| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   রাজনীতি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে- বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক বলেছেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশ্বাস করে না। ধর্ম নিয়ে আমাদের কারো উত্তেজনা করা উচিত নয়। বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনীতি শিখিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায় ও পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল ৪ অক্টোবর মঙ্গলবার রূপগঞ্জ ও মুড়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শারদীয় দূর্গা পূজা মন্ডপ পরিদর্শনের সময় একথা বলেন। 

মুড়াপাড়া নারসিংগল দূর্গা মন্দিরে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শীলা রাণী পাল। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান ভুঁইয়া, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ তোফায়েল আহমেদ আলমাছ, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান তারেক, হাবিবুর রহমান হারেজ, আব্দুল মান্নান মুন্সি, ডাঃ ফয়সাল, মাসুম চৌধুরী অপু, রূপগঞ্জ উপজেলা পূজা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংগ্রাম চন্দ্র দাস রানা, দিপক সাহা, মোমেন মোল্লা, রিটন প্রধান, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

 

মোঃ রাসেল মোল্লা

 সহ সম্পাদক 

 দৈনিক নতুন বাজার ৭১.কম

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে- বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
                                  

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক বলেছেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিশ্বাস করে না। ধর্ম নিয়ে আমাদের কারো উত্তেজনা করা উচিত নয়। বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে ধর্ম নিরপেক্ষ রাজনীতি শিখিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায় ও পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল ৪ অক্টোবর মঙ্গলবার রূপগঞ্জ ও মুড়াপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন শারদীয় দূর্গা পূজা মন্ডপ পরিদর্শনের সময় একথা বলেন। 

মুড়াপাড়া নারসিংগল দূর্গা মন্দিরে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শীলা রাণী পাল। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান ভুঁইয়া, মুড়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ তোফায়েল আহমেদ আলমাছ, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা মশিউর রহমান তারেক, হাবিবুর রহমান হারেজ, আব্দুল মান্নান মুন্সি, ডাঃ ফয়সাল, মাসুম চৌধুরী অপু, রূপগঞ্জ উপজেলা পূজা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সংগ্রাম চন্দ্র দাস রানা, দিপক সাহা, মোমেন মোল্লা, রিটন প্রধান, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল আজিজ প্রমুখ।

 

মোঃ রাসেল মোল্লা

 সহ সম্পাদক 

 দৈনিক নতুন বাজার ৭১.কম

ঝিনাইদহ পৌরসভায় স্বাধীনতা পরবর্তী দলনিরপেক্ষ মেয়রের যাত্রা শুরু
                                  

মোঃআবু সুফিয়ান শান্তি

 ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ

 

স্বাধীনতা পরবর্তী ঝিনাইদহ পৌরসভায় দলনিরপেক্ষ মেয়রের কার্যকাল শুরু হলো। গত ০৩ অক্টোবর সোমবার দুপুরে “জনতার মেয়র” খ্যাত কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল দায়িত্বভার গ্রহন করেন।

 

 ঝিনাইদহ পৌরসভা মিলনাতায়নে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসক ইয়ারুল ইসলাম নতুন মেয়রকে দায়িত্বভার বুঝে দেন। কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কিছু সময় অফিস করেন ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সঙ্গে পরিচিত হন।

 

 এ সময় নবনির্বাচিত কাউন্সিলরবৃন্দ, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ১১ বছর পর সীমানা জটিলতা মামলা কাটিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত ১১ সেপ্টেম্বর। 

 

নৌকার প্রার্থীকে বিপুল ভোটে হারিয়ে দল নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে ১১ বছরের বেশি সময় ধরে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু পৌরসভার মেয়র হিসেবে তার কার্যকাল শেষ করেন।

 

 তথ্য নিয়ে জানা গেছে ১৯৫৮ সালের ২৪ এপ্রিল স্বাধীনতা উত্তর ঝিনাইদহটাউন কমিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগ সমর্থিত ডাঃ কে আহম্মেদ। তিনি দুই বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬০ সালের পহেলা জুন মুসলীমলীগ সমর্থিত এস এম মতলুবুর রহমান টাউন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন। 

 

১৯৬৫ সালের ৩ আগষ্ট থেকে ১৯৭১ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত একই দলের আসাদুজ্জামান খান চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব শেষ করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী ১৯৭৪ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নুরুন্নবী সিদ্দিকীকে পরাজিত করে পৌরসভার নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এ্যাডভোকেট আমির হোসেন মালিতা। 

 

১৯৭৭ সালে আইএলডি দলের প্রার্থী নুরুন্নবী ছামদানী পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি পৌর চেয়ারম্যানের পাশাপাশি এমপি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালে জাসদ নেতা হিসেবে পৌর চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মোশাররফ হোসেন মশা। পরে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন।

 

 একাধারে তিনি ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ ও ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত পৌরসভা শাসন করেন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার পর ১৯৯৩ সালে পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন বিএনপির প্রার্থী এস এম আনিছুর রহমান খোকা। 

 

১৯৯৯ সালে আবারো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন জাপা প্রার্থী মোশাররফ হোসেন মশা। তার মৃত্যুজনিত কারণে উপ-নির্বাচনে ২০০২ সালে বিএনপি প্রার্থী আ.ক.ম মশিউর রহমান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

 

 ২০০৪ সালে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল মালেক ২০১১ সাল পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালের ২৮ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু পৌর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

 সীমানা জটিলতার মামলা চাপিয়ে নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়। এদিকে দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় পৌরসভার নাগরিকরা সেবার মান নিয়ে হাফিয়ে ওঠে। জাল ভাউচার তৈরী করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। দোকান বরাদ্দের টাকা বেশির ভাগ ব্যক্তির পকেটে ওঠে। ড্রেন ও রাস্তাঘাটের জীর্নদশায় মানুষ ফুসে ওঠে।

 

 ট্যাক্স, কর, জমির প্ল্যান, জমি জরিপ ও সেবাখাতে ফি বৃদ্ধির কারণে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে বিকল্প চিন্তা করতে থাকে। অবশেষে গত ১১ সেপ্টম্বর পৌরসভার নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থীকে হারিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইয়ূম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল মেয়র নির্বাচিত হন।

ঝিনাইদহের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহন সম্পন্ন খুলনায়
                                  

মোঃআবু সুফিয়ান শান্তি

 ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধিঃ

 

ঝিনাইদহ নবনির্বাচিত মেয়র, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাধারণ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরবৃন্দের শপথ গ্রহন আজ ০২ অক্টোবর রোববার খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

 

 সকাল ১০টায় শপথ বাক্য পাঠ করান বিভাগীয় কমিশনার মোঃ জিল্লুর রহমান চৌধুরী। এই শপথ গ্রহনের মধ্য দিয়ে প্রায় ১১ বছর পর ঝিনাইদহ পৌরসভা নতুন পরিষদ পেলো।

 

 এ সময় খুলনা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ছাড়াও ঝিনাইদহ সুশিল সমাজের প্রতিনিধি ও গনমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মেয়র কাইয়ুম শহরিয়ার জাহেদী হিজল, ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর টিপু সুলতান, ২ নং ওয়ার্ডের মোঃ আবু বক্কার, ৩ নং ওয়ার্ডের আলাউদ্দীন জোয়ারদার লাড্ডু, ৪ নং ওয়ার্ডের শামসিল আরেফিন কায়সার, ৫ নং ওয়ার্ডের সাইফুল ইসলাম মধু, ৬ নং ওয়ার্ডের লিয়াকত হোসেন, ৭ নং ওয়ার্ডের মহিউদ্দীন, ৮ নং ওয়ার্ডের সাদেক আলী ও ৯ নং ওয়ার্ডে রেজাউল করিম রেজা উপস্থিত ছলেন। এছাড়া মহিলা কাউন্সিলর ফারহানা রেজা আনজু, বুলবুলি বেগম ও সুফিয়া বেগমও অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহন করেন। 

 

জানা গেছে, মামলাজটিলতায় ঝিনাইদহ পৌরসভার ভোট প্রায় ১১ বছর বন্ধ থাকার পর নির্বাচন কমিশন তফসীল ঘোষনা এবং গত ১৫ জুন নির্বাচনের তারিখ ধার্য্য করে। কিন্তু নৌকা সমর্থকদের হামলা ও ভয়ভীতির কারণে ১২ জুন নৌকার প্রার্থীতা বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। আদালতের মাধ্যমে আবারো নৌকার প্রার্থীতা ফিরে পান আব্দুল খালেক। অবশেষে গত ১১ সপ্টেম্বর পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

জাতীয় পার্টি আর আওয়ামী লীগের সাথে নেই : জি এম কাদের
                                  

জাতীয় পার্টি আর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটে নেই বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

শুক্রবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে আয়োজিত বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টি এখন জোটে নেই উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, যেদিন থেকে আমরা বিরোধী দল হিসেবে কাজ করছি, সেদিন থেকেই আমরা আর আওয়ামী লীগে নেই, জোটে নেই।

তিনি বলেন, আমরা একসঙ্গে নির্বাচন করেছি। বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কাজ করেছি। আমাদের একটা ভালো সম্পর্ক ছিল, এখনও কিছুটা আছে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ যদি সত্যিকার অর্থে ভালো কাজ করে, তাহলেই আমরা তাদের সঙ্গে থাকব, যেমনটি ছিলাম। জনগণ তাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেললে ভবিষ্যতে আমরা তাদের সঙ্গে না-ও থাকতে পারি।

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিনকে (ইভিএম) শান্তিপূর্ণ কারচুপির মেশিন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ইভিএমের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে না। কারচুপি করে সরকার যাকে চাইবে তাকেই পাস করিয়ে দিতে পারবে।

 তবে নির্বাচন বর্জনের বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও জানান জি এম কাদের।

জাতীয় পার্টি তে চলছে দেবর -ভাবি লড়াই
                                  

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি কোন পথে? রওশনের নাম ব্যবহার করে তৃতীয় পক্ষ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে : জি এম কাদের আমাদের কোনো বিরোধ নেই সবাই এক রয়েছি দল ভালোভাবে চলছ

জাতীয় পার্টি এখন কোন পথে? আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি কোন দিকে হেলে পড়বে দলটি? ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো এবারও ক্ষমতার ‘উচ্ছিষ্ট ভোগ’ রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করবে; নাকি গণমানুষের ভোটের অধিকারের পক্ষ্যে থাকার নাটক করবে? এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-তর্ক-বিতর্ক চলছে। নেটিজেনরা নানান মন্তব্য ছুঁড়ে দিচ্ছেন। দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রায় বছরখানেক ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৮১ বছর বয়সি রওশন এরশাদ দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে না জানিয়ে ২৬ নভেম্বর কাউন্সিলের আহ্বান করেছেন। এ কাউন্সিল ডাকার পরের দিন দলটির সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে জি এম কাদেরকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে নিয়োগ দেয়ার আবেদন করেছেন। জাতীয় সংসদে বর্তমানে রওশন এরশাদবিরোধী দলীয় নেতা ও জিএম কাদের উপনেতা। এ নিয়ে দলটির ভেতরে তোলপাড় চলছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এ নিয়ে উৎসুক রহস্য।

 

জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী জাতীয় পার্টি জন্মের পর থেকে খুবই কম সময় গণমানুষের পক্ষ্যে থেকেছে। দলটির প্রতিষ্ঠাতা মরহুম এইচ এম এরশাদের ‘আনপ্রেডিকটেবল’ চরিত্রের কারণে দলটির প্রতি মানুষের বিশ্বাসের এই ঘাটতি। প্রবাদের ‘রাজা মিয়ার মাথায় বল কোন পক্ষের গোলপোষ্টে যাবে’ বলা মুশকিল, দলটির এই অবস্থা। ’৯০-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে জাতীয় নির্বাচন এলেই আলোচনায় চলে আসে জাতীয় পার্টি কোন শক্তির সঙ্গে থাকবে? এক সময় তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী-সমর্থক থাকলেও ‘সুবিধাবাদী’ কৌশল এবং ‘ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগ’ দলটির গণভিক্তি কার্যত দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে এখন দলটির প্রার্থী করার মতো নেতাকর্মী খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে জাতীয় নির্বাচনে ‘ফ্রন্ট ও জোট’ সংস্কৃতির সুবিধায় দলটি জাতীয় সংসদে বিরোধীদল হিসেবে রয়েছে। কিন্তু দলটির নেতারাও মাঝেমধ্যে স্বীকার করেন ‘জাতীয় পার্টির স্বাতন্ত্র পরিচিতি ক্রাইসিসে’ রয়েছে। দেশ-বিদেশের কেউ দলটিকে বিরোধী দল মনে করেন না; কেউ ডাকে সরকারের ‘নাচের পুতুল’ কেউ বলেন, ‘গৃহপালিত’ বিরোধী দল।

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী দেশ ও সংস্থাগুলো চায় সব দলের অংশগ্রহণে নিরপেক্ষ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের নেতারাও তাদের দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে দিয়েছেন এই বলে যে, আসন্ন নির্বাচন ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো বিজয়ী হওয়া সহজ হবে না। দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবারও জাতীয় পার্টিকে নিজেদের পাশে চেয়েছে। কিন্তু দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সম্প্রতি সময়ের বক্তব্য ক্ষমতাসীন দলের নীতি নির্ধারকদের ভাবিয়ে তুলেছে। জিএম কাদের ‘ভারতপন্থি নেতা’ হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি গণমানুষের পক্ষ্যে অবস্থান নিয়ে বক্তৃতা বিবৃতি দিচ্ছেন। যা সরকারের বিপক্ষে যাচ্ছে এবং আগামীতে তাকে (জিএম কাদের) নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে আশঙ্কায় দলের নেতৃত্বে রওশনকে বসিয়ে আওয়ামী লীগের ‘নাচের পুতুল’ করে রাখার চেষ্টা চলছে। ফলে জাতীয় পার্টিতে ফের ভাঙনের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। তাছাড়া রওশন এরশাদ ঘোষিত কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত কমিটিতে নাম রয়েছে পার্টির কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশীদ, আবু হোসেন বাবলা, মুজিবুল হক চুন্নু, সালমা ইসলাম। অথচ এরা সবাই জিএম কাদেরের সঙ্গে মিটিং করছেন এবং সংসদীয় দলের বৈঠক করে স্পিকারের কাছে জিএম কাদেরকে সংসদ নেতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে কে জিএম কাদেরের পক্ষে আর কে রওশন এরশাদের পক্ষে বোঝা মুশকিল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির এক নেতা বলেছেন, দলটির সিনিয়র নেতা সবাই সুবিধাবাদী। এরা সরকারের উচ্ছিষ্ট খেতে যেমন চায়; তবে সরকার পড়ে গেলে জিএম কাদেরের সঙ্গে থাকবে।

জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, জাতীয় পার্টি খুবই ভালোভাবে চলছে। আমাদের দলে কোনো বিরোধ নেই। সবাই এক আছে এবং একসঙ্গে থাকবে। অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে চিন্তা করার কিছুই নেই।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফখরুলের হুঙ্কার
                                  

দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারকে পরাজিত করা হবে বলে হুঙ্কার দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা এই র‌্যালির মাধ্যমে সমগ্র দেশবাসী ও বর্তমান সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, বিএনপি এখন সবচেয়ে বড় দল। এই দল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। পরে এই দলকে শক্তিশালী, বিকশিত এবং জনগণের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করেছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি এখনও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছেন এবং এই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের মিথ্যা মামলায় অন্তরীণ অবস্থায় আছেন, অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় আছেন।বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে দলের নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে দলটির মহাসচিব বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথ দখল করে দূর্বার আন্দোলন করে এই সরকারকে পরাজিত করতে হবে।

এ সময় বর্তমান সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি করেন তিনি।

এরপর দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‌্যালি শুরু হয়ে নাইটেঙ্গল মোড়, বিজয় নগর সড়ক, পল্টনের মোড় হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়।

র‌্যালিতে বড় আকৃতির জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যানার-ফেস্টুন, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের প্রতিকৃতিসহ নানা বাদ্যযন্ত্র নিয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেয়। র‌্যালিতে ঘোড়ার গাড়ি ও হাতিও ছিল।

বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
                                  

নারায়ণগঞ্জে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় যুবদল কর্মীর মৃত্যুর প্রতিবাদে ২ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নতুন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুল বলেন, শাওন হত্যার প্রতিবাদে শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) বাদ জুম্মা গায়েবানা জানাজা ও শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জে নেতাকর্মীরা শোভাযাত্রা বের করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপির অভিযোগ পুলিশের গুলিতে শাওন (২০) নামে এক যুবদল কর্মী নিহত হন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করতে গেলে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। বিপরীতে রাবার বুলেট, টিয়ার শেল ও গুলি ছোড়ে পুলিশ। সকাল ১০টার পর শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে শাওন নিহত হয়।

বিএনপির অভিযোগ পুলিশের গুলিতে শাওন নিহত হন। তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে। তার বাবার নাম শাহেদ আলী।

দেশব্যাপী গন্ডগোলের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী
                                  

দেশব্যাপী গন্ডগোলের পরিকল্পনা নিয়েই বিএনপি মাঠে নেমেছে’ বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। আজ দুপুরে সচিবালয়ে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে নারায়ণগঞ্জের ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সারাদেশে গন্ডগোল করার পরিকল্পনা করেই নানা কর্মসূচি সাজিয়েছে। সে কারণে তারা সারাদেশে পুলিশ, পথচারী, মানুষের সম্পত্তির ওপর হামলা চালিয়েছে। অর্থাৎ দেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য তারা ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে যে কাজগুলো করেছিলো সেটির নতুন সংস্করণ শুরু করেছে।’

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ পুলিশের সাথে আলাপ করেছি। সেখানে পুলিশ বা জেলা প্রশাসন কিংবা সিটি কর্পোরেশনের অনুমতি ছাড়াই বিএনপি রাস্তা বন্ধ করে সমাবেশ করেছিল। রাস্তা বন্ধ না করে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার জন্য পুলিশ তাদের অনুরোধ জানায়। সেটি না শুনে তারা রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং ইট-পাটকেল ও পাশের রেললাইনের পাথর পুলিশের ওপর নিক্ষেপ করে হামলা পরিচালনা করে, সেখানে থাকা পুলিশ বক্স ভাংচুর করে। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে টিয়ার গ্যাস ছুঁড়েছে এবং লাঠিচার্জ করেছে। সেখানে যিনি মারা গেছেন তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের ভাতিজা। তার পূর্ণ পরিচয় তদন্তাধীন।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন যে, বিএনপি মানুষ মারার রাজনীতি করে। ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে বিএনপি কি করেছে? মানুষ মারার রাজনীতি করেছে, মানুষকে পুড়িয়ে মারার রাজনীতি করেছে। পৃথিবীর অনেক জায়গায় নানা ধরণের গন্ডগোল, জাতিগত সংঘাত, সহিংসতা হচ্ছে বা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক অভিলাষ চরিতার্থ করার জন্য একটি রাজনৈতিক দল সাধারণ মানুষের ওপর পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে পুড়িয়ে মারার ঘটনা গত তিন-চার দশকে পৃথিবীর কোথাও ঘটেনি যেটি বিএনপি বাংলাদেশে করেছে। তারা এ ধরণের গন্ডগোল করে সারাদেশে আরো লাশ ফেলতে চায়।’
‘পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা ঘটানোর কথা যেটি বিএনপি বলেছে সেটি বিএনপির বেলায় প্রযোজ্য, তারা পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিরতা তৈরি করার অপচেষ্টা হিসেবে এই ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে’ বলেন ড. হাছান।
এর আগে জ্বালানি তেলের মূল্য নিয়ে সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের আগে যা দাম ছিলো এখন তার চেয়ে বেড়েছে। এ সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী জনগণের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন ধরণের তেলের দাম প্রতি লিটারে ৫ টাকা কমিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে বাস ভাড়াও কিছুটা কমেছে। কিন্তু এ নিয়েও গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সমালোচনা করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দাম বাড়ালেও দোষ, কমালেও দোষ! তাহলে কি করলে উনারা প্রশংসা করতে পারবেন আমি জানি না। সরকার জনগণের কথা চিন্তা করে দাম কিছুটা কমিয়েছে, এতেও আবার বিএনপি সমালোচনা করছে। আসলে সবকিছুতেই সমালোচনা করার যে বাতিক, সেখান থেকে এই সমালোচনা।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জ্বলছি
                                  

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জ্বলছি উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই জ্বালা এমন এক পর্যায়ে যাচ্ছে সেটা অসহনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার জ্বালানিসহ সব খাতকে দুর্নীতির হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। পুরো রাষ্ট্রকে ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

সোমবার (২২ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লা‌বের আব্দুস সালাম হ‌লে বিএন‌পি আ‌য়ো‌জিত দুর্নী‌তি জ্বালা‌নি সঙ্কটের উৎস শীর্ষক এক সে‌মিনা‌রে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা ব‌লেন।

তিনি বলে, এই সরকারের কোনো জবাবদিহিতা নেই। তাই সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। তাছাড়া কোনো সঙ্কটের সমাধান হবে না।

তিনি বলেন, আমি সবসময় বলার চেষ্টা করি এই সরকার বর্গীদের সরকার। ছোটবেলায় শুনতাম- খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গী এলো দেশে। আজকে এরা ঠিক বর্গীদের ভূমিকা পালন করছে। আজকে বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর জন্য বলতে হবে আওয়ামী লীগ এলো দেশে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা স্বাধীনতার যুদ্ধ করেছিলাম একটি স্বাধীন সার্বভৌম গণতন্ত্র সমাজ দেখতে। একটি মুক্ত উদার গণতন্ত্রের মধ্যে আমরা বাস করতে চেয়েছিলাম। আজকে এরা কি করেছে? 

চা-শ্রমিকদের প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, আজ শ্রমিকরা রাস্তা নেমেছে, তাদের ন্যূনতম দাবি ৩০০ টাকা মজুরির জন্য। সেখানে কিন্তু তাদের ১০-১২ হাজার টাকা আসে না। যেখানে মানুষের মাথাপিছু আয় ২৮০০ ডলার, আর এখানে তারা বেতন পাচ্ছেন ১২০ টাকা। এই যদি একটা দেশ হয়, এই যদি একটা সমাজ হয়, এ যদি অর্থনীতির হিসাব হয়, তাহলে তো স্বাধীনতার মূল্য আছে বলে আমার কাছে মনে হয় না।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. ইলিয়াস খান, সাংবাদিক নেতা কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।

এখন আর নির্বাচন নয়, আন্দোলনই একমাত্র পথ : মির্জা ফখরুল
                                  

এখন আর কোনও নির্বাচন নয়, আন্দোলনই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবকিছুর সংকটের মূলে একটা। সেই সংকটের মূলটা কী? যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে। তারা জোর করে বিনা ভোটে নির্বাচিত না হয়ে বৃহৎ রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে। এখন আমাদের পবিত্র দায়িত্ব যে আন্দোলন,আন্দোলন,আন্দোলন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে, জনগণকে রাজপথে নিয়ে বাংলাদেশকে ধ্বংসকারী এই ফ্যাসিস্ট সরকারকে সরিয়ে একটা সত্যিকার জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তাই আমরা খুব স্পষ্ট করে বলছি, এখন আর কোনও নির্বাচনের কথা নয়, এখন আর কোনও ঘুম পাড়ানির কথা নয়। এখন একটা মাত্র দাবি যে, এই সরকার কবে যাবে, এই সরকার কবে যাবে।

সরকারের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘আমরা বলেছি, সবার আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ আমাদের ৩৫ লক্ষ নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা আছে সেই মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা খুব পরিষ্কার করে বলেছি, এই সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করে তাদেরকে নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করতে হবে এবং নতুন নির্বাচন কমিশনের মধ্য দিয়ে একটি জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল পার্লামেন্ট ও জনগণের সরকার গঠন করতে হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন ‘ইউনির্ভাসিটি টিচার্স এসোসিয়েশনের (ইউট্যাব)’ উদ্যোগে লোডশেডিং, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, ভোলায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রদলের নুরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুর রহিম হত্যার প্রতিবাদ ও বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন হয়।

 সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠিত হওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আপনাদের দায়িত্ব যে, সমস্ত বুদ্ধিজীবী মানুষদেরকে, সকল সচেতন মানুষকে আপনারা জাগ্রত করবেন এবং তরুণ যুবক শ্রেণিকে জাগ্রত করবেন যারা এই লড়াইয়ে অংশ নেবে এবং জয়ী হবে।

ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লুতফুর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল আহসান, অধ্যাপক নুরুল ইসলাম, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গোলাম হাফিজ কেনেডী, অধ্যাপক আবুল হাশেম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসুদুল হাসান মুক্তা, অধ্যাপক মামুনুর রশীদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শের মাহমুদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক সৈকত, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাহাঙ্গীর সরকার, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মামুন উর রশীদ, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের পারভেজ রেজা কাকন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কাদের গনি চৌধুরী, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের মাহবুব আলম প্রমুখ।

 

 

একই টেবিলে মির্জা ফখরুল-জিএম কাদের
                                  

দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে আবরারের বিয়ের অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে একই টেবিলে পাশাপাশি বসতে দেখা গেছে।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের দেখা যায়।অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল, জিএম কাদের ছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন- মির্জা ফখরুলের সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগম, সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, মহানগর বিএনপির আমান উল্লাহ আমান ও আবদুস সালাম, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ, ইশরাক হোসেন এবং সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরীসহ অনেকেই।জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী তাসমিনা শাহতাজ সাথীকে বিয়ে করেন আবরার। তারা দুইজনেই লন্ডনের লিংকস ইউনিভার্সিটি থেকে ব্যারিস্টার এট ‘ল পাস করেন। কনের বাবা ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন চৌধুরী ঢাকায় থাকেন। তবে, তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে।উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গাড়ি চালকসহ রাজধানীর বনানী থেকে নিখোঁজ হন ইলিয়াস আলী। তিনি যখন নিখোঁজ হন তখন আবরার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিলেন। বিএনপির অভিযোগ, ইলিয়াস আলীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়েছিল।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবি চরমোনাই পীরের
                                  

‘শেখ হাসিনা সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ভারতকে অনুরোধ করেছি’ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ। এ জন্য তাকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি করেন।

চরমোনাইর পীর বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়ার স্বীকৃতি। তিনি জনগণের রক্তে কেনা অধিকারের সাথে গাদ্দারি করেছেন, একই সাথে তিনি রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ করেছেন। তাই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনতিবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ লঙ্ঘন ও রাষ্ট্রের সাথে বিশ্বাস ঘাতকতার দায়ে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার শাস্তি দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি এটা না করে তাহলে প্রমাণ হবে, তার এই বক্তব্য সরকারের দালালি মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ এবং আওয়ামী সরকার দেশের সংবিধান, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের সাথে গাদ্দারি করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছে। তাই যদি হয় তাহলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই সরকারকে মীর জাফর, লেন্দুপ দর্জি ও মোনায়েম খানদের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিতে চায়।

জ্বালানির উত্তাপে দগ্ধ যাত্রীরা বিক্ষুব্ধ
                                  

নিজস্ব প্রতিনিধি নতুন বাজার ৭১ ডট কম 

এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম গড়ে ৪৭ শতাংশ বৃদ্ধিতে জনমনে তীব্র ক্ষোভ, সংশয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার মূল্যবৃদ্ধির রাতে তেলের জন্য পাম্পে পাম্পে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, এর প্রভাব দেখা যায় শনিবারও। এদিন ঢাকাসহ দেশজুড়ে গণপরিবহণ সংকট ছিল চরমে। তেলের দামের সঙ্গে ভাড়া সমন্বয়ের অভাবে গণপরিবহণে অঘোষিত ধর্মঘট পালিত হয়েছে। সকাল থেকেই ঢাকার রাজপথ ছিল প্রায় ফাঁকা। বাসের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেছে বিক্ষুব্ধ মানুষ। অনেক সময় পরপর দু-একটা বাস এলেও তাদের বেশির ভাগেই উঠতে পারেননি নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রী। যারা উঠেছেন, তাদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়েছে। বেশি ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডাও হয় অনেক স্থানে। অফিসগামী যাত্রীদের হেঁটে গন্তব্যে যেতে হয়েছে। সকাল ও সন্ধ্যার দিকের যাত্রীদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। দেশের অনেক এলাকায় বাস রাস্তায় নামানোর জন্য পরিবহণ শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে জ্বালানি তেলে চলে না এমন পরিবহণেও চলাচলের সুযোগ ছিল না। কারণ সংকট টের পেয়ে তারাও কয়েক গুণ ভাড়া বাড়িয়েছে। ঢাকার শ্যামলীতে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ থেকে পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। সড়ক অবরোধের সময় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। সবমিলিয়ে এক হাঁসফাঁস অবস্থা তৈরি হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে আতঙ্কিত জনগণ।

শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির খবর জানিয়েছেন যুগান্তরের প্রতিবেদকরা। ওই রাতেই জ্বালানি মন্ত্রণালয় তেলের দাম বৃদ্ধির খবর জানায়। নতুন দাম অনুযায়ী এক লিটার অকটেন, ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৩০, ডিজেল ও কেরোসিন ১১৪ টাকা। চারটি পণ্যে আগের চেয়ে গড়ে ৪৭ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে এই নতুন দাম কার্যকর হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এই খবরে অর্থ সাশ্রয়ের আশায় অনেক মানুষ ছুটতে থাকেন তেলের পাম্পগুলোর দিকে। উদ্দেশ্য ১২টার আগেই পুরোনো দামে জ্বালানি তেল কেনা। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তারা ব্যর্থ হয়েছেন। মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা শুনে অধিকাংশ পাম্প মালিক জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করে দেন। ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা গ্রাহকরা বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছেন। তারা অনেক রাত পর্যন্ত সড়কও অবরোধ করে রাখেন। তবুও তেল মেলেনি। শনিবার থেকে বর্ধিত মূল্যে তেল বিক্রি শুরু হলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে থাকে। তবে গণপরিবহণে ভাড়া বৃদ্ধি না করায় তারা অনেকটা অঘোষিত ধর্মঘট পালন করে। সড়কে সামান্য কিছু পরিবহণ চলছিল। তাদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের দফায় দফায় গণ্ডগোল হতে দেখা গেছে।

পরিবহণ সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী যাত্রীরা। শনিবার অনেকেই সঠিক সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছতে পারেননি। অনেকে এক পরিবহণের রাস্তা, কয়েকটি পরিবহণে ভেঙে ভেঙে পৌঁছেছেন। দিয়েছেন অতিরিক্ত ভাড়া। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে বাসের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে থাকে। তখন ভোগান্তি তুলনামূলকভাবে কমে আসে। তবে বিকালের দিকে ফের পরিবহণ সংকট দেখা যায়। বাসচালক ও হেলপারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা যদি বাড়তি ভাড়া না নেন তাহলে ভর্তুকি দিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। সেজন্যই অতিরিক্ত ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আর বাড়তি ভাড়া আদায় করতে গিয়েই যাত্রীদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছে। তবে বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে কয়েকটি পরিবহণে। বাস ভাড়া বৃদ্ধির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় আগের ভাড়াই নিয়েছেন তারা।

এদিকে রাজধানীতে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল থেকে হঠাৎ আক্রমণ করে পুলিশের খালি গাড়ি ভাঙচুর করেছে বিক্ষোভকারীরা। শনিবার দুপুরে শ্যামলী শিশুমেলার সামনে এই ঘটনা ঘটে। জানতে চাইলে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উৎপল বড়ুয়া বলেন, ‘মিছিলের সামনে কোনো ব্যানার ছিল না। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ করেছে। সেই বিক্ষোভ থেকেই গাড়িটি ভাঙচুর করা হয়েছে।’ এর আগে আশুলিয়ায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের চেষ্টাকালে তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার সকালে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের আশুলিয়ার শিমুলতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক তিনজন হলেন বিপ্লব (৩০), রাসেল (৩০) ও আলীরেজা (২৫)। তারা বিভিন্ন পরিবহণের চালক ও হেলপার বলে জানা গেছে।

শুক্রবার রাতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পরপরই রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোয় ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলচালিত যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। বাসগুলো যাত্রী পরিবহণ না করে তেলের জন্য বিভিন্ন পাম্পে ভিড় করে। এতে রাত থেকেই নগরীতে পরিবহণ সংকট দেখা দেয়। শুক্রবার রাতে কালশী রোডের একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে বাস, প্রাইভেট কার এবং মোটরসাইকেলের জটলা রাস্তা পর্যন্ত গড়ায়। ফলে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ রোডে তীব্র যানজট দেখা যায়। মিরপুর-২ নম্বর ও টেকনিক্যাল, মাজার রোড এবং গাবতলী এলাকায় পেট্রোল পাম্পের সামনে দেখা গেছে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। এদিকে পাম্পে তেল না পেয়ে গাবতলী মাজার রোড এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে ক্ষুব্ধ বাইকাররা। এতে আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট দেখা দেয়। ফলে হেমায়েতপুরগামী পরিবহণকে গন্তব্যে পৌঁছতে ভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করতে হয়েছে। ‘রাজধানী পরিবহণ’-এর একটি বাসকে টেকনিক্যাল থেকে ঘুরিয়ে মিরপুর এক নম্বর, দিয়াবাড়ী, বেড়িবাঁধ, পর্বত এলাকা হয়ে গন্তব্যে পৌঁছতে দেখা গেছে। তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিক্রিয়ায় এই পরিবহণের সুপারভাইজার মো. নাজিম যুগান্তরকে বলেন, কাল (শনিবার) থেকে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি বের করব না। মালিক বললেও আমরা গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামব না। সিদ্ধান্ত হওয়ার আগে যাত্রীদের কাছে বাড়তি ভাড়া চাইলে মারামারি করতে হবে।

অন্যদিকে শনিবার সন্ধ্যায় গণপরিবহণ না পেয়ে কেউ কেউ রিকশা ও অটোরিকশায় করে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। আবার কেউ পৌঁছেছেন হেঁটে। পরিবহণ সংকটে চরম বিপাকে পড়েন অফিসগামী মানুষ। আমিনবাজারের বাসিন্দা আজাদ রহমান গাবতলী পর্যন্ত পৌঁছেছেন হেঁটে। এরপর সেখান থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে কর্মস্থল পল্টনে পৌঁছতে তাকে গুনতে হয়েছে ৪৫০ টাকা। অথচ অন্যদিন এই দূরত্বের জন্য সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা ভাড়া দেন তিনি। এই যাত্রী যুগান্তরকে বলেন, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে এক ঘণ্টা বাসের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম। পরে হাঁটতে শুরু করি। গাবতলী এসেও কোনো বাস না পেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প বাহনে অফিসে যেতে হয়। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এখন বাস ভাড়া বাড়বে। দ্রব্যমূল্য বাড়বে। কিন্তু আয় তো বাড়ছে না। আমরা বাঁচব কীভাবে? জীবন চলবে কীভাবে? কোনো কিছুরই উত্তর খুঁজে পাচ্ছি না।

রাজধানীর গাবতলী থেকে সাভারের হেমায়েতপুরের বাস ভাড়া ১৫ টাকা। অথচ শনিবার এই দূরত্বের জন্য ‘সাভার পরিবহণে’ ভাড়া গুনতে হয়েছে ৪০ টাকা। আর হেমায়েতপুর থেকে রাজধানীর কলাবাগানের বাস ভাড়া ৩০ টাকা। সেখানে শনিবার দ্বিগুণ ৬০ টাকা ভাড়া আদায় করেছে বাসগুলো। মিরপুর এক নম্বরে অছিম পরিবহণের একটি বাসে যাত্রীদের সঙ্গে বাড়তি ভাড়া নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা দেখা গেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করছে বাসের সুপারভাইজার। এই বাসের যাত্রী সাইফুল ইসলাম বলেন, গাবতলী থেকে কুড়িল পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ভাড়া ৩৫ টাকা। কিন্তু তারা তা না মেনে ৪০ টাকা আদায় করত। এখন তেলের দাম বাড়ায় ৬০ টাকা দাবি করছে। এ সময় বাসের সুপারভাইজার বলেন, এই কারণেই মালিক রাস্তায় গাড়ি নামাতে নিষেধ করেছে। গাড়ি নামিয়ে আমরাও বিপদে পড়েছি। ভর্তুকি দিয়ে তো আর গাড়ি চালানো যাবে না।

এদিকে পরিবহণ সংকটের কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে প্রচুর ব্যাটারিচালিত রিকশা চলতে দেখা গেছে। এসব রিকশায় ভাড়াও আদায় করা হয়েছে ইচ্ছা মতো। মিরপুর-২ নম্বর থেকে শেওড়াপাড়ার উদ্দেশে ব্যাটারির রিকশায় উঠেন আহসান কবির। তিনি জানান, গন্তব্যে পৌঁছাতে তাকে ভাড়া গুনতে হয়েছে ১৬০ টাকা। রিকশাচালক আব্দুল মজিদ বলেন, ‘সব সময় তো কমেই যাই। আর ভাড়াও তো প্রতিদিন একরকম পাওয়া যায় না। আজ যাত্রী বেশি, তাই ভাড়াও কিছুটা বেশি নিচ্ছি।’

যুগান্তরের ডেমরা (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, হঠাৎ করেই জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে রাজধানীর ডেমরায় ৯০ শতাংশ যাত্রীবাহী যানবাহন রাস্তায় নামেনি। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বিকল্প যানবাহন হিসাবে অনেকেই মোটরসাইকেল রাইড, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, লেগুনা এবং স্বল্প দূরত্বের যানবাহনের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছতে দ্বিগুণ ভাড়া গুনেছেন।

সরেজমিন ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় দেখা যায়, সকাল থেকেই ডেমরা-যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা-রামপুরা সড়কসহ ডেমরা-শিমরাইল সড়কে যানবাহন চলাচল ছিল সামান্য। ডেমরার আসমানী, অছিম, রাজধানী ও স্বাধীন নামে চারটি বাস কোম্পানির বেশির ভাগ বাস কোম্পানিই কমসংখ্যক গাড়ি নামিয়েছে রাস্তায়। ফলে বিকল্প হিসাবে যাত্রীরা মোটরসাইকেল, লেগুনা ও সিএনজিচালিত আটোরিকশায় চলাচল করেছেন দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী ও অফিসগামী যাত্রীরা কোনোমতে গন্তব্যে যেতে পারলেও বেশি সমস্যায় পড়েছেন বয়স্ক ও গার্মেন্টকর্মীরা।

অছিম পরিবহণের পরিচালক মহিউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, হঠাৎ তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা চরম হতাশা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। এমনিতেই পরিবহণ সেক্টর বর্তমানে বিতর্কিত অবস্থায় রয়েছে। এ মুহূর্তে ভাড়াও বাড়াতে পারিনি। সংশ্লিষ্ট মহলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভাড়া বৃদ্ধি করে সড়কে বাস চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ডেমরা-যাত্রাবাড়ী সড়কে শাহিদা পারভিন নামে এক যাত্রী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে যুগান্তরকে বলেন, এমনিতেই ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে সাংসারিক খরচ জোগানো বেশ মুশকিল হয়ে পড়েছে। তার ওপর জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে, যা আমাদের জন্য বিশাল ধাক্কা। এতে বাস ভাড়া বৃদ্ধিসহ সব জিনিসপত্রের দাম বাড়বে। বিভিন্ন সেক্টরের সিন্ডিকেটগুলো আরও সক্রিয় হবে। সব মিলিয়ে আমরা জনগণই মরব।

এ বিষয়ে ডেমরা ট্রাফিক জোনের ট্রাফিক ইনস্পেকটর (টিআই) মো. জিয়া উদ্দিন খান যুগান্তরকে বলেন, শনিবার সকাল থেকেই ঢাকার প্রবেশদ্বার ডেমরায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল কম ছিল। এতে মানুষের দুর্ভোগ অনেকটা বেড়েছে। তবে পরিবহণ সেক্টরের মিটিং চলছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী যানবাহন চলাচলে কতটুকু শৃঙ্খলা বাজায় থাকে, সেটি এখন দেখার বিষয়।

যাত্রাবাড়ী (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাসস্ট্যান্ড থেকে আগের মতো বাস ছেড়ে যাচ্ছে না। পরিবহণ শ্রমিকরা বেকার সময় কাটাচ্ছেন। ট্রাক-পিকআপসহ পণ্যবাহী যানবাহনের ভাড়াও বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে চাল, আটাসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বেড়ে গেছে।

সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-কুমিল্লা-লাকসাম, ঢাকা-চাঁদপুর, ঢাকা-নরসিংদী-ভৈরব, ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-বরিশাল, ঢাকা-ভাঙ্গাসহ বিভিন্ন রুটে বাস ভাড়া আগের চেয়ে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে পরিবহণের টিকিট ম্যানেজারের সঙ্গে বাস যাত্রীদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। সোনালী পরিবহণে যেখানে ঢাকা থেকে মাদারীপুরের ভাড়া ছিল ৩৫০, সেখানে ৫০ টাকা ভাড়া বৃদ্ধি করে ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-মাওয়া সড়কে ইলিশ পরিবহণে আগের চেয়ে ২০ টাকা ভাড়া বাড়িয়ে ১১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-নড়িয়া রুটে শরীয়তপুর পদ্মা ট্রাভেলসে ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে যাত্রাবাড়ী মাছের আড়ত সংলগ্ন পিকআপ স্ট্যান্ডে দেখা যায়, যেখানে একদিন আগেও চার হাজার টাকায় একটি পিকআপ ভাড়া নেওয়া যেত, তারা এখন ৫ হাজার টাকার নিচে যেতে চায় না। পিকআপচালক শামীম যুগান্তরকে বলেন, এমনিতেই যাত্রাবাড়ী এলাকায় পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়ন, সিটি টোলসহ বিভিন্ন চাঁদা দিয়ে গাড়ির মালিকের জমা দিতে হয়। ফলে ঘরে স্ত্রী-সন্তান, পরিবার-পরিজনের মুখে খাবার দিতে হিমশিম খাচ্ছি। এর মধ্যে লিটারে জ্বালানি তেলের মূল্য ৩৪ টাকা বৃদ্ধিতে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা অবস্থা। এখন আর এ পেশায় থাকা যাবে না। এ পেশায় থাকলে ছেলেমেয়ে, স্ত্রী পরিবারের লোকজনকে না খেয়ে মরতে হবে। চুরি করা ছাড়া কোনো উপায় দেখি না।

যাত্রাবাড়ী কলাপট্টি চালের আড়ত ঘুরে দেখা যায়, ৫০ কেজির বস্তাপ্রতি চালে ১৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। শুক্রবার এসিআই-এর ৫০ কেজির এক বস্তা চাল ছিল ৩ হাজার ৩০০ টাকা। তেলের দাম বৃদ্ধির পর সেখানে ১২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কাজী সেলিম সরোয়ার যুগান্তরকে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম যেহেতু বৃদ্ধি করা হয়েছে, বাসের ভাড়াও বৃদ্ধি করা হবে। আমরা বিআরটিএ-এর লোকজনের সঙ্গে বৈঠকের আগে ভাড়া বৃদ্ধি করিনি। তবে যারা এখন বর্ধিত ভাড়া নিচ্ছে তারা নিজস্ব মতামতেই নিচ্ছে। বর্ধিত ভাড়া না নিলে বর্ধিত তেলে বাসটি চলবে, সে খরচ তো বাসের যাত্রীদের কাছ থেকেই নিতে হবে। তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাসযাত্রী কমে গেছে। যেখানে ৫-১০ মিনিট পর পর বাস ছেড়ে যেত, সেখানে শনিবার ৩০ মিনিটে একটি বাস ছেড়ে যাওয়ার পরও যাত্রী নেই। কারণ যাত্রীও কমে গেছে। এতে পরিবহণ শ্রমিকরা বেকার সময় কাটাচ্ছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির যুগ্মসাধারণ সম্পাদক বকুল খান যুগান্তরকে বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধিতে বাসের ভাড়াও বাড়াতে হবে। তবে সরকারের সংশ্লিষ্ট লোকজনের সঙ্গে আলাপ ছাড়া বৃদ্ধি করা সঠিক হবে না।

ডিএমপির ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার গোবিন্দ চন্দ্র পাল যুগান্তরকে বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে বাস বাড়া নিয়ে যাত্রীদের কোনো অভিযোগ পাইনি।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’
                                  

 দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের জীবনযাত্রা যখন সংকটে, তখন জ্বালানির দাম বাড়ানোকে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি একটা ভয়ংকর প্রভাব ফেলবে দেশের অর্থনীতির ওপর। এটা দেশের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বেড়ে যাবে পরিবহণ ব্যয়। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম আবার দ্বিগুণ হয়ে যাবে। মাঝখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমাদের সাধারণ মানুষ, যারা দিন আনে দিন খায়। মানুষ এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। সেজন্যই এ সরকারকে ক্ষমতায় থেকে সরিয়ে দেওয়াই হচ্ছে একমাত্র দেশপ্রেমিকের কাজ।

রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক ছাত্র সমাবেশে তিনি শনিবার সকালে এসব কথা বলেন। ভোলায় পুলিশের গুলিতে জেলা সভাপতি নুরে আলমের মৃত্যুর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের উদ্যোগে এ সমাবেশ হয়। সকাল ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলে এ সমাবেশ হয়। এতে ছাত্রদের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে মঞ্চের পাশের সড়কে সকালের দিকে কিছুক্ষণ যান চলাচল করলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়।

সংকটে পড়ে এখন আইএমএফ-এর ঋণ পেতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে জনগণকে বিপদে ফেলেছে বলে দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, সরকার আইএমএফ-এর কাছে ঋণ চেয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার। কারণ তারা এত মিথ্যাচার করে এসেছে, রিজার্ভে এত টাকা আছে, এত ডলার জমা আছে। আজ রিজার্ভ কমে যাওয়ায় আইএমএফ, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এডিবির কাছে ডলার ঋণ চেয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এভাবে বারবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে, গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে, সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হচ্ছে। দেখলাম, কাঁচা মরিচের কেজি তিনশ টাকা। মানুষের ওপরে সত্যিকার অর্থে অত্যাচার-নির্যাতন চলছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আর সময় নেই। জেগে উঠতে হবে। জেগে উঠে সরকারকে পরাজিত করতে হবে। সেই লক্ষ্যে আরও দৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলি। গণতান্ত্রিক ছাত্র সংগঠনগুলো আপনারা ঐক্য গড়ে তুলুন। আমরা সব রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানাই, আসুন আজ জাতির প্রয়োজনে, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রয়োজনে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এ ভয়াবহ, অগণতান্ত্রিক, কর্তৃত্ববাদী সরকারকে সরিয়ে একটা জনগণের পার্লামেন্ট ও জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি।

বিএনপি নয়, সরকারই চক্রান্ত করছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অন্যায়-অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বললে সরকার বলে চক্রান্ত। আমরা চক্রান্ত করি না। প্রকাশ্যে ঘোষণা নিয়ে এ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য জনগণের কাছে যাচ্ছি। তাদের নিয়ে আমরা রাজপথে ফয়সালা করব। এ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারকে পরাজিত করতে আমরা সক্ষম হব। তাহলেই নুরে আলম ও আবদুর রহিমের রক্তের ঋণ আমরা শোধ করতে পারব।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, নুরে আলম ও আবদুল রহিম জীবন দিল কেন? জনগণের দাবি আদায় করতে গিয়ে। এ সরকারকে সরাতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তায় নামতে হবে।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল ও সিনিয়র যুগ্মসাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, ড. আসাদুজ্জামান রিপন, খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, নাজিম উদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন প্রমুখ।

জনগণকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান : শনিবার বিকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জনগণকে রাজপথে নেমে এসে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে তিনি জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিকে সরকারের গণবিরোধী ও অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের আহ্বানও জানান।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তাই জনগণের প্রতি প্রতিশোধ নিতেই সরকার একের পর এক জ্বালানি, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর অস্বাভাবিক মূল্য জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দিচ্ছে। যদিও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। তাই অবিলম্বে সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন গণতন্ত্রকামী মানুষের একমাত্র কর্তব্য।

তিনি বলেন, এ দাম বৃদ্ধিতে দেশের বিদ্যুৎ, কৃষি ও শিল্প উৎপাদনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে। খাদ্যপণ্যসহ শাকসবজির দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাবে। এমনিতেই কয়েক মাস ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম হুহু করে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহণ এবং গণপরিবহণের ভাড়ায় নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। তাতে মূলত নিম্ন-আয়ের মানুষ চরম সংকটের মধ্যে পড়বেন। সরকারের নীতিই হচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মানুষকে শোষণ করে তাদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া।

 

 
 
বিএনপিকে সঙ্গে রাখতে পারি, কিন্তু ক্ষমতা দেওয়া যাবে না : নুর
                                  

গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বলেছেন, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে নামাতে ঐক্য গঠন করতে হবে। এই ঐক্যে বিএনপিকে সঙ্গে রাখতে পারি। কিন্তু তাদের হাতে ক্ষমতা ছাড়া যাবে না।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক প্রস্তাব’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে গণসংহতি আন্দোলন।

নুর বলেন, আমরা গত ৩৪ বছরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলকেই ক্ষমতায় দেখেছি। তাদের চরিত্র একই। এই দুই দল ক্ষমতায় থাকলে জনগণের কিছুই হবে না। এ জন্য তৃতীয় কোনো শক্তিকে আমাদের ক্ষমতায় নিতে হবে।তিনি বলেন, বিএনপিও ১৯৯৬ সালে এককভাবে ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু তারা জনগণের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে সংবিধান থাকলে ভোলায় একটি দলের নেতাকর্মীদের সমাবেশে এভাবে গুলি করে হত্যা করতে পারত না।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি ও গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হারুনুর রশিদ প্রমুখ।

বিএনপির সময় লোডশেডিং হতো দিনে ১৩-১৪ ঘণ্টা : ওবায়দুল কাদের
                                  

বিএনপির আমলে দেশে লোডশেডিং চলত দিনে ১৩-১৪ ঘণ্টা, কিন্তু বিএনপি নেতারা তাদের সেই অতীতকে ভুলে গেলেও জনগণ তা ঠিকই মনে রেখেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।মঙ্গলবার (২ আগস্ট) এক বিবৃতিতে সেতুমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ নিয়ে যারা দুর্নীতির কথা বলেন, তারাই প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষক। শেখ হাসিনা সরকার বিদ্যুৎ নিয়ে দুর্নীতি করলে দেশে ২৫ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হতো না, শিল্পায়নের বিকাশ ঘটত না, অর্থনীতির সমৃদ্ধি এবং প্রবৃদ্ধি ঘটত না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে দেশে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ২২০ কিলোওয়াট, যা বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৬০ কিলোওয়াট। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতাভুক্ত শতভাগ যা ২০০৯ সালের শুরুতে ছিল মোট জনসংখ্যার ৪৭ শতাংশ।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিলো ৩ হাজার ২৬৭ মেগাওয়াট, বর্তমানে বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষমতা ২৫ হাজার ৫৬৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। তাছাড়া ২০০৯ সালের শুরুতে দেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা ছিলো ১ কোটি ৮ লাখ। ২০২২ সালের এপ্রিলে এসে গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ২৭ লাখ।ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকারের এ সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে বিএনপি।রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার আশঙ্কা কাটাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে রেশনিং করা হচ্ছে, যা সাময়িক পদক্ষেপ। তিনি বলেন, একটি মহল ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ভুয়া জিগির তুলছেন, প্রকৃতপক্ষে ভারত থেকে দেশে আমদানিকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ মোটের ওপর মাত্র ১০ শতাংশ। আবার কেউ কেউ বলছেন, দেশে নাকি ১৩ দিনের অকটেন এবং ১৭ দিনের পেট্রোলের রিজার্ভ আছে। অথচ প্রকৃত সত্য হচ্ছে, সামান্য পরিমাণে বুস্টার ছাড়া দেশে অকটেন ও পেট্রোল আমদানিই করা হয় না। প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের কনডেনসেট থেকে রিফাইন করে পেট্রোল ও অকটেন তৈরি করা হয়। আবার কেউ কেউ বলছেন, দেশে তেল মজুত আছে ৩৭ দিনের, তারা এ কথা বলছেন জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার জন্য। প্রকৃত সত্য হচ্ছে, দেশে তেল মজুদের সক্ষমতা রয়েছে ৪০ দিনের।বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিয়ে বিএনপি যে অব্যাহত অপপ্রচার আর মিথ্যাচার করছে, তা নিজেদের ব্যর্থতা আড়ালের অপপ্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়।তাদের সময়ে দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল।


   Page 1 of 33
     রাজনীতি
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে- বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
.............................................................................................
ঝিনাইদহ পৌরসভায় স্বাধীনতা পরবর্তী দলনিরপেক্ষ মেয়রের যাত্রা শুরু
.............................................................................................
ঝিনাইদহের নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহন সম্পন্ন খুলনায়
.............................................................................................
জাতীয় পার্টি আর আওয়ামী লীগের সাথে নেই : জি এম কাদের
.............................................................................................
জাতীয় পার্টি তে চলছে দেবর -ভাবি লড়াই
.............................................................................................
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফখরুলের হুঙ্কার
.............................................................................................
বিএনপির নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
.............................................................................................
দেশব্যাপী গন্ডগোলের পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছে বিএনপি : তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জ্বলছি
.............................................................................................
এখন আর নির্বাচন নয়, আন্দোলনই একমাত্র পথ : মির্জা ফখরুল
.............................................................................................
একই টেবিলে মির্জা ফখরুল-জিএম কাদের
.............................................................................................
পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে গ্রেপ্তারের দাবি চরমোনাই পীরের
.............................................................................................
জ্বালানির উত্তাপে দগ্ধ যাত্রীরা বিক্ষুব্ধ
.............................................................................................
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’
.............................................................................................
বিএনপিকে সঙ্গে রাখতে পারি, কিন্তু ক্ষমতা দেওয়া যাবে না : নুর
.............................................................................................
বিএনপির সময় লোডশেডিং হতো দিনে ১৩-১৪ ঘণ্টা : ওবায়দুল কাদের
.............................................................................................
সামেনে বিএনপি সর্ষে ফুল ছাড়া কিছুই দেখবে না : কাদের
.............................................................................................
ঈদ পূর্ণমিলনী "না" আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি
.............................................................................................
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর
.............................................................................................
বাঙালি জাতির সব অর্জন এসেছে আওয়ামী লীগের হাত ধরে: তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
দেশের মানুষের কাছে নৌকার কোনো বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী
.............................................................................................
নানা দুর্ভোগের অবসান হবে ২৫ জুন’
.............................................................................................
জামালপুরের ১৮৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ
.............................................................................................
পদ্মা সেতুর দুর্নীতি আড়াল করতেই ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্বে’ সরকার: রিজভী
.............................................................................................
খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়া দরকার: নজরুল ইসলাম
.............................................................................................
দেশের বন্যা পরিস্থিতির জন্য দায়ী প্রধানমন্ত্রী: রিজভী
.............................................................................................
পদ্মা সেতু, বিএনপি ষড়যন্ত্র করেছে:বাহাউদ্দিন নাছিম
.............................................................................................
লুটপাটের জন্য ছয় লাখ কোটির বাজেট দিয়েছে সরকার: ফখরুল
.............................................................................................
কনটেইনার ডিপোর মালিক কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারেন না’
.............................................................................................
পদ্মা সেতুকে বলতেই হয় আমাদের সোনার সেতু: রুমিন ফারহানা
.............................................................................................
হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র আগামী বছরের মধ্যেই ফিরিয়ে আনব: ফখরুল
.............................................................................................
দেশ ও জাতি নয়, ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে বিএনপি
.............................................................................................
ডিজিটাল যুগে কাগজ বলে কিছু থাকবে না
.............................................................................................
মানুষ যখন আনন্দ পায় বিএনপি কষ্ট পায়।
.............................................................................................
ষড়যন্ত্র-সংকটের সাগর পেরিয়ে তীরে পৌঁছাবে বাংলাদেশ : কাদের
.............................................................................................
ভেদাভেদ ভুলে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফখরুল
.............................................................................................
ঈদে সুবিধা বঞ্চিতদের প্রতি সহনশীল হওয়ার আহ্বান জিএম কাদেরের
.............................................................................................
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই বিএনপির কাজ’
.............................................................................................
দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি : দেশজুড়ে বিএনপি’র বিক্ষোভ কর্মসূচি
.............................................................................................
হুদার মতো আজ্ঞাবহ লোক দিয়ে হবে নতুন ইসি: মির্জা ফখরুল
.............................................................................................
সুজন এত দাদাগিরি করে কেন- তথ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
সরকারের ফাঁদে পা দেবেনা বিএনপি
.............................................................................................
মহান শহীদ দিবসে দুদিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির
.............................................................................................
সাড়ে তিন বছরের শিশু ধর্ষণের মামলায় তরুণ গ্রেপ্তার
.............................................................................................
সরকার নির্বাচন কমিশনের উপর প্রভাব বিস্তার করে না:
.............................................................................................
সব দায় আওয়ামী লীগের - ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল
.............................................................................................
নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে ব্যাঘাত ঘটলে দায় বিএনপির’
.............................................................................................
নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ,তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত- ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল
.............................................................................................
বন্দিদের মুক্তি চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজত নেতাদের বৈঠক
.............................................................................................
সার্চ কমিটির উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো: ফখরুল
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু, সহ সম্পাদক কাওসার আহমেদ র্বাতা সম্পাদক আবু ইউসুফ আলী মন্ডল । বার্তা বিভাগ ফোন০১৬১৮৮৬৮৬৮২

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, রেজিস্ট্রেশন নং 134 / নিবন্ধন নং 69 মোবাইল : 01731190131,E-mail- notunbazar2015@gmail.com, E-mail : mannannews0@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- notunbazar / সম্পাদক dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD