে না
                                  

মোঃ আফজাল হোসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে জমির মালিক মোস্তাফিজুর রহমান (দুলাল) আদালতে রায় পাওয়ার পরেও জমির দখলদার জমির দখল ছাড়ছে না।
ফুলবাড়ী উপজেলার এলুয়াড়ী ইউপির বিশিষ্ট্য সমাজসেবক ও সংগঠক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল এর লিখিত অভিযোগে জানান যায়, ফুলবাড়ী উপজেলা ফুলবাড়ী, জেএলনং-৪৭, খতিয়ান নং-এসএ-১৪২, দাগনং-১৯৯, পরিমান-৮৭ শতক জমি আলাদীপুর ইউপির ভিমলপুর গ্রামে মৃত এনামুল হক এর পুত্র মোঃ ছাহেরুল ওরফে রেজওয়ান হক ও অন্যান্য গংরা ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে জাল দলিল সৃষ্টি করে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল এর নিজ জমি দখল করে রেখেছে। এই জমি সংক্রান্ত বিষয়ে ফুলবাড়ী সহকারী জজ আদালত দিনাজপুর এ মামলা করেন। যাহার মামলা নং-১০/২০১১ অন্য। বিজ্ঞ বিচারক কাগজপত্র পর্যালোজনা করে প্রকৃত জমির মালিক মামলার বিবাদী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল এর পক্ষে রায় প্রদান করেন। রায় প্রদানের পরেও জাল কাগজ সৃষ্টি কারী মোঃ ছাহেরুল ওরফে রেওজয়ান হক ষড়যন্ত্রমূলক ভাবে জমি দখলে রেখেছেন।
একই ভাবে ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউপির রাজারামপুর গ্রামের মৃত সমশের আলী মন্ডলের পুত্র মোঃ এরশাদুল হক মন্ডল ও তার গংরা মৌজা রাজারামপুর, জেএলনং-১২১, খতিয়ান নং-এসএ-৩৯, দাগনং-২৬৩৯, পরিমান-৮৪শতক ও মৌজা রাজারামপুর, জেএলনং-১২১, খতিয়ান নং-এসএ২৪২, দাগনং-২৭৩৬, পরিমান ৫৫ শতক এর মধ্যে ২৫ শতক, দুই দাগে মোট জমির পরিমান-১০৯ শতক। এই জমি সংক্রান্ত বিষয়ে বিশিষ্ট্য সমাজসেবক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল দিনাজপুর জেলা জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মোকদ্দমা নং-৪১/২০১১মিস। ও সহকারী জজ আদালত ফুলবাড়ী-মোকদ্দমা নং-১০/২০০৫ অন্য। আদালত কাগজপত্র যাচাই অন্তে বিবাদী মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল এর পক্ষে রায় প্রদান করেন। এর পরেও মামলার বাদি মোঃ এরশাদুল হক মন্ডল জাল কাজ তৈরি করে ঐ জমি দখল করে রেখেছে। এ ব্যাপারে বিশিষ্ট্য সমাজ সেবক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল জাল কাগজ সৃষ্টি কারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে জমি ফেরত পেতে প্রশাসনের আসু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ড্রাইভার মালেকের অঢেল সম্পত্তি নিয়ে যা বলল তার ভাই
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের গাড়ি চালক আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। অবৈধ অস্ত্র, জাল নোটের ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করার পর র‍্যাব বলছে তৃতীয় শ্রেণির এই কর্মচারীর বিপুল সম্পদের খোঁজ পেয়েছেন তারা।

মালেককে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব জানায়, তার দুটি সাততলা ভবন, নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবন, জমি, গরুর খামার ও বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ গচ্ছিত অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার সম্পদের অর্থমূল্য শত কোটি টাকারও ওপরে।

শুধু অঢেল সম্পদ অর্জন নয়, মালেকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে নিজের পরিবারেরই সাতজনকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মালেকের ভাই আব্দুল খালেক। তিনি অধিদপ্তরে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করছেন।

সোমবার ভাইয়ের (চালক মালেক) সুপারিশে চাকরির বিষয়ে তার কাছ থেকে জানতে চাইলে খালেক বলেন, ‘আমিও ১৯৯৪ সাল থেকে অফিস সহকারী হিসেবে অধিদপ্তরে আছি। ১৯৯৩ সালে পত্রিকার সার্কুলার দেখে চাকরির আবেদন করেছি। ৯৪ সালে ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি নিয়েছি। আমার চাকরিতে কারো কোনো সহযোগিতা ছিল না। ইন্টারভিউ দিয়ে পাস করে নিয়ম অনুযায়ী যোগদান করেছি’।

মালেকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যে বিষয়গুলো আমি পত্রিকায় পড়লাম সেগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভালোভাবে খতিয়ে দেখুক।’

মালেকের বিরুদ্ধে রাজধানীর তুরাগে তার সাততলার দুটি বিলাসবহুল বাড়িতে ২৪টি ফ্ল্যাট, ১২ কাঠার আরেকটি প্লট ছাড়াও হাতিরপুলে নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনের মালিকও হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার ভাই খালেক বলেন, ‘আমার বাবার জীবদ্দশায় আমাদের অনেক জমিজমা দিয়ে গেছেন। আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা, তখন পাঁচ হাজার টাকা কাঠা দামে জমি পাওয়া যেত। বাবা আমাকে ও ভাইকে অনেক জমি কিনে দিয়েছেন। আর হাতিরপুলে যেই জমির কথা বলা হয়েছে সেটাও আমার বাবার জমি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার আগে এই জমি আমার মা ও ভাই-বোনদের দিয়ে গেছেন। এখন এটা ডেভেলপারকে দিয়ে আমরা ফ্ল্যাট বানাচ্ছি। আর যেই গরুর খামারের কথা এসেছে সেই জমিও আমার বাবার কিনে দিয়ে গেছেন। কিছু জমি বাবা তার পেনশনের টাকায় কিনে দিয়ে গেছেন। আমার বাবা ২০০৫ সালে মারা গেছেন, তিনি জীবিত থাকলে জমি-জমার বিষয়ে আরও ভালো বলতে পারত।’

এদিকে মালেকের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে তার মেয়ে নৌরিন সুলতানা বেলিকে অধিদপ্তরের অফিস সহকারী পদে, ভাতিজা আব্দুল হাকিমকে অফিস সহায়ক পদে, বড় মেয়ে বেবির স্বামী রতনকে ক্যান্টিন ম্যানেজার হিসেবে, ভাগ্নে সোহেল শিকারীকে ড্রাইভার পদে, ভায়রা মাহবুকে ড্রাইভার পদে, নিকটাত্মীয় কামাল পাশাকে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

রোববার তুরাগের বাড়ি থেকে গ্রেফতারের সময় মালেকের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল উদ্ধার করে র‌্যাব-১।

তদন্তসংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ব্যক্তিগত জীবনে দুটি বিয়ে করেছেন আবদুল মালেক। প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তারের নামে তুরাগ থানাধীন দক্ষিণ কামারপাড়া রমজান মার্কেটের পাশে ছয় কাঠা জায়গার ওপর সাততলার (হাজী কমপ্লেক্স) দুটি আবাসিক ভবন রয়েছে। যেখানে গড়েছেন ২৪টি ফ্ল্যাট।

পাশাপাশি স্থানেই আনুমানিক ১০-১২ কাঠার প্লট রয়েছে। বর্তমানে সপরিবারে সেখানকার একটি ভবনের তৃতীয়তলায় বসবাস করেন এবং বাকি ফ্ল্যাটগুলোর কয়েকটি ভাড়া দেয়া রয়েছে। এর বাইরে ২৩, ফ্রি স্কুল রোড, হাতিরপুলে পৈতৃক সাড়ে চার কাঠা জায়গার ওপর দশতলা নির্মাণাধীন ভবন আছে।

মেয়ে বেবির নামে দক্ষিণ কামারপাড়ায় প্রায় ১৫ কাঠা জায়গার ওপর ‘ইমন ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি গরুর খামার রয়েছে যাতে প্রায় ৫০টি বাছুরসহ গাভী রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করে নিজে সেই সংগঠনের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এই সংগঠনের একক ক্ষমতাবলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চালকদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। চালকদের নিয়োগে, বদলি ও পদোন্নতির নামে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসনকে জিম্মি করে বিভিন্ন ডাক্তারদের বদলি ও পদোন্নতি এবং তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন এই মালেক ড্রাইভার।

এদিকে, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কারণে গাড়িচালক আব্দুল মালেককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার বিকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

নৌভ্রমণের আড়ালে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’!
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পাবনার চাটমোহরে চলতি বর্ষা মৌসুমে নৌভ্রমণ ও ভুড়িভোজের আড়ালে চলছে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’। দিনে-রাতে প্রকাশ্য চলা এ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে আন্তরিকতা দেখা যায়নি পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনের। ফলে ক্ষোভ বিরাজ করছে বিলপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে।

সরেজমিনে উপজেলার হান্ডিয়াল ও নিমাইচড়া বিলে দেখা গেছে, বেশিরভাগ নৌভ্রমণের নৌকার সামনে দৃষ্টিকটু পোশাকে নাচছেন নর্তকীরা। সিনেমা স্টাইলে নর্তকীকে সঙ্গ দিচ্ছেন যুবক ও তরুণরা। গান ও বাদযন্ত্রের তালে চলছে এ নৃত্য। ছাউনির ভেতরেও চলছে নাচ। সেখানকার পরিবেশটা আর লজ্জাকর। তবে অন্য একটি নৌকার কাছাকাছি আসতেই নর্তকীরা সামনের অংশ থেকে দ্রুত চলে যাচ্ছে ছাউনির ভেতরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কথিত এ সব নর্তকীরা মূলত যৌনকর্মী। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে এদের আনা হচ্ছে। বিনিময়ে এদের হাতে দেওয়া হচ্ছে মোটা টাকা। অভিযোগ, দিনে আয়োজকদের নৃত্যের মাধ্যমে আনন্দ দিচ্ছেন এরা।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নর্তকী থাকা নৌকাগুলা গভীর বিলে চলে যায় রাতে। রাতভর বিলেই থাকে। রাত যত গভীর হয়, নৃত্যের সঙ্গে অশ্লীলতাও বাড়তে থাকে। এ ধরনের নৌকাগুলোর বেশিরভাগ অংশ কৌশলে পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখছেন নৌমালিকেরা।

নিমাইচড়া এলাকার বাসিন্দা মুক্তার হোসেন জানান, এ সব নর্তকীর কারণে পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে নৌকাভ্রমণে আসলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

হান্ডিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে এম জাকির হোসেন বলেন, ‘আমিও শুনেছি। ওরা সংখ্যায় বেশি, তাই কিছু করা যায় না। এক বছর আগে চারটি নর্তকীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে পিছু হটেছি।’

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি প্রশাসন) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য আমার কাছে নেই। তবে এ ধরনের অপকর্ম চলনবিলে হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

দুদকের মামলায় প্রদীপকে নেওয়া হলো চট্টগ্রাম
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার আসামি টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে কক্সবাজার কারাগার থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সোমবার তাকে চট্টগ্রামের আদালতে তোলা হবে।

প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট মামলা করে দুদক। কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা মামলায় প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওই মামলার পর দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয় মূলত ২০১৮ সাল থেকে। দুই বছর অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের ‘প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায়’ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের ফেরার পথে মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এরপর গত ৫ আগস্ট টেকনাফ থানার পরিদর্শক লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সিনহার বড় বোন।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি র‌্যাব তদন্ত করছে। তারা মামলার ১৩ আসামিকে নানা মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ মামলায় প্রদীপ ছাড়া ১২ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি সোমবার তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

লোপার অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত তার মেয়েও!
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকা থেকে ফুল বিক্রেতা জিনিয়াকে অপহরণের ঘটনায় নূর নাজমা আক্তার লোপা তালুকদার (৪২) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা রমনা বিভাগ। কিন্তু কে এই লোপা তালুকদার, অনেকের মনেই এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

জানা গেছে, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ছবি রয়েছে এই লোপা তালুকদারের। মন্ত্রী এমপি, এমনকী খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ছবি তুলে ফেলেছেন। তাই অনেকেই ‘লোপা’কে রিজেন্ট গ্রুপের সাহেদের ‘লেডি ভার্সন’ বলছেন।

জিনিয়াকে ‘অপহরণের’ ঘটনায় লোপা তালুকদারের অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তার মেয়েও। তবে তাকে এখনো আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে পুলিশ খুঁজছে বলে জানা গেছে। জিনিয়া অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছেন লোপা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অনেককে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রচুর টাকা নিয়েছেন লোপা। এ অভিযোগে দু‘জন ইতিপূর্বে শাহবাগ ও মতিঝিল থানায় জিডি করেছেন। এখন লোপার বিরুদ্ধে তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

ডিবির রমনা অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার ও মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা মিশু বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, লোপার অতীত ভালো নয়, বাড়ি পটুয়াখালী। সেখানে অন্তঃসত্ত্বা নারী হত্যা মামলার আসামি ছিলেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী মারা যাওয়ার পর বিভিন্ন সময় বেআইনি কাজে যুক্ত হয়েছেন তিনি।

এখন তার মেয়েকেও খুঁজছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জিনিয়াকে দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করানোর পরিকল্পনা থেকেই শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। গত সোমবার রাতে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানার আমতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিনিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এসময় গ্রেফতার করা হয় লোপা তালুকদারকে। এরপর থেকেই তার বিষয়ে নানা ধরনের তথ্য সামনে আসতে শুরু করে।

জানা গেছে, লোপা তালুকদার অনেকেরই পরিচিত। মন্ত্রী, এমপি, এমনকী খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ছবি তুলেছেন। তিনি নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকার পরিচিত মুখ। বড় বড় সাংবাদিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের খবর এখন ভেসে বেড়াচ্ছে।

তাকে গ্রেপ্তারের পর ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহাবুবুর রহমান বলেন, লোপা তালুকদার বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে জিনিয়াকে ফুঁসলিয়ে নারায়নগঞ্জে তার বোনের বাড়িতে রাখে। তার উদ্দেশ্য ভালো ছিল না, খারাপ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, তার মাকে না জানিয়ে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া তার মা বা কেউ যাতে না জানে সে ব্যবস্থাও নিয়েছে। সেখানে সে রেখেছিল, চেষ্টা করেছে এটা যাতে আর কেউ না জানে। কাজেই অসৎ উদ্দেশ্যেই তাকে নিয়েছে বলে আমরা মনে করি।

সাহেদের ৪৩ অ্যাকাউন্টে ৯২ কোটি টাকা!
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে মামলা করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিআইডির অনুসন্ধান তথ্যমতে বিগত ৫ বছরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন সাহেদ। বিশেষ করে করোনার সময়ে ভুয়া নমুনা পরীক্ষা ও সনদ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ৩ কোটি টাকারও বেশি।

সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জিসান জানান, সাহেদ ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া করোনার ভুয়া পরীক্ষা এবং জাল সনদ প্রদানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩ কোটি ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

তিনি বলেন, সাহেদ তার অপরাধকর্মের প্রধান সহযোগী মাসুদ পারভেজের সহযোগিতায় রিজেন্ট ডিসকভারি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল লিমিটেডের নামে মাতুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংরে শাহ মখদুম শাখায় একটি নতুন হিসাব খোলেন গত ফেব্রুয়ারি মাসে। হিসাবটি পরিচালনা করতেন সাহেদের বাবা সিরাজুল করিম ও এমডি মাসুদ পারভেজ।

সিআইডির অনুসন্ধানে সাহেদের অর্জিত সম্পদের প্রধান উৎস প্রতারণা ও জালিয়াতি বেরিয়ে আসে। অপরাধলব্ধ আয় লেনদেনের সুবিধার্থে সে রিজেন্ট হাসপাতাল, রিজেন্ট কে. সি. এস লিমিটেড ও অন্যান্য অস্তিত্ববিহীন ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৪৩ টি ব্যাংক হিসাব খুলে পরিচালনা করে। ওই ব্যাংক হিসাবসমূহ খোলার সময় কেওয়াইসি ফরমে সাহেদ নিজেকে প্রতিষ্ঠানসমূহের চেয়ারম্যান বা স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে বলা হয়, কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নগদ টাকা জমা হয় সাহেদ ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ৪৩টি ব্যাংক হিসাবে। এসব হিসেবে মোট ৯১ কোটি ৭০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। এর মধ্যে তুলে নেওয়া হয় ৯০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আসামি মাসুদ পারভেজের ১৫টি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা জমা দিয়ে তুলে নেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের মাধ্যমে রূপান্তর এবং ভোগ-বিলাসে অর্থ ব্যয় করার অপরাধে অর্গানাইজড ক্রাইম (ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম), সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানী উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করছে। মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করবে।

উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত ) কাজী আবুল কালাম মঙ্গলবার রাত ৮টায় বলেন, মামলার করার জন্য সিআইডির কোনো কর্মকর্তা এখনো আসেনি।

রিমান্ডে যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে সেই তূর্ণা!
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

প্রতারক চক্রের হোতা তূর্ণা আহসান ওরফে রাহাত আরা খানম তূর্ণাসহ ছয়জনকে রিমান্ডে নেওয়া হলেও থেমে নেই এই চক্রের প্রতারণা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে এই তরুণী।

জানা গেছে, রাজধানীর বারিধারা, গুলশানসহ অভিজাত এলাকায় বাসা নিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রতিনিয়ত অনলাইনে অপকর্ম করে যাচ্ছে। হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রতারক চক্রের কবলে পড়েছেন এমন বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই চক্রের প্রতারণার নানা কৌশল। ঢাকায় এই চক্রের কয়েক শ সদস্য রয়েছে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

বিভিন্ন আইডি হ্যাক করে, ফেইক ছবি ও পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করে চক্রটি। এক্ষেত্রে নানা অজুহাতে অডিও ও ভিডিও কলে যায় না চক্রের সদস্যরা।

জানা গেছে, এসব চক্রের বাংলাদেশি সদস্যরা মূলত কাস্টমস অফিসার সেজে কথা বলে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা করে। এক্ষেত্রে শিক্ষিত ও শুদ্ধ উচ্চারণের পারদর্শী বাংলাদেশিদের দলে টানে নাইজেরিয়ানরা। গত বুধবার তূর্ণাসহ ছয়জনকে রিমান্ডে নিয়েছে সিআইডি।

সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে তূর্ণা জানিয়েছে, তার মতো আরো অনেকে রয়েছে চক্রে। তার চক্রেই কাজ করে এমন আরো এক নারী সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে তূর্ণা। ভদ্রবেশী এই নারী আড়ালে ভয়ঙ্কর প্রতারক। নাইজেরিয়ানদের সঙ্গে মিশে এই চক্রের সদস্যরা প্রতিনিয়ত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি গ্রুপে ১৫-২০ জনে ভাগ হয়ে চক্রের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে আছে। অন্তত কয়েক শ সদস্য রয়েছে এসব চক্রের। সুন্দর, শুদ্ধ উচ্চারণের জন্যই তূর্ণাকে অগ্রাধিকার দিতো নাইজেরিয়ানরা। তাছাড়া ইংরেজিতেও দক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১১-২০১২ সেশনের এই ছাত্রী।

এ বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার শামসুন নাহার বলেন, প্রতারক চক্র বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগী অনেক। কিন্তু স্বামীর অগোচরে স্ত্রী, স্ত্রীর অগোচরে স্বামী চ্যাট করে বন্ধুতায় জড়িয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যে কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে আসছেন না। চক্রটি টাকা কোথাও পাচার করেছে কিনা, এসব বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে তাদের যাতায়াত ছিল। তাছাড়া জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

গত ২১ জুলাই তূর্ণাসহ এই চক্রের ১৩ প্রতারককে মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। একইভাবে ২২ জুলাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নূপুর খাতুন নামে এক তরুণী সহ দুই নাইজেরিয়ানকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসির সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

রাজধানীতে সজীব বিল্ডার্সের মালিক খুন
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আবুল খায়ের নামে এক এক আবাসন ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যবসায়ী সজীব বিল্ডার্স নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের মালিক।

আজ শুক্রবার সকালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

কে বা কারা কেন এ খুন করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান বলেন, ‘ব্যবসায়ী আবুল খায়ের বসুন্ধরা আবসিক এলাকার এফ ব্লকে থাকতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে তিনি আর ফেরননি। সকালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকের একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।’

ওই ব্যবসায়ীকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ব্যবসায়ী আবুল খায়েরের স্ত্রী রুপালী আক্তার জানান, গতকাল বিকেল ৩টার দিকে তার স্বামী বাসা থেকে বের হন। সাধারণত অন্য সময়ে তিনি রাত ৮টার মধ্যেই বাসায় ফেরেন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে বাসায় না ফেরায় রাত ৮টার পর থেকে আবুল খায়েরের মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়েও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এরপর রাতভর তিনি পরিচিত জায়গাগুলোতে খোঁজ নেন। কিন্তু কোথাও স্বামীর খোঁজ পাচ্ছিলেন না। রাতে ভাটারা থানাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। ভোরে অন্য স্বজনরাসহ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন জায়গা খুঁজতে গিয়ে তাদের নির্মাণাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

জানা যায়, নিহত ব্যবসায়ী আবুল খায়েরের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরের পূর্বচরবাটা ইউনিয়নে। তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এফ ব্লকের ২১ নম্বর রোডের ৬৯২ নম্বর বাসার জালাল গার্ডেনের আট তলায় স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকতেন।


   Page 1 of 7
     অপরাধ
বগুড়ার কাহালুতে কিশোরী ধর্ষণ, ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা, আদালতে মামলা
.............................................................................................
ভালুকায় মাকে মারধর করে মেয়েকে অপহরণ চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার
.............................................................................................
আড়াইহাজারে মোবাইলের বায়না ধরে পিতা ও সৎ সাথে অভিমান করে কিশোরির আত্মহত্যা
.............................................................................................
রাতের আঁধারে তরুণীর ঘরে গিয়ে ধরা দোকানি
.............................................................................................
ফুলবাড়ীর পলি শিবনগর গ্রামে পারিবারিক কলহে মারপিটের ঘটনায় আহত ১
.............................................................................................
আমতলীতে নিখোঁজ স্কুল ছাত্রী উদ্ধার।
.............................................................................................
গোলাপগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় সাবেক ইউপি সদস্যের নামে ফেসবুকে অপপ্রচার, অভিযোগ দায়ের
.............................................................................................
আমতলীতে যৌতুকের বলি রাবেয়া শিশু কন্যার সামনেই নির্মমভাবে পিটিয়ে মাকে হত্যা।
.............................................................................................
ফুলবাড়ীতে আদালতের রায় পাওয়ার পরেও জমির মালিক জমি ছাড়ছে না
.............................................................................................
ড্রাইভার মালেকের অঢেল সম্পত্তি নিয়ে যা বলল তার ভাই
.............................................................................................
নৌভ্রমণের আড়ালে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’!
.............................................................................................
দুদকের মামলায় প্রদীপকে নেওয়া হলো চট্টগ্রাম
.............................................................................................
লোপার অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত তার মেয়েও!
.............................................................................................
সাহেদের ৪৩ অ্যাকাউন্টে ৯২ কোটি টাকা!
.............................................................................................
রিমান্ডে যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে সেই তূর্ণা!
.............................................................................................
রাজধানীতে সজীব বিল্ডার্সের মালিক খুন
.............................................................................................
গুলি করে বুট দিয়ে সিনহার গলা চেপে ধরে লিয়াকত!
.............................................................................................
স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদকে দুদকে তলব
.............................................................................................
অস্ত্র মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল
.............................................................................................
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
.............................................................................................
রূপগঞ্জে জুয়েলারী ব্যবসার নামে প্রতারনা বানিজ্য তুঙ্গে
.............................................................................................
মীরেরটেক ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ
.............................................................................................
ডাক্তার ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, অভিযোগ ওসির
.............................................................................................
মাদক সেবনে মাতলামিতে নিষেধ করায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা অভিযোগ উঠেছে।
.............................................................................................
পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
.............................................................................................
সাবেক এমপি আউয়ালের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক
.............................................................................................
ভুলতা ফাঁড়ির নাকের ডগায় ফুটপাতে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা
.............................................................................................
রূপগঞ্জে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মুরগির‘ডামিস্টিক’
.............................................................................................
ওয়েস্টিনের মদ বিক্রির হিসাব চেয়েছে মাদক অধিদপ্তর
.............................................................................................
পাপিয়ার পাপের ডেরায় যেতেন কারা, জানতে চায় দুদক
.............................................................................................
বেশি চাপাচাপি করলে সব ফাঁস করে দেব
.............................................................................................
এবার ফাঁস হলো পাপিয়ার অপরাধ জগতের ‘রাজার’ নাম!
.............................................................................................
এক বছরে ৫৯ নারী গণপরিবহনে নির্যাতনের শিকার
.............................................................................................
যুবমহিলালীগ নেত্রী পাপিয়ার দেহ ব্যবসা ফাঁস!
.............................................................................................
১৩৭০০ পাউন্ড দাও, নাহলে...
.............................................................................................
রূপগঞ্জে বেপরোয়া মাদক সম্রাট জামাই ফারুক চক্র
.............................................................................................
ফতুল্লায় ত্রিমুখী প্রেমে যুবক নিখোঁজ
.............................................................................................
নারায়ণগঞ্জে ডাক্তারের কাণ্ড....
.............................................................................................
এমপি রতনের সেই দ্বিতীয় স্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষিকা বরখাস্ত
.............................................................................................
নায়িকা বানানোর প্রলোভনে তরুণীর সর্বনাশ
.............................................................................................
৪৭ জন আইনজীবীর সাহায্যের পরও জামিন পেলেন না সেই মিন্নি
.............................................................................................
জবানবন্দি শেষে মিন্নি কারাগারে
.............................................................................................
পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ
.............................................................................................
আড়াইহাজারে নবম শ্রেনীর ছাত্রী ধর্ষণের শিকার ধর্ষক লিটন গ্রেফতার
.............................................................................................
বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক অবরোধ
.............................................................................................
রাজধানীতে দুইজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু
.............................................................................................
শহীদ পার্থ প্রতীমের প্রতি ছাত্রলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী
.............................................................................................
ক্ষণিকা বাসে আক্রমনের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেন ঢাবি ছাত্রলীগ সেক্রেটারি মোতাহার হোসেন প্রিন্স
.............................................................................................
তীব্র গরমে পানি সংকটে ভুগছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের গুলিতে পুলিশ গুলিবিদ্ধ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু। র্বাতা সম্পাদক আবু ইউসুফ আলী মন্ডল, ফোন ০১৬১৮৮৬৮৬৮২

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, রেজিস্ট্রেশন নং 134 / নিবন্ধন নং 69 মোবাইল : 01731190131, 01930226862, E-mail : mannannews0@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- notunbazar / সম্পাদক dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop