| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অপরাধ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ড্রাইভার মালেকের অঢেল সম্পত্তি নিয়ে যা বলল তার ভাই

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের গাড়ি চালক আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। অবৈধ অস্ত্র, জাল নোটের ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করার পর র‍্যাব বলছে তৃতীয় শ্রেণির এই কর্মচারীর বিপুল সম্পদের খোঁজ পেয়েছেন তারা।

মালেককে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব জানায়, তার দুটি সাততলা ভবন, নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবন, জমি, গরুর খামার ও বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ গচ্ছিত অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার সম্পদের অর্থমূল্য শত কোটি টাকারও ওপরে।

শুধু অঢেল সম্পদ অর্জন নয়, মালেকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে নিজের পরিবারেরই সাতজনকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মালেকের ভাই আব্দুল খালেক। তিনি অধিদপ্তরে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করছেন।

সোমবার ভাইয়ের (চালক মালেক) সুপারিশে চাকরির বিষয়ে তার কাছ থেকে জানতে চাইলে খালেক বলেন, ‘আমিও ১৯৯৪ সাল থেকে অফিস সহকারী হিসেবে অধিদপ্তরে আছি। ১৯৯৩ সালে পত্রিকার সার্কুলার দেখে চাকরির আবেদন করেছি। ৯৪ সালে ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি নিয়েছি। আমার চাকরিতে কারো কোনো সহযোগিতা ছিল না। ইন্টারভিউ দিয়ে পাস করে নিয়ম অনুযায়ী যোগদান করেছি’।

মালেকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যে বিষয়গুলো আমি পত্রিকায় পড়লাম সেগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভালোভাবে খতিয়ে দেখুক।’

মালেকের বিরুদ্ধে রাজধানীর তুরাগে তার সাততলার দুটি বিলাসবহুল বাড়িতে ২৪টি ফ্ল্যাট, ১২ কাঠার আরেকটি প্লট ছাড়াও হাতিরপুলে নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনের মালিকও হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার ভাই খালেক বলেন, ‘আমার বাবার জীবদ্দশায় আমাদের অনেক জমিজমা দিয়ে গেছেন। আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা, তখন পাঁচ হাজার টাকা কাঠা দামে জমি পাওয়া যেত। বাবা আমাকে ও ভাইকে অনেক জমি কিনে দিয়েছেন। আর হাতিরপুলে যেই জমির কথা বলা হয়েছে সেটাও আমার বাবার জমি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার আগে এই জমি আমার মা ও ভাই-বোনদের দিয়ে গেছেন। এখন এটা ডেভেলপারকে দিয়ে আমরা ফ্ল্যাট বানাচ্ছি। আর যেই গরুর খামারের কথা এসেছে সেই জমিও আমার বাবার কিনে দিয়ে গেছেন। কিছু জমি বাবা তার পেনশনের টাকায় কিনে দিয়ে গেছেন। আমার বাবা ২০০৫ সালে মারা গেছেন, তিনি জীবিত থাকলে জমি-জমার বিষয়ে আরও ভালো বলতে পারত।’

এদিকে মালেকের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে তার মেয়ে নৌরিন সুলতানা বেলিকে অধিদপ্তরের অফিস সহকারী পদে, ভাতিজা আব্দুল হাকিমকে অফিস সহায়ক পদে, বড় মেয়ে বেবির স্বামী রতনকে ক্যান্টিন ম্যানেজার হিসেবে, ভাগ্নে সোহেল শিকারীকে ড্রাইভার পদে, ভায়রা মাহবুকে ড্রাইভার পদে, নিকটাত্মীয় কামাল পাশাকে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

রোববার তুরাগের বাড়ি থেকে গ্রেফতারের সময় মালেকের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল উদ্ধার করে র‌্যাব-১।

তদন্তসংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ব্যক্তিগত জীবনে দুটি বিয়ে করেছেন আবদুল মালেক। প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তারের নামে তুরাগ থানাধীন দক্ষিণ কামারপাড়া রমজান মার্কেটের পাশে ছয় কাঠা জায়গার ওপর সাততলার (হাজী কমপ্লেক্স) দুটি আবাসিক ভবন রয়েছে। যেখানে গড়েছেন ২৪টি ফ্ল্যাট।

পাশাপাশি স্থানেই আনুমানিক ১০-১২ কাঠার প্লট রয়েছে। বর্তমানে সপরিবারে সেখানকার একটি ভবনের তৃতীয়তলায় বসবাস করেন এবং বাকি ফ্ল্যাটগুলোর কয়েকটি ভাড়া দেয়া রয়েছে। এর বাইরে ২৩, ফ্রি স্কুল রোড, হাতিরপুলে পৈতৃক সাড়ে চার কাঠা জায়গার ওপর দশতলা নির্মাণাধীন ভবন আছে।

মেয়ে বেবির নামে দক্ষিণ কামারপাড়ায় প্রায় ১৫ কাঠা জায়গার ওপর ‘ইমন ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি গরুর খামার রয়েছে যাতে প্রায় ৫০টি বাছুরসহ গাভী রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করে নিজে সেই সংগঠনের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এই সংগঠনের একক ক্ষমতাবলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চালকদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। চালকদের নিয়োগে, বদলি ও পদোন্নতির নামে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসনকে জিম্মি করে বিভিন্ন ডাক্তারদের বদলি ও পদোন্নতি এবং তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন এই মালেক ড্রাইভার।

এদিকে, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কারণে গাড়িচালক আব্দুল মালেককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার বিকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

ড্রাইভার মালেকের অঢেল সম্পত্তি নিয়ে যা বলল তার ভাই
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিবহন পুলের গাড়ি চালক আব্দুল মালেককে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। অবৈধ অস্ত্র, জাল নোটের ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করার পর র‍্যাব বলছে তৃতীয় শ্রেণির এই কর্মচারীর বিপুল সম্পদের খোঁজ পেয়েছেন তারা।

মালেককে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব জানায়, তার দুটি সাততলা ভবন, নির্মাণাধীন একটি ১০ তলা ভবন, জমি, গরুর খামার ও বিভিন্ন ব্যাংকে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ গচ্ছিত অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে। তার সম্পদের অর্থমূল্য শত কোটি টাকারও ওপরে।

শুধু অঢেল সম্পদ অর্জন নয়, মালেকের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন পদে নিজের পরিবারেরই সাতজনকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাদের মধ্যে একজন মালেকের ভাই আব্দুল খালেক। তিনি অধিদপ্তরে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি করছেন।

সোমবার ভাইয়ের (চালক মালেক) সুপারিশে চাকরির বিষয়ে তার কাছ থেকে জানতে চাইলে খালেক বলেন, ‘আমিও ১৯৯৪ সাল থেকে অফিস সহকারী হিসেবে অধিদপ্তরে আছি। ১৯৯৩ সালে পত্রিকার সার্কুলার দেখে চাকরির আবেদন করেছি। ৯৪ সালে ইন্টারভিউ দিয়ে চাকরি নিয়েছি। আমার চাকরিতে কারো কোনো সহযোগিতা ছিল না। ইন্টারভিউ দিয়ে পাস করে নিয়ম অনুযায়ী যোগদান করেছি’।

মালেকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘যে বিষয়গুলো আমি পত্রিকায় পড়লাম সেগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ভালোভাবে খতিয়ে দেখুক।’

মালেকের বিরুদ্ধে রাজধানীর তুরাগে তার সাততলার দুটি বিলাসবহুল বাড়িতে ২৪টি ফ্ল্যাট, ১২ কাঠার আরেকটি প্লট ছাড়াও হাতিরপুলে নির্মাণাধীন ১০তলা ভবনের মালিকও হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার ভাই খালেক বলেন, ‘আমার বাবার জীবদ্দশায় আমাদের অনেক জমিজমা দিয়ে গেছেন। আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা, তখন পাঁচ হাজার টাকা কাঠা দামে জমি পাওয়া যেত। বাবা আমাকে ও ভাইকে অনেক জমি কিনে দিয়েছেন। আর হাতিরপুলে যেই জমির কথা বলা হয়েছে সেটাও আমার বাবার জমি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার আগে এই জমি আমার মা ও ভাই-বোনদের দিয়ে গেছেন। এখন এটা ডেভেলপারকে দিয়ে আমরা ফ্ল্যাট বানাচ্ছি। আর যেই গরুর খামারের কথা এসেছে সেই জমিও আমার বাবার কিনে দিয়ে গেছেন। কিছু জমি বাবা তার পেনশনের টাকায় কিনে দিয়ে গেছেন। আমার বাবা ২০০৫ সালে মারা গেছেন, তিনি জীবিত থাকলে জমি-জমার বিষয়ে আরও ভালো বলতে পারত।’

এদিকে মালেকের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে তার মেয়ে নৌরিন সুলতানা বেলিকে অধিদপ্তরের অফিস সহকারী পদে, ভাতিজা আব্দুল হাকিমকে অফিস সহায়ক পদে, বড় মেয়ে বেবির স্বামী রতনকে ক্যান্টিন ম্যানেজার হিসেবে, ভাগ্নে সোহেল শিকারীকে ড্রাইভার পদে, ভায়রা মাহবুকে ড্রাইভার পদে, নিকটাত্মীয় কামাল পাশাকে অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

রোববার তুরাগের বাড়ি থেকে গ্রেফতারের সময় মালেকের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দেড় লাখ বাংলাদেশি জাল নোট, একটি ল্যাপটপ ও মোবাইল উদ্ধার করে র‌্যাব-১।

তদন্তসংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ব্যক্তিগত জীবনে দুটি বিয়ে করেছেন আবদুল মালেক। প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তারের নামে তুরাগ থানাধীন দক্ষিণ কামারপাড়া রমজান মার্কেটের পাশে ছয় কাঠা জায়গার ওপর সাততলার (হাজী কমপ্লেক্স) দুটি আবাসিক ভবন রয়েছে। যেখানে গড়েছেন ২৪টি ফ্ল্যাট।

পাশাপাশি স্থানেই আনুমানিক ১০-১২ কাঠার প্লট রয়েছে। বর্তমানে সপরিবারে সেখানকার একটি ভবনের তৃতীয়তলায় বসবাস করেন এবং বাকি ফ্ল্যাটগুলোর কয়েকটি ভাড়া দেয়া রয়েছে। এর বাইরে ২৩, ফ্রি স্কুল রোড, হাতিরপুলে পৈতৃক সাড়ে চার কাঠা জায়গার ওপর দশতলা নির্মাণাধীন ভবন আছে।

মেয়ে বেবির নামে দক্ষিণ কামারপাড়ায় প্রায় ১৫ কাঠা জায়গার ওপর ‘ইমন ডেইরি ফার্ম’ নামে একটি গরুর খামার রয়েছে যাতে প্রায় ৫০টি বাছুরসহ গাভী রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ‘ড্রাইভার্স অ্যাসোসিয়েশন’ নামে একটি সংগঠন তৈরি করে নিজে সেই সংগঠনের সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। এই সংগঠনের একক ক্ষমতাবলে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চালকদের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করেছেন। চালকদের নিয়োগে, বদলি ও পদোন্নতির নামে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসনকে জিম্মি করে বিভিন্ন ডাক্তারদের বদলি ও পদোন্নতি এবং তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়োগের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছেন এই মালেক ড্রাইভার।

এদিকে, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কারণে গাড়িচালক আব্দুল মালেককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার বিকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

নৌভ্রমণের আড়ালে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’!
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পাবনার চাটমোহরে চলতি বর্ষা মৌসুমে নৌভ্রমণ ও ভুড়িভোজের আড়ালে চলছে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’। দিনে-রাতে প্রকাশ্য চলা এ কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে আন্তরিকতা দেখা যায়নি পুলিশসহ উপজেলা প্রশাসনের। ফলে ক্ষোভ বিরাজ করছে বিলপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে।

সরেজমিনে উপজেলার হান্ডিয়াল ও নিমাইচড়া বিলে দেখা গেছে, বেশিরভাগ নৌভ্রমণের নৌকার সামনে দৃষ্টিকটু পোশাকে নাচছেন নর্তকীরা। সিনেমা স্টাইলে নর্তকীকে সঙ্গ দিচ্ছেন যুবক ও তরুণরা। গান ও বাদযন্ত্রের তালে চলছে এ নৃত্য। ছাউনির ভেতরেও চলছে নাচ। সেখানকার পরিবেশটা আর লজ্জাকর। তবে অন্য একটি নৌকার কাছাকাছি আসতেই নর্তকীরা সামনের অংশ থেকে দ্রুত চলে যাচ্ছে ছাউনির ভেতরে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কথিত এ সব নর্তকীরা মূলত যৌনকর্মী। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে এদের আনা হচ্ছে। বিনিময়ে এদের হাতে দেওয়া হচ্ছে মোটা টাকা। অভিযোগ, দিনে আয়োজকদের নৃত্যের মাধ্যমে আনন্দ দিচ্ছেন এরা।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নর্তকী থাকা নৌকাগুলা গভীর বিলে চলে যায় রাতে। রাতভর বিলেই থাকে। রাত যত গভীর হয়, নৃত্যের সঙ্গে অশ্লীলতাও বাড়তে থাকে। এ ধরনের নৌকাগুলোর বেশিরভাগ অংশ কৌশলে পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখছেন নৌমালিকেরা।

নিমাইচড়া এলাকার বাসিন্দা মুক্তার হোসেন জানান, এ সব নর্তকীর কারণে পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে নৌকাভ্রমণে আসলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

হান্ডিয়াল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কে এম জাকির হোসেন বলেন, ‘আমিও শুনেছি। ওরা সংখ্যায় বেশি, তাই কিছু করা যায় না। এক বছর আগে চারটি নর্তকীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে পিছু হটেছি।’

এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি প্রশাসন) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের তথ্য আমার কাছে নেই। তবে এ ধরনের অপকর্ম চলনবিলে হয়ে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

দুদকের মামলায় প্রদীপকে নেওয়া হলো চট্টগ্রাম
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে গুলি করে হত্যার আসামি টেকনাফের বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে কক্সবাজার কারাগার থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে নেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সোমবার তাকে চট্টগ্রামের আদালতে তোলা হবে।

প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট মামলা করে দুদক। কমিশনের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিনের করা মামলায় প্রদীপ ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৫ লাখ পাঁচ হাজার ৬৩৫ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ওই মামলার পর দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয় মূলত ২০১৮ সাল থেকে। দুই বছর অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের ‘প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায়’ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ থেকে কক্সবাজারের ফেরার পথে মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

এরপর গত ৫ আগস্ট টেকনাফ থানার পরিদর্শক লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনকে আসামি করে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন সিনহার বড় বোন।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি র‌্যাব তদন্ত করছে। তারা মামলার ১৩ আসামিকে নানা মেয়াদে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। এ মামলায় প্রদীপ ছাড়া ১২ আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি সোমবার তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

লোপার অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত তার মেয়েও!
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকা থেকে ফুল বিক্রেতা জিনিয়াকে অপহরণের ঘটনায় নূর নাজমা আক্তার লোপা তালুকদার (৪২) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা রমনা বিভাগ। কিন্তু কে এই লোপা তালুকদার, অনেকের মনেই এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।

জানা গেছে, সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ছবি রয়েছে এই লোপা তালুকদারের। মন্ত্রী এমপি, এমনকী খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ছবি তুলে ফেলেছেন। তাই অনেকেই ‘লোপা’কে রিজেন্ট গ্রুপের সাহেদের ‘লেডি ভার্সন’ বলছেন।

জিনিয়াকে ‘অপহরণের’ ঘটনায় লোপা তালুকদারের অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তার মেয়েও। তবে তাকে এখনো আটক করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে পুলিশ খুঁজছে বলে জানা গেছে। জিনিয়া অপহরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) দুই দিনের রিমান্ডে রয়েছেন লোপা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অনেককে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রচুর টাকা নিয়েছেন লোপা। এ অভিযোগে দু‘জন ইতিপূর্বে শাহবাগ ও মতিঝিল থানায় জিডি করেছেন। এখন লোপার বিরুদ্ধে তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

ডিবির রমনা অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার ও মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা মিশু বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, লোপার অতীত ভালো নয়, বাড়ি পটুয়াখালী। সেখানে অন্তঃসত্ত্বা নারী হত্যা মামলার আসামি ছিলেন তিনি। সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী মারা যাওয়ার পর বিভিন্ন সময় বেআইনি কাজে যুক্ত হয়েছেন তিনি।

এখন তার মেয়েকেও খুঁজছে পুলিশ। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জিনিয়াকে দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করানোর পরিকল্পনা থেকেই শিশুটিকে অপহরণ করা হয়। গত সোমবার রাতে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লা থানার আমতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে জিনিয়াকে উদ্ধার করা হয়। এসময় গ্রেফতার করা হয় লোপা তালুকদারকে। এরপর থেকেই তার বিষয়ে নানা ধরনের তথ্য সামনে আসতে শুরু করে।

জানা গেছে, লোপা তালুকদার অনেকেরই পরিচিত। মন্ত্রী, এমপি, এমনকী খোদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও ছবি তুলেছেন। তিনি নাকি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকার পরিচিত মুখ। বড় বড় সাংবাদিকদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের খবর এখন ভেসে বেড়াচ্ছে।

তাকে গ্রেপ্তারের পর ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহাবুবুর রহমান বলেন, লোপা তালুকদার বিভিন্ন প্রলোভনের মাধ্যমে জিনিয়াকে ফুঁসলিয়ে নারায়নগঞ্জে তার বোনের বাড়িতে রাখে। তার উদ্দেশ্য ভালো ছিল না, খারাপ উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তাকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, তার মাকে না জানিয়ে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া তার মা বা কেউ যাতে না জানে সে ব্যবস্থাও নিয়েছে। সেখানে সে রেখেছিল, চেষ্টা করেছে এটা যাতে আর কেউ না জানে। কাজেই অসৎ উদ্দেশ্যেই তাকে নিয়েছে বলে আমরা মনে করি।

সাহেদের ৪৩ অ্যাকাউন্টে ৯২ কোটি টাকা!
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমের বিরুদ্ধে অর্থপাচার আইনে মামলা করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিআইডির অনুসন্ধান তথ্যমতে বিগত ৫ বছরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন সাহেদ। বিশেষ করে করোনার সময়ে ভুয়া নমুনা পরীক্ষা ও সনদ দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন ৩ কোটি টাকারও বেশি।

সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার জিসান জানান, সাহেদ ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা ও জালিয়াতি করে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়া করোনার ভুয়া পরীক্ষা এবং জাল সনদ প্রদানের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩ কোটি ১১ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

তিনি বলেন, সাহেদ তার অপরাধকর্মের প্রধান সহযোগী মাসুদ পারভেজের সহযোগিতায় রিজেন্ট ডিসকভারি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেল লিমিটেডের নামে মাতুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংরে শাহ মখদুম শাখায় একটি নতুন হিসাব খোলেন গত ফেব্রুয়ারি মাসে। হিসাবটি পরিচালনা করতেন সাহেদের বাবা সিরাজুল করিম ও এমডি মাসুদ পারভেজ।

সিআইডির অনুসন্ধানে সাহেদের অর্জিত সম্পদের প্রধান উৎস প্রতারণা ও জালিয়াতি বেরিয়ে আসে। অপরাধলব্ধ আয় লেনদেনের সুবিধার্থে সে রিজেন্ট হাসপাতাল, রিজেন্ট কে. সি. এস লিমিটেড ও অন্যান্য অস্তিত্ববিহীন ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৪৩ টি ব্যাংক হিসাব খুলে পরিচালনা করে। ওই ব্যাংক হিসাবসমূহ খোলার সময় কেওয়াইসি ফরমে সাহেদ নিজেকে প্রতিষ্ঠানসমূহের চেয়ারম্যান বা স্বত্বাধিকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে বলা হয়, কয়েক বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নগদ টাকা জমা হয় সাহেদ ও তার স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ৪৩টি ব্যাংক হিসাবে। এসব হিসেবে মোট ৯১ কোটি ৭০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। এর মধ্যে তুলে নেওয়া হয় ৯০ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। আসামি মাসুদ পারভেজের ১৫টি ব্যাংক হিসাবে মোট জমা ৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা জমা দিয়ে তুলে নেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের মাধ্যমে রূপান্তর এবং ভোগ-বিলাসে অর্থ ব্যয় করার অপরাধে অর্গানাইজড ক্রাইম (ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম), সিআইডি বাদী হয়ে রাজধানী উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় নিয়মিত মামলা দায়ের করছে। মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম তদন্ত করবে।

উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত ) কাজী আবুল কালাম মঙ্গলবার রাত ৮টায় বলেন, মামলার করার জন্য সিআইডির কোনো কর্মকর্তা এখনো আসেনি।

রিমান্ডে যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে সেই তূর্ণা!
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

প্রতারক চক্রের হোতা তূর্ণা আহসান ওরফে রাহাত আরা খানম তূর্ণাসহ ছয়জনকে রিমান্ডে নেওয়া হলেও থেমে নেই এই চক্রের প্রতারণা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে এই তরুণী।

জানা গেছে, রাজধানীর বারিধারা, গুলশানসহ অভিজাত এলাকায় বাসা নিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা প্রতিনিয়ত অনলাইনে অপকর্ম করে যাচ্ছে। হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রতারক চক্রের কবলে পড়েছেন এমন বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এই চক্রের প্রতারণার নানা কৌশল। ঢাকায় এই চক্রের কয়েক শ সদস্য রয়েছে বলে ধারণা করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

বিভিন্ন আইডি হ্যাক করে, ফেইক ছবি ও পরিচয় দিয়ে অপকর্ম করে চক্রটি। এক্ষেত্রে নানা অজুহাতে অডিও ও ভিডিও কলে যায় না চক্রের সদস্যরা।

জানা গেছে, এসব চক্রের বাংলাদেশি সদস্যরা মূলত কাস্টমস অফিসার সেজে কথা বলে। ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যবস্থা করে। এক্ষেত্রে শিক্ষিত ও শুদ্ধ উচ্চারণের পারদর্শী বাংলাদেশিদের দলে টানে নাইজেরিয়ানরা। গত বুধবার তূর্ণাসহ ছয়জনকে রিমান্ডে নিয়েছে সিআইডি।

সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে তূর্ণা জানিয়েছে, তার মতো আরো অনেকে রয়েছে চক্রে। তার চক্রেই কাজ করে এমন আরো এক নারী সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে তূর্ণা। ভদ্রবেশী এই নারী আড়ালে ভয়ঙ্কর প্রতারক। নাইজেরিয়ানদের সঙ্গে মিশে এই চক্রের সদস্যরা প্রতিনিয়ত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে যাচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, প্রতি গ্রুপে ১৫-২০ জনে ভাগ হয়ে চক্রের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে আছে। অন্তত কয়েক শ সদস্য রয়েছে এসব চক্রের। সুন্দর, শুদ্ধ উচ্চারণের জন্যই তূর্ণাকে অগ্রাধিকার দিতো নাইজেরিয়ানরা। তাছাড়া ইংরেজিতেও দক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১১-২০১২ সেশনের এই ছাত্রী।

এ বিষয়ে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার শামসুন নাহার বলেন, প্রতারক চক্র বিপুল টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগী অনেক। কিন্তু স্বামীর অগোচরে স্ত্রী, স্ত্রীর অগোচরে স্বামী চ্যাট করে বন্ধুতায় জড়িয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। যে কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে আসছেন না। চক্রটি টাকা কোথাও পাচার করেছে কিনা, এসব বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে তাদের যাতায়াত ছিল। তাছাড়া জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

গত ২১ জুলাই তূর্ণাসহ এই চক্রের ১৩ প্রতারককে মিরপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। একইভাবে ২২ জুলাই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নূপুর খাতুন নামে এক তরুণী সহ দুই নাইজেরিয়ানকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসির সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ।

রাজধানীতে সজীব বিল্ডার্সের মালিক খুন
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আবুল খায়ের নামে এক এক আবাসন ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নিহত ব্যবসায়ী সজীব বিল্ডার্স নামে একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের মালিক।

আজ শুক্রবার সকালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকে একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

কে বা কারা কেন এ খুন করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারণা পুলিশের।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তারুজ্জামান বলেন, ‘ব্যবসায়ী আবুল খায়ের বসুন্ধরা আবসিক এলাকার এফ ব্লকে থাকতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে তিনি আর ফেরননি। সকালে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এন ব্লকের একটি নির্মাণাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলায় লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।’

ওই ব্যবসায়ীকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

ব্যবসায়ী আবুল খায়েরের স্ত্রী রুপালী আক্তার জানান, গতকাল বিকেল ৩টার দিকে তার স্বামী বাসা থেকে বের হন। সাধারণত অন্য সময়ে তিনি রাত ৮টার মধ্যেই বাসায় ফেরেন। তবে বৃহস্পতিবার রাতে বাসায় না ফেরায় রাত ৮টার পর থেকে আবুল খায়েরের মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়েও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এরপর রাতভর তিনি পরিচিত জায়গাগুলোতে খোঁজ নেন। কিন্তু কোথাও স্বামীর খোঁজ পাচ্ছিলেন না। রাতে ভাটারা থানাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। ভোরে অন্য স্বজনরাসহ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন জায়গা খুঁজতে গিয়ে তাদের নির্মাণাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।

জানা যায়, নিহত ব্যবসায়ী আবুল খায়েরের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সুবর্ণচরের পূর্বচরবাটা ইউনিয়নে। তিনি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এফ ব্লকের ২১ নম্বর রোডের ৬৯২ নম্বর বাসার জালাল গার্ডেনের আট তলায় স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকতেন।

গুলি করে বুট দিয়ে সিনহার গলা চেপে ধরে লিয়াকত!
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুকে ‘পূর্ব পরিকল্পিত’ হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন তার সফরসঙ্গী ছিলেন শাহেদুল ইসলাম সিফাত। গত শুক্রবার টেকনাফ থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে মেজর সিনহার সফরসঙ্গী ছিলেন তিনি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিফাত বলেন, পুলিশের যে ইন্সপেক্টর সিনহাকে গুলি করেন, তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন তখন, এবং তাতে মনে হয়েছে তিনি অপর প্রান্তের কারো নির্দেশ কার্যকর করতে গুলি চালিয়েছেন। ফোনে কথা বলার সময় তিনি অন্যপ্রান্তের ব্যক্তিকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করছিলেন। অন্যপ্রান্তের কথার জবাবে তিনি বলেন ‘ঠিক আছে স্যার, আমি করছি’। তারপরই তিনি সিনহাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।

গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত দল সিফাতের সঙ্গে কক্সবাজার কারাগারে দেখা করেন। সিফাত তদন্ত কর্মকর্তাদের একথা বলেন ।

কারাগার অভ্যন্তরে সিফাতকে জিজ্ঞাসাবাদের সঙ্গে জড়িত সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সিফাত জিজ্ঞাসাবাদে এ কথাও জানিয়েছে যে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কখনই তার লাইসেন্সকৃত আগ্নেয়াস্ত্র বের করার চেষ্টা করেননি, এমন কি গুলি খাওয়ার পরেও না।

ঘটনার পুলিশি বক্তব্যকে পুরোই নাকচ করে দিয়েছেন সিফাত। পুলিশ দাবি করেছে, তারা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালাতে বাধ্য হয়েছিল। তদন্ত দলটি সিনহার অপর সতীর্থ শিপ্রা দেবনাথের সঙ্গেও কারাগারে কথা বলেছেন। তিনিও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। দুজনের বিরুদ্ধেই পুলিশ পৃথক দুটি মামলায় হত্যা চেষ্টা এবং মাদকদ্রব্য বহন করার অভিযোগ এনেছে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে কক্সবাজারে মেজর (অব.) সিনহা একটি প্রামান্যচিত্র তৈরির কাজ করছিলেন।

তদন্তকারী দলের কাছে ওই রাতের কথা স্মরণ করতে গিয়ে সিফাত বলেন, ‘শুক্রবার রাত সোয়া নয়টা দিকে আমরা কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারচড়া ইউনিয়নের শুটিং স্পট থেকে ফিরছিলাম। আমরা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের দুটি চেকপোস্ট পার হয়ে আসি, সবকিছু ঠিকই ছিল।’

তদন্ত কমিটিকে সিফাত বলেন, ‘কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের শামলাপুর চেকপয়েন্টে এলে তাদের থামার ইঙ্গিত দেয় পুলিশ - ওই রাতে এটা ছিল তাদের তৃতীয় চেকপোস্ট। সিনহা স্যার গাড়ি থামালে পুলিশ ইন্সপেক্টর লিয়াকত আলী চেঁচিয়ে আমাদের সবাইকে হাত উপরে উঠাতে বলে। তার কথা মতো আমরা তাই করি। সিনহা স্যার গাড়ি থেকে নেমে যান আর আমি গাড়ির সামনে সিটে বসে থাকি। তিনি নিজের পরিচয় দেন। পুলিশকে জানান যে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন প্রাক্তন মেজর। তিনি এমনকি পুলিশকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরিচয় যাচাই করারও প্রস্তাব দেন। কিন্তু লিয়াকত কোনো রকম সতর্ক না করেই তাকে গুলি করতে শুরু করে।’

সিফাত আরো বলেন, ‘গুলি করেই ক্ষান্ত হয়নি লিয়াকত, সিনহা স্যার যখন যন্ত্রণায় গোঙাচ্ছিলেন বুট দিয়ে তার গলা চেপে ধরে সে। কর্তব্যরত পুলিশ তখন আমাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন।’

সিফাত তদন্ত দলকে বলেন, ‘ওই রাতে তারা কেউই মাতাল ছিল না বা কেউই কোনো মাদক বহন করছিল না। এই এলাকাটা আমরা চিনি ২৮ দিন ধরে। মেরিন ড্রাইভে একাধিক চেকপোস্ট রয়েছে জেনেও কোন বুদ্ধিতে এই ঝুঁকি নেব?’

স্থানীয় গ্রামবাসী তাদের ডাকাত বলে চিৎকার করেছে পুলিশের এই দাবিও একেবারে মিথ্যা বলেন সিফাত। তিনি তদন্ত দলকে বলেন, ‘টেকনাফ থেকে ফেরার পথে আমাদের দু`জন স্থানীয় লোকের সাথে দেখা হয়, তারা আমাদের পরিচয় জানতে চেয়েছে, তবে তারা আমাদেরকে দেখে কখনই ডাকাত বলে চিৎকার জুড়ে দেয়নি।’

সিনহার আরেক সতীর্থ শিপ্রা দেবনাথ, শুক্রবার রাতে স্থানীয় একটি রিসোর্টে ছিলেন। তিনি তদন্ত দলকে বলেন, ‘সেই ৩ জুলাই থেকে তিনি ডকুমেন্টারি দলটার সঙ্গে কাজ করছেন। প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তাকে তিনি কখনই রাগতে বা উত্তেজিত হতে দেখেননি।’

তার কথায় সায় পাওয়া যায় রিসোর্ট মালিক মনজুরুল কবিরে কথাতেও। তিনিও জানান, ‘এখানে যতদিন আছেন সিনহাকে তিনি পুরো একজন নম্র-ভদ্র ব্যক্তি হিসেবেই পেয়েছেন। আমি তাকে, এমন কি কখনও কারও সঙ্গে উঁচু গলাতে কথা বলতে দেখিনি। সে কীভাবে পুলিশকে বন্দুক ঠেকাবে!’ কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কমিটির সমন্বয়ক শাহজাহান আলী জানিয়েছেন, ‘তারা দ্রুতই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।’

প্রসঙ্গত, গত ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলীর গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। তদন্তের স্বার্থে গত রোববার টেকনাফের বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ লিয়াকত আলীসহ সবাইকে প্রত্যাহার করা হয়। আর হত্যা মামলা হওয়ার পর বুধবার ওসি প্রদীপকে প্রত্যাহার করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত মঙ্গলবার সকালে সিনহা রাশেদের মা নাসিমা আক্তারকে ফোন করে সমবেদনা ও সান্ত্বনা জানিয়েছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তেরও আশ্বাস দিয়েছেন।

বুধবার দুপুরে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ কক্সবাজারে যান। তাঁরা কক্সবাজার সৈকতে অবস্থিত সেনাবাহিনীর রেস্টহাউস জলতরঙ্গতে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। পরে সেখানে তাঁরা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। তাঁরা সিনহা মোহাম্মদ রাশেদের নিহত হওয়াকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন। তারা বলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের মধ্যে দূরত্ব নেই। আর এ ঘটনায় দুই বাহিনীর মধ্যে চিড় ধরবে না।

সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন, ‘সিনহার মৃত্যু নিয়ে বাংলাদেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ যে ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে কোনো প্রতিষ্ঠান দায়ী হতে পারে না। তদন্ত কমিটি যাদের দোষী সাব্যস্ত করবে, অবশ্যই তাদের প্রায়শ্চিত্ত পেতে হবে। এ জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান তাদের সহযোগিতা করবে না।’

অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘টেকনাফে যে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটির কারণে দুই বাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের কোনো ব্যত্যয় ঘটবে না। বরং আমাদের লক্ষ্য হবে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গঠিত যৌথ তদন্ত কমিটি হয়েছে, তারা প্রভাবমুক্ত পরিবেশে তদন্ত করবে। তারা তদন্ত করে যে প্রতিবেদন দেবে, সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং সেটাই গ্রহণ করা হবে।’

বুধবার দুপুরে মেজর সিনহা হত্যার বিচার চেয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। মামলাটির শুনানিতে সন্তুষ্ট হয়ে তা ‘ট্রিট ফর এফআইআর ’ হিসেবে আমলে নিতে টেকনাফ থানাকে আদেশ দেন আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ। একইভাবে মামলাটি কক্সবাজার র‍্যাব-১৫-কে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে মামলা অগ্রগতির প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

হত্যা মামলার আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশস বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক ও চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার পূর্ব হুলাইন গ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত আলী (৩১), উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, টুটুল ও মো. মোস্তফা।

আদালতের নির্দেশে বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ থানায় মামলাটি (নম্বর সিআর : ৯৪/২০২০ইং/টেকনাফ) তালিকাভুক্ত করা হয়। দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ জামিন অযোগ্য ধারায় মামলাটি তালিকাভুক্ত করা হয়। টেকনাফ থানার নতুন ওসি মামলাটি তালিকাভুক্ত করেন বলে থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে হত্যা মামলা দায়েরের আগেই ওসি প্রদীপ স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে গত ৪ আগস্ট ছুটির আবেদন করেন। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার (এসপি) এ বি এম মাসুদ হোসেন তার ছুটির আবেদন গ্রহণ করেন বলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো কথা বলতে চাননি এসপি। মেডিকেল ছুটি নিয়েই ওসি প্রদীপ কক্সবাজার ছেড়েছেন। তাকেসহ মামলার আসামি নয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে কি না, জেলা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।

স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদকে দুদকে তলব
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনাকালে মাস্ক-পিপিই কেলেঙ্কারি ও রিজেন্ট হাসপাতালের অনিয়ম অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পৃথক দুটি অভিযোগ অনুসন্ধানে তাকে তলব করা হয়েছে।

সংস্থাটির পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, আবুল কালাম আজাদকে আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট হাজির হতে বলা হয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর মাস্ক, পিপিই নিয়ে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও করোনা পরীক্ষায় রিজেন্ট হাসপাতাল, জেকেজি হেলথ কেয়ারের জালিয়াতির ঘটনায় সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেন আবুল কালাম আজাদ।

গত ২১ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। প্রক্রিয়া শেষে ২২ জুলাই তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়। পরের দিন ২৩ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম।

অস্ত্র মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে অভিযুক্ত করে অস্ত্র মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম‌্যাজিস্ট্রে আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. শায়রুল এই চার্জশিট দাখিল করেন।

আদালতের জিআরও (সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা) মো. জালাল উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ১৫ জুলাই (বুধবার) ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাহেদকে। পরদিন করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্টসহ বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাহেদের ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ডে থাকা সাহেদকে নিয়ে ১৮ জুলাই রাতে উত্তরায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে, প্রথম দফায় ১০ দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৬ জুলাই আরও পৃথক চার মামলায় সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ওই দিন অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুই মামলায় সাহেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে, গত ৬ জুলাই সাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুরের দুই শাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। অভিযানে ভুয়া করোনা টেস্টের রিপোর্ট, করোনা চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম উঠে আসে। ওই দিনই রিজেন্ট হাসপাতালের দুটি শাখাকেই সিলগালা করেন ভ্রাম‌্যমাণ আদালত। এরপর সন্ধ্যায় হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
করোনা টেস্ট না করে ফলাফল দেওয়া, লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে মামলা করেছে র‌্যাব। মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. শাহেদসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর মধ্যে রিজেন্ট চেয়ারম্যান শাহেদসহ নয়জনকে পলাতক হিসেবে এজাহারে দেখানো হয়েছে। গতরাতে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি করে পুলিশের এই এলিট ফের্সটি। র‌্যাবের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে বলা হয়, করোনা টেস্ট না করে সার্টিফিকেট দেয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেছে র‍্যাব। মামলা নংঃ ৫।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন কাশেমও মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, `হাসপাতালটিতে চিকিৎসার নামে এতো দিন অপ-চিকিৎসা চলছিল। আমরা দুই ধরে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি। এই ঘটনায় গতরাতে মামলাও হয়েছে। তবে মালিক শাহেদকে ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, যেকোনো সময় তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।’

মামলার আসামিরা হলেন- রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহেদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজ, হাসপাতালের অ্যাডমিন আহসান হাবীব, এক্সরে টেকনিশিয়ান হাসান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট হাকিম আলী, রিসিপশনিস্ট কামরুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্রুপের প্রজেক্ট অ্যাডমিন রাকিবুল ইসলাম, রিজেন্ট গ্রুপের এইচআর অ্যাডমিন অমিত অনিক, গাড়িচালক আব্দুস সালাম, এক্সিকিউটিভ অফিসার আব্দুর রশীদ খান জুয়েল, হাসপাতাল কর্মচারী তরিকুল ইসলাম, স্টাফ আব্দুর রশিদ খান, স্টাফ শিমুল পারভেজ, কর্মচারী দীপায়ন বসু এবং মাহবুব। এছাড়া দুই জনের নাম জানা যায়নি।

এর আগে বেশ কয়েকটি অভিযোগে মঙ্গলবার রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করেছে র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার সকাল থেকে চলা অভিযানে বাহিনীটি একাধিক অভিযোগ পায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। বিশেষ করোনা বৈশ্বিক মহামারির এ সময়ে টেস্ট না করে ফলাফল প্রদান করতো হাসপাতালটি। এভাবে তারা প্রায় তিনকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এসব অভিযোগে রিজেন্টের ৮ জন কর্মকর্তাকে আটক করা হয়। এখনো রিজেন্ট চেয়ারম্যান শাহেদসহ ৯ জন পলাতক রয়েছেন। তাদের ধরতে র‌্যাবের অভিযান চলছে।
এদিকে সোমবার রাতেই মো. মোহাম্মদ সাহেদের মালিকানাধীন এই হাসপাতাল থেকে অননুমোদিত র‌্যাপিড টেস্টিং কিট ও একটি গাড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ করা গাড়িতে `ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড` ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের `স্টিকার` লাগানো ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজনের চোখে ধুলো দিতেই ফ্ল্যাগস্ট্যান্ড ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্টিকার ব্যবহার করা হতো।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম বলেন, `রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সেখানেও অনুমোদনহীন টেস্ট কিট ও বেশ কিছু ভুয়া রিপোর্ট পাওয়া গেছে। এজন্য রিজেন্ট হাসপাতাল ও রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান কার্যালয় সিলগালা করা হয়েছে। এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব অপরাধ ও টাকার নিয়ন্ত্রণ চেয়ারম্যান সাহেব (রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহেদ) নিজে করতেন অফিসে বসে। এই অপকর্মগুলো রিজেন্টের প্রধান কার্যালয় থেকেই হতো বিধায়, এটি সিলগালা করা হয়েছে। পাশাপাশি রোগীদের স্থানান্তর করে হাসপাতাল দুটিও সিলগালা করা হয়েছে।`

রূপগঞ্জে জুয়েলারী ব্যবসার নামে প্রতারনা বানিজ্য তুঙ্গে
                                  

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ও পাড়া-মহল্লায় ব্যঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে প্রায় ৫ শতাধিক জুয়েলারী দোকান। কিন্তু জুয়েলারী ব্যবসার অন্তরালে চলছে প্রতারনার বানিজ্য। রূপগঞ্জে জুয়েলারী সমিতি না থাকায় অসাধু কিছু ব্যবসায়ী প্রকাশ্যেই পুরাতন স্বর্ন নতুন স্বর্ন বলে বিক্রি, জুয়েলারী কেন্দ্রিয় সমিতির নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে স্বর্ন বিক্রি করাসহ করছে বন্ধকের নামে জমজমাট সুদ ব্যবসা। এধরনের প্রতারনা করে অসাধু জুয়েলারী ব্যবসায়ীরা রাতারাতি কালো টাকার পাহাড় গড়তে ব্যস্ত থাকলেও প্রশাসন রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। শুধু তাই নয়, এসব অসাধু জুয়েলারী ব্যবসায়ীরা সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রূপগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মার্কেট ও পাড়া-মহল্লায় প্রায় ৫ শতাধিক জুয়েলারী দোকান রয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ জুয়েলারী ব্যবসায়ী সরকারি ও জুয়েলারী সমিতির কেন্দ্রিয় কমিটির নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে ক্রেতাদের সাথে নানাভাবে প্রতারনা বানিজ্য করছে। তাদের প্রতারনার মধ্যে রয়েছে- পুরাতন স্বর্নালংকারের সাথে সালফিউরিক এসিড ব্যবহার করে নতুন হিসেবে বিক্রি করা, কেন্দ্রিয় জুয়েলারী সমিতির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্যে স্বর্নালংকার বিক্রি করা, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়া, জুয়েলারী ব্যবসার অন্তরালে বন্দকের নামে সুদের ব্যবসা করা, ভেজাল স্বর্নের ব্যবসা করা সহ নানা পন্থায় ক্রেতা ও সরকারের সাথে প্রতারনা করছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।

এদিকে একসময় ভুলতায় একটি জুয়েলারী সমিতি ছিল বলে জানা গেছে। কিন্তু ঐ সমিতির সভাপতি শংকর দে মারা যাওয়ার পর তার ছেলে শিপলু (শিপলু জুয়েলার্সের মালিক) কমিটিকে শুধুমাত্র কাগছে কলমে রেখেছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। বর্তমানে যার কোন কার্যক্রমই নেই।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাউছিয়া ২নং মার্কেটে অনিন্দ্র জুয়েলার্সের মালিক কার্তিক ঘোষের ৩টি দোকান থাকলেও ২টি দোকানে কোন সাইনবোর্ড না লাগিয়ে ক্রেতাদের সাথে প্রতারনা বানিজ্য করছে বলে জানা গেছে। তারমত আরো অনেক অসাধু জুয়েলারী ব্যবসায়ীও এভাবে ক্রেতা ও সরকারের সাথে প্রতারনা করছে বলে অভিযোগে প্রকাশ।
 
এব্যাপারে জুয়েলারী ব্যবসায়ী ‘কারুকা জুয়েলার্সে’র মালিক তাপস কুমার বিশ্বাস আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, রূপগঞ্জে জুয়েলারী সমিতি না থাকায় ক্রেতারা নানাভাবে প্রতারিত হচ্ছে। সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অসাধু জুয়েলারী ব্যবসায়ীদের দাপটে প্রকৃত জুয়েলারী ব্যবসায়ীরা নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও তিনি জানান।

মীরেরটেক ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ
                                  

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের মীরেরটেক ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আহসানের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি লকডাউনের মধ্যে চলাচলরত অটো গাড়ি আটক করে রেকার বিলের নামে বিনা রশিদে আড়াইহাজার টাকা করে আদায় করেছে বলে অটোচালকরা অভিযোগে জানান।

জানা যায়, গত ৯ মে রাতে অন্তত ৩০ অটো গাড়ি আটক করেন মীরেরটেক ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর আহসানের নেতৃত্বে পুলিশ। আজ ১০ মে উক্ত অটোচালকদের কাছ থেকে রেকার বিলের নামে বিনা রশিদে আড়াইহাজার টাকা করে আদায় করে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগে প্রকাশ। এঘটনায় অভিযুক্ত ইনচার্জ আহসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ডাক্তার ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, অভিযোগ ওসির
                                  

স্টাফরির্পোট-টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এক মেডিক্যাল অফিসারের কক্ষ থেকে শনিবার রাত দশটায় তিনসন্ত্রাসীকে মাদক সহ আটক করেছে পুলিশ।ওই হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম শাওনের বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবন এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে বলে জানান ওসি তারিককামাল।

ওসি আরো জানান, ওই মেডিক্যাল অফিসারকে হাতেনাতে ধরা যাচ্ছিল না। তাই পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এ অভিযান চালায়।

আটককৃতরা হলো- আলোকদিয়া গ্রামের সন্ত্রাসী সুমন, মধুপুর বাসস্ট্যান্ডের বাপ্পী এবং চাড়ালজানির মানস সরকার। সুমনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি এবং সংর্ঘষের একাধিক মামলা রয়েছে।

জানা যায়, শনিবার রাত নয়টার দিকে হাসপাতালের আউটডোরের ২০ নম্বর কক্ষে ডাক্তার আনোয়ারুল ইসলাম শাওন দলবল নিয়ে নেশার আসর জমিয়েছেন এমন গোপন খবরের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। কিন্তু টের পেয়ে ডাক্তার আনোয়ারুল ইসলাম শাওন কেটে পড়েন। বেশ কিছু মাদকসহ ওই তিনজনকে আটক করা হয়।

হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মাসুদ হোসেন জানান, সন্ধ্যা সাতটায় ডাক্তার আনোয়ারুল ইসলাম শাওনের কথা বলে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগ থেকে আউট ডোরের মেইন গেট এবং অফিস কক্ষের চাবি নিয়ে যায় সন্ত্রাসী সুমন। তারপর সেখানে নেশার আসর বসায়।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রুবিনা ইয়াসমিন জানান, ডাক্তার আনোয়ারুল ইসলাম রাতের বেলা আউটডোরে তার অফিস রুম খুলে দলবল নিয়ে নেশা করতে বসেছিলেন কিনা সেটা তিনি জানেন না। এ ধরনের অভিযোগ তিনি পুলিশের কাছে শুনেছেন। কিভাবে হাসপাতালের আউটডোরের মেইন গেট খুলে নেশাখোররা একজন মেডিক্যাল অফিসারের রুমে প্রবেশ করলো এমন প্রশ্নে তিনি জানান, সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য ডাক্তার আনোয়ারুল ইসলাম শাওনের মোবাইল ফোনে কল দেয়া হলে কেটে দেন।

মাদক সেবনে মাতলামিতে নিষেধ করায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা অভিযোগ উঠেছে।
                                  

স্টাফরির্পোট-ক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ইয়াবা খেয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টিতে বাধা দেয়ায় এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৩মে) সন্ধ্যারপর এইমর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মশিউররহমানঘটনারসত্যতানিশ্চিতকরেছেন। নিহত মোঃ আব্দুল্লাহ ওরফে বাবু (২৩) টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মাঝরপাড়ার আব্দুল মোনাফের ছেলে। জনতার সহায়তায় হামলাকারীদের মধ্য থেকে হোয়াইক্যং তুলাতুলি এলাকার মো. হোসেন লালু নামের একজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার ( ৩ মে) বিকাল ৫টার দিকে একই এলাকার ফরিদের মেয়ে জামাই হেলাল (২৪) নিহত আব্দুল্লাহ বাড়ির সামনে মাতলামি করছিল। এসময় আব্দুল্লাহ তাকে বাধা দেয় ও বিশৃংখলা করতে বারণ করেন। এ নিয়ে নিহত আব্দুল্লাহ সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েন হেলাল। তর্কের খবর শুনে নিহতের ভাই উভয়কে শান্ত করে যার যার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ পাওয়ায় নরসিংদীর শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাটি খুব শিগগিরই করা হবে বলে জানিয়েছে দুদক সূত্র।

জানা গেছে, গত মাসের শেষ সপ্তাহে এই দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে ১ মার্চ কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজকে নিয়োগ দেয়া হয়।

এরপর ২ মার্চ এই কর্মকর্তা শামিমা নুর পাপিয়া ওরফে পিউ সম্পর্কে তথ্য জানতে ওয়েস্টিন হোটেলকে চিঠি দেয়। ৮ মার্চ শামিমা নূর পাপিয়া এবং তার স্বামীর অর্থের তথ্য জানতে দেশি-বিদেশি ৫৯টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছেও চিঠি দেয় এই কর্মকর্তা। একইদিন থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ায় এই দম্পতির বাড়ি ও ব্যাংক হিসাবের তথ্য জানতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে আলাদা চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ভোগ-বিলাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেও ২০১৯-২০ অর্থবছরের আয়কর বিবরণীতে পাপিয়া বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন মাত্র ৩ লাখ টাকা। আর সম্পদ দেখিয়েছেন মাত্র ১৮ লাখ টাকা। যেখানে বিপুল পরিমাণ কর ফাঁকিও দিয়েছে পাপিয়া বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর বিপুল পরিমাণ এই অর্থের বৈধ কোনো উৎস পায়নি দুদক।

অন্যদিকে, ওয়েস্টিন হোটেলকে চিঠি দেয়ার পর সম্প্রতি হোটেল কর্তৃপক্ষ পাপিয়ার পরিশোধ করা বিল ভাউচারসহ প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে। সেখানে দেখা যায়, পাঁচ তারকা হোটেলটির বিলাসবহুল ছয়টি কক্ষ ভাড়া নেন পাপিয়া। তিনি থাকতেন ২২০১ নম্বর প্রেসিডেন্টিয়াল স্যুটে। কিন্তু পাঁচ তারকা হোটেলটির চারটি কক্ষ টানা ৪ মাস ৯ দিন নিজের দখলে রাখেন পাপিয়া। গ্রেফতারের দিন পর্যন্ত মোট ১২৯ দিনে পাপিয়া ও তার সঙ্গীদের থাকা, খাওয়া, মদের বিল বাবদ পরিশোধ করেছেন ৩ কোটি ২৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

বিল ভাউচার জমা দেয়ার পাশাপাশি ক্লোজড সার্কিট ক্যামরার (সিসিটিভি) ফুটেজও জমা দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, পাপিয়া কে সেটি আমাদের দেখার বিষয় না। তিনি ৩ কোটি টাকা কোথায় পেলেন, আমরা তা খতিয়ে দেখবো। তার টাকার উৎস দেখাতে না পারলে মামলা হবেই। অনুসন্ধান চলছে।

অন্যদিকে রাজধানীর ইন্দিরা রোডে পাপিয়া-মফিজুর দম্পতির বাসায় অভিযানের পর র‌্যাব জানায়, একটি বিদেশি পিস্তল, দু’টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০টি পিস্তলের গুলি, ৫ বোতল দামি বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেকবই, কিছু বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড উদ্ধার করে সংস্থাটি।

র‌্যাব আরো জানায়, পাপিয়া ও তার স্বামীর মালিকানায় ইন্দিরা রোডে দুটি ফ্ল্যাট, নরসিংদীতে দুটি ফ্ল্যাট ও দুই কোটি টাকা দামের দুটি প্লট, তেজগাঁওয়ে বিএফডিসি ফটকের কাছে গাড়ির শোরুমে ১ কোটি টাকার বিনিয়োগ ও নরসিংদী জেলায় একটি প্রতিষ্ঠানে ৪০ লাখ টাকার বিনিয়োগ আছে। অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড, জাল নোট সরবরাহ, রাজস্ব ফাঁকি, অর্থ পাচারসহ নানা অপরাধের সঙ্গ জড়িত থাকায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব বলছে, গত ১২ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে এই দম্পতি পাঁচ তারকা হোটেলের কয়েকটি বিলাসবহুল কক্ষে অবস্থান করেন। এ সময় পাপিয়া পরিশোধ করেন ৮১ লাখ ৪২ হাজার টাকা।


   Page 1 of 6
     অপরাধ
ড্রাইভার মালেকের অঢেল সম্পত্তি নিয়ে যা বলল তার ভাই
.............................................................................................
নৌভ্রমণের আড়ালে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’!
.............................................................................................
দুদকের মামলায় প্রদীপকে নেওয়া হলো চট্টগ্রাম
.............................................................................................
লোপার অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত তার মেয়েও!
.............................................................................................
সাহেদের ৪৩ অ্যাকাউন্টে ৯২ কোটি টাকা!
.............................................................................................
রিমান্ডে যেসব চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে সেই তূর্ণা!
.............................................................................................
রাজধানীতে সজীব বিল্ডার্সের মালিক খুন
.............................................................................................
গুলি করে বুট দিয়ে সিনহার গলা চেপে ধরে লিয়াকত!
.............................................................................................
স্বাস্থ্যের সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদকে দুদকে তলব
.............................................................................................
অস্ত্র মামলায় সাহেদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল
.............................................................................................
রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা
.............................................................................................
রূপগঞ্জে জুয়েলারী ব্যবসার নামে প্রতারনা বানিজ্য তুঙ্গে
.............................................................................................
মীরেরটেক ফাঁড়ির ইনচার্জের বিরুদ্ধে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ
.............................................................................................
ডাক্তার ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, অভিযোগ ওসির
.............................................................................................
মাদক সেবনে মাতলামিতে নিষেধ করায় যুবককে কুপিয়ে হত্যা অভিযোগ উঠেছে।
.............................................................................................
পাপিয়া দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা করবে দুদক
.............................................................................................
সাবেক এমপি আউয়ালের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে দুদক
.............................................................................................
ভুলতা ফাঁড়ির নাকের ডগায় ফুটপাতে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা
.............................................................................................
রূপগঞ্জে অবাধে বিক্রি হচ্ছে মুরগির‘ডামিস্টিক’
.............................................................................................
ওয়েস্টিনের মদ বিক্রির হিসাব চেয়েছে মাদক অধিদপ্তর
.............................................................................................
পাপিয়ার পাপের ডেরায় যেতেন কারা, জানতে চায় দুদক
.............................................................................................
বেশি চাপাচাপি করলে সব ফাঁস করে দেব
.............................................................................................
এবার ফাঁস হলো পাপিয়ার অপরাধ জগতের ‘রাজার’ নাম!
.............................................................................................
এক বছরে ৫৯ নারী গণপরিবহনে নির্যাতনের শিকার
.............................................................................................
যুবমহিলালীগ নেত্রী পাপিয়ার দেহ ব্যবসা ফাঁস!
.............................................................................................
১৩৭০০ পাউন্ড দাও, নাহলে...
.............................................................................................
রূপগঞ্জে বেপরোয়া মাদক সম্রাট জামাই ফারুক চক্র
.............................................................................................
ফতুল্লায় ত্রিমুখী প্রেমে যুবক নিখোঁজ
.............................................................................................
নারায়ণগঞ্জে ডাক্তারের কাণ্ড....
.............................................................................................
এমপি রতনের সেই দ্বিতীয় স্ত্রী প্রাথমিক শিক্ষিকা বরখাস্ত
.............................................................................................
নায়িকা বানানোর প্রলোভনে তরুণীর সর্বনাশ
.............................................................................................
৪৭ জন আইনজীবীর সাহায্যের পরও জামিন পেলেন না সেই মিন্নি
.............................................................................................
জবানবন্দি শেষে মিন্নি কারাগারে
.............................................................................................
পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ
.............................................................................................
আড়াইহাজারে নবম শ্রেনীর ছাত্রী ধর্ষণের শিকার ধর্ষক লিটন গ্রেফতার
.............................................................................................
বাসচাপায় শিক্ষার্থী নিহত, সড়ক অবরোধ
.............................................................................................
রাজধানীতে দুইজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু
.............................................................................................
শহীদ পার্থ প্রতীমের প্রতি ছাত্রলীগের শ্রদ্ধাঞ্জলী
.............................................................................................
ক্ষণিকা বাসে আক্রমনের তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানালেন ঢাবি ছাত্রলীগ সেক্রেটারি মোতাহার হোসেন প্রিন্স
.............................................................................................
তীব্র গরমে পানি সংকটে ভুগছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা
.............................................................................................
রাজধানীর মিরপুরে পুলিশের গুলিতে পুলিশ গুলিবিদ্ধ
.............................................................................................
রাজধানিতে দোকানের দেয়াল ধসে ১ জনের মৃত্যু।
.............................................................................................
রাজধানীর ভাটারায় হোমিও চিকিৎসকের গলিত লাশ উদ্ধার।
.............................................................................................
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে চলছে বর্ষবরনের প্রস্তুতি
.............................................................................................
রাজধানীতে মসজিদের ভেতরে মুয়াজ্জিনকে কুপিয়ে হত্যা
.............................................................................................
উত্তরায় গাড়ির ধাক্কায় র‌্যাব সদস্য নিহত
.............................................................................................
মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের আংশিক উদ্বোধন আজ
.............................................................................................
ঘুষ নেয়ার অভিযোগে শেরে বাংলা নগর থানার দুই এসআইকে সাময়িক বরখাস্ত
.............................................................................................
পুলিশের "তাড়া খেয়ে" ভবন থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু
.............................................................................................
রাজধানীতে ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ হাজী মোবারক হোসেন।। সহ-সম্পাদক : কাউসার আহম্মেদ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু।

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, মোবাইল : 01731190131, 01930226862, E-mail : mannannews0@gmail.com, mannan2015news@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- mannan dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop