| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
আল্লাহর পছন্দনীয় একটি সহজ আমল

মুসাফাহা অর্থ করমর্দন, হাতে হাত মেলানো। আগন্তুক অথবা সাক্ষাতকারীর হাত ধরে তাকে অভিনন্দন জানানোর নাম মুসাফাহা।

 


এটা সালামের পূর্ণতা সাধন করে। কারও সাক্ষাত হলে মুখে সালাম আদান-প্রদান করে হাতে হাত মিলানো মুসলিম ঐতিহ্য ও সামাজিকতার অংশ। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত। সাহাবাদের রীতি-রেওয়াজ। এ বিষয়ে হজরত কাতাদাহ বলেন, আমি হজরত আনাস (রা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, সাহাবাদের আমলে কি তাদের মধ্যে মুসাফাহার প্রচলন ছিল? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ। -সহিহ বোখারি : ৬২৬৩

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন, রোগী দেখতে যাওয়ার কাজ পূর্ণ হয় রোগীর কপালে বা হাতে হাত রেখে এ কথা জিজ্ঞাসা করলে, আপনার অবস্থা কেমন? আর অভিনন্দন জানানো পূর্ণ হয় মুসাফাহা করলে। -মিশকাত : ৪৬৮১

মুসলমানদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্প্রীতির সুদৃঢ় বন্ধন আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয়। মানুষের বন্ধন সুদৃঢ় হয় সুন্দর আচরণের মাধ্যমে। তাই সুন্দর আচার-ব্যবহার প্রকাশের প্রতিটি ধরণ আল্লাহর কাছে অনেক পছন্দনীয়। কারও সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সালাম আদান-প্রদানে সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রতি হাত বাড়িয়ে দিলে ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও বিনয় প্রকাশ পায়। পরস্পরে এমন ভালোবাসার দৃশ্য আল্লাহতায়ালার কাছে অনেক পছন্দনীয়। আল্লাহ খুশি হয়ে পুরষ্কার প্রদান করেন। কাজ যদিও ছোট কিন্তু পুরষ্কার দিচ্ছেন আল্লাহ। তাই কাজের বিবেচনায় পুরষ্কার ছোট হবে না। বরং দাতার বিবেচনায় তা বড়ই হবে। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, দুজন মুসলিম যদি সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করে তবে তারা আলাদা হওয়ার আগেই আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন। -সুনানে আবু দাউদ : ৫২১৪

তবে আবু দাউদের ৫২১৩ নং হাদিসে মুসাফাহা দ্বারা মাগফিরাত ও ক্ষমা লাভের জন্য মুসাফাহা করার সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। হাদিসের এ নির্দেশনার কারণে আলেমরা বলেন, মুসাফাহা করার সময় এভাবে দোয়া করা সুন্নত- ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম।

হজরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এক মুমিন যখন আরেক মুমিনের সঙ্গে দেখা করতে যেয়ে সালাম দেয় এবং তার হাতে ধরে মুসাফাহা করে তখন তার গুনাহগুলো সেভাবে ঝরে পড়ে যেভাবে শীতকালে গাছের পাতাগুলো ঝরেপড়ে। -আওসাত লিত তাবারানি : ২৪৫

সালামের পর দুই হাতে করমর্দন করে অভিনন্দন জানানো মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামি রীতি। সহিহ বোখারির বর্ণনা মতে, হাম্মাদ বিন যায়দ আবদুল্লাহ ইবনে মোবারকের সঙ্গে মুসাফাহা করেছিলেন দুহাতে।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে তাশাহহুদ শেখান তখন তার হাত ছিল রাসূলের দুই হাতের মাঝে। এগুলো থেকে বুঝা যায় মুসাফাহা দুই হাতে হবে। মুসাফাহার পর হাত নিয়ে বুকে রাখার কোন দলিল হাদিসে পাওয়া যায় না। তাই তা পরিত্যাজ্য।

সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে, আচার ও আচরণে বিজাতীয় রীতি রেওয়াজ অনুসরণ করাকে ইসলাম কঠোরভাবে ঘৃণা করে। তাই করমর্দনের এমন কোনো রীতি বা পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিৎ হবে না- যা অতীতের কোনো অলি-আউলিয়া ও আলেম-উলামাদের থেকে আমরা পরম্পরায় পাই নাই বা দেখি নাই।

কাজের ব্যস্ততার কারণে বা অন্য কোনো কারণে যদি মুসাফাহা কষ্টের কারণ হয়- তবে তা বর্জন করাই শ্রেয়। কেননা, মানুষকে কষ্ট দেওয়া হারাম। সুন্নত আদায় করতে যেয়ে হারামে লিপ্ত হওয়ার অনুমতি নেই। পরপুরুষের সঙ্গে পরনারীর করমর্দন হারাম। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কারও মাথায় লোহার সূচ বিদ্ধ করা- পরনারী স্পর্শ করার চেয়ে অনেক শ্রেয়। কানজুল উম্মাল : ১৩০৬৫

সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা সুন্নত। বিদায়ের সময়ও মুসাফাহা হতে পারে। মুসাফাহা সালামের পরিপূরক। তাই মুসাফাহা করবে সালামের পর। উভয় হাতে মুসাফাহা করা সুন্নত। এক হাতে মুসাফাহা করা কিংবা হ্যান্ডশেক করা সুন্নত পরিপন্থী ও বিজাতীয় অনুকরণ। তাই এটি পরিত্যাজ্য। তবে অনন্যোপায় অবস্থায় এক হাতে করা যেতে পারে।

মুসাফাহা খালি হাতে করা সুন্নত। মুসাফাহার পর হাতে চুমু খাওয়া, হাত বুকে লাগানো বেদয়াত। তাই এ জাতীয় কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। কোনো মজলিশ বা বৈঠকে যেয়ে সবার সঙ্গে একাধারে মুসাফাহা করে মজলিসের বিঘ্নতা ঘটানো অনুচিত। একজনের সঙ্গে কিংবা যার উদ্দেশে গেছে তার সঙ্গে মুসাফাহা করেই ক্ষান্ত হবে। মুসাফাহা করতে গিয়ে কাউকে কষ্ট দেওয়া অনুচিত; কারণ মুসাফাহা করা সুন্নত আর কাউকে কষ্ট দেওয়া হারাম। তাই যেসব ক্ষেত্রে মুসাফাহা করতে গেলে যার সঙ্গে মুসাফাহা করা হবে সে বা অন্য কেউ কষ্টের শিকার হয়, সেসব ক্ষেত্রে মুসাফাহা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেসব অবস্থায় সালাম দেওয়া নিষেধ, সেসব অবস্থায় মুসাফাহা করাও নিষেধ। মুসাফাহার আরেকটি আদব হলো, প্রথমে হাত না সরানো।

আল্লাহর পছন্দনীয় একটি সহজ আমল
                                  

মুসাফাহা অর্থ করমর্দন, হাতে হাত মেলানো। আগন্তুক অথবা সাক্ষাতকারীর হাত ধরে তাকে অভিনন্দন জানানোর নাম মুসাফাহা।

 


এটা সালামের পূর্ণতা সাধন করে। কারও সাক্ষাত হলে মুখে সালাম আদান-প্রদান করে হাতে হাত মিলানো মুসলিম ঐতিহ্য ও সামাজিকতার অংশ। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত। সাহাবাদের রীতি-রেওয়াজ। এ বিষয়ে হজরত কাতাদাহ বলেন, আমি হজরত আনাস (রা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, সাহাবাদের আমলে কি তাদের মধ্যে মুসাফাহার প্রচলন ছিল? উত্তরে তিনি বললেন, হ্যাঁ। -সহিহ বোখারি : ৬২৬৩

নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেছেন, রোগী দেখতে যাওয়ার কাজ পূর্ণ হয় রোগীর কপালে বা হাতে হাত রেখে এ কথা জিজ্ঞাসা করলে, আপনার অবস্থা কেমন? আর অভিনন্দন জানানো পূর্ণ হয় মুসাফাহা করলে। -মিশকাত : ৪৬৮১

মুসলমানদের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্প্রীতির সুদৃঢ় বন্ধন আল্লাহর কাছে অনেক প্রিয়। মানুষের বন্ধন সুদৃঢ় হয় সুন্দর আচরণের মাধ্যমে। তাই সুন্দর আচার-ব্যবহার প্রকাশের প্রতিটি ধরণ আল্লাহর কাছে অনেক পছন্দনীয়। কারও সঙ্গে সাক্ষাতের সময় সালাম আদান-প্রদানে সঙ্গে সঙ্গেই তার প্রতি হাত বাড়িয়ে দিলে ভালোবাসা, আন্তরিকতা ও বিনয় প্রকাশ পায়। পরস্পরে এমন ভালোবাসার দৃশ্য আল্লাহতায়ালার কাছে অনেক পছন্দনীয়। আল্লাহ খুশি হয়ে পুরষ্কার প্রদান করেন। কাজ যদিও ছোট কিন্তু পুরষ্কার দিচ্ছেন আল্লাহ। তাই কাজের বিবেচনায় পুরষ্কার ছোট হবে না। বরং দাতার বিবেচনায় তা বড়ই হবে। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, দুজন মুসলিম যদি সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করে তবে তারা আলাদা হওয়ার আগেই আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন। -সুনানে আবু দাউদ : ৫২১৪

তবে আবু দাউদের ৫২১৩ নং হাদিসে মুসাফাহা দ্বারা মাগফিরাত ও ক্ষমা লাভের জন্য মুসাফাহা করার সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা হয়েছে। হাদিসের এ নির্দেশনার কারণে আলেমরা বলেন, মুসাফাহা করার সময় এভাবে দোয়া করা সুন্নত- ইয়াগফিরুল্লাহু লানা ওয়া লাকুম।

হজরত হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, এক মুমিন যখন আরেক মুমিনের সঙ্গে দেখা করতে যেয়ে সালাম দেয় এবং তার হাতে ধরে মুসাফাহা করে তখন তার গুনাহগুলো সেভাবে ঝরে পড়ে যেভাবে শীতকালে গাছের পাতাগুলো ঝরেপড়ে। -আওসাত লিত তাবারানি : ২৪৫

সালামের পর দুই হাতে করমর্দন করে অভিনন্দন জানানো মুসলিম ঐতিহ্য ও ইসলামি রীতি। সহিহ বোখারির বর্ণনা মতে, হাম্মাদ বিন যায়দ আবদুল্লাহ ইবনে মোবারকের সঙ্গে মুসাফাহা করেছিলেন দুহাতে।

হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদকে তাশাহহুদ শেখান তখন তার হাত ছিল রাসূলের দুই হাতের মাঝে। এগুলো থেকে বুঝা যায় মুসাফাহা দুই হাতে হবে। মুসাফাহার পর হাত নিয়ে বুকে রাখার কোন দলিল হাদিসে পাওয়া যায় না। তাই তা পরিত্যাজ্য।

সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে, আচার ও আচরণে বিজাতীয় রীতি রেওয়াজ অনুসরণ করাকে ইসলাম কঠোরভাবে ঘৃণা করে। তাই করমর্দনের এমন কোনো রীতি বা পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিৎ হবে না- যা অতীতের কোনো অলি-আউলিয়া ও আলেম-উলামাদের থেকে আমরা পরম্পরায় পাই নাই বা দেখি নাই।

কাজের ব্যস্ততার কারণে বা অন্য কোনো কারণে যদি মুসাফাহা কষ্টের কারণ হয়- তবে তা বর্জন করাই শ্রেয়। কেননা, মানুষকে কষ্ট দেওয়া হারাম। সুন্নত আদায় করতে যেয়ে হারামে লিপ্ত হওয়ার অনুমতি নেই। পরপুরুষের সঙ্গে পরনারীর করমর্দন হারাম। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমাদের কারও মাথায় লোহার সূচ বিদ্ধ করা- পরনারী স্পর্শ করার চেয়ে অনেক শ্রেয়। কানজুল উম্মাল : ১৩০৬৫

সাক্ষাতের সময় মুসাফাহা করা সুন্নত। বিদায়ের সময়ও মুসাফাহা হতে পারে। মুসাফাহা সালামের পরিপূরক। তাই মুসাফাহা করবে সালামের পর। উভয় হাতে মুসাফাহা করা সুন্নত। এক হাতে মুসাফাহা করা কিংবা হ্যান্ডশেক করা সুন্নত পরিপন্থী ও বিজাতীয় অনুকরণ। তাই এটি পরিত্যাজ্য। তবে অনন্যোপায় অবস্থায় এক হাতে করা যেতে পারে।

মুসাফাহা খালি হাতে করা সুন্নত। মুসাফাহার পর হাতে চুমু খাওয়া, হাত বুকে লাগানো বেদয়াত। তাই এ জাতীয় কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। কোনো মজলিশ বা বৈঠকে যেয়ে সবার সঙ্গে একাধারে মুসাফাহা করে মজলিসের বিঘ্নতা ঘটানো অনুচিত। একজনের সঙ্গে কিংবা যার উদ্দেশে গেছে তার সঙ্গে মুসাফাহা করেই ক্ষান্ত হবে। মুসাফাহা করতে গিয়ে কাউকে কষ্ট দেওয়া অনুচিত; কারণ মুসাফাহা করা সুন্নত আর কাউকে কষ্ট দেওয়া হারাম। তাই যেসব ক্ষেত্রে মুসাফাহা করতে গেলে যার সঙ্গে মুসাফাহা করা হবে সে বা অন্য কেউ কষ্টের শিকার হয়, সেসব ক্ষেত্রে মুসাফাহা থেকে বিরত থাকতে হবে। যেসব অবস্থায় সালাম দেওয়া নিষেধ, সেসব অবস্থায় মুসাফাহা করাও নিষেধ। মুসাফাহার আরেকটি আদব হলো, প্রথমে হাত না সরানো।

নখ বড় রাখা কি জায়েজ?
                                  

অনেককে হাতের নখ বড় রাখতে দেখা যায়। নখ বড় রাখার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের কি আলাদা বিধান রয়েছে? চলুন এসব বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।

 

   

হাত-পায়ের নখ কাটা প্রকৃতিগত সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। হাদিসে রাসূল (সা.) বলেছেন, ফিতরাত (নবীদের পন্থা) হলো পাঁচটি বিষয়: খৎনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা এবং গোঁফ খাটো করা। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ২৯২)

অন্য হাদিসে এসেছে, ফিতরাত দশটি: এর মধ্যে নখ কাটাও রয়েছে। এজন্য ইসলাম মানুষের শরীরের অবাঞ্ছিত লোম ও নখ ইত্যাদি বিনা ওজরে চল্লিশ দিন পর কাটাকে মাকরূহ তাহরিমি বা গুনাহর কাজ বলেছে।  

এ বিষয়ে সাহাবি আনাস (রা.) বলেন, গোঁফ ছোট রাখা, নখ কাঁটা, বগলের লোম উপড়িয়ে ফেলা ও নাভীর নিচের লোম মুণ্ডিয়ে ফেলার জন্য আমাদের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল; যেন আমরা এক্ষেত্রে চল্লিশ দিনের বেশি দেরি না করি। (মুসলিম, হাদিস: ২৫৮)

প্রখ্যাত হাদিসবিশারদ ইমাম নববী (রহ.) এ সংক্রান্ত হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘নখ কাটা সবার মতে সুন্নাত। এ ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের উভয় হাত-পা সমান পর্যায়ের। ’ (আলমাজমুউ: ১/৩৩৯)

নখ বড় হওয়ার দরুন কোনো কারণে যদি নখের গোড়ায় পানি না পৌঁছে, তাহলে অজু শুদ্ধ হয় না। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া, খণ্ড: ০১, পৃষ্ঠা: ২২)

এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, আবু ওয়াসিল বলেন, আমি আবু আইয়ুব (রা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলাম। মুসাফাহার সময় তিনি আমার নখ বড় দেখে বললেন, নবী (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ কেউ আসমানের খবর জিজ্ঞাসা করো, অথচ তার হাতের নখগুলো পাখির নখের মতো, যাতে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকে! (মুসনাদে আহমদ, হাদিস: ২৩০১১)

ভ্রমণ অবস্থায় সুন্নত নামাজের বিধান
                                  

যে ব্যক্তি ভ্রমণ বা সফর করে তাকে সফররত অবস্থায় মুসাফির বলে। আবার যখন নিজ বাড়ি বা বাসভবনে চলে আসে তখন শরিয়তের পরিভাষায় তাকে বলে মুকিম।

 

মুকিম অর্থ হলো- নিজ বাসস্থানে অবস্থানকারী।

কিছু কিছু মানুষের ধারণা- সফর অবস্থায় সুন্নত নামাজ পড়া যায় না। এ ধারণা সঠিক নয়।

হ্যাঁ, মুকিম অবস্থার চেয়ে সফর অবস্থায় সুন্নত নামাজের কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। তাই সফর অবস্থায় চলন্ত পথে, তাড়াহুড়োর সময় সুন্নত নামাজ ছেড়ে দেওয়া ভালো। কিন্তু সফরের শান্তিপূর্ণ অবস্থায় সুন্নত নামাজ পড়াই উত্তম। বিশেষত ফজরের সুন্নত সফর অবস্থায়ও অধিক গুরুত্ব রাখে। সুতরাং ‘সফর অবস্থায় সুন্নত নামাজ পড়া যাবে না’ ঢালাওভাবে এমন মনে করা ঠিক নয়।

কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়ে ‘শিশুপার্কের’ সাইনবোর্ড টাঙালেন কাদের মির্জা
                                  

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একটি আসবাব কারখানা ও স মিল গুঁড়িয়ে দিয়ে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। আজ শুক্রবার সকালে বসুরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া এলাকায় (সারের গুদাম) এ ঘটনা ঘটে। এতে ‘হুমায়ুন টিম্বার মার্সেন্ট অ্যান্ড স মিল’ নামের প্রতিষ্ঠানটির কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে দাবি মালিকপক্ষের।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় একাধিকবার ফোন দিলে ব্যস্ত পাওয়া যায়। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরে অন্য একটি নম্বর থেকে যোগাযোগ করা হলে ফোন ধরেন কাদের মির্জা। প্রথম আলোর প্রতিবেদকের পরিচয় পেয়েই তিনি ফোন কেটে দেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে কাদের মির্জার নেতৃত্বে তাঁর বেশ কিছু অনুসারী ও পৌরসভার কর্মী হুমায়ুন টিম্বার মার্সেন্ট অ্যান্ড স মিলে যায়। তাঁরা দুটি এক্সকাভেটর দিয়ে ভেতরের বিভিন্ন মালামাল গুঁড়িয়ে দেন। পরে মেয়রের অনুসারীরা সেখানে ‘শিশুপার্কের জন্য নির্ধারিত স্থান’ লেখাসংবলিত একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেন।

তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে ফোন করে ঘটনাটি অবহিত করেন এবং আইনগত সহায়তা চান। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন তাঁর সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি।
কারখানার মালিক ফিরোজ আলম

কারখানার মালিক ফিরোজ আলম অভিযোগ করেন, তাঁরা ১৯৯০ সাল থেকে করালিয়া মৌজার ডিএস ১৩৩ নম্বর খতিয়ানের ৫৫৮ নম্বর দাগের ১৭ শতাংশ জমির ক্রয়সূত্রে মালিক। জমি কেনার পর তাঁরা সেখানে ‘হুমায়ুন টিম্বার মার্সেন্ট অ্যান্ড স মিল’ প্রতিষ্ঠা করেন। সম্প্রতি বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আকস্মিকভাবে ওই জমি ‘খাস’ দাবি করেন এবং জমি থেকে তাঁদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

ফিরোজ আলম জানান, ওই আদেশের বিরুদ্ধে তাঁরা জেলা জজ আদালতে গত ২৫ মার্চ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে বিরোধীয় ভূমিতে বিবাদী পক্ষের প্রবেশে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে কাদের মির্জার নেতৃত্বে প্রায় ২০০ অনুসারী ও পৌরসভার এক্সকাভেটর মেশিন গিয়ে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানটি ভাঙচুর করে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তাঁরা প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান কাঠসহ অনেক মালামাল পৌরসভার গাড়ি বোঝাই করে নিয়ে যান।

ফিরোজ আলমের অভিযোগ, মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নেতৃত্বে চলা প্রায় তিন ঘণ্টার তাণ্ডবলীলায় তাঁর প্রতিষ্ঠানের কয়েক কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ঘটনার পর তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি), জেলা পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে ফোন করে ঘটনাটি অবহিত করেন এবং আইনগত সহায়তা চান। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন তাঁর সহযোগিতায় এগিয়ে আসেননি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ফোনে ঘটনাটি জানানোর পর তিনি পুলিশ পাঠিয়ে মেয়রকে আদালতের নিষেধাজ্ঞার বার্তাটি পৌঁছান। এরপর পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষটি থানায় কোনো অভিযোগ করেনি।

ফিরোজ আলমের বড় ভাই হুমায়ুন কবিরকে ২ সেপ্টেম্বর দেওয়া পৌরসভার চিঠিতে বলা হয়, ‘আপনি সরকারি খাস সম্পত্তির ওপর বিধিবহির্ভূতভাবে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। জনস্বার্থে উক্ত জায়গার ওপর বসুরহাট পৌরসভার শিশুপার্ক নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে আপনার বিধিবহির্ভূত স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য পুনর্নির্দেশ দেওয়া হলো।’ এর আগে গত ২২ মার্চ একই বিষয়ে আরেকটি নোটিশ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং স্থাপনা সরিয়ে না নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।

জায়গাটি খাস সম্পত্তি কি না, তা জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউল হক মীরকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান প্রথম আলোকে বলেন, বসুরহাটের ওই জায়গাটি খাস কি না, কাগজপত্র না দেখে বলা যাবে না। তবে কিছুদিন আগে পৌরসভা থেকে একটি শিশুপার্ক নির্মাণের প্রস্তাব তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছিল। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইউএনওকে ওই প্রস্তাবের চিঠিটি পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মেয়রের প্রস্তাবিত শিশুপার্কের স্থান কোনটি, তা তিনি এই মুহূর্তে বলতে পারছেন না।

আমার প্রিয় নদী
                                  

নদী বয়ে যায় বুকের ভেতর
নদী বয়ে যায় মনে
গ্রামের পাশেই বয়ে গেছে নদী
নেই দেখা তার সনে।

শাপলা-শালুক-ঝিনুক কুড়ানো
নদীটি আমার প্রিয়
নেই নদী আর আগের মতন
দিনে দিনে আজ ক্ষীয়।

শৈশবস্মৃতি জড়িয়ে তো আছে
খেলেছি ডুবসাঁতার
নদীর জলেই কত দাপাদাপি
হিসেব আছে কি তার?

নদী সে তো এক নারীর মতন
কাছে টানে এ আমাকে
কত দিন হয় দেখি না চোখে
কাছ থেকে আমি তাকে।

 

ঈদুল আজহার নামাজ পড়ার নিয়ম
                                  

ত্যাগ ও উৎসর্গের ঈদ হলো ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। প্রতিবছর জিলহজ মাসের ১০ তারিখ এই ঈদ পালিত হয়। সে হিসেবে বুধবার (২১ জুলাই) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন হবে।

তবে করোনা মহামারির কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে পালন করতে হচ্ছে ঈদ। ঈদের নামাজের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হয়েছে। ঈদগাহে ব্যাপক জনসমাগম করে ঈদের নামাজ না পড়ার আহ্বান জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

বছরে দুইবার ঈদের নামাজ পড়তে হয়। দীর্ঘসময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে অনেকেই ঈদের নামাজের নিয়মগুলো ভুলে যান। তাই মুসলিম উম্মাহর সুবিধার্থে ঈদের নামাজ পড়ার নিয়মগুলো তুলে ধরা হলো-
# ঈদের নামাজ ২ রাকাআত। যা আদায় করা ওয়াজিব এবং জামাতে আদায় করতে হয়।
# ঈদের ২ রাকাআত নামাজে অতিরিক্ত ৬ তাকবির দিতে হয়।
প্রথম রাকাআত: আল্লাহ তাআলার উদ্দেশে কিবলামুখী হয়ে ঈদুল আজহার ২ রাকাআত ওয়াজিব নামাজ ৬ তাকবিরের সাথে ইমামের পেছনে আদায় করছি বলে নিয়ত বাঁধতে হয়। প্রথমেই তাকবিরে তাহরিমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নিয়ত বাঁধবেন।
এরপর  পড়তে হবে, সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুকা ওয়া তাআলা ঝাদ্দুকা ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা।
তারপর ইমামের উচ্চস্বরে তাকবির বলার সঙ্গে সঙ্গে মুসল্লিরাও তাকবির বলবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবির বলার সময় উভয় হাত কান বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দেবেন। তৃতীয় তাকবিরের সময় উভয় হাত কান বরাবর উঠিয়ে না ছেড়ে হাত বাঁধবেন।
এরপর ইমাম সুরা ফাতিহা এবং অন্য সুরা মিলিয়ে রুকু-সিজদা করবেন; মুসল্লিরাও ইমামের সঙ্গ রুকু-সিজদা করবেন।
দ্বিতীয় রাকাআত: ইমাম দ্বিতীয় রাকাআতে সুরা ফাতিহা ও অন্য সুরা মেলানোর পর রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত ৩ তাকবির প্রথম রাকাআতের মতোই আদায় করবেন। এরপর রুকু-সিজদা করার পর অন্যান্য নামাজের মতোই সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করবেন।
এ নিয়মে ঈদুল ফিতরও আদায় করা হয়। উভয় ঈদের আগে-পরে কোনো নফল বা সুন্নত নামাজ নেই। এমনকি ঈদের নামাজের জন্য কোনো আজান ও ইকামাতেরও প্রয়োজন হয় না।
আজ ঈদ
                                  

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদ মানে আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধুদের মিলনমেলা, হৈ-হুল্লোড়, ঘুরে বেড়ানো, খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডা। এ উৎসবে মুসলমানরা ঈদগাহে কোলাকুলি ও করমর্দন করে থাকেন। এছাড়া সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভালোবাসার বন্ধনে সবাইকে নতুন করে আবদ্ধ করাও ঈদের অন্যতম অর্থ। ঈদ মানে ভোগান্তিকে সঙ্গী করে নাড়ির টানে গ্রামের বাড়িতে মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে একত্রিত হওয়া। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ঈদ আনন্দের সবকিছুতেই যেন ভাটা পড়েছে।করোনার দ্বিতীয় বছর অর্থাৎ এবারের ঈদেও নেই অনাবিল আনন্দের আবহ আর খুশির জোয়ার। অদৃশ্য এক ভাইরাসে পুরো বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। এক কথায় বলতে গেলে, এবারও ঈদ উৎসব আনন্দ-খুশির ডালা সাজিয়ে নয়, এসেছে শঙ্কা-অনিশ্চয়তার বার্তা নিয়ে।

শুক্রবার (১৪ মে) পবিত্র ঈদুল ফিতর। ৩০ দিন সিয়াম সাধনার পর দেশের মুসলমানরা এদিন ঈদ উদযাপন করবেন।

ঈদের নামাজ একটি বড় উৎসব। এদিন ছেলে, বুড়ো, পাড়া-প্রতিবেশী সবাই দল বেঁধে ঈদের নামাজ পড়তে ঈদগাহে যান। নামাজ শেষে একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময়, করমর্দন, কোলাকুলি করেন। সকল ভেদাভেদ ভুলে হাতে হাতে রাখার দৃঢ় প্রত্যয় নেন। কিন্তু করোনার স্বাস্থ্যবিধিতে এবারও তা হচ্ছে না। এবারের ঈদে নামাজ শেষে করা যাবে না চিরাচরিত কোলাকুলি, করমর্দন। উন্মুক্ত স্থানে জনসমাগম করা যাবে না। তাই ঈদের নামাজ পড়তে হবে মসজিদে মসজিদে।

সময় ভাগ করে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই নামাজ আদায় করতে হবে। যে এলাকায় করোনার প্রাদুর্ভাব নেই সেই এলাকায় হয়তো স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে ঈদগাহে জামাত হতে পারে। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা মেনে করা যাবে না কোলাকুলি, করমর্দন।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় প্রথম রমজান থেকে সরকারি বিধিনিষেধ চলছে। যা ঈদের পরেও বহাল থাকছে বলে আভাস দিয়েছে সরকার। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার ঈদযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। বন্ধ রয়েছে দূরপাল্লার সব ধরনের গণপরিবহন। তাই নাড়ির টানে গ্রামে গিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে একত্র হওয়াতে ছেদ পড়েছে। যদিও সরকারি বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে নজরবিহীন ভোগান্তিকে সঙ্গী করে গ্রামের বাড়িতে গেছেন অনেক মানুষ। তবে অনেকেই কর্মস্থলে থাকছেন।


ঈদের নামাজের নিয়ম
                                  

আবু ইউসুফ

বছর ঘুরে এল পবিত্র ঈদুল ফিতর। মহান আল্লাহ মুসলমানদের জন্য দুটি দিনকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারিত করেছেন। এ দিনগুলোতে ঈদের নামাজ পড়া ওয়াজিব। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন, ‘অতএব তোমার রবের উদ্দেশ্যেই নামাজ পড় এবং নহর করো।’ (সুরা আল কাউছার, আয়াত : ২)

ঈদের নামাজের পদ্ধতি স্বাভাবিক নামাজের মতো নয়। যেমন—ঈদের দুই রাকাত নামাজের কোনো আজান, ইকামত নেই। এতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির রয়েছে। সেগুলো আদায়ের নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। নিয়মগুলো হলো:

ঈদের নামাজ আদায় পদ্ধতি

১।  প্রথমত স্বাভাবিক নামাজের মতোই তাকবিরে তাহরিমা বলে হাত বাঁধতে হবে। এরপর ছানা পাঠ করতে হবে।

২। তারপর অতিরিক্ত তিনটি তাকবির বলতে হবে। প্রথম দুই তাকবিরে হাত তুলে ছেড়ে দিতে হবে এবং তৃতীয় তাকবিরে হাত বাঁধতে হবে।

৩। এরপর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পড়ার পর ইমাম সুরা ফাতিহা পড়ে এর সঙ্গে অন্য একটি সুরা মেলাবেন।

৪। স্বাভাবিক নামাজের মতোই রুকু-সিজদা করে প্রথম রাকাত শেষ করতে হবে।

৫। দ্বিতীয় রাকাতে ইমাম কিরাত পড়া শেষে রুকুতে যাওয়ার আগে অতিরিক্ত তিন তাকবির দেবেন। প্রতি তাকবিরের সঙ্গে হাত ওঠাবেন এবং ছেড়ে দেবেন। তারপর চতুর্থ তাকবির বলে রুকুতে চলে যাবেন।

৬। এরপর স্বাভাবিক নামাজের মতোই নামাজ শেষ করবেন।

৭। নামাজ শেষে ইমাম মিম্বারে উঠবেন। দুটি খুতবা দেবেন। এ সময় ইমামের খুতবা মনোযোগসহকারে শুনতে হবে। কোনো ধরনের কথা বলা বা অন্য কাজে ব্যস্ত হওয়া যাবে না।

৮।  খুতবা শেষে সবাই ঈদগাহ ত্যাগ করবেন।

কোরআনে হাফেজদের ভাড়া নেয় না এই গাড়ি!
                                  

`কোরআনে হাফেজদের যাতায়তের জন্য গাড়ী ভাড়া ফ্রি`। বাসের সামনে টাঙ্গানো এমনই একটি পোস্টার। ঢাকা-ফোনী রুটের ওই বাসের নাম `নিউ যাত্রীসেবা`।শনিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে ওই বাসের একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ক্যাপশনে লিখেন ‘Love and respect (ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা)।

ঢাকা মেট্রো-ব, ১৪-৮৩৩৯ নম্বরের বাসটির ছবি দেখে ধারণা করা যাচ্ছে, বাসটির রুট পারমিট নেওয়া হয়েছে ঢাকা থেকে ফেনী পর্যন্ত। এই বাসে হাফেজে কুরআনদের থেকে কোনো ভাড়া নেয়া হয় না।

সাইফুদ্দিন নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে ছবিটি পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়। সাত ঘন্টা আগে শেয়ার করা ছবিটিতে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লাইক পড়েছে প্রায় ৬৯ হাজার। আর পোস্টটি শেয়ার হয়েছে ৪৫১ বার। মন্তব্য পড়েছে প্রায় ১৫শ`।

পবিত্র আশুরার তাৎপর্য
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

মহররম হিজরি বছরের প্রথম মাস। এই মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। বছরের প্রথম মাস আশুরা অত্যন্ত সম্মানিত; এর রয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য। অনুরূপ ১০ মহররম বা আশুরার রয়েছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস।

সৃষ্টিকুলের প্রাথমিক বিভাজন-প্রক্রিয়ার সূচনা হয় আশুরায়। হজরত আদম আওয়াসাল্লাম এর সৃষ্টি, স্থিতি, উত্থান ও পৃথিবীতে অবতরণ সব ঘটনাই ঘটেছিল আশুরায়।
হজরত নুহ আয়াসাল্লাম এর নৌ যাত্রা আরম্ভ এবং বন্যা-প্লাবনের সমাপ্তি এই আশুরাতেই ঘটেছিল।

হজরত মুসা আয়াসাল্লাম এর  সমুদ্রপথে রওনা হওয়ার দিনটিও ছিল আশুরা। এরই ধারাবাহিকতায় রাসুল ই পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরায় কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করেছেন। আশুরা এলে রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনয়ে বিনম্র থাকতেন এবং রোজা পালন করতেন। (তাফসিরে তাবারি, মুহাম্মাদ ইবনে জারির)।

আশুরা শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে এসেছে। এর অর্থ ১০। আর আশুরা মানে দশম। ইসলামি পরিভাষায় মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলে। সৃষ্টির শুরু থেকে মহররমের ১০ তারিখে তথা আশুরার দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ফলে আশুরার মর্যাদা ও মাহাত্ম্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে আমাদের প্রিয় নবী রাসুল ই পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রাঃ) এর শাহাদাত এই দিনকে মুসলিম বিশ্বে সর্বাধিক স্মরণীয় ও বরণীয় করে রেখেছে।

আশুরার রোজা সব নবীর আমলেই ছিল। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় থাকতেও আশুরার রোজা পালন করতেন। হিজরতের পর মদিনায় এসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতে পেলেন, ইহুদিরাও এই দিনে রোজা রাখছে। আমাদের প্রিয় নবী রাসুল ই পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এই দিনে রোজা রাখার কারণ জানতে পারলেন—এদিনে মুসা (আঃ) সিনাই পাহাড়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত কিতাব লাভ করেন। এই দিনেই তিনি বনি ইসরাইলদের ফেরাউনের জেলখানা থেকে উদ্ধার করেন এবং তাদের নিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করেন। আর ফেরাউন সেই সাগরে ডুবে মারা যান। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ইহুদিরা এই দিন রোজা রাখে।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুসা (আঃ)-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ ও অগ্রগণ্য। এরপর তিনি ১০ই মহররমের সঙ্গে ৯ই মহররম অথবা ১১ই মহররম মিলিয়ে ২টি রোজা রাখতে বললেন। কারণ, ইহুদিদের সঙ্গে মুসলমানদের যেন সাদৃশ্য না হয়। দ্বিতীয় হিজরিতে রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হলে আশুরার রোজা নফল হয়ে যায়। তবে রমজানের রোজা রাখার পর আশুরার রোজা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। এ মাসের নফল রোজা ও অন্যান্য ইবাদত রমজান মাস ব্যতীত অন্য যেকোনো মাস অপেক্ষা অধিক উত্তম। (মুসলিম ও আবু দাউদ)।

১০ই মহররম আশুরার রোজা রাখা সুন্নত। আশুরার দিনে ও রাতে নফল নামাজ পড়া। মহররম মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিদের সুন্নত রোজা; ২০, ২৯ ও ৩০ তারিখ নফল রোজা এবং প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সুন্নত রোজা। এ মাসে প্রতি রাতে ১০০ বার দরুদ শরিফ ও ৭০ বার ইস্তিগফার পড়া অত্যন্ত ফজিলতের আমল। [তরিকত শিক্ষা, খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ (রহ.) পৃষ্ঠা: ৩০ ও ৯৬; রাহাতুল কুলুব, ইমাম রাজিন (রহ.)]।

আশুরার রোজা রাখার চারটি নিয়ম রয়েছেঃ যথা—১ হতে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ১০টি রোজা রাখা। তা সম্ভবপর না হলে ৯, ১০ ও ১১ তারিখ মোট ৩টি রোজা রাখা। তাও সম্ভব না হলে ৯ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ মিলিয়ে ২টি রোজা রাখা। এটাও সম্ভব না হলে শুধু ১০ তারিখে ১টি রোজাও রাখা যাবে। যদি কেউ শুধু ১০ তারিখে রোজা রাখেন এবং ৯ বা ১১ তারিখ রাখতে না পারেন; তবে এই ১টি রোজার জোড়া মেলানোর জন্য অন্য দিন রোজা রাখার প্রয়োজন হবে না।

হজরত কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুলে আকরাম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী, আল্লাহ্ সুবাহনতালার অছিলায় অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমাদ)। 

হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের রোজার পরে মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ; যেমন ফরজ নামাজের পরে শেষ রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ সবচেয়ে বেশি মর্যাদা সম্পন্ন,ঠিক তেমনই।’

ইসলাম ধর্মে ভালো কাজের মর্যাদা অনেক। হাদিসে এসেছে, ‘অল্প আমল নাজাতের জন্য যথেষ্ট’। সামন্য ভালো কাজের মাধ্যমে আমলনামায় যুক্ত করা যায় দেদার সওয়াব। নেকির প্রাপ্তিতে ভারী হয়ে যায় আমলের পাল্লা। আশুরার রোজা পালনে বান্দার আমলের খাতা ভরে যায় পুণ্যে।

প্রশান্তি আসে অস্থির মনে। কাফ্ফারা হয়ে যায় যাপিত বছরের গোনাহের। একদিনের উপবাসে মানবজীবন হয় গোনাহ মাফে পাপমুক্ত।

কোরবানি দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের যা করা নিষেধ
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

যদি যিলহজ্জ মাসে প্রবেশ করা সাব্যস্ত হয় তাহলে যিনি কোরবানি করতে ইচ্ছুক তার জন্যে তার শরীরের কোন চুল কাটা, নখ কাটা কিংবা চামড়া কাটা হারাম। কিন্তু, নতুন জামা-কাপড় পরিধান করা, মেহেদি দেয়া, সুগন্ধি ব্যবহার করা, স্ত্রী উপভোগ করা কিংবা সহবাস করা নিষিদ্ধ নয়।

এ বিধান শুধুমাত্র কোরবানিকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; তার পরিবারের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যাকে কোরবানির পশু জবাই করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়। এ কারণে কোরবানিকারীর স্ত্রী-পুত্র কিংবা প্রতিনিধির উপর এসব কিছু হারাম হবে না।

উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমাদের কেউ যখন যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখে এবং সে ব্যক্তি যদি কোরবানি করতে ইচ্ছুক হয় তাহলে সে যেন চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে”। [সহিহ মুসলিম (১৯৭৭)] অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে, “সে যেন তার চুল ও চামড়ার কোন কিছু (কর্তন বা উপড়ে ফেলার মাধ্যমে) স্পর্শ না করে”।

বলিষ্ঠ মতানুসারে এখানে এ নির্দেশ ওয়াজিবের অর্থে এবং নিষেধ হারামের অর্থে ব্যবহার হয়েছে। কারণ, তা ব্যাপক আদেশ এবং অনির্দিষ্ট নিষেধ, যার কোন প্রত্যাহতকারীও নেই। কিন্তু যদি কেউ জেনে-শুনে ইচ্ছা করেই চুল-নখ কাটে, তবে তার জন্য জরুরি যে, সে যেন আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করে। আর তার জন্য কোন কাফফারা নেই। সে সবাভাবিকভাবে কোরবানিই করবে। আবার প্রয়োজনে (যেমন নখ ফেটে বা ভেঙ্গে ঝুলতে থাকলে বা মাথায় জখমের উপর চুল থাকলে এবং ক্ষতির আশঙ্কা হলে) কেটে ফেলতে কোন দোষ নেই। কারণ, সে মুহরিম (যে হাজ্জ বা ওমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছে তার) অপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যার জন্য অসুবিধার ক্ষেত্রে মাথা মুন্ডিত করাও বৈধ করা হয়েছে।

যে ব্যক্তির সামর্থ্য না থাকার কারণে তার কোরবানি করার ইচ্ছা নেই তার জন্য এগুলো কাটা হারাম নয়। আর কোরবানি করতে ইচ্ছুক এমন কেউ যদি এগুলো কেটে ফেলে তার উপর ফিদিয়া আবশ্যক হবে না। বরং তার উপর তাওবা ও ইস্তিগফার করা আবশ্যক হবে।

কোরবানি করার জন্য যদি কেউ কাউকে ভার দেয় অথবা অসীয়ত করে, তবে সেও নখ-চুল কাটবে না। অবশ্য ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা অসী এই নিষেধের শামিল হবে না। অর্থাৎ তাদের জন্য নখ-চুল কাটা দূষণীয় নয়।

অনুরূপভাবে পরিবারের অভিভাবক কোরবানি করলে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল তার পক্ষে হবে; বাকি অন্যান্য স্ত্রী-পুত্র বা আত্মীয়রা শামিল হবে না। তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোরবানি না থাকলে তারা নিজেদের চুল-নখ কাটতে পারে। যেহেতু আল্লাহর রসূল (সা.) নিজ বংশধরের তরফ থেকে কোরবানি করতেন অথচ তিনি তাদেরকে নখ চুল কাটতে নিষেধ করেছেন বলে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না।

আজ থেকে হজ নিবন্ধন শুরু
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনা পরিস্থিতিতে এবার হজে পারবেন সর্বোচ্চ ১০ হাজার হাজি। কারা হজের সুযোগ পাবেন তা নির্ধারণে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে নিবন্ধন। ১০ জুলাই পর্যন্ত এ নিবন্ধন চলবে। যারা হজের সুযোগ পাবেন তাদের নাম ঘোষণা করা হবে আগামী ১৩ জুলাই। সৌদি আরবস্থ বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর মাকসুদুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত মাসে সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, করোনার বিস্তার রোধে এ বছর এক হাজারেরও কম হাজির অংশগ্রহণে হজ পালিত হবে। পরে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, অনধিক ১০ হাজার হাজি হজে অংশ নিতে পারবেন। তবে শুধু সৌদি নাগরিক এবং দেশটিতে আগে থেকেই বাস করা বিদেশিরা এ বছর হজে অংশ নিতে পারবেন। বাংলাদেশ বা বিদেশ থেকে এবার কেউ হজে যেতে পারবেন না। মাকসুদুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে কেউ না পারলেও সৌদিতে বাস করা বাংলাদেশি নাগরিকরা হজে অংশ নিতে নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে সৌদিতে বাস করা বাংলাদেশিদের কতজন হজ করার সুযোগ পাবেন, তা নির্ভর করছে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়া হয়নি। সৌদি সংবাদমাধ্যমের বরাতে তিনি জানান, সৌদিতে থাকা বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে হাজি নির্বাচন করা হতে পারে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০ জুলাই হজ পালিত হবে।

যে ৫টি সময়ে দোয়া কবুল করা হয়
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

মহান আল্লাহ মহানের শান হচ্ছে- বান্দা তার কাছে চাইলে (প্রার্থনা বা দোয়া) খুশি, আর না চাইলে তিনি অ-খুশি হন। যে কোনো কাজেরই সুনির্দিষ্ট একটি সময় রয়েছে। কখন দোয়া করলে তা অবশ্যই কবুল কবে বা কখন দোয়া করা একেবাইরেই উচিত না- ইসলামে এমন বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা রয়েছে। ৫টি সোনালী সময়, যখন দোয়া কবুলের জন্য আসমানের দুয়ারসমূহ খুলে দেয়া হয়।

জোহরের আগমুহূর্তে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- নিশ্চয়ই আসমানের দুয়ারসমূহ খুলে দেয়া হয় সূর্য মধ্যাকাশ থেকে পশ্চিমাকাশের দিকে হেলে পড়ার সময়। এরপর জোহরের সালাত পর্যন্ত তা আর বন্ধ হয় না। আমি চাই সেই সময়ে আমার কোন ভালো কাজ ওপরে উঠুক। (সহিহুল জামি: ১৫৩২)

আজানের সময়
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- যখন আজান দেয়া হয়, তখন আসমানের দুয়ার খুলে দেয়া হয় এবং দোয়া কবুল করা হয়। (সহিহুত ত্বারগিব: ২৬০)

এক নামাজের পর অন্য নামাজের জন্য অপেক্ষার সময়
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- শুভ সংবাদ! তোমাদের রব আসমানের দুয়ার খুলে দিয়েছেন এবং তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করে বলছেন- ‘আমার বান্দারা আমার আরোপিত ফরজ (নামাজ) আদায়ের পর আরেক ফরজের জন্য অপেক্ষা করছে।’ (ইবনে মাজা: ৮০১)

রাতের শেষার্ধে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- রাতের শেষার্ধ শুরু হলে একজন ঘোষক ঘোষণা দিতে থাকেন, কেউ কি কোন আর্জি পেশ করার আছো? তার আর্জি গৃহীত হবে। কারো চাওয়ার কিছু আছে? তা মঞ্জুর হবে। আছে কোন বিপদগ্রস্থ? তার বিপদ দুর করা হবে। তখন পেশাদার ব্যভিচারিনী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজী করা লোক ব্যতিত কোন মুসলিমের দোয়াই ব্যর্থ হয় না। (সহিহুত ত্বারগিব: ৭৮৬)

এই দোয়া পাঠের সময়
একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামাজ পড়ছিলাম। সে সময় সমাগত লোকদের মাঝে হতে এক লোক বলল, ‘আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাছিরা ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসিলা’ (অর্থাৎ, আল্লাহ মহান, অতি মহান, আল্লাহ তাআলার জন্য অনেক অনেক প্রশংসা এবং সকাল-সন্ধ্যা আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- এই এই কথা কে বলেছে? উপস্থিত লোকদের মাঝে এক লোক বলল, আমি হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ ‘এ দোয়ায় আমি খুব আশ্চর্য হয়েছি। এ বাক্যগুলোর জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে।’

ইবনে উমার রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আমি এ কথা শোনার পর থেকে কখনো তা পাঠ করা পরিহার করিনি। (মুসলিম, তিরমিজি: ৩৯৪১)

পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা। মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার মুসলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। আজ জুমার নামাজ আদায়ের পর ধর্মপ্রাণ ও রোজাদার মুসলমানরা নিজের জন্য দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি দেশের অগ্রগতি, সমৃদ্ধি তথা মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা করবেন।

আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক কয়েকটি পুণ্যময় দিন ও রাতকে মানুষের জন্য বিশেষভাবে মর্যাদাবান করা হয়েছে। রমজান মাসের সর্বোত্তম রজনী হলো লাইলাতুল কদর আর সর্বোত্তম দিবস হলো জুমাতুল বিদা, যা মাহে রমজানে পরিসমাপ্তিসূচক শেষ শুক্রবার পালিত হয়।

জুমাতুল বিদার জামাত আদায়ের জন্য প্রতি বছর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই মসজিদগুলোতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য কল্যাণ কামনার পাশাপাশি দেশ-জাতি ও গোটা মুসলিম উম্মার মঙ্গল ও বিশ্বশান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে কিছুদিন মসজিদে যাওয়ায় বিধিনিষেধ থাকলেও পরে তা উঠিয়ে নেয়া হয়। এরপর থেকে দূরত্ব বজায়সহ বেশ কিছু শর্ত মেতে মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায় করছেন। গত দুই জুমআয় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। আজ জুমাতুল বিদাতে অংশ নিয়ে মুসল্লিরা নিজের জন্য দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি দেশের অগ্রগতি, সমৃদ্ধি তথা মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা করবেন।

ইতিমধ্যে রমজানে মুসলমানরা তিনটি জুমআ অতিবাহিত করেছেন। আজ রমজানের বিদায়ী জুমআর দ্বারপ্রান্তে। তাই কুরআন নাজিলের মাসের মর্যাদা ও বরকতের সঙ্গে জুমআর মর্যাদা ও ফজিলতে মুমিন রোজাদারের আমল ও হৃদয় হোক আলোকিত।

জুমআর নামাজের মর্যাদা সম্পর্কে হজরত সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, `তোমরা জুমআর নামাজে উপস্থিত হও এবং ইমামের কাছাকাছি হয়ে দাঁড়াও। কেননা যে ব্যক্তি জুমআর নামাজে সবার পেছনে উপস্থিত হবে, জান্নাতে প্রবেশ ক্ষেত্রেও সে সবার পিছনেই পড়ে থাকবে।` (মুসনাদে আহমদ)

মুসলিম উম্মাহর কাছে জুমআর দিনটি সপ্তাহিক ইবাদতের দিন এবং ঈদ হিসেবে গণ্য। এ দিনের ফজিলত এমনিতেই বেশি। তবে রমজানের শেষ দশকে হওয়ার কারণে এ জুমআর সঙ্গে শেষ দশকের ফজিলতও যোগ হয়েছে। জুমআর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সূর্যোদয় হওয়ার সবগুলো দিনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ও শ্রেষ্ঠ হলো জুমআর দিন। এই জুমআর দিনেই হজরত আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন এবং জুমআর দিনই তাকে জান্নাত দান করেন এবং জুমআর দিনেই তাকে জান্নাত থেকে এই দুনিয়ায় প্রেরণ করেন এবং কেয়ামতও এই জুমআর দিনেই অনুষ্ঠিত হবে। (মুসলিম)।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের শেষ জুমআ আদায়ের মাধ্যমে নিজেদের বিগত জীবনের সব গোনাহ থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন। জুমআর ফজিলত ও মর্যাদাকে রমজনের ফজিলতের সঙ্গে বাড়িয়ে মুমিনের সব আমলকে কবুল করার মাধ্যমে তাদের হৃদয়ে হেদায়েতের আলোতে ভরপুর করে দিন। আমিন।

শবে কদরের আলামত ও ফজিলত
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয়তম হাবিবের উম্মতদের জন্য বিশেষ কিছু রাত উপহার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যে রাতগুলো অন্যান্য রাতের মতো সাধারণ নয়। আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর হাবিবের ঘোষণা অনুসারে এ রাত হয়ে উঠেছে অসাধারণ। হাদিসের মধ্যে অসাধারণ মর্যাদাসম্পন্ন যে পাঁচটি রাতের কথা বলা হয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম একটি ‘শবে কদর’। ‘অন্যতম’ এই অর্থে যে, এ রাতের মর্যাদা-ফজিলত সম্পর্কে ইসলামের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়কে উপলক্ষ করে যত দল-মত রয়েছে সকলেই বিনা বাক্যে এ রাতের মর্যাদার আলোচনায় একমত পোষণ করেন। ‘শব’ শব্দটি ফারসি। এর অর্থ রাত আর ‘কদর’ শব্দটি নিয়েছি সরাসরি কুরআন থেকে, যার অর্থ সম্মান। পারিভাষিক অর্থে ‘শবে কদর’ মানে, সম্মানিত রাত, মর্যাদাসম্পন্ন রজনী। অর্থাৎ, এ রাতকে আল্লাহ তায়ালা সম্মানিত করেছেন, মর্যাদার মাধ্যমে অনন্য করেছেন।

সূরা বাকারায় রমজানের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, রমজান এমন একটি মাস যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে”। (বাকারা : ১৮৫) প্রশ্ন হলো, কুরআন কি আল্লাহ তায়ালা পুরো রমজান জুড়ে নাযিল করেছেন না নির্দিষ্ট কোনো রাতে? সূরা কদরের মধ্যে এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর বিদ্যমান। কদরের প্রথম আয়াত: “নিশ্চয়ই আমি এটিকে নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আর কুরআন নাযিলের কারণেই আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের মর্যাদা এতো বাড়িয়েছেন। এখন কোন রাতকে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হিসেবে গণ্য করা হয়?

 

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, তোমরা রমজানের শেষ-দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। (বুখারী : ২০২০) শেষ-দশক মানে কি প্রতিদিন তালাশ করতে হবে? রাহমাতুল্লিল আলামীন নবী আমাদের জন্য আরও সহজ করেছেন এভাবে, তোমরা রমজানের শেষ-দশকের বেজোড় রাত সমূহে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। (বুখারী : ২০১৭)অর্থাৎ, ২১-২৩-২৫-২৭-২৯ এ পাঁচটি রাতের মধ্যে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের তালাশ কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। এখানে ‘তালাশ’ মানে হচ্ছে, ইবাদতের মাধ্যমে এ মহিমান্বিত রজনীর সদ্ব্যবহার করা, অফার লুফে 

নেওয়া। আমাদেরকে যদি শবে কদরের বরকত হাসিল করতে হয় বিশেষ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হয় তাহলে অবশ্যই রমজানের শেষ-দশকের পাঁচটি বেজোড় রাত্রিতে একনিষ্ঠতার সহিত ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকতে হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ২৭ রমজান যেভাবে আমরা মুসলমানগণ আনুষ্ঠানিক ভাবে শবে কদর পালন করে থাকি তার ভিত্তি কী? দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের পেরেশানী লঘু করার জন্য এ রাতের ব্যাপারে আরও নির্দিষ্ট করে বলছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অক্ষম হয় বা দুর্বল থাকে তাহলে সে যেন ২৭ রমজানের রজনীকে লাইলাতুল কদর বলে বিবেচনা করে ইবাদত করে”। (মুসলিম : ১১৬৫) হযরত উবাই ইবনে কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে ২৭ রমজানকে লাইলাতুল কদর বিবেচনা করে ইবাদত করতে বলেছেন”। অতএব, হাদিসের ভাষ্যানুসারে ২৭ রমজান যেহেতু লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি সেজন্যই আমরা ২৭ রমজান রজনীতে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকি। যে রাতে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হবে তার আরও কয়েকটি আলামত হাদিস শরীফে এসেছে:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১. আকাশ মেঘমুক্ত ও উজ্জ্বল থাকবে। (তিরমিযি)
২. ঠাণ্ডা ও গরমের মাঝামাঝি তথা নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া থাকবে। (তিরমিযি)
৩. রাতগত দিনে সূর্য উদিত হবে আলোক-রশ্মীহীন অবস্থায়, অর্থাৎ সূর্যের চিরচেনা তেজবিহীন অবস্থায়। (মুসলিম, সহিহ ইবনে খুযায়মা) 

এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে বলতে গেলে সর্ব প্রথম বলতে হয় সূরা কদরের কথা। যে সূরাতে শবে কদরের মর্যাদা খুঁজে পেতে একটুও বেগ পেতে হয়না। করুণাময় প্রভু এ রাতের পরিচয় দিচ্ছেন এভাবে, “লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম”। এ পরিচয়ের পর আরও বিস্তৃত বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালা বলছেন, “এ রাতে ফেরেশতারা এবং জিবরাইল তাঁদের রবের অনুমতি ক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে (পৃথিবীতে) অবতরণ করে ; আর ফজরের সময়কাল পর্যন্ত এ শান্তিপূর্ণ রজনীর দৈর্ঘ্য”। সূরা কদর যতবার পড়া হয় এ রাতের মর্যাদা যেন তত অন্তরঙ্গ-আলোয় উপলব্ধি হয়। যে রাত ‘হাজার মাসের চেয়ে উত্তম’ সে রাতকে ইবাদত-বন্দেগীতে পূর্ণ করাই যেন তাঁর প্রতি আমাদের যথার্থ সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে নফল নামায আদায় করবে, ইবাদত করবে তার পূর্বের সমস্ত সগীরা গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে”। (বুখারী : ১৯০১) ইবনে মাজাহ নামক হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে, প্রিয় নবী সাবধান করে দিয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর থেকে বঞ্চিত হলো সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিতহলো”।আবু দাউদ নামক হাদিস গ্রন্থে রয়েছে, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেলো কিন্তু ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করতে পারলোনা তার মতো হতভাগা-বদ নসিব আর কেউ নেই”। আম্মাজান হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা নবীজিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি যদি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই তাহলে কোন দোয়া পড়বো?”নবীজি বললেন, “তুমি পড়বে আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি ইয়া গাফুর”, অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, আমাকেও ক্ষমা করুন। (তিরমিযি : ৩৫১)

এ রাত যেহেতু কুরআন নাযিলের কারণে মর্যাদা সম্পন্ন হয়েছে তাই এ রাতে আমাদের নামায, জিকির, তাসবিহ ইত্যাদির পাশাপাশি কুরআন তেলাওয়াত করাও উচিত হবে। হাজার মাসের ইবাদত একরাতে সম্পন্ন করার যে দুর্লভ সুযোগ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দান করেছেন তার সদ্ব্যবহার করতে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরে সারা রাত ব্যাপী ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকা অপরিহার্য। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে পবিত্র শবে কদরের পূর্ণ বরকত হাসিল করার তৌফিক দান করুক, আমিন।

শারীরিক সুস্থতায় রোজার কার্যকরীতা
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

রমজানের রোজা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন উত্তম, তেমন শারীরিক সুস্থতার জন্য কার্যকরী একটি ব্যবস্থাপনা।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সাহরি এবং ইফতারে পরিমিত খাবার খান।

অতি ভোজন এড়িয়ে চলেন, তারা রোজা রাখার ফলে শুধু শারীরিকভাবেই উপকৃত হন না, বরং মানসিকভাবেও প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা অনুভব করতে থাকেন।

বিশ্বজগতের মহান চিকিৎসক হজরত মোহাম্মদ মুস্তফা (সা.) বলেছেন, প্রতিটি বস্তুর জাকাত আছে; শরীরের জাকাত রোজা। অতএব, আমাদের রোজা রাখা উচিত।

রোজা রাখার ক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ ফর্মূলা যদি অনুসরণ করা হয়, তাহলে রোজার সমস্ত উপকার এবং কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব।

আমরা জানি, শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং শিরা-উপশিরাগুলো সচল রাখতে খাবারের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এই খাবারই যদি নিয়মিত এবং পরিমিত না হয়, তাহলে শরীরে শক্তি জোগানোর পরিবর্তে রোগ সৃষ্টি করে।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, অসময়ে, অসম ভক্ষণ, হজম প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে । চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে একমত যে, শরীরের অধিকাংশ রোগ সৃষ্টি হয় অস্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণের কারণে।

আশ্চর্যের বিষয় হল, এই রোগের উপসর্গ ও কারণগুলো নবীজী (সা.) বহু শতাব্দী পূর্বেই বলে গেছেন। তিনি বলেন, রোগের কেন্দ্রবিন্দু হল পেট, অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাস এড়িয়ে চলা রোগের আরোগ্যতা।

এই বিবেচনায় রোজা আমাদের আধ্যাত্মিক ও শারীরিকভাবে কিছু বিষয় পরিত্যাগ করার শিক্ষা দেয়।

বছরব্যাপী অপরিমিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে যে অতিরিক্ত মেদ জমে থাকে তা রোজা রাখার ফলে দূরীভূত হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরে এইচডিএল (high-density lipoprotein) এবং এলডিএল (low-density lipoprotein) পাওয়া যায়।

এইচডিএল এমন ফ্যাট, যা বহু রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে এবং এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেও ক্ষতিকারক নয়। রোজা রাখার ফলে এইচডিএলের পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যায়। বিপরীতে এলডিএল, যা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে চরম ক্ষতিকারক।

রোজা রাখার ফলে এটা হ্রাস পেতে থাকে এবং রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকত্ব এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে।

রোজা রাখার ফলে ইউরিক অ্যাসিড এবং রক্তের ইউরিয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পায়। যা শরীরে অধিক পরিমাণে বিদ্যমান থাকলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগের কারণ হয়ে থাকে।

আসল কথা হল রোজা কেবল সারাদিন উপোস থেকে নির্ধারিত সময়ে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের নাম নয়। বরং এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা শারীরিক বহুবিধ রোগব্যাধি থেকেও আমাদের রক্ষা করেন।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের মতে ১৬-১৭ ঘণ্টা ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকার ফলে শরীরের অঙ্গগুলো স্বাভাবিক হতে থাকে এবং পাচনতন্ত্রের উন্নতি হয় এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ, যেমন- গ্যাস, বদহজম, লিভারের রোগ, জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি ইত্যাদি কমে যায়।

কিন্তু আমাদের দেশের মানুষেরা না জানার কারণে কিংবা অসতর্কতাবসত সাহরি ও ইফতারে অপরিমিত খাবার খেয়ে থাকেন। যা রোগব্যাধি হ্রাসের পরিবর্তে বাড়ার দিকে ধাবিত করে।

সাহরি ও ইফতার রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমরা যদি এটিকে সুন্নাত অনুসারে পালন করি তবে তা কেবল শারীরের পক্ষেই ভালো নয় বরং প্রভূত কল্যাণ ও পুরস্কার লাভের কারণও হয়ে থাকে।

সময় মতো সাহরি খাওয়া যেমন সুন্নত তেমন সময় মতো ইফতার করাও সুন্নত। নবীজী (সা.) এমনই করতেন। তিনি বলেন, তোমরা সাহরি খাও; কারণ এতে বরকত রয়েছে । খেজুর দিয়ে ইফতার করা নবীজীর (সা.) সুন্নত।

আধুনিক গবেষণা অনুসারে, খেজুরে ভিটামিন এ, বি, সি এবং ডির পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, স্টিল, ফসফরাস এবং আরও অনেক দরকারী খনিজ রয়েছে যা কেবল হৃদ, মস্তিষ্ক, লিভার, পেট এবং স্নায়ুকেই মজবুত করে না, বরং শরীরে প্রচুর পরিমাণে শক্তিও সঞ্চার করে।

গ্রীষ্মকালের রোজায় আপনি যদি তৃষ্ণার্ত বোধ করেন, তাহলে প্রাচীন চিকিৎসকদের গবেষণা অনুসারে আপনি যদি সাহরির সময় ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দু’চামচ খাঁটি মধু পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করেন তাহলে আপনি সারা দিন প্রশান্ত থাকবেন। পানির তৃষ্ণা কম হবে।

কারণ মধুর মতো বরকতময় খাবার এবং চিকিৎসা মাল্টিভিটামিনের খনিজ হওয়ার কারণে এটি রোজার সময় শারীরিক শক্তি পুনরুদ্ধার করে থাকে।


   Page 1 of 3
     ইসলাম
আল্লাহর পছন্দনীয় একটি সহজ আমল
.............................................................................................
নখ বড় রাখা কি জায়েজ?
.............................................................................................
ভ্রমণ অবস্থায় সুন্নত নামাজের বিধান
.............................................................................................
কারখানা গুঁড়িয়ে দিয়ে ‘শিশুপার্কের’ সাইনবোর্ড টাঙালেন কাদের মির্জা
.............................................................................................
আমার প্রিয় নদী
.............................................................................................
ঈদুল আজহার নামাজ পড়ার নিয়ম
.............................................................................................
আজ ঈদ
.............................................................................................
ঈদের নামাজের নিয়ম
.............................................................................................
কোরআনে হাফেজদের ভাড়া নেয় না এই গাড়ি!
.............................................................................................
পবিত্র আশুরার তাৎপর্য
.............................................................................................
কোরবানি দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের যা করা নিষেধ
.............................................................................................
আজ থেকে হজ নিবন্ধন শুরু
.............................................................................................
যে ৫টি সময়ে দোয়া কবুল করা হয়
.............................................................................................
পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
.............................................................................................
শবে কদরের আলামত ও ফজিলত
.............................................................................................
শারীরিক সুস্থতায় রোজার কার্যকরীতা
.............................................................................................
মক্কা-মদিনা লকডাউন
.............................................................................................
কোয়ারেন্টাইন ধারণা মহানবীর: মার্কিন গবেষক
.............................................................................................
আজ পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববীতে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
করোনা থেকে মুক্তির জন্য আজ দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া
.............................................................................................
পবিত্র শবে মেরাজ ২২শে মার্চ
.............................................................................................
ইন্দোনেশিয়ায় একসঙ্গে ৩০০ নারী-পুরুষের ইসলাম গ্রহণ
.............................................................................................
কোরআনের ভাষায় অভিশপ্ত যারা
.............................................................................................
বৃষ্টি ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা মঙ্গলবার
.............................................................................................
রূপগঞ্জে হজ্জ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
হাশরের ময়দানের উত্তাপ ও আতংক
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুরে ইসলামি সুন্নি মহা সম্মেলন ২০১৬ ইং অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
৪ মে পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
.............................................................................................
বিশ্ব শান্তির আহবান।
.............................................................................................
মহা পবিত্র ওরশ শরীফ কংশপুর পাক দরবার শরীফ
.............................................................................................
সিদ্ধিরগঞ্জে শিমরাইল নূরে রহমানিয়া পাক দরবার শরীফের উদ্যোগে দুই দিন ব্যাপি বাৎসরিক সুন্নি সম্মেলনের প্রস্তুতি
.............................................................................................
জুমার দিনে ৮০ বছরের গুনাহ মাফের দোয়া
.............................................................................................
ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কে রাসুল(স:)যা বলেছেন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু, সহ সম্পাদক কাওসার আহমেদ র্বাতা সম্পাদক আবু ইউসুফ আলী মন্ডল । বার্তা বিভাগ ফোন০১৬১৮৮৬৮৬৮২

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, রেজিস্ট্রেশন নং 134 / নিবন্ধন নং 69 মোবাইল : 01731190131, 01930226862, E-mail : mannannews0@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- notunbazar / সম্পাদক dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD