| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   বিশেষ সংবাদ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
হোসেনপুরকে মডেল পৌরসভা করতে চান মোবারিছ

মোঃ মনির হোসেনঃ


কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোবারিছ। ছাত্রলীগ থেকে শুরু হয় তার রাজনীনৈতিক জীবন। আসন্ন হোসেনপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে ময়দানে চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। আসন্ন হোসেনপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। দলীয় মনোনয়নের নামে সোনার হরিণ পেতে ভোটের মাঠে চালাচ্ছেন গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা। এছাড়াও দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে গড়ে তুলছেন সখ্যতা।

অনলাইন নিউজপোর্টাল নতুনবাজার৭১.কম’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে হোসেনপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোবারিছ তার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা ও রাজনৈতিক জীবনের কিছু তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে সন্মান অর্জন করতে এসেছি, অর্থ বিত্ত অর্জন করতে নয়। যার প্রমান ২৬ বছর ধরে রাজনীতিতে দিয়ে আসা সময় ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেছিলাম হিমেল, কামাল, ডালিম, মনজিল সহ কিছু বন্ধুদের নিয়ে। লড়াই সংগ্রাম আন্দোলন করে ১৮টি মামলার আসামি হয়ে তিনবার জেল খেটেছিলাম। একবার বিশেষ ক্ষমতার অধীনে ডিটেনশন দেয়া হয়েছিলো আমাকে ও হিমেলকে। ছয়মাস জেল খেটে হিমেল ও ডালিম ক্ষোভে চলে যায় বিএনপিতে, কামাল চলে যায় চাকরিতে আর আমি বড্ড একা হয়ে যাই।

তিনি বলেন, সেই থেকে দলের ভালোবাসার টানে একাই লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাই। এর মাঝে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করি। দুই দুইবার বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হই। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভোটে নির্বাচিত হয়ে এখনো সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।

তিনি বলেন, বিগত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে অর্থের কাছে বিক্রি হওয়া কিছু নিজ দলীয় নেতার কারণে পরাজিত হই। তার মাঝে পেয়ে যাই হাজার যুবক ভাই বোনদের ভালোবাসা ও মা বাবাদের দোয়ায় ৩০ হাজার ভোট, যা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় লিখা আছে আমার হৃদয়ের মণিকোঠায়। সেই ৩০ হাজার ভোটারের শক্তি নিয়ে আগামী হোসেনপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাই। আশা রাখি মনোনয়ন বোর্ড ৩০ হাজার ভোটারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটির যথাযথ মূল্যায়ন করে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিবেন।

তিনি বলেন, আল্লাহ যদি সহায় হয় আগামী মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো করবোই ইনশাল্লাহ। ভোট চাই ভোটারের দোয়া চাই সকলের।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন অনুপ্রবেশকারীকে দলীয় পদ পদবি ও দলীয় মনোনয়ন দেয়া যাবেনা। আশা রাখি, আগামী মেয়র নির্বাচনে হোসেনপুরে তার যথাযথ বাস্তবায়ন হবে। দলীয় মনোনয়ন পাবে তারা আওয়ামী লীগের আতুর ঘর ছাত্রলীগে জন্ম নিয়েছে যারা। আর মেয়র নির্বাচিত হবেন তিনি দলমত নির্বিশেষে মানুষের ভালোবাসা কুঁড়াতে পেরেছেন যিনি।

তিনি বলেন, আশা রাখি দলীয় মনোনয়ন পাবো এবং সর্বজনের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হব।স্বচ্ছ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন আধুনিক ও জবাবদিহিতা মূলক মডেল পৌরসভা গড়বো। ভোট চাই ভোটারের দোয়া চাই সকলের। তিনি বলেন,আমার দৃঢ় বিশ্বাস দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবো। তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হলে হোসেনপুর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলবো।

হোসেনপুরকে মডেল পৌরসভা করতে চান মোবারিছ
                                  

মোঃ মনির হোসেনঃ


কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোবারিছ। ছাত্রলীগ থেকে শুরু হয় তার রাজনীনৈতিক জীবন। আসন্ন হোসেনপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে মাঠে ময়দানে চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা। আসন্ন হোসেনপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। দলীয় মনোনয়নের নামে সোনার হরিণ পেতে ভোটের মাঠে চালাচ্ছেন গণসংযোগ ও মতবিনিময় সভা। এছাড়াও দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সাথে গড়ে তুলছেন সখ্যতা।

অনলাইন নিউজপোর্টাল নতুনবাজার৭১.কম’র সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে হোসেনপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মোবারিছ তার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা ও রাজনৈতিক জীবনের কিছু তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে সন্মান অর্জন করতে এসেছি, অর্থ বিত্ত অর্জন করতে নয়। যার প্রমান ২৬ বছর ধরে রাজনীতিতে দিয়ে আসা সময় ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু করেছিলাম হিমেল, কামাল, ডালিম, মনজিল সহ কিছু বন্ধুদের নিয়ে। লড়াই সংগ্রাম আন্দোলন করে ১৮টি মামলার আসামি হয়ে তিনবার জেল খেটেছিলাম। একবার বিশেষ ক্ষমতার অধীনে ডিটেনশন দেয়া হয়েছিলো আমাকে ও হিমেলকে। ছয়মাস জেল খেটে হিমেল ও ডালিম ক্ষোভে চলে যায় বিএনপিতে, কামাল চলে যায় চাকরিতে আর আমি বড্ড একা হয়ে যাই।

তিনি বলেন, সেই থেকে দলের ভালোবাসার টানে একাই লড়াই সংগ্রাম চালিয়ে যাই। এর মাঝে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করি। দুই দুইবার বালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হই। পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ভোটে নির্বাচিত হয়ে এখনো সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছি।

তিনি বলেন, বিগত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে অর্থের কাছে বিক্রি হওয়া কিছু নিজ দলীয় নেতার কারণে পরাজিত হই। তার মাঝে পেয়ে যাই হাজার যুবক ভাই বোনদের ভালোবাসা ও মা বাবাদের দোয়ায় ৩০ হাজার ভোট, যা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় লিখা আছে আমার হৃদয়ের মণিকোঠায়। সেই ৩০ হাজার ভোটারের শক্তি নিয়ে আগামী হোসেনপুর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাই। আশা রাখি মনোনয়ন বোর্ড ৩০ হাজার ভোটারের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদটির যথাযথ মূল্যায়ন করে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিবেন।

তিনি বলেন, আল্লাহ যদি সহায় হয় আগামী মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো করবোই ইনশাল্লাহ। ভোট চাই ভোটারের দোয়া চাই সকলের।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোন অনুপ্রবেশকারীকে দলীয় পদ পদবি ও দলীয় মনোনয়ন দেয়া যাবেনা। আশা রাখি, আগামী মেয়র নির্বাচনে হোসেনপুরে তার যথাযথ বাস্তবায়ন হবে। দলীয় মনোনয়ন পাবে তারা আওয়ামী লীগের আতুর ঘর ছাত্রলীগে জন্ম নিয়েছে যারা। আর মেয়র নির্বাচিত হবেন তিনি দলমত নির্বিশেষে মানুষের ভালোবাসা কুঁড়াতে পেরেছেন যিনি।

তিনি বলেন, আশা রাখি দলীয় মনোনয়ন পাবো এবং সর্বজনের ভোটে মেয়র নির্বাচিত হব।স্বচ্ছ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন আধুনিক ও জবাবদিহিতা মূলক মডেল পৌরসভা গড়বো। ভোট চাই ভোটারের দোয়া চাই সকলের। তিনি বলেন,আমার দৃঢ় বিশ্বাস দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবো। তিনি আরো বলেন, আমি নির্বাচিত হলে হোসেনপুর পৌরসভাকে একটি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলবো।

ভ্রমণপিপাসুদের দুর্নিবার আকর্ষণ অলওয়েদার সড়কটি
                                  

মোঃ মনির হোসেনঃ

কিশোরগঞ্জের সফল সংসদ সদস্য হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ খানের পুত্র রেজওয়ান আহম্মদ তৌফিক। হাওরবাসীর স্বপ্নপূরণের বিস্ময়কর সড়ক তৈরী করে তিনি এখন কিশোরগঞ্জবাসীর হৃদয়ের মনিকোঠায় অবস্থান করছেন।। 

স্বপ্নের এই নান্দনিক সড়ককেই ঘিরে এখন হাওরে উন্মোচিত হয়েছে পর্যটন সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত। সড়কটি নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন ‘ভাটির শার্দুল’ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। তাঁর হাত ধরেই হাওরের বিশাল জলরাশির বুকচিরে বাস্তবায়িত হয়েছে ৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি।

তিন উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য তৈরি করা নান্দনিক এই সড়কটি এখন হয়ে ওঠেছে সৌন্দর্য্যের এক দুর্নিবার আকর্ষণের নাম। সড়কটি দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন সৌন্দর্য্য আর ভ্রমণপিপাসুরা। হাজারো পর্যটকের পদচারণায় এখন মুখরিত হাওরের একসময়ের অবহেলিত আর প্রত্যন্ত এই জনপদ।

বাংলাদেশের কোথাও হাওরের মাঝখানে এত দীর্ঘ সড়ক নেই। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এঁর স্বপ্নের অলওয়েদার সড়কটি দেখতে ভিড় করছেন। রাস্তার দু’পাশে থৈ থৈ পানি, আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। মেঘ আর জলের এই মনোরম মিতালির সামনে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকা।

সড়কের পাশে বসে বুকভরে নির্মল বাতাস উপভোগ আর হাওরের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে ক্ষণিকের জন্য পর্যটকদের হারিয়ে যায় মন। হাওরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা হাজারো পর্যটক আর এলাকাবাসীর কাছে এ যেন অপার সৌন্দর্য্যের এক লীলাভূমি।

দিগন্ত বিস্তৃত এ সড়ককে ঘিরে দুঃখ ঘুচেছে হাওরবাসীর। ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম সড়ক নির্মাণের ফলে হাজারো মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরেছে। বর্ষায় কর্মহীন অনেক মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাভবান হয়েছেন এসব উপজেলার মানুষ।

হাওরের বুকচিরে নির্মিত দীর্ঘ নান্দনিক সড়ক দেখতে হাজারো মানুষ ভিড় করেন। ফলে এলাকায় ক্ষুদ্র দোকানি, রেঁস্তোরা মালিক, নৌকার মাঝি, নসিমন-করিমন-লেগুনা-অটোরিকশা-মিশুকের চালক মিলিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য মানুষের।

জানা গেছে, জেলার হাওরাঞ্চল ইটনা-মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগের জন্য ২০১৫ সাল থেকে ২০২০ সালের জুন মেয়াদে অলওয়েদার সড়কটি নির্মিত হয়েছে। ৮৭৪ কোটি ৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক বদলে দিয়েছে হাওরের দৃশ্যপট। অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছে সেখানকার আর্থসামাজিক অবস্থার।

একটি মাত্র সড়ক যেভাবে একটি জনপদের অর্থনৈতিক অবস্থা বদলে দিচ্ছে তা বিষ্ময়কর। দিগন্তবিস্তৃত জলরাশি, নয়নাভিরাম সড়ক ও হাওরের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ঢল নামে সেখানে। হাওর উপজেলা ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম এখন পরিণত হয়েছে পর্যটকদের তীর্থক্ষেত্রে।

 

অঢেল সম্পদের মালিক ওসি প্রদীপ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চাকরি জীবনের মাত্র ২৪ বছরেই টেকনাফের সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ গড়ে তুলেছেন অঢেল সম্পদ। প্রচুর ব্যাংক ব্যালেন্সসহ ওসি প্রদীপের নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে রয়েছে ব্যবসা, বাড়ি, প্লট-ফ্ল্যাট, দামি গাড়ি ও ভরি ভরি স্বর্ণালঙ্কার। অভিযোগ রয়েছে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন বিভিন্ন ব্যবসায়। সমাজ বিশ্লেষকদের ধারণা এসবই হয়েছে ক্রসফায়ারের ভয় আর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে।

অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় জায়গা দখল করে স্ত্রীর নামে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চট্টগামের পাঁচলাইশ থানার ওসি থাকাকালে মুরাদপুরে দশ কাঠা জায়গা দখল করেন। সম্পদ গড়েছেন কক্সবাজারেও। দুদক সূত্রে জানা গেছে, ওসি প্রদীপের চট্টগ্রামের দাশের লাল খান বাজারে একটি ফ্ল্যাট, কক্সবাজারে দুটি হোটেলের মালিকানা, বেয়ালখালীতে স্ত্রী চুমকির নামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। রয়েছে মৎস্য খামার, আগরতলা ও অস্ট্রেলিয়ায় তার বাড়ি রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগও উঠেছে ওসির বিরুদ্ধে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

 

তার স্ত্রী চুমকি গৃহিণী হলেও ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার মৎস্য খামার তার নামে করা হয়। পাথর ঘাটায় ৪ শতক জমি রয়েছে চুমকির নামে; যার মূল্য ৮৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। ওই জমির ছয়তলা ভবনের বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৫০ হাজার, পাঁচলাইশে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ কোটি ২৯ লাখ ৯২ হাজার ৬০০ টাকার জমি কেনা হয়; ২০১৭-১৮ সালে কেনা হয় কক্সবাজারে ঝিলংজা মৌজায় ৭৪০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট; যার দাম ১২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে এসআই হিসেবে পুলিশে যোগ দেয়া প্রদীপ কুমার দাশ চাকরি জীবনের বেশিরভাগ কাটিয়েছেন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টেকনাফে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভয়, কখনো মিথ্যা মামলায় ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের 

অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চাকরি জীবনের ১৫ বছরের মাথায় এক বৃদ্ধের জায়গা দখল করে চট্টগ্রাম নগরীর পাথরঘাটায় গড়ে তুলেছেন স্ত্রীর নামে বহুতল ভবন।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় গ্রেফতারের পর তার সম্পদের বিষয়টি এখন সবার মুখে মুখে। এসব বিষয়ে নানা সময়ে কথা উঠলেও গোয়েন্দা সংস্থা কিংবা দুদক ছিল নিঃশ্চুপ। শেষমেষ সাবেক মেজর সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর প্রদীপ কুমার ও তার স্ত্রীর সম্পদের খোঁজে মাঠে নেমেছে দুদক। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রাম সমন্বিত কার্যালয় ২ এর উপ পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন খুব দ্রুতই এর প্রতিবেদন দেয়া হবে।

 

সিনহা রাশেদ নিহতের ঘটনায় তদন্ত শুরু
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পুলিশের গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ নিহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার শহরের হিলডাউন সার্কিট হাউসে বৈঠকে বসেছেন কমিটির সদস্যরা। ঘটনার বিষয়ে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন তারা।

তদন্ত কমিটির প্রধান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত করা হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

 

এই কমিটিতে রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডারের মনোনীত একজন প্রতিনিধি সদস্য হিসেবে রয়েছেন। পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শকের মনোনীত অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জাকির হোসেন। এর আগে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাং শাজাহান আলিকে এই তদন্ত কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছিল।

গত শুক্রবার কক্সবাজারের টেকনাফে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ। একে সরাসরি হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন সিনহার স্বজনরা। এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি করেছেন তারা।

সেনাবাহিনী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়ার পর বিশ্ব ভ্রমণের পরিকল্পনা করছিলেন মেজর সিনহা রাশেদ। ভ্রমণ বিষয়ক একটি ইউটিউব চ্যানেল বানানোর কাজও চলছিল তার। এরই অংশ হিসেবে সিনহা কক্সবাজারে ভিডিও তৈরির কাজে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, বিষয়টা নিয়ে যেহেতু তদন্ত চলছে, সেহেতু তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রিজেন্টের মালিকের সাথে অন্তরঙ্গ ছবি, প্রভাবশালী অনেকেই বিব্রত
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সরকারের হাইকমান্ডের অনেকেই বিব্রত। রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদের সাথে তাদের অন্তরঙ্গ ছবি ঘুরপাক খাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। সেই ছবিতে অনেকেই নানান বিরূপ মন্তব্য করছেন। ছবিতে বিশিষ্ট ওই লোকদের সাহেদের সাথে বেশ অন্তরঙ্গই দেখা গেছে। অথচ অনেক আগে থেকেই এই সাহেদের বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতারণার অভিযোগ। গত ৯ বছরেই রাজধানীর বিভিন্ন থানায় সাহেদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অন্তত ৩২টি মামলা হয়েছে। এমন অভিযোগের পরেও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা কোনো বাছবিচার ছাড়াই কিভাবে সাহেদের সাথে অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে ছবি তুললেন তা নিয়েই মানুষের যত প্রশ্ন।

এসএসসি পাস ব্যক্তি সাহেদ করিম রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক। শুধু হাসপাতালই নয়; এমএলএম কোম্পানি, পত্রিকাসহ আরো কত কিছুর মালিক এই সাহেদ! উপার্জন করেছেন কোটি কোটি টাকা। বিশিষ্ট অনেক ব্যক্তির সাথেই তার ছিল দহরমমহরম। প্রতারণাকাজে তিনি এই সম্পর্ককেই ব্যবহার করে আসছিলেন।

 

জানা গেছে, ২০০৯ সালের দিকে সাহেদ ধানমন্ডি এলাকায় বিডিএস কিক ওয়ান এবং কর্মমুখী কর্মসংস্থান সোসাইটি (কেকেএস) নামে দু’টি এমএলএম কোম্পানি খুলে গ্রাহকদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে গা ঢাকা দিলে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ পর্যন্ত তার নামে ৩২টি মামলা রয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন থানায়। তারমধ্যে ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরা, লালবাগ ও আদাবরে মামলার সংখ্যা বেশি। মামলাগুলো হচ্ছেÑ বাড্ডা থানায়-৩৭(৭)০৯, আদাবর-১৪(৭)০৯, লালবাগ-৪৭(৫)০৯, উত্তরা ২০(৭)০৯, উত্তরা ১৬(৭)০৯, উত্তরা ৫৬(৫)০৯, উত্তরা ১৫(৭)০৯, ৩০(৭)০৯, ২৫(৯)০৯, ৪৯(০৯)০৯, ১০(৮)০৯; সবগুলোই প্রতারণার বলে জানা গেছে। প্রতারণার এসব টাকা রিজেন্ট কেসিএস লি. ইউসিবি ব্যাংক উত্তরা শাখায় অ্যাকাউন্ট নং-০৮৩২১০১০০০০১০০০৩, রিজেন্ট হাসপাতাল লি. ইউসিবি ব্যাংক উত্তরা শাখায় অ্যাকাউন্ট নং-০৮৩১১০১০০০০০০৬১৬, ব্র্যাক ব্যাংক উত্তরাসহ বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে তথ্য আছে। 
সংশ্লিøষ্ট সূত্র জানায়, প্রতারণার টাকা দিয়েই তিনি ব্যবসা প্রসারিত করেন। গড়ে তোলেন আরো শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। এমনকি পত্রিকারো মালিকও হন। তিনি কিছু সাংবাদিকও নিয়োগ দেন। ওই পত্রিকার সম্পাদক-প্রকাশক হিসেবে তিনি পরিচয় দিতেন। নিজেকে আরো শক্তিশালী করতেই তিনি এই পত্রিকার মালিক হয়েছিলেন। কিন্তু সেই পত্রিকা আর বাজারে আসেনি। সেন্টার ফর পলিটিক্যাল রিসার্চ নামে একটি প্রতিষ্ঠানও চালাতেন তিনি। বিভিন্ন টকশোতে অংশ নিতেন। নামীদামি টেলিভিশনেও তিনি গেস্ট হিসেবে উপস্থিত হয়ে জাতিকে নসিহত করতেন।

র্যাব সূত্র জানায়, করোনাকালে ১০ হাজার রোগীর করোনা টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে রিজেন্ট হাসপাতাল। মাত্র চার হাজার ২৬৪টি নমুনা সরকারিভাবে টেস্ট করে রিপোর্ট দেয়। বাকি পাঁচ হাজার ৭৩৬টি পরীক্ষা না করেই রিপোর্ট প্রদান করা হয়। রিজেন্ট হাসপাতালের সাথে স্বাস্থ্য অধিদফতরের চুক্তি অনুযায়ী, বিানামূল্যে করোনা টেস্ট ও চিকিৎসা দেয়ার কথা ছিল; কিন্তু ১০ হাজার টেস্টের বিপরীতে রিজেন্ট প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া ভর্তি রোগীপ্রতি এক লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা বাবদ বিল করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার শুধু জুন মাসেই সরকারের কাছে চিকিৎসা বিল বাবদ পাঠানো হয় এক কোটি ৯৬ লাখ টাকার হিসাব। সেবার নামে এভাবেই অনৈতিকভাবে অর্থ আদায় করেছে রিজেন্ট। আর যখনই এসব নিয়ে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো তদন্ত শুরু করে, তখন নিজেকে বাঁচাতে সাহেদ রিজেন্ট হাসপাতালের তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্তের একটি নাটক করেন।

এ দিকে, সাহেদের এই প্রতারণার চিত্র জনসমক্ষে এলে বিব্রত অবস্থায় পড়েন প্রভাবশালী অনেক ব্যক্তি। ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ডি-এক্টিভ করার আগেই সাহেদের ওয়াল থেকে অনেকেই ওই সব ছবি নিয়ে ভাইরাল করেন। অনেককেই দেখা গেছে, সাহেদের সাথে বেশ অন্তরঙ্গ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতারণার কাজে সাহেদ এই ছবিগুলো ব্যবহার করতেন। এমনকি অনেক মানুষকে নানা সময় অস্ত্র ঠেকিয়ে হুমকি দিয়েছেন এমন অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

লিবিয়ার ভয়ঙ্কর মানবপাচারকারী সিলেটের রফিক
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লিবিয়ার ‘ভয়ঙ্কর’ মানবপাচার চক্রের সদস্য সিলেটের বিশ্বনাথের রফিক। সব জেনে-শুনেই হাসিমুখে সিলেটের তরতাজা যুবকদের ঠেলে দেয় মৃত্যুর মুখে। এরপরও লিবিয়া পৌছালে জিম্মি করা হয় যুবকদের। বন্দি থাকা স্বজনের মৃত্যু ঠেকাতে সিলেটের রফিকের হাতেই তুলে দেওয়া হয় মুক্তিপণের টাকা। সেই টাকা রফিক হুন্ডির মাধ্যমে পাঠায় লিবিয়া। ওখানে রয়েছে তার ছেলে পারভেজ। সেও লিবিয়ার মানবপাচারকারী মাফিয়াদের একজন। তার মাধ্যমেই বাংলাদেশে মানবপাচার চক্রের গড়ে তোলেছে রফিক।

গত বছরের মে মাস। দালাল রফিকের মাধ্যমে স্বপ্নের দেশ ইতালীর পথে গিয়ে ভুমধ্য সাগরে ডুবে মারা গেছে অনেক সিলেটী।- এই ঘটনার পর সিলেটের বিশ্বনাথের দালাল রফিকের সন্ধান মিলে। মামলা হয় তার বিরুদ্ধে। পরপর ৮টি মানবপাচার মামলা হলে সিলেট ছেড়ে পালায় রফিক। ওই সময় আইন শৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হন্য হয়ে খুজলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে- মানবপাচার চক্রের আরেক সদস্য রফিকের মেয়ে পিংকি গ্রেপ্তার হয়েছিলো। গ্রেপ্তারের পর পিংকির কাছ থেকে মিলেছে রফিক, পারভেজ ও পিংকির মানবপাচারের নেটওয়ার্ক। এখন তার সবকিছুই তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির জানা। ঈদের আগে জামিন পেয়েছে পিংকি। সম্প্রতি বাড়িতে এসেছিলেন রফিকও। বাড়িতেই ঈদ কাটার বলে এলাকার লোকজন জানান। সোমবার বিকেলে নিজ বাড়ি থেকেই র্যা বের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে সে। এরপর র্যা ব সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। এক বছর পলাতককালে ঢাকায় ছিলো সে। সেখানে বসেই দেশজুড়ে মানবপাচারের নেটওয়ার্ক গড়েছে। এখন স্বজন হারানো শোকার্ত পরিবারগুলোর চোখ সরছে না তাদের উপর থেকে। তাদের গতিবিধি দিকেও তারা নজর রাখছে। আর  যাতে সিলেটের কোনো মায়ের কোল খালি না হয় সে কারনে তাদের এই নজরদারি। তেমনকি একজন ভুক্তভোগি বিশ্বনাথের রেজাউল ইসলাম রাজু। ঠিক এক বছর আগে রফিক ও ছেলে পারভেজের সিন্ডিকেটের কবলে ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম খোকনকে হারিয়েছেন তিনি। ভুমধ্যসাগরের চিরতরে হারিয়ে গেছে খোকন। রাজু মানবজমিনকে জানান- এক বছর কারাগারে থাকার পর পিংকি মুক্তি পেয়ে গেছে। সে এখন বাড়িতে আছে। এখন রফিক আটক হয়েছে। তিনি বলেন- আমরা জান ও মাল সব হারালাম। এখন বাকী শুধু বিচার। এই বিচার হলেই আমরা খুশী হবো। আমরা চাই- সিলেটের আর কোনো মায়ের কোন যেনো খালি না হয়। স্থানীয় লোকজন ও ভুক্তভোগিরা ইতিমধ্যে রফিক ও তার পরিবারের মানবপাচারের অন্য তথ্যর খুজ পেয়েছেন। মিলেছে মানবপাচারের ভয়ঙ্কর তথ্য। বিশ্বনাথের রামধানা এলাকার কাঠলী পাড়া। ওই গ্রামের বাসিন্দা রফিক আহমদ। ৮ বছর আগে নিজ ছেলে পারভেজকে লিবিয়া পাঠান রফিক। সেখানে ওখানে গিয়ে থিতু হয়ে যায়। মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। ওখানে বাংলাদেশের নেটওয়ার্কের পুরোটাই নিয়ন্ত্রন করে পারভেজ। দেহরক্ষী নিয়ে ঘুওে সে। সিলেট থেকে পাচার করা মানুষ গেলে সে প্রায়ই যায়। দেখা সাক্ষাৎ করে। জিম্মিকালে পরিবারকে টাকা দিতে চাপ প্রয়োগ করে। ছেলের সূত্র ধরে সিলেটে মানবপাচারের নেটওয়ার্কের বিস্তৃতি ঘটায় রফিক। প্রথমে সে মানুষজন জোগার করতো। বিদেশ যেতে ইচ্ছুক মানুষ সংগ্রহ করতো। পরে সে মানুষ নিয়োগ করে। এলাকায় এলাকায় তার নিয়োজিত এজেন্টরা এই কাজ করতো। আর বিদেশে পাচারের বিষয়টি দেখভাল করতো মেয়ে পিংকি। তার একাউন্টেই কোটি কোটি লেনদেন হয়। ভুমধ্যসাগরের নৌকাডুবে সিলেটী যুবকদের মৃত্যুর ঘটনায় পিংকির বিরুদ্ধেও ৬ মামলা হয়। এসব মামলায় পিংকি গ্রেপ্তার হয়। এরপর আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার তিনটি ব্যাংক একাউন্ট খুজে যান। এর ব্রাক ব্যাংকের একাউন্টে থাকা ৩২ লাখ টাকা খোজ পান। গ্রেপ্তারের আগেই পিংকি অগ্রনী ব্যাংকের শাখা থেকে ১ কোটি ৪৭ টাকা সরিয়ে ফেলে। পুলিশ জানায়- ভুমধ্য সাগর ট্র্যাজেডির পর রফিকের পর বিরুদ্ধে নতুন করে ৮টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে বিশ্বনাথ থানায় মামলা করেছিলেন মারা যাওয়া খোকনের ভাই রাজু। এছাড়া হবিগঞ্জে বানিয়াচংয়ে রানা নামে আরো এক জন মামলা করেন। এর বাইরে জালালাবাদ থানা, দক্ষিন সুরমা থানা ও গোলাপগঞ্জ থানা সহ সিলেটের আরো কয়েকটি থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এসব মামলা দায়ের প্রাক্কালেই সিলেট থেকে পালিয়েছিলো রফিক। ফলে ওই সময় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী রফিকের খোজ পায়নি। সম্প্রতি সময়ে বাড়ি এলে গতকাল তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মানবপাচারের নির্মম ঘটনায় টাকাওলা বনে যাওয়া রফিক নিজ গ্রামে বানিয়েছে পাকা বাড়ি। দুটি বাস, দুটি মাইক্রোবাস ও তিনটি সিএনজি অটোরিক্সার মালিক সে।

এবার এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের মা ও ছেলে করোনার কবলে
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের মা চেমন আরা বেগম (৮৫) ও ছেলে আহসানুল আলম (২৫) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

গতকাল শনিবার ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি) নমুনা পরীক্ষায় তাদের রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের একজন চিকিৎসক আমাদের সময় অনলাইনকে জানিয়েছেন, নগরীর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার ১ নম্বর রোডে সাইফুল আলম মাসুদের পরিবারের বসবাস। করোনাভাইরাসও ছড়িয়েছে সেখান থেকেই। চট্টগ্রামে সঠিভাবে চিকিৎসা পাবেন না এমন আশঙ্কায় সবাই ঢাকা চলে গেছেন। সেখানেই চিকিৎসা নেবেন তারা।

সাইফুল আলম মাসুদের মা চেমন আরা প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আখতারুজ্জামান বাবুর বোন ও ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ফুপু। আর আহসানুল আলম ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এর আগে গত ১৭ মে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হন সাইফুল আলমের মাসুদের আরও পাঁচ ভাই। তাদের মধ্যে সবার বড় মোরশেদুল আলম (৬৮) গত শুক্রবার মারা গেছেন।

চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে করা পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ হন সাইফুল আলম মাসুদের ভাই ও এস আলম গ্রুপের পরিচালক রাশেদুল আলম (৬০), গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবু (৫৩), ইউনিয়ন ব্যাংক ও এস আলম গ্রুপের পরিচালক মোহাম্মদ শহীদুল আলম এবং এস আলম গ্রুপের পরিচালক ওসমান গণি (৪৫)।

রাস্তায় চলাচলে চালু হচ্ছে ‘মুভমেন্ট পাস’
                                  

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছেই। বন্ধ হচ্ছে না মানুষের বাইরে বের হওয়া। এতে ভাইরাসটির বিস্তার আরও মারাত্মক আকার ধারণ করছে। দেখা দিচ্ছে শঙ্কা। এই অবস্থায় রাস্তায় চলাচলে বিশেষ ‘পাস’ নিয়ে আসছে বাংলাদেশ পুলিশ। যাদের একান্তই বাইরে যাওয়া প্রয়োজন তাদের এই ‘মুভমেন্ট পাস’ দেয়া হবে।

পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। তারা বলছেন, সদর দপ্তরের আইসিটি উইংয়ের সমন্বয়ে শুরু হতে যাচ্ছে এই কার্যক্রম। জরুরি পণ্য পরিবহন, সেবাদানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের যাচাই-বাছাই করে দেয়া হবে এই পাস।

পাস সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে (https://movementpass.police.gov.bd) গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন, প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র, স্টুডেন্ট আইডি ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে। সড়কে কোথাও চলাচলের কারণে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হলে এই পাস দেখালেই তার পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাকে যেতে দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে মুদি দোকানে কেনাকাটা, কাঁচা বাজার, ঔষধপত্র, চিকিৎসা, চাকরি, কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ, ত্রাণ বিতরণ, পাইকারি/খুচরা ক্রয়, পর্যটন, মৃতদেহ সৎকার, ব্যবসা ও অন্যান্য ক্যাটাগরিতে দেয়া হবে এই পাস। যাদের বাইরে চলাফেরা প্রয়োজন কিন্তু তারা কোনো ক্যাটাগরিতেই পড়েন না, তাদের ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরিতে পাস দেয়ার বিষয়ে বিবেচনা করা হবে।

এ বিষয়ে পুলিশ সদরদফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, জরুরি পণ্য-সেবা প্রদানের কাজে বাইরে বের হওয়াদের চলাচলকে বাধামুক্ত করার জন্য শিগগিরই এই পাস দেয়া হবে। এই পাসের জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা আবেদন যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত মনে হলে পাস দেবেন।

করোনা আতংকে রূপগঞ্জে ঝুঁকি নিয়ে মার্কেটে ভিড়
                                  

নিজাম উদ্দিন আহমেদঃ

রূপগঞ্জে করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১১ জন। এ নিয়ে এখানে অক্রান্তের সংখ্যা ৫১ জন । এর মধ্যে মারা গেছে ২ জন, এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ জন। এমন পরিস্থিতিতে রূপগঞ্জ উপজেলাবাসী করোনা চরম আতংকে রয়েছেন।

এদিকে মার্কেট খোলার কারনে রূপগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট গাউছিয়া এলাকায় সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষা করে উপচে পড়া মানুষের ভিড় বেড়েছে। প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারনে এখানে ছিলোনা হাত ধোয়ার ব্যবস্থা ও স্বেচ্ছাসেবক।

অনেকেই মার্কেটে বাচ্চা নিয়ে এসেছেন। ছিলোনা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাইকিংএর ব্যবস্থা। কাঁচাবাজারে আগের মতই সামাজিক দূরত্ব লংঘনের চিত্র চোখে পড়েছে। এতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত মহামারি আকার ধারন করতে পারে বলে রূপগঞ্জের সচেতনমহল মনে করছেন। এব্যাপারে তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

সিরাজ শাহ্’র আস্তানা থেকে মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
                                  

কালাম সিরাজঃ সারা বাংলাদেশে চলছে করোনা ভাইরাসকে র্নিমুল করতে দীর্ঘ প্রায় দুই মাস ধরে লকডাউন। এই সংকট ময় সময়ে এগিয়ে আসছে দেশের বিভিন্ন ফাউডেশন, মানব কল্যান সংস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। গরীব দুঃখি, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে। নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দরে অবস্থিত কাদ্রিয়া ভান্ডার সিরাজ শাহ্’র আস্তানা। এই কাদরিয়া ভান্ডার সিরাজ শাহ্’র আস্তানায়ও চলছে রমজান মাসব্যাপী গরীব, দুঃখী, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ। কাদ্রিয়া ভান্ডার সিরাজ শাহ্’র আস্তানায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শত শত গরীব, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করছে। প্রতি বৎসরের ন্যায় এবারো কাদ্রিয়া ভান্ডার সিরাজ শাহ্’র আস্তানায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ পযর্ন্ত ১০,০০০ হাজারেরও বেশী গরীব, দুঃখী, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করেছে।

দেশে করোনা জয় করে বাড়ি ফিরলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৪ জন। যার মধ্যে একজনের বয়স ৮০ বছর। ৮০ বছরের একজন করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন বলে জানিয়েছেন আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। সোমবার (৩০ মার্চ) করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিস্থিতি নিয়ে আইইডিসিআরের অনলাইন লাইভ ব্রিফিং-এ তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, নতুন করে দেশে ১ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৪৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪ জন সুস্থ হয়েছেন। ৮০ বছরের একজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এখন পর্যন্ত মোট ১৯ জন সুস্থ হয়েছেন। সুস্থদের মধ্যে একজন চিকিৎসক ও নার্স রয়েছেন। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পরামর্শ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, কাশি শিষ্টাচার মেনে চলুন। ঘরের বাইরে যাবেন না। বার বার সাবান পানি দিয়ে হাত ধুবেন, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন, বিদেশ থেকে আসতে না করুন, আপনারাও যাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

পাপিয়ার দুই মামলার তদন্তভার পেল র‌্যাব
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

যুব মহিলা লীগের বহিস্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তিন মামলার মধ্যে দুটির তদন্তভার র‌্যাবকে দেয়া হয়েছে।

শেরেবাংলা নগর থানার অস্ত্র ও মাদক আইনে করা মামলার তদন্তভার পেল র‌্যাব।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিমানবন্দর থানার জাল নোটের মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশের হাতেই রেখেছে বলে জানান র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাফি উল্লাহ বুলবুল।

তিনি জানান, গোয়েন্দা পুলিশের হাতে পাপিয়ার রিমান্ড মঙ্গলবারই শেষ হচ্ছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরো দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আমরা আদালতে আবেদন করব।

এর আগে গত ২২শে ফেব্রুয়ারি পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী এবং তাদের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

পাপিয়ার ‘পাপের ডেরা’য় যাওয়াদের তালিকা
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নরসিংদী যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়ার ডেরায় যেতেন এমন ৩০ জনের নাম এসেছে তদন্তে। জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া তাদের নাম বলেছে।

ওয়েস্টিন হোটেল কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা সিসি টিভি ফুটেজ, পাপিয়ার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া গোপন ভিডিও থেকে তাদের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা। তালিকায় নাম আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে।

গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত একটি তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পাপিয়ার আস্তানায় নিয়মিত যেতেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীও আছেন তালিকায়। ১০ জন সংসদ সদস্যও তালিকায় আছেন।

সূত্র জানায়, পাপিয়ার ডেরায় নিয়মিত যাতায়াত ছিল অন্তত ২১ জনের। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই ব্যক্তিত্বদের বাইরে গত এক মাসের ভিডিও ফুটেজে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের আরো ৫ জনকে কয়েক দফা ঐ আস্তানায় যেতে দেখা গেছে।

ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৫ জন সচিব, ১০ জন সংসদ সদস্য, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক দুই নেতা, দুই জন মন্ত্রী, একজন প্রতিমন্ত্রী পাপিয়ার আস্তানায় নিয়মিত আসা যাওয়া করতেন।

এছাড়া তালিকায় আছেন ছাত্রলীগ সাবেক এক সভাপতি এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক এক শীর্ষ নেতা। নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় সম্প্রতি স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই নেতা পদ হারিয়েছেন।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি গোপনে দেশত্যাগের সময় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামিমা নূর পাপিয়াকে বিমানবন্দর এলাকা থেকে তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করে র্যা ব। গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন- পাপিয়ার স্বামী ও তার অবৈধ আয়ের হিসাবরক্ষক মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন, পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী শেখ তায়্যিবা ও সাব্বির খন্দকার। এই নেত্রীর প্রকাশ্য আয়ের উৎস গাড়ি বিক্রি ও সার্ভিসিংয়ের ব্যবসা।

তবে এর আড়ালে জাল মুদ্রা সরবরাহ, বিদেশে অর্থপাচার এবং অবৈধ অস্ত্র রাখাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাপিয়া গ্রেফতার হওয়ার পরই বেরিয়ে আসতে শুরু করে তার অন্ধকার জগতের চাঞ্চল্যকর সব কাহিনী।

পাপিয়ার গডফাদার-গডমাদার কারা?
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

১৫ দিনের পুলিশি রিমাণ্ডের প্রথমদিনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন যুব মহিলা লীগের নরসিংদী জেলা কমিটির বহিস্কৃত সাধারণ শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। তাতে ওঠে এসেছে তার গডফাদার-গডমাদারদের তথ্য। তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়েই বেপরোয়া হয়ে ওঠেন পাপিয়া। বিস্তার ঘটান অপরাধ জগতের। আর তার এ কাজে সহযোগিতা করেন তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন ওরফে মতি সুমন।     

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষস্থানীয় দুই নেত্রী এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এক সাংসদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন শামীমা নূর ওরফে পাপিয়া। ওই তিনজনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার।

বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক ও পাপিয়ার বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা  মো. কায়কোবাদ কাজী গণমাধ্যমকে বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়ার অপরাধজগৎ সম্পর্কে চমকপ্রদ তথ্য বেরিয়ে আসছে। মূলত যুব মহিলা লীগের শীর্ষস্থানীয় দুই নেত্রী ও ঢাকার একজন সাবেক নারী সাংসদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে  থেকে মাদক ব্যবসা, অনৈতিক কর্মকা- ও চাঁদাবাজি করতেন।
এছাড়া চাকরি  দেয়ার কথা বলে কিংবা বিদেশে পাঠানোর নামে অনেকের কাছ থেকে তিনি বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

এই তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, নরসিংদীর এক ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে পাপিয়া তাঁর কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেন। শেষ পর্যন্ত বিদেশে পাঠাতে না পারায় ওই ব্যক্তি টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়া হয়। ওই ব্যক্তি থানায় মামলা করতে এসেছিলেন। তাকে নরসিংদীতে মামলা করার পরামর্শ দেয়া হয়।

র‌্যাব জানায়, ২২ ফেব্রুয়ারি আটক করার সময় পাপিয়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলে ক্ষমতার দাপট দেখানোর চেষ্টা করেন।

পাপিয়া নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকা অবস্থায় বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় ২২শে ফেব্রুয়ারি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটক হন। ধরা পড়ার পর তাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। জাল টাকা সরবরাহ, মাদক ব্যবসা, অনৈতিক কাজ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে পাপিয়া, তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে মতি সুমনসহ চারজনকে গতকাল মঙ্গলবার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে রাজধানীর বিমানবন্দর থানার পুলিশ।

বারবার ধর্ষণের জন্য ভিডিও ধারণ করত ডাক্তার আমিনুল!
                                  

নিজামউদ্দিন আহমেদঃ

কথায় আছে ‘বেড়ায় যদি ক্ষেত খায় তাহলে ক্ষেত ঠেকাবে কে?’ মানুষ জীবন-মরণ সমস্যা নিয়ে ছোটেন ডাক্তারের কাছে। ডাক্তাররা তার মেধা, শিক্ষা ও জ্ঞান দিয়ে রোগীকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করেন। এজন্য তাদের বলা হয় মানবতার সেবক।


কিন্তু হাল আমলে এসে কি সেই চিত্র ডাক্তারেদের মাঝে দেখা যাচ্ছে? তারা মানবতা কথাটা উল্টে রেখে কিছু ডাক্তার এমন কুর্কীতি করে চলেছেন তাতে আর কিছু দিন পর মানুষ ডাক্তারের কাছে যেতে ভয় পাবে। তার চেয়ে রোগব্যাধিতে ধুঁকে মরাকে শ্রেয় মনে করবে মানুষ।


সম্প্রতি ডাক্তার সমাজে এমনই কলঙ্ক লেপে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের রেজিস্টার আমিনুল ইসলাম। তিনি জেনারেল সার্জন ও প্লাস্টিক সার্জন এবং বার্ন বিশেষজ্ঞ। ৩০০ শয্যা হাসপাতালের পাশে একাধিক প্রাইভেট ডায়াগনষ্টিক এন্ড কনসালস্টেশন সেন্টারেও রোগী দেখেন।


ক্যান্সারে আক্রান্ত এক রোগীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে সেটা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করে বারবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে নানা কুকর্মের জন্য শিরোনাম হওয়া এই কুখ্যাত ডাক্তারের বিরুদ্ধে।


অভিযোগকারী নারী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। তিনি ফতুল্লার বাসিন্দা। ওই নারীর মামলার প্রেক্ষিতে আদালত পুলিশ ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (পিবিআই) কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।  

ডাক্তার আমিনুলের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এই নারীই প্রথম এনেছেন এমন নয়। এরআগেও বহুবার তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় একই রকম অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু পার পেয়ে যাওয়ায় এই আমিনুল এখন হয়ে উঠেছে নারী রোগীদের জন্য এক মূর্তিমান আতঙ্ক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালেও ১৪ জুন বন্দরের এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। সেই ঘটনা তিনি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ধর্ষিতার পরিবারকে টাকা দিয়ে সকলের মুখ বন্ধ করে দেন।


কিন্তু আমিনুলের যৌন লালসা দিন দিন চরম আকার ধারণ করে। ২০১৮ সালের ২২ নভেম্বর আবারো একজন সহযোগীকে নিয়ে হারপিক সেবন করা রোগী সহ আরো দুজন মেয়েকে তার যৌন লালসা মেটানোর জন্য এক কক্ষে নিয়ে যান।


সর্বশেষ গত বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিচারক মোহাম্মদ শাহীন উদ্দীনের আদালতে ফতুল্লার অন্তসত্ত্বা নারী বাদী হয়ে ডাক্তার আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে।


চলতি মাসে আমিনুলের বিরুদ্ধে যে ধর্ষণ মামলা হয়েছে সেই মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ তাঁর বাদী থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত।

 


২০১৭ সালের ৩১ জুলাই তিনি থাইরোয়েড রোগের চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আমিনুল ইসলামের খানপুরের নিজস্ব চেম্বার (গ্যাস্ট্রোলিভ ডায়াগোনস্টিক এন্ড কনসালস্টেশন সেন্টার) এ শরণাপন্ন হন।


পরবর্তীতে ওই বছরের ২০ আগস্ট বাদী আবারো আমিনুল ইসলামের চেম্বারে গেলে বাদীকে কিছু টেস্ট করতে হবে বলে বেডে শুতে বলেন। বাদী আসামীর সরল কথায় শুয়ে পড়েন। ইমার্জেন্সি ইনজেকশন নিতে হবে বলে ডাক্তার আমিনুল ইসলাম বাদীকে ইনজেকশন দিয়ে তার শরীর অবশ করে দেন।

ইনজেকশন দেয়ার পর বাদী শরীরের কোন অংশই নড়াচড়া করতে পারেনি। বাদীকে একা পেয়ে আমিনুল ধর্ষণ করেন। বাদী বুজতে পারলেও নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি। ধর্ষণের ৩ ঘন্টা পর বাদী ঘুমিয়ে পড়েন এবং ঘুম থেকে জেগে চিৎকার করলে তাকে জানায় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করেছে ও বাড়াবাড়ি করলে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করে।


প্রতি সপ্তাহে আমিনুলের কাছে আসতে হবে এই ভয় দেখিয়ে তাকে চেম্বার থেকে বের করে দেয়। বাদী বিবাহিত নারী এবং আত্মসম্মানের ভয়ে স্বামীর কাছে ঘটনাটি লুকিয়ে রাখে। কিন্তু এই ঘটনার পর আমিনুল ইসলাম বাদীকে মোবাইল ফোনে ভয় দেখাতে থাকে।


পরবর্তীতে নারীর স্বামীর কাছে পিয়ন দিয়ে খবর পাঠায় রোগীকে কিছু টেষ্ট করাতে হবে। বাদী যাওয়ায় অসম্মতি প্রকাশ করলেও তার স্বামী তার বোন ও তার মাকে সাথে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে বলেন। বাদীর বোনকে সাথে নিয়ে ওই ডাক্তারের চেম্বারে গেলে বাদীর বোন বের করে দিয়ে চেম্বারের দরজা লাগিয়ে দেন এবং জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন।


বাদী সে সময় চিৎকার দিলে সেখানে উপস্থিত কিছু মানুষ তাকে সেই অবস্থা থেকে উদ্ধার করে তার বাসায় নিয়ে আসে। এই ঘটনার ২-৩দিন পর বাদীর স্বামী এসকল ঘটনা সম্পর্কে জেনে বাদীকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।

 


 অপরদিকে ওই সময়ে নারী বুঝতে পারেন তিনি অন্তঃসত্ত্বা এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ। সন্তানসম্ভবা ও শারীরিক ভাবে অসুস্থ হওয়ায় তার মামলা করতে দেরী করেছেন।


এদিকে জানা গেছে, আমিনুলের এই কুকর্মের কথা এতোদিন নীরবে সহ্য করে আসছিলেন তার স্ত্রী (সেবিকা) শিপন। আমিনুলের বিরুদ্ধে সদ্য যে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সেই মামলার অন্যতম সাক্ষিও তিনি।


অনেকে ভাবেন হিস্র ও ভয়ংকর আমিনুলের থাবার ভেতর পরতে পারেন তার স্ত্রীও। সূত্র জানিয়েছে, শিকার ধরতে আমিনুলের পাঠানো ভিডিওই কাল হয়ে উঠেছে তার জন্য। এবার তার নিস্তার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধর্ষণের অভিযোগ কিংবা ঘটনা জানাজানির পরপরই আপোষ মিমাংসার প্রস্তাব দিয়ে দফারফা করার চেষ্টা চালায় কুখ্যাত ডাক্তার আমিনুল। ফতুল্লার ওই নারী মামলা করার আগে তাকে নিয়েও এমন আপোষনামা সাজিয়ে ধর্ষণের ঘটনা চাপা দিতে চেয়েছিলো আমিনুল।


‘আইন সয়তা কেন্দ্র (আসক) ফাউন্ডেশন নারায়ণগঞ্জে প্রথম ওই নারীকে ডেকে আপোষনামার মাধ্যমে মিমাংসার চেষ্টা চলে। ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার ঘটনাটিকে উভয়পক্ষের মধ্যে ক্রুটি বিচ্যুতি আর ভুল বুঝাবুঝি হিসেবে উল্লেখ করা হয় আপোষ নামায়।


আর ধর্ষণের ঘটনাটি সামান্য আলাপ আলোচনায় সমাধান হবে বলে মত দেয়া হয়। ওই অফিসের কর্মকর্তা হাইউল ইসলাম হাবিবের মধ্যস্থতায় আপোষনামায় কয়েকজন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে অঙ্গীকার করানো হয়, ধর্ষণের অভিযোগ করা কিংবা ধর্ষক কেউই কারো বিরুদ্ধে কোন আদালত, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, মানবাধিকার সংস্থা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম তথা অন্য কোথাও কোন অভিযোগ করবেনা, মানহানির চেষ্টাও করবেনা।


 কিন্তু নারীলিপ্সু আমিনুল এরপরেও থেমে থাকেনি। ওই আপোষ নামায় ইমতিয়াজ আহমেদ, মো.নুরুল ইসলাম, হাবিব প্রধানসহ অন্য এক নারীর স্বাক্ষর করানো হয়।   

 


দুধর্ষ এই ডাক্তারের ব্যাপাওে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু জাহেরের কাছে মুঠোফোনে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ডা. আমিনুল ইসলামের বিষয়ে কিছু জানতে চাইলে তাকেই প্রশ্ন করেন। তার সম্পর্কে আমি কিছু জানি না। ৩০০ শয্যা হাসপাতালের এই ডাক্তারের উপর ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি  রাগান্বিত হয়ে মুঠোফোন কেটে দেন।


তবে বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক ডা. দেবাশীষ সাহা ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা ডা.আমিনুলের বিষয়ে বলেন, আমরা এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। পিবিআই এই বিষয়ে তদন্ত করছে। আমরা নিজেরাও তদন্ত করছি।


পিবিআইয়ের তদন্তে এই বিষয় প্রমাণিত হয়ে গেলে এবং আমাদের তদন্তেও একই বিষয় উঠে আসলে বিএমএ’র পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করা হবে এবং সেই সাথে বিএমডিসির কাছে (বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল) তার চিকিৎসকের সনদ বাতিলের জন্য আবেদন করব। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা প্রমাণিত হলে তার উপর সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।


এদিকে ফতুল্লার ওই নারীর অভিযোগ অনুসারে গেষ্টোলিভ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ বলেন, ‘এই ধরণের কোন ঘটনা এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘটেনি। একজন ডাক্তারের জন্য একজন করে এ্যাসিস্ট্যান্ট থাকে। এছাড়া চেম্বারের বাইরে অনেক রোগীও থাকে। এই ধরণের ঘটনা ঘটলে ওই সময় অন্্য রোগীরা ডাক্তারকে ছেড়ে দিত না।’


বারবার ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা ডাক্তার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘একজন ডাক্তারের কাছে সব রোগীই বয়স অনুসারে কেউ মা, কেউ মেয়ে, কেউ বাবা, কেউ সন্তানের মতো। গত ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে ওই রোগীনি আদালতে আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।


এ ধরণের কোন ঘটনা চেম্বারে ঘটার কোন সুযোগ নেই। ওই রোগীনি আমার কাছে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েছে। কেন সে এমন অভিযোগ করলো সেই বলতে পারবে। আদালত থেকে তদন্ত দেওয়া হয়েছে সত্যটা বেরিয়ে আসবে।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ছে এইডস !
                                  

নিজস্ব প্রতিনিধি:

অপরিচ্ছন্ন, অজ্ঞতা ও অশিক্ষা, কু-শিক্ষার কারনে রোহিঙ্গারা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন প্রকার সংক্রামক রোগে। এর মধ্যে এইডস রোগ ছড়িয়ে পড়ছে আশংকাজনভাবে। উখিয়ার স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ দিনে ৩৫ হাজার কলেরা টিকা খাওয়ানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারী মাসে ৯ তারিখ পর্যন্ত এ কর্মসূচী অবহ্যত থাকবে। এছাড়া ডায়ারিয়া, চর্ম, যৌন রোগসহ নানা রোগে জর্জরিত এখানকার বাসিন্দারা। ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের মধ্যে এই সংখ্যা ছিল ৮৫ জন। বর্তমানে এইডস রোগীর সংখ্যা ৩১৯ জনে দাড়িয়েছে। সাম্প্রতি গণ্যমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গারা আসার মাসখানেক পরে শারীরিক পরীক্ষায় দেখা যায় ৮৫ জনের শরীরে এইচআইভির ভাইরাস। পরের বছর আগস্টে সেটি গিয়ে দাঁড়ায় ২৭৩ জনে। আর ২০১৯ সালের ৮ই মার্চে তা বেড়ে গিয়ে ৩১৯ জনে উন্নীত হয়। এরমধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন ২৭৭ জন। আর এই এইডস এ মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুসারে গত দুই মাসে কলেরার জীবণু পাওয়া গেছে ৩৫০ রোহিঙ্গার শরীরে। শতাধিক স্থানীয়দের শরীরে মিলেছে এই রোগের জীবানু। এছাড়াও তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় নানা ধরণের যৌন ও চর্ম রোগ। রোহিঙ্গার পাশাপাশি স্থানীয়রা ও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ।

কুতুপালং এলাকার হোপ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে এইচআইভি নিয়ে এসেছেন এক নারী। তিনি মিয়ানমারে ভান্তেদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তিনি এই রোগের কথা আগে থেকে জানতেন না। এরপর নানা শারীরিক সমস্যা নিয়ে বারবার হাসপাতালে আসতে শুরু করেন। পরে জানতে পরেন, সে এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এক নারী এনজিও কর্মীর সহযোগিতায় তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এই রোগের কারণে রীতিমতো একঘরে হয়ে পড়েছেন তিনি। কেউ তার সঙ্গে থাকতে চায় না। একসঙ্গে খেতে চায় না। তার পরিবারের লোকজন পর্যন্ত কথা বলেন না ঠিকমতো। এইচআইভি আক্রান্ত আরেকজন পুরুষ জানান, তিনি মালয়েশিয়াতে ছিলেন। সেখান থেকে নিয়ে এসেছেন এই রোগ। এইডস’এ আক্রান্ত হবার কারণেই তাকে মালয়েশিয়া থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। তিনি ধারণা করেন, মালয়েশিয়াতে অবৈধ মেলামেশার কারণেই এই রোগ হয়ে থাকতে পারে।

হোপ হাসপাতালের চিকিৎসক রেবেকা জাহান বলেন, এইচআইভি আক্রান্ত রোগীরা যেকোন রোগকেই সাধারণ রোগ ভেবে থাকেন। অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আসেননা। আর আসলেও চলেন না পরামর্শ মতো। এছাড়াও ক্যাম্পে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ যৌন জীবনে কোন ধরণের নিয়ম মেনে না চলা। তিনি বলেন, তাদের কবিরাজি ঔষুধ ও ঝাড় ফুকের ওপর প্রবল বিশ্বাস। অধিকাংশ রোগীই হাসপাতালে আসেন রোগ জটিল আকার ধারণ করার পর। তিনি বলেন, ক্যাম্প এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে কলেরা রোগীর সংখ্যা। এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রধান কারণ অসেচেতনতা। বিভিন্ন দাতাসংস্থাদের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে পানির ট্যাংক। তবে সুপেয় পানি পানে অনীহা রয়েছে তাদের। আর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় টয়লেট ব্যবহারের জন্যও।

ক্যাম্পের চিকিৎসক ড. ইব্রাহীম ইসলামও বলেন অসেচতনতার কথা। তিনি বলেন, একসঙ্গে গাদাগাদি করে থাকার কারণেও নানাবিদ রোগের বিস্তার হচ্ছে। ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন ধরণের যৌন রোগ। জানা যায়, ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। এই রোগটি মূলত অপরিচ্ছন্নতার কারণে হয়ে থাকে। অধিকাংশ সময়ই এসব রোগ নিয়ে আসতে চাননা তারা। ফলে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে রোগীর সংখ্যা।

উখিয়া উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: রমজান কুমার দে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের কারনে স্থানীয়রাও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হতে পারে। যেমন- বর্তমানে স্থানীয়দের কলেরার টিকা খাওয়ানো হচ্ছে। তিনি বলেন, যেকোন রোগে আক্রান্ত হলে সরাসরি হাসপাতারে এসে চিকিৎসকদের পরামর্শ মত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। এইডস্ একটি মারাত্বক ব্যাধি এই রোগটি রোহিঙ্গাদের থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রাও এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই যেকোন রোগকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে চিকিৎসকদের দারস্ত হওয়ার আহবান জানান তিনি।

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবদুল মতিন বলেন, রোহিঙ্গারা অধিকাংশই অশিক্ষিত। আর কোন ভালো পরামর্শই গ্রহণ করতে চায় না তারা। ফলে রোগ তাদের নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। আর এইডস মোকাবিলায় আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের দুটি ইউনিট সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। অবস্থা উদ্বেগজনক না হলেও তাদের অসেচতনায় রোগ ছড়াচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে কলেরার টিকা দেয়া হচ্ছে। কক্সবাজারের ৪ লাখ ৯২ হাজার জনগণ ও দেড় লাখ রোহিঙ্গা শিশুকে এই টিকা দেয়া হয়েছে।


   Page 1 of 3
     বিশেষ সংবাদ
হোসেনপুরকে মডেল পৌরসভা করতে চান মোবারিছ
.............................................................................................
ভ্রমণপিপাসুদের দুর্নিবার আকর্ষণ অলওয়েদার সড়কটি
.............................................................................................
অঢেল সম্পদের মালিক ওসি প্রদীপ
.............................................................................................
সিনহা রাশেদ নিহতের ঘটনায় তদন্ত শুরু
.............................................................................................
রিজেন্টের মালিকের সাথে অন্তরঙ্গ ছবি, প্রভাবশালী অনেকেই বিব্রত
.............................................................................................
লিবিয়ার ভয়ঙ্কর মানবপাচারকারী সিলেটের রফিক
.............................................................................................
এবার এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের মা ও ছেলে করোনার কবলে
.............................................................................................
রাস্তায় চলাচলে চালু হচ্ছে ‘মুভমেন্ট পাস’
.............................................................................................
করোনা আতংকে রূপগঞ্জে ঝুঁকি নিয়ে মার্কেটে ভিড়
.............................................................................................
সিরাজ শাহ্’র আস্তানা থেকে মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ
.............................................................................................
দেশে করোনা জয় করে বাড়ি ফিরলেন ৮০ বছরের বৃদ্ধ
.............................................................................................
পাপিয়ার দুই মামলার তদন্তভার পেল র‌্যাব
.............................................................................................
পাপিয়ার ‘পাপের ডেরা’য় যাওয়াদের তালিকা
.............................................................................................
পাপিয়ার গডফাদার-গডমাদার কারা?
.............................................................................................
বারবার ধর্ষণের জন্য ভিডিও ধারণ করত ডাক্তার আমিনুল!
.............................................................................................
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ছড়িয়ে পড়ছে এইডস !
.............................................................................................
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের অপেক্ষায় যাত্রীরা
.............................................................................................
নারী ও মাদকের আখড়া ছিল সুবর্ণার ফ্ল্যাট!
.............................................................................................
রূপনগরের ঝিলপাড় বস্তিতে শোকের মাতম
.............................................................................................
গুজব শেয়ার দিলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে: র‌্যাব মহাপরিচালক
.............................................................................................
ছেলেধ’রা স*ন্দেহে নি’হত রেনুকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য!
.............................................................................................
পদ্মা সেতু তৈরিতে মানুষের মাথা লাগার গুজব কেন ছড়ালো ?
.............................................................................................
প্রেস ইউনিটি চট্টগ্রাম, মোমিন মেহেদীর অনুমোদন সভাপতি রতন সম্পাদক দীপু
.............................................................................................
শোক সংবাদ
.............................................................................................
নারায়ণগঞ্জ বেদান্ত আশ্রমের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উৎসব সম্পন্ন
.............................................................................................
হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ায়, কমেছে পেয়াঁজের দাম
.............................................................................................
আন্তজার্তিক শ্রমিক দিবস: মে দিবসের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
.............................................................................................
সিমার দেহ ব্যবসা ও মাদক সম্রাজ্যের অজানা তথ্য !
.............................................................................................
রূপগঞ্জে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বেকারীতে তৈরী হচ্ছে খাদ্য সামগ্রী
.............................................................................................
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
.............................................................................................
১৭জনের একটি সংগঠন মাত্র ৩ জনই বিলুপ্ত করার ক্ষমতা রাখে কিভাবে..? এমন গাঁজাখুরি আইন আবদুল্লাহ কোথায় পেল..?
.............................................................................................
যত্র তত্র রিক্সা ভ্যান টেম্পু স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ নেই ॥
.............................................................................................
জেলা বিএনপির নেতৃত্বে আসছে নতুন মুখ
.............................................................................................
সাদিপুর ইউপি নির্বাচনে ৪,৫,৬ নং ওয়ার্ডে পুনরায় ভোট গ্রহণের আবেদন পরাজিত প্রার্থী ডাঃ অজুফার
.............................................................................................
নাঃগঞ্জে জমি বিক্রির টাকা ফেরত চাওয়ায় ছোটভাইকে নির্যাতন করেছে মাদকাসক্ত বড়ভাই-ভাতিজাসহ ভাড়াটে গুন্ডারা
.............................................................................................
পহেলা বৈশাখে ৪ টার পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ
.............................................................................................
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ধুমপান নিষিদ্ধ
.............................................................................................
৩০ এপ্রিলের মধ্যে সিম নিবন্ধন না করলে সংযোগ বন্ধ
.............................................................................................
বাড়ি ফিরলো জোহা, হাজির হয়নি সংবাদ সম্মেলনে
.............................................................................................
বাবার কবরের পাশে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন দিতি
.............................................................................................
হজের নিবন্ধন ২৩ মার্চ থেকে ৩০ মে পর্যন্ত
.............................................................................................
না ফেরার দেশে চলে গেলেন চিত্রনায়িকা দিতি
.............................................................................................
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন চালুর উদ্বোধন আজ
.............................................................................................
গাজীপুরে টায়ার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু। র্বাতা সম্পাদক আবু ইউসুফ আলী মন্ডল, ফোন ০১৬১৮৮৬৮৬৮২

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, রেজিস্ট্রেশন নং 134 / নিবন্ধন নং 69 মোবাইল : 01731190131, 01930226862, E-mail : mannannews0@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- notunbazar / সম্পাদক dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop