| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অপরাধ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার ডিআইজি পার্থ বণিক

সিলেট কারা কর্তৃপক্ষের ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিকের ফ্ল্যাট থেকে ঘুষ-দুর্নীতির ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফ্ল্যাটের বিভিন্ন কক্ষে তোশক, বালিশের কভার এবং আলমিরায় লুকানো অবস্থায় এ টাকা পাওয়া গেছে। রোববার বিকালে নগদ টাকাসহ প্রথমে তাকে আটক ও পরে গ্রেফতার দেখানো হয়।

রাতেই দুদকের ঢাকা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ নিজের হেফাজতে রাখার দায়ে এ মামলা হয়। তাকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান তিনি।

দুদকের পরিচালক মুহাম্মদ ইউসুফ ও সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি টিম রোববার বিকালে পার্থ গোপাল বণিকের গ্রিন রোড সংলগ্ন ভূতের গলির বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এর আগে সকালে চট্টগ্রাম কারাগারের দুর্নীতি, ঘুষ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে পার্থ দুদক টিমের কাছে বক্তব্য দিতে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন।

অবৈধ সম্পদ, ঘুষের টাকা, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেয়া অর্থ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে গত বছর অক্টোবরে ঘুষের ৪৭ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার চট্টগ্রামের জেলার সোহেল রানার দেয়া কিছু তথ্য সম্পর্কে তার কাছে জানতে চায় দুদক টিম।

 

সোহেল রানা গ্রেফতারের পর বলেছিলেন, তিনি পার্থ গোপাল বণিককেও ঘুষের বেশ কয়েক লাখ টাকা দিয়েছেন। সেই সূত্র ধরে পার্থর কাছে দুদকের কর্মকর্তারা জানতে চান, আপনি ঘুষের এত টাকা কী করেছেন?

দুদক কর্মকর্তারা সোহেল রানার দেয়া তথ্য ছাড়াও আরও কিছু প্রমাণ সামনে তুলে ধরে তার কাছে জবাব চান। এ সময় পার্থ নিজেকে আড়াল করে বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করেন। জেরার একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, রাজধানীর গ্রিন রোড সংলগ্ন তার নিজের ফ্ল্যাটে ৫০ লাখ টাকা রেখেছেন।

বাসায় এত টাকা কেন রেখেছেন- এমন প্রশ্নে তিনি অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলেন, এফডিআর করার জন্য রেখেছি। দুদক কর্মকর্তারা জানতে চান- এ টাকার উৎস কী? এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি পার্থ বণিক। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী দুদকের ওই অনুসন্ধান টিম তাকে নিয়ে রাজধানীর ২৭/২৮/১, নর্থ গ্রিন রোড (ভূতের গলি) তার ফ্ল্যাটে যায়।

যাওয়ার পর তার ঘরের আলমিরা, তোশক, ওয়ারড্রোবসহ বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি করে লুকানো অবস্থায় ৮০ লাখ টাকা পায়। এই টাকা খুঁজে বের করতে কর্মকর্তাদের এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে। টাকা উদ্ধারের পর তা গুনতে লেগেছে আরও এক ঘণ্টা। কিছু টাকা তিনি বালিশের কভারের ভেতরও রেখেছিলেন।

জানা গেছে, দুদক টিম যখন পার্থ বণিককে নিয়ে তার নর্থ রোডের বাসায় যায় তখন তার স্ত্রী রতন মনি সাহা তাদের বাসায় ঢুকতে বাধা দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা তিনি দরজা আটকে রাখেন। পরে তারা দরজা ভেঙে ঢোকার কথা জানালে দরজা খুলে দেয়া হয়। এরই মধ্যে পার্থর স্ত্রী বেশ কিছু টাকা বাজারের ব্যাগে ভরে পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে ফেলে দেন।

পরে দুদকের টিমের সদস্যরা ওই ছাদ থেকে টাকার ব্যাগটি উদ্ধার করেন। বিকাল ৪টায় শুরু হয় এ অভিযান। তবে রাত সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টিমের সদস্যরা ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন। কারণ উদ্ধার হওয়া ৮০ লাখ টাকা জব্দ করার পর প্রতিটি নোটের নম্বর রেজিস্টারে লিখে নেন দুদকের সদস্যরা।

এ কারণে রাতে মামলাটি করতে সময় নিতে হয় বলে জানান টিমের একজন সদস্য। মামলায় পার্থ বণিকের সঙ্গে তার স্ত্রী রতন মনি সাহাকেও আসামি করা হতে পারে। কারণ তিনি ওই অবৈধ টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি টাকাগুলো এখানে-ওখানে লুকিয়ে রেখে দুদকের কাজে অসহযোগিতা করেছেন।

তার বাড়িতে কালো রঙের একটি দামি গাড়ি পাওয়া গেছে। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ বণিক জানিয়েছেন, গাড়িটি তার এক বন্ধুর কাছ থেকে উপহার পেয়েছেন। তিনি ডমইনোর ৭ তলায় ২০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে থাকেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। তিনি এই গাড়ি এবং ফ্ল্যাটের তথ্য তার আয়কর নথিতে উল্লেখ করেননি।

দুদক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। টাকাগুলো জব্দ করার পর তাকে দফায় দফায় ওই বাসায়ই জেরা করেন দুদকের কর্মকর্তারা। এমনকি তার স্ত্রী রতন মনি সাহাও জেরার মুখে পড়েন। এ সময় পার্থ বণিক দুদক কর্মকর্তাদের জানান, তিনি তার আয়কর নথিতে ৪০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন।

ওই ৪০ লাখ টাকার সম্পদ যে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে, এর বাইরে। ওই ৪০ লাখ টাকার সম্পদও তিনি কীভাবে তার আয়কর নথিতে দেখালেন তারও কোনো সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। দুদকের অভিযান টিমের প্রধান পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ রাতে যুগান্তরকে বলেন, পার্থ বণিককে যখন আমরা দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলাম তখন তিনি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়ে আমাদের বিভ্রান্ত করেন।

আমাদের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল, ডিআইজি পার্থ বণিক প্রতিদিনই বিভিন্ন মাধ্যম থেকে কয়েক লাখ টাকা করে ঘুষ পান। তাকে তথ্য-প্রমাণসহ এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, আমার বাসায় নগদ ২০ লাখ টাকা আছে। পরে বলেন, ৩০ লাখ টাকা আছে। আমরা তার কথা বিশ্বাস করিনি।

তাকে বলেছি, সত্যি করে বলেন, পরে তিনি বলেন, ৫০ লাখ টাকা আছে। কিন্তু আমরা সরাসরি তার ফ্ল্যাটে এসে ৮০ লাখ টাকা পেলাম। এই টাকা লুকানোর জন্য পার্থ বণিক ও তার স্ত্রী অনেক ছল-চাতুরীর আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বাসায় এত বিপুল পরিমাণ অর্থ রাখার ঘটনা নজিরবিহীন।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগী কর্মকর্তাদের নামও বের করা হবে। দুদক কর্মকর্তাদের ধারণা, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করা এ অর্থ বাসায় রেখেছিলেন ডিআইজি প্রিজন পার্থ।

ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক ২০০২ সালের ২০ জুন জেল সুপার হিসেবে যোগদান করেন। প্রথমে তার পোস্টিং হয় রংপুর। ২০১৪ সালে ডিআইজি (প্রিজন) হিসেবে পদোন্নতি পান। পরে তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তাকে সিলেট বদলি করা হয়।

২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতারের পর আলোচনায় আসেন ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক। ময়মনসিংহগামী ট্রেন থেকে নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর (স্থায়ী আমানত), ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার নগদ চেক এবং ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ রেলওয়ে পুলিশ সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন।

চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলার সোহেল রানা গ্রেফতারের পর ‘ঘুষের ভাগ পার্থ বণিককে দিয়েছেন’- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ডিআইজি (প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিককে সিলেটে বদলি করা হয়। সোহেল রানার ঘুষের অর্থের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ঘাটে ঘাটে দুর্নীতির খোঁজ পায় সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে কয়েক কর্মকর্তা একাধিকবার দুর্নীতির দায়ে বিভাগীয় শাস্তি ভোগ করেছেন- এ ধরনের তথ্যও বেরিয়ে আসে।

সে সময় সোহেল রানার বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি ডিআইজি পার্থ বণিকসহ বেশকিছু কারা কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দুদক থেকে ওই কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদ ও ঘুষ-দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু হয়।

অনুসন্ধানকালে দুদক নানা মাধ্যম থেকে সোহেল রানা ছাড়াও অন্তত ৫০ কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত টিমের কাছ থেকেও দুদক কিছু তথ্য পায়। তাতে কারা কর্তৃপক্ষের ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিকের নাম রয়েছে বলে জানা যায়। এ ছাড়া দু’জন সিনিয়র জেল সুপার, ৭ জন ডেপুটি জেলারসহ ৪৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য দুদকের হাতে আসে।

পার্থ ও সোহেলের মধ্যে অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কিছু তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সূত্রে পাওয়া গেছে। সোহেল রানার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষের তৎকালীন ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক এবং বর্তমানে বরিশালের (তৎকালীন চট্টগ্রামের) সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিককে ঢাকায় হস্তান্তরের কথা ছিল।

গত ২ নভেম্বর কাশিমপুর কারাগারে জেলার সম্মেলনে এই কর্মকর্তাদের আসার কথা ছিল। সরকারি তদন্ত কমিটি বিভিন্ন অনিয়মের জন্য দায়ী করে সোহেল রানার পাশাপাশি পার্থ গোপাল বণিক ও প্রশান্ত কুমার বণিকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য দুদকের কাছে সুপারিশ করে।

দুদক সূত্র বলছে, এবারের অনুসন্ধানে কারা কর্তৃপক্ষের অনেক কর্মকর্তাই ফেঁসে যাবেন। শুধু চট্টগ্রামই নয়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের অন্যান্য কারাগারের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধান করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার ডিআইজি পার্থ বণিক
                                  

সিলেট কারা কর্তৃপক্ষের ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিকের ফ্ল্যাট থেকে ঘুষ-দুর্নীতির ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ফ্ল্যাটের বিভিন্ন কক্ষে তোশক, বালিশের কভার এবং আলমিরায় লুকানো অবস্থায় এ টাকা পাওয়া গেছে। রোববার বিকালে নগদ টাকাসহ প্রথমে তাকে আটক ও পরে গ্রেফতার দেখানো হয়।

রাতেই দুদকের ঢাকা জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ নিজের হেফাজতে রাখার দায়ে এ মামলা হয়। তাকে আজ আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানান তিনি।

দুদকের পরিচালক মুহাম্মদ ইউসুফ ও সহকারী পরিচালক মো. সালাহউদ্দিনের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি টিম রোববার বিকালে পার্থ গোপাল বণিকের গ্রিন রোড সংলগ্ন ভূতের গলির বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে। এর আগে সকালে চট্টগ্রাম কারাগারের দুর্নীতি, ঘুষ ও অবৈধ সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে পার্থ দুদক টিমের কাছে বক্তব্য দিতে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে হাজির হন।

অবৈধ সম্পদ, ঘুষের টাকা, মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেয়া অর্থ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে গত বছর অক্টোবরে ঘুষের ৪৭ লাখ টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেফতার চট্টগ্রামের জেলার সোহেল রানার দেয়া কিছু তথ্য সম্পর্কে তার কাছে জানতে চায় দুদক টিম।

 

সোহেল রানা গ্রেফতারের পর বলেছিলেন, তিনি পার্থ গোপাল বণিককেও ঘুষের বেশ কয়েক লাখ টাকা দিয়েছেন। সেই সূত্র ধরে পার্থর কাছে দুদকের কর্মকর্তারা জানতে চান, আপনি ঘুষের এত টাকা কী করেছেন?

দুদক কর্মকর্তারা সোহেল রানার দেয়া তথ্য ছাড়াও আরও কিছু প্রমাণ সামনে তুলে ধরে তার কাছে জবাব চান। এ সময় পার্থ নিজেকে আড়াল করে বক্তব্য দেয়ার চেষ্টা করেন। জেরার একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, রাজধানীর গ্রিন রোড সংলগ্ন তার নিজের ফ্ল্যাটে ৫০ লাখ টাকা রেখেছেন।

বাসায় এত টাকা কেন রেখেছেন- এমন প্রশ্নে তিনি অনেকক্ষণ চুপ থেকে বলেন, এফডিআর করার জন্য রেখেছি। দুদক কর্মকর্তারা জানতে চান- এ টাকার উৎস কী? এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি পার্থ বণিক। তার দেয়া তথ্যানুযায়ী দুদকের ওই অনুসন্ধান টিম তাকে নিয়ে রাজধানীর ২৭/২৮/১, নর্থ গ্রিন রোড (ভূতের গলি) তার ফ্ল্যাটে যায়।

যাওয়ার পর তার ঘরের আলমিরা, তোশক, ওয়ারড্রোবসহ বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি করে লুকানো অবস্থায় ৮০ লাখ টাকা পায়। এই টাকা খুঁজে বের করতে কর্মকর্তাদের এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়েছে। টাকা উদ্ধারের পর তা গুনতে লেগেছে আরও এক ঘণ্টা। কিছু টাকা তিনি বালিশের কভারের ভেতরও রেখেছিলেন।

জানা গেছে, দুদক টিম যখন পার্থ বণিককে নিয়ে তার নর্থ রোডের বাসায় যায় তখন তার স্ত্রী রতন মনি সাহা তাদের বাসায় ঢুকতে বাধা দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা তিনি দরজা আটকে রাখেন। পরে তারা দরজা ভেঙে ঢোকার কথা জানালে দরজা খুলে দেয়া হয়। এরই মধ্যে পার্থর স্ত্রী বেশ কিছু টাকা বাজারের ব্যাগে ভরে পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে ফেলে দেন।

পরে দুদকের টিমের সদস্যরা ওই ছাদ থেকে টাকার ব্যাগটি উদ্ধার করেন। বিকাল ৪টায় শুরু হয় এ অভিযান। তবে রাত সাড়ে ১২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত টিমের সদস্যরা ওই বাসায় অবস্থান করছিলেন। কারণ উদ্ধার হওয়া ৮০ লাখ টাকা জব্দ করার পর প্রতিটি নোটের নম্বর রেজিস্টারে লিখে নেন দুদকের সদস্যরা।

এ কারণে রাতে মামলাটি করতে সময় নিতে হয় বলে জানান টিমের একজন সদস্য। মামলায় পার্থ বণিকের সঙ্গে তার স্ত্রী রতন মনি সাহাকেও আসামি করা হতে পারে। কারণ তিনি ওই অবৈধ টাকা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি টাকাগুলো এখানে-ওখানে লুকিয়ে রেখে দুদকের কাজে অসহযোগিতা করেছেন।

তার বাড়িতে কালো রঙের একটি দামি গাড়ি পাওয়া গেছে। দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে পার্থ বণিক জানিয়েছেন, গাড়িটি তার এক বন্ধুর কাছ থেকে উপহার পেয়েছেন। তিনি ডমইনোর ৭ তলায় ২০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটে থাকেন। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা। তিনি এই গাড়ি এবং ফ্ল্যাটের তথ্য তার আয়কর নথিতে উল্লেখ করেননি।

দুদক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে এ বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। টাকাগুলো জব্দ করার পর তাকে দফায় দফায় ওই বাসায়ই জেরা করেন দুদকের কর্মকর্তারা। এমনকি তার স্ত্রী রতন মনি সাহাও জেরার মুখে পড়েন। এ সময় পার্থ বণিক দুদক কর্মকর্তাদের জানান, তিনি তার আয়কর নথিতে ৪০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ দেখিয়েছেন।

ওই ৪০ লাখ টাকার সম্পদ যে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে, এর বাইরে। ওই ৪০ লাখ টাকার সম্পদও তিনি কীভাবে তার আয়কর নথিতে দেখালেন তারও কোনো সুস্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি। দুদকের অভিযান টিমের প্রধান পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ রাতে যুগান্তরকে বলেন, পার্থ বণিককে যখন আমরা দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলাম তখন তিনি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়ে আমাদের বিভ্রান্ত করেন।

আমাদের কাছে গোপন সূত্রে খবর ছিল, ডিআইজি পার্থ বণিক প্রতিদিনই বিভিন্ন মাধ্যম থেকে কয়েক লাখ টাকা করে ঘুষ পান। তাকে তথ্য-প্রমাণসহ এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, আমার বাসায় নগদ ২০ লাখ টাকা আছে। পরে বলেন, ৩০ লাখ টাকা আছে। আমরা তার কথা বিশ্বাস করিনি।

তাকে বলেছি, সত্যি করে বলেন, পরে তিনি বলেন, ৫০ লাখ টাকা আছে। কিন্তু আমরা সরাসরি তার ফ্ল্যাটে এসে ৮০ লাখ টাকা পেলাম। এই টাকা লুকানোর জন্য পার্থ বণিক ও তার স্ত্রী অনেক ছল-চাতুরীর আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার বাসায় এত বিপুল পরিমাণ অর্থ রাখার ঘটনা নজিরবিহীন।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার সহযোগী কর্মকর্তাদের নামও বের করা হবে। দুদক কর্মকর্তাদের ধারণা, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জন করা এ অর্থ বাসায় রেখেছিলেন ডিআইজি প্রিজন পার্থ।

ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক ২০০২ সালের ২০ জুন জেল সুপার হিসেবে যোগদান করেন। প্রথমে তার পোস্টিং হয় রংপুর। ২০১৪ সালে ডিআইজি (প্রিজন) হিসেবে পদোন্নতি পান। পরে তাকে চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তাকে সিলেট বদলি করা হয়।

২০১৮ সালের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম কারাগারের জেলার সোহেল রানা ঘুষের টাকাসহ গ্রেফতারের পর আলোচনায় আসেন ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক। ময়মনসিংহগামী ট্রেন থেকে নগদ ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর (স্থায়ী আমানত), ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার নগদ চেক এবং ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ রেলওয়ে পুলিশ সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। তিনি চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন।

চট্টগ্রামের তৎকালীন জেলার সোহেল রানা গ্রেফতারের পর ‘ঘুষের ভাগ পার্থ বণিককে দিয়েছেন’- এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ডিআইজি (প্রিজন) পার্থ গোপাল বণিককে সিলেটে বদলি করা হয়। সোহেল রানার ঘুষের অর্থের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ঘাটে ঘাটে দুর্নীতির খোঁজ পায় সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে কয়েক কর্মকর্তা একাধিকবার দুর্নীতির দায়ে বিভাগীয় শাস্তি ভোগ করেছেন- এ ধরনের তথ্যও বেরিয়ে আসে।

সে সময় সোহেল রানার বিরুদ্ধে তদন্তের পাশাপাশি ডিআইজি পার্থ বণিকসহ বেশকিছু কারা কর্মকর্তার অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে দুদক থেকে ওই কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদ ও ঘুষ-দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরু হয়।

অনুসন্ধানকালে দুদক নানা মাধ্যম থেকে সোহেল রানা ছাড়াও অন্তত ৫০ কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত টিমের কাছ থেকেও দুদক কিছু তথ্য পায়। তাতে কারা কর্তৃপক্ষের ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিকের নাম রয়েছে বলে জানা যায়। এ ছাড়া দু’জন সিনিয়র জেল সুপার, ৭ জন ডেপুটি জেলারসহ ৪৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য দুদকের হাতে আসে।

পার্থ ও সোহেলের মধ্যে অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কিছু তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল আলমের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন সূত্রে পাওয়া গেছে। সোহেল রানার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া টাকা চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষের তৎকালীন ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক এবং বর্তমানে বরিশালের (তৎকালীন চট্টগ্রামের) সিনিয়র জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিককে ঢাকায় হস্তান্তরের কথা ছিল।

গত ২ নভেম্বর কাশিমপুর কারাগারে জেলার সম্মেলনে এই কর্মকর্তাদের আসার কথা ছিল। সরকারি তদন্ত কমিটি বিভিন্ন অনিয়মের জন্য দায়ী করে সোহেল রানার পাশাপাশি পার্থ গোপাল বণিক ও প্রশান্ত কুমার বণিকের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য দুদকের কাছে সুপারিশ করে।

দুদক সূত্র বলছে, এবারের অনুসন্ধানে কারা কর্তৃপক্ষের অনেক কর্মকর্তাই ফেঁসে যাবেন। শুধু চট্টগ্রামই নয়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের অন্যান্য কারাগারের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে অনুসন্ধান করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।

শিশুসহ বিধবা ও প্রবাসীর স্ত্রীদের ধর্ষণ করতেন এই ইমাম!
                                  

ইদ্রিস আহমেদ, বয়স বিয়াল্লিশ। তিনি ঢাকার দক্ষিণখানে একটি মসজিদ ও মাদরাসার শিক্ষকতা করেন। তিনি দীর্ঘ ১৮ বছরের ইমামতির প্রভাব খাটিয়ে মাদরাসার শিশু ও জিনের ভয় দেখিয়ে বিধবা ও বিদেশে স্বামী থাকা নারীদের ধর্ষণ করতেন।

২২ জুলাই সোমবার ইদ্রিস আহমেদ (৪২) সম্পর্কে এসব তথ্য দেন র‌্যাব ১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে এমনও অভিযোগ ছিলো। একটি শিশুকে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এই ধর্ষক বলাৎকার করে আসছে। পাশাপাশি সে তার মোবাইল ফোনে এই বলৎকারের ভিডিওগুলো ধারণ করে।

সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, ধর্ষক ইদ্রিস দক্ষিণখানের স্থানীয় একটি মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে ইমামতি করে। পাশাপাশি ওই মসজিদের মাদরাসার শিক্ষক। মাদরাসায় পড়তে আসা ১০/১২ বছরের কমপক্ষে ১২ জন শিশুকে সে বলাৎকার করেছে।

অন্যদিকে এই ইমাম জিনকে বশ করতে পারে, এমন একটি গুজব সে এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। যে কোনো সমস্যার সমাধান সে দিতে পারে বলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা আছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বিধবা মেয়ে বা যেসব নারীর স্বামী বিদেশে থাকে তাদেরকে প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে।

সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, মসজিদের একটি বিশেষ কক্ষে সে ঘুমাতো। তার সকল অপকর্ম ওই কক্ষেই সম্পন্ন করতো এবং তার এই অপকর্মের ভিডিও গুলো সে তার খাদেমদের দিয়ে ধারণ করাতে বাধ্য করতো। র‌্যাব জানায়, সম্প্রতি এক নারীর অভিযোগ আমলে নিয়ে এ ঘটনা আমরা অনুসন্ধান করি। অনুসন্ধানকালে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

তাকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। আর সে মোবাইল ফোনে ওই ধরনের অপকর্মের অনেকগুলো ভিডিও ও স্থিরচিত্র পাওয়া গেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই ধর্ষক প্রত্যেকটি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। এটাও বলেছে জিন নিয়ে সে মিথ্যা প্রচারণা করেছে।

সারওয়ার বিন কাশেম বলেন, অভিযুক্ত ইদ্রিস আহমেদ সিলেটে বসবাস করতো। সিলেটের একটি মাদ্রাসা থেকে ১৯৯৮ সালে টাইটেল পাস করে। এরপর সে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের একটি মসজিদে ইমামতি এবং পাশাপাশি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন।

৪ বছর পর ২০০২ সালে ঢাকায় আসে এবং দক্ষিণখানে বর্ণিত মসজিদের ইমাম হিসেবে নিযুক্ত হয়। সে প্রায় ১৮ বছরের বেশি সময় ধরে, এই মসজিদের ইমামতি করে আসছে।

আজকের পত্রিকা

হেলিকপ্টার হুজুর জৈনপুরী পীরের বিরুদ্ধে রেলওয়ের জমি দখলের মামলা
                                  

হেলিকপ্টার হুজুর হিসাবে খ্যাত নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকার এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী ওরফে জৈনপুরী পীরের বিরুদ্ধে জমি দখলের মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। শনিবার ২৭ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় এস্টেট অফিসের কানুনগো মোঃ ইকবাল মাহমুদ বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জের পাঠানটুলী এলাকার মৃত নাছির উল্লাহ আব্বাসীর ছেলে অভিযুক্ত এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী (জৈনপুরী পীর), ওবায়েদ উল্লাহ আব্বাসী ও নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসী অবৈধ ও বেআইনী ভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন হাজিগঞ্জ লেভেল ক্রসিং সংলগ্ন রেললাইনের পূর্ব পাশের্^ গোদনাইল মৌজার সি.এস ও এস.এ দাগ ১৭৯০, ১৭৯১, ১৭৯২, ১৮২২, ১৮২৪, ১৮২৫, ১৮২৬, ১৮২৮, ১৮২৯ ও ১৮৩০ নং দাগের রেলওয়ের ভূমিতে অবৈধভাবে মাটি ভরাট করে সেমিপাকা কাঠামো নির্মাণ করছেন।

তাদের এই অবৈধভাবে কাঠামো নির্মাণ কাজে স্থানীয়ভাবে বাধা প্রদান করা হলেও তারা বাধা উপেক্ষা করে অবৈধভাবে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও এক বছর পূর্বে তারা রেলওয়ের ভূমিতে অবৈধভাবে টিনশেড মার্কেট নির্মাণ করেছেন। সরকারী রেলওয়ে সম্পত্তি দখল ও আতœসাৎ এর অপরাধে দন্ডবিধি অনুযায়ী ফৌজদারি মামলা দায়ের করার অনুরোধ করা হয়।


উল্লেখ্য গত ২৬ মে নারায়ণগঞ্জ তিতাসের উপ-মহাব্যবস্থাপক বরাবর দুই শতাধিক এলাকবাসীর স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, পাঠানটুলীতে অবস্থিত জৈনপুরী পীর হিসেবে পরিচিত এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর বাড়িতে গত ১০ বছর ধরে গ্যাস চুরি চলছিল। ধর্মে কোন বিধান নাই রাষ্ট্রীয় সম্পদ প্রাকৃতিক গ্যাস চুরি করা। একজন চিহ্নিত গ্যাস চোর কখনো মসজিদে বয়ান করতে পারে না। ধর্মের লেবাস লাগিয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ গ্যাস চুরিসহ জৈনপুরীর সকল অপকর্মের বিচার চায এলাকাবাসী।

এর আগে ২ মে জৈনপুরী পীরের বাড়ীতে নারায়নগঞ্জ তিতাস গ্যাস অফিসের সেলস্ ম্যানেজারের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে অবৈধ গ্যাস লাইন উদঘাটন করে। ২৫ এপ্রিল রাতে জৈনপুরী পীর এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর ছোট ভাই নেয়ামত উল্লাহ আব্বাসীসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত দেড়শ জনের বিরুদ্ধে এইচ এন এপারেলস লিমিটেড নামের গার্মেন্টের কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন বাদি হয়ে ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

২২ ফেব্রুয়ারী দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নবীগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় দু’টি লঞ্চে নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক চলাকালে জৈনপুরী হুজুর এনায়েতউল্লাহ আব্বাসীর বড় ভাই সৈয়দ ইমদাদ উল্লাহ আব্বাসীসহ জামায়াত ও শিবিরের ১০ নেতা-কর্মীকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, ভন্ড পীর এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী ওরফে জৈনপুরী পীর ও তার ভাইদের অত্যাচারে পাঠানটুলীসহ আশেপাশের এলাকার লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

তারা অবৈধভাবে রেলওয়ের জমি বালি ভরাট করার ফলে পূর্ব পাঠানটুলী ও পানিরকল এলাকা অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সামান্য বৃষ্টিপাত হলে এলাকার অনেকের বসতঘর পর্যন্ত পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়াও জৈনপুরী পীর রেলওয়ের জমিতে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণ করে প্রতিমাসে মোটা অংকের ভাড়া আদায় করছে। তাদের এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে কথা বলাতে এনায়েত উল্লাহর তৈরী করা লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে এলাকার অনেকেই নাজেহাল হয়েছে।

সর্বশেষ ২৬ জুলাই জৈনপুরী পীরের বাহিনীর ক্যাডাররা পূর্বশত্রুতার জের ধরে এলাকাবাসীর উপর হামলা চালায়। কয়েকদিন আগে একটি গার্মেন্টেও হামলা চালায় জৈনপুরী পীরের ভাইয়ের বাহিনী। এছাড়া জৈনপুরী পীরের এক ভাইকে জামায়াতের নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক করেছিল পুলিশ।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মীর শাহিন শাহ পারভেজ জানান, এনায়েত উল্লাহ আব্বাসী ওরফে জৈনপুরী পীরের বিরুদ্ধে সরকারী জমি দখলের মামলা নেয়া হয়েছে। আসামী গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

১১ দিন পর মায়ের কোলে সৌরভ
                                  

চট্টগ্রাম থেকে অপহরণের ১১ দিন পর মায়ের কোলে ফিরলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম সৌরভ (২৫)। ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার বটতলা থেকে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে মাইক্রোবাস থেকে কে বা কারা তাকে ফেলে যায়। এ সময় সৌরভের হাত-পা ও চোখ ছিল বাঁধা, পরনে ছিল শুধু পায়জামা।

সৌরভকে ‘দুর্বৃত্তরা’ আটকে রেখেছিল বলে জানিয়েছেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার।অপরহণের সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে সৌরভকে জীবিত ফিরে পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে। বাসায় ফিরে সৌরভ তাকে উদ্ধারে সহযোগিতা করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তারাকান্দা থানার ওসি মিজানুর রহমান আকন্দ যুগান্তরকে বলেন, ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে সৌরভকে দুই হাত পেছনে ও চোখ বাঁধা অবস্থায় গাড়ি থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। নিজেই হাত ও চোখের বাঁধন খুলে পাশের জামিল অটোরাইস মিলে যান এবং মিলের ফোরম্যান সমীরের সঙ্গে কথা বলেন।সমীরের মোবাইল ফোন থেকে বাসার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পরিবার পুলিশকে জানালে পুলিশ সৌরভকে উদ্ধার করে।

জেলা পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কে বা কারা সৌরভকে জামিল অটোরাইস মিলের সামনের রাস্তায় রেখে যায়। সৌরভ রাইস মিলে গিয়ে নিজের পরিচয় দিলে মিলের ফোরম্যান সমীর তার পরিবারকে খবর দেন। তখন পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হলে ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের ডিসি মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ আমাকে ফোনে সৌরভকে পাওয়ার কথা জানান।

পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে বটতলা বাজারে পৌঁছে সৌরভকে উদ্ধার করে নিজের বাংলোয় নিয়ে আসি।পুলিশ সুপার জানান, ‘সৌরভের শারীরিক অবস্থা ভালো এবং সুস্থ আছেন। ওই মুহূর্তে সৌরভের সঙ্গে কথা বলার মতো পরিস্থিতি হয়নি। তাকে রাইস মিলের একটি চেয়ারে বসা অবস্থায় পেয়েছি। তাকে নির্যাতন করা হয়েছে কিনা বা ১১ দিন কোথায়, কিভাবে ছিলেন জানতে চাইলে পুলিশ সুপার জানান, সৌরভ এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি, বলেছেন পরে কথা বলবেন। তবে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘আমি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্যারকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি বলেছেন, সৌরভের বাবা-মা খুব উদ্বিগ্ন অবস্থায় রয়েছেন। তাকে আমার বাংলোতে নেয়ার পর তিনি গোসল করেন এবং নতুন জামা পরে খাওয়া-দাওয়ার পর তাকে পরিবারের চাহিদা অনুসারে ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি। তাকে কারা সেখানে ফেলে গেছে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, এটা তদন্তের বিষয়।

বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ফেসবুক লাইভে এসে সৌরভের উদ্ধার হওয়ার খবর জানান মামা সোহেল তাজ। বলেন, ভোর ৫টা ২৭ মিনিটে সৌরভের মায়ের কাছে একটি ফোন আসে। বলা হয়, সৌরভকে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়া হয়েছে।সোহেল তাজ পরে চট্টগ্রামে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপকমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি কথা বলেন পুলিশ সুপারের সঙ্গে।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আবারও ফেসবুক লাইভে আসেন সোহেল তাজ। এ সময় তিনি বনানীর বাড়ির সামনে অপেক্ষায় থাকা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সৌরভ কেমন আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সৌরভের কন্ডিশন ভালো ছিল না, যেটা শুনতে পাচ্ছি, ওকে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ওর গায়ে কোনো জামা ছিল না, শুধু পায়জামা ছিল। চোখ বাঁধা অবস্থায় পাওয়া গেছে। যদি সৌরভকে মুক্ত করে দেয়া না হয়, তাহলে যারা তাকে ধরে নিয়ে গেছে, তিনি তাদের নাম বলবেন বলে এর আগে বলেছিলেন।

সৌরভের মুক্তির পর এখন তিনি কী করবেন জানতে চাইলে সোহেল তাজ বলেন, ‘১১ দিন ধরে ছেলেটি নিখোঁজ ছিল। এখন সময় হচ্ছে ফ্যামলির মুখে একটু হাসি দেয়া। এখন এ প্রশ্নের উত্তর দেয়ার সময় নয়। আমরা এখন জাস্ট ছেলেটাকে রিসিভ করতে চাচ্ছি। ওকে একটু স্বস্তি দেয়া। আপনারা বুঝতে পারছেন, ও যেখানেই ছিল শান্তিতে ছিল না। ও অলরেডি আমাকে আভাস-ইংগিত করেছে, ওর কী দুরবস্থা ছিল। আমি ওকে আশ্বস্ত করেছি, ওর ওপর কোনো ধরনের চাপ দেয়া যাবে না, ও মানসিকভাবে একেবারে বিধ্বস্ত। আমরা এ বিষয় নিয়ে এখন আলাপ করব না।

’ সোহেল তাজ ফেসবুক লাইভে থাকতে থাকতেই একটি মাইক্রোবাসে পুলিশি পাহারায় সৌরভকে বনানীর ওই বাসায় নিয়ে আসা হয়। গাড়ি থেকে নেমে প্রথমে মাকে এবং পরে বাবাকে জড়িয়ে ধরেন সৌরভ। এ সময়ই তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ দেন। তাকে উদ্ধারে সহযোগিতা করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও ধন্যবাদ জানান। মা-বাবা ও মামার সঙ্গে তিনি লিফটে উঠার পর সোহেল তাজের ফেসবুক লাইভ শেষ হয়। এ সময় সোহেল তাজ বলেন, এমনটা যেন আর কোনো পরিবারের সঙ্গে না হয়। আমাদের নিজেদের সঙ্গে এমনটা হয়েছে।

কেউ নিখোঁজ হলে তার পরিবারের ওপর দিয়ে কী অবস্থা যায় আমরা জানি। এ মানসিক যন্ত্রণা কোনো মানুষের কাম্য নয়।তাদের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম -সৌরভের পিতা : সৌরভের বাবা ইদ্রিস আলম যুগান্তরকে বলেন, ছেলেকে ফিরে পেয়েছি এতেই আমি খুশি। আল্লার কাছে শুকরিয়া যে ছেলেকে জীবিত ফেরত পেয়েছি। ভোর রাতে ময়মনসিংহ এলাকার এক লোক ফোনে বলেন, রাস্তার পাশে একটা লোক পড়ে আছে। সে নাকি আপনার ছেলে। তাকে কে বা কারা ফেলে চলে গেছে।

সৌরভ এখন অসুস্থ। তার ঘুম ঘুম ভাব। সে যেখানে বসছে সেখানেই ঝিমোচ্ছে। যারা নিয়ে গেছে তাদের বিচার কিংবা শাস্তি চান কিনা এমন প্রশ্নে ইদ্রিস আলম বলেন, আগেও বলেছি ছেলেকে ফিরে পেলে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করব না। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার প্রতীক্ষায় ছিলাম। যারা নিয়ে গেছে তাদের বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম।’

যেভাবে আশ্রয় চায় সৌরভ : জামিল অটোরাইস মিলের ম্যানেজার কাঞ্চন মিয়া ও ফোরম্যান সমীর সাংবাদিকদের জানান, ভোরে বিপর্যস্ত অবস্থায় একজনের ডাকে আমাদের ঘুম ভাঙে। লোকটি একটু আশ্রয় ও পানি চাচ্ছিল। একপর্যায়ে তাকে বসতে দিয়ে পাশের দোকান থেকে বিস্কুট ও পানি কিনে খেতে দেই। আলাপচারিতায় তাকে ভদ্রঘরের সন্তান বলেই মনে হয়েছে। তিনি নিজেকে পরিচয় দেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজের ভাগ্নে বলে। এ সময় আমাদের মোবাইল ফোন থেকে ‘সৌরভ’ তার মা-বাবার সঙ্গে কথা বলতে চান। বিষয়টি মিলের মালিক হিজবুল বাহার খান বাচ্চুকে জানানো হয়।

পরে সৌরভকে মিলের ভেতর নিয়ে চেয়ারে বসতে দেয়া হয়। সৌরভ মিলের ফোরম্যান সমীরের মোবাইল ফোন থেকে তার বাবার সঙ্গে কথা বলেন। পরে সোহেল তাজও একই নম্বরে ফোন দিয়ে সৌরভের সঙ্গে বলেন। সোহেল তাজ আমাদের বলেন, আমরা যেন পুলিশ ছাড়া কারও কাছে সৌরভকে হস্তান্তর না করি। পরে পুলিশ সুপার এসে সৌরভকে নিয়ে যান। ঘণ্টাখানেক পর সৌরভকে ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দের নেতৃত্বে একটি টিম ঢাকায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, ভোরে একটি মাইক্রোবাস তাকে ময়মনসিংহ শেরপুর সড়কে ফেলে দ্রুত চলে যায়।

চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভূঁইয়া যুগান্তরকে বলেন, সৌরভ সুস্থ-স্বাভাবিক হলে তাকে অপহরণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। কারা তাকে কোথায় নিয়ে গেছে এসব প্রশ্নের উত্তর জানার চেষ্টা করব। দায়ীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করব। সৌরভ অপহৃত হওয়ার পর তার পিতা ইদ্রিস আলম পাঁচলাইশ থানায় একটি জিডি করেন।

ওই জিডির সূত্র ধরে তদন্ত করতে গিয়ে পাঁচলাইশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে। ওই ভিডিওতে দেখা যায় অপহরণকারীরা সৌরভকে কৌশলে একটি কালো রঙের ল্যান্ড ক্রুজার জিপে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ঘটনার পর সৌরভের স্বজনরা দাবি করেছেন, ‘সৌরভের সঙ্গে সওদা নামে এক মেয়ের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি মেয়ের ব্যবসায়ী পিতা। এ কারণে প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে সৌরভকে তিনি অপহরণ করিয়েছেন। ওই মেয়েকে এবং তার ব্যবসায়ী পিতাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিও জানানো হয়।’

৯ জুন চট্টগ্রামের মিমি সুপার মার্কেটের আগোরার সামনে থেকে সৌরভ অপহৃত হন। শনিবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে সোহেল তাজ এমন অভিযোগ করেন। পরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন তিনি। এ সময় সৌরভের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান উপস্থিত ছিলেন। সৌরভ ঢাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েশন করে একটি বেসরকারি সংস্থার পক্ষে ডকুমেন্টরি তৈরির কাজ করতেন।

মৎস্য ব্যাবসায়ী রহমান বেপারীর রহস্যজনক মৃত্যু
                                  

মহসিন : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর গ্রামের মৃত. এমদাদুল হক বেপারীর ছেলে রহমান বেপারীর (৫৫) সোমবার দিবাগত রাত দেড়টায় রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। আমিরাবাদ বাজারের মৎস্য আড়তদার রহমান বেপারীর লাশ, চাঁদপুর সদর উপজেলার মনোহরখাদি (সবজি কান্দি) গ্রামের দেলু মালের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নিহতের স্বজনরা। তড়িগড়ি করে লাশ দাফন করায় এলাকায় এ মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বানছে। এলাকাবাসী রহমান বেপারীর স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে দাবি করেছেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফরাজিকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ রামপুর গ্রামের মৃত. এমদাদুল হক বেপারীর ছেলে রহমান বেপারী (৫৫) আমিরাবাদ বাজারের মৎস্য আড়তের একজন আড়তদার। তিনি জেলেদের মাছ শিকার করার জন্য দাদন দিয়ে থাকতেন। মেঘনা নদীতে অভয়াশ্রম থাকায় কয়েকজন জেলে রাতের আঁধারে মাছ শিকার করতে চাঁদপুর সদর উপজেলা সীমানার নদীতে গেলে চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের মনোহরখাদি (সবজি কান্দি) গ্রামের তানজিল হোসেন, (পুলিশ কনস্টেবল ছুটিতে থাকা) তুহিন, আশিক, বিল্লাল হোসেন’সহ কয়েকজন যুবক ৩ জেলেকে নৌকা, জালসহ আটক করে রাখে।

 এ খবর পেয়ে আড়তদার রহমান বেপারী আটককৃতদের ছাড়িয়ে আনার জন্য চাঁদপুর সদর উপজেলার মনোহরখাদি (সবজি কান্দি) গ্রামে সোমবার রাত ১১ টার দিকে যান। চাঁদপুর সদর উপজেলার মনোহরখাদি (সবজি কান্দি) গ্রামের মৃত. আহমেদ মাল এর ছেলে মৎস্য ব্যবসায়ী দেলু মাল সাংবাদিকদের জানান, রাত দেড়টায় রহমান বেপারী আমার বাড়িতে এসে দরজায় স্বজোরে ধাক্কা দিয়ে ‘ আমাকে বাঁচাও বাঁচাও’ বলে ডাক চিৎকার দেয়। ডাক শোনে দরজা খোলে দেখি রহমান বেপারী। সে প্রায় মৃত্যু শয্যায়।

ঘরে নিয়ে তাৎক্ষণিক বাতাস করি ও হাত-পায়ে তেল ম্যাসেজ করি। এ অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। 
দেলু মাল আরো জানান, পূর্বেও সবজি কান্দির কয়েকজন যুবক আড়তদার রহমান বেপারী’সহ আমিরাবাদ মাছের আড়তের ব্যবসায়ী ও জেলেদের নৌকা জাল আটকিয়ে রেখেছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও মারামারি হয় এবং বিরোধ চলছিল। ৩ জেলেকে পেয়ে ঐ যুবকরা পেয়ে অর্থ সম্পদ লুট করে নিয়ে যায়। জাটকা জেলে বলে চাঁদপুর সদর পুলিশের হাতে মতলব উত্তরের নম সাংকিভাঙ্গা গ্রামের খোরশেদ মিজির ছেলে মুনসুর (৩৫) ও আরশাদ মিজির ছেলে নাসির (২৫)কে সোপর্দ করে। আটককৃতদের ভ্রাম্যমান আদালতে ১ বছরের সাজা প্রদান করা হয়। মুকবুল হোসেন প্রধানের ছেলে জুয়েল শিশু হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।

 
আটককৃতদের কাছ থেকে বিষ্ণুপুর ইউপির মহিলা সদস্য নাহিদ সুলতানা ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন, টাকা না দেওয়ায় তাদেরকে চাঁদপুর মডেল থানায় সপোর্দ করে।আড়তদার রহমান বেপারীকে ঘটনার দিন রাত ১১ টায় শহিদ উল্লার ছেলে সুমন (৩৫), খোরশেদ মিজির ছেলে মুনসুর (৩৫) ফোন করে সবজি কান্দি যাওয়ার জন্য বললে রহমান বেপারী তাদেরকে বলেন আমি আসতেছি। রহমান বেপারী ঘটনাস্থল পৌছার পূর্বেই মহিলা মেম্বার নাহিদ সুলতানা আটককৃত জেলেদেরকে লালপুর নামক স্থানে নিয়ে কিছুক্ষন আটকে রেখে পরে চাঁদপুর মডেল থানায় সোপর্দ করে বলে ছাড়া পাওয়া শিশু জেলে জুয়েল (১৪) জানান।এ ব্যাপারে নিহত রহমান বেপারীর মৃত্যু সম্পর্কে তার চাচাতো ভাই আড়তদার দেলোয়ার বেপারী কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং মৃত্যু নিয়ে তিনি কিছু বলতে অসম্মতি জানান।

রূপগঞ্জ প্রতিনিধিরূপগঞ্জে ভন্ড কবিরাজ গ্রেফতার
                                  

রূপগঞ্জ (নারায়ণঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ গত ১২ ফেব্রুয়ারী রূপগঞ্জের কেয়ারিয়া এলাকায় গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় ভন্ড কবিরাজ ধর্ষক লালচাঁন বাবুকে র‌্যাব-১ এর সিপিসি-৩ গ্রেফতার করেছে। সোমবার গভীর রাতে লালচানকে গাজীপুর জেলার বক্তার ইউনিয়নের ব্রাক্ষ্মণগাঁও এলাকার তার মেয়ের বাড়িথেকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে সিপিসি-৩ এর রূপগঞ্জের পূর্বাচল ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব এ কথা জানান। সিপিসি-৩ এর মেজর আবদুল্লা আল মেহেদী হাসান ধর্ষকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বরাত দিয়ে বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারী ঐ গৃহবধূ তার স্বজনদের নিয়ে কবিরাজি করাতে কেয়ারিয়া এলাকার কবিরাজ লালচাঁনের বাড়িতে আসেন।

পরে ভন্ড কবিরাজ চিকিৎসার করানোর কথা বলে সবাইকে বের করে দেন। পরে পানির সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য পান করিয়ে অচেতন করে ধর্ষণ করেন। ঘটনা টের পেয়ে ঐ গৃহবধূর ভাবী চিৎকার করতে থাকলে লম্পট ধর্ষক দরজা খুলে দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকে ধর্ষক লালচাঁন, তার ছেলে ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা মামলা তুলে নিতে ধর্ষিতা ও তার স্বজনদের চাপ প্রয়োগ করে। এরপর তারা বিষয়টি র‌্যাবকে জানায়। র‌্যাব-১ এর সিপিসি-৩ অভিযান চালিয়ে সোমবার রাতে গাজীপুরের ব্রাক্ষ্মণগাঁও এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।


   Page 1 of 1
     অপরাধ
৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেফতার ডিআইজি পার্থ বণিক
.............................................................................................
শিশুসহ বিধবা ও প্রবাসীর স্ত্রীদের ধর্ষণ করতেন এই ইমাম!
.............................................................................................
হেলিকপ্টার হুজুর জৈনপুরী পীরের বিরুদ্ধে রেলওয়ের জমি দখলের মামলা
.............................................................................................
১১ দিন পর মায়ের কোলে সৌরভ
.............................................................................................
মৎস্য ব্যাবসায়ী রহমান বেপারীর রহস্যজনক মৃত্যু
.............................................................................................
রূপগঞ্জ প্রতিনিধিরূপগঞ্জে ভন্ড কবিরাজ গ্রেফতার
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ হাজী মোবারক হোসেন।। সহ-সম্পাদক : কাউসার আহম্মেদ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু।

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, মোবাইল : 01731190131, 01930226862, E-mail : mannannews0@gmail.com, mannan2015news@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- mannan dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop