| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ইসলাম -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
পবিত্র আশুরার তাৎপর্য

নতুনবাজার ডেস্কঃ

মহররম হিজরি বছরের প্রথম মাস। এই মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। বছরের প্রথম মাস আশুরা অত্যন্ত সম্মানিত; এর রয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য। অনুরূপ ১০ মহররম বা আশুরার রয়েছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস।

সৃষ্টিকুলের প্রাথমিক বিভাজন-প্রক্রিয়ার সূচনা হয় আশুরায়। হজরত আদম আওয়াসাল্লাম এর সৃষ্টি, স্থিতি, উত্থান ও পৃথিবীতে অবতরণ সব ঘটনাই ঘটেছিল আশুরায়।
হজরত নুহ আয়াসাল্লাম এর নৌ যাত্রা আরম্ভ এবং বন্যা-প্লাবনের সমাপ্তি এই আশুরাতেই ঘটেছিল।

হজরত মুসা আয়াসাল্লাম এর  সমুদ্রপথে রওনা হওয়ার দিনটিও ছিল আশুরা। এরই ধারাবাহিকতায় রাসুল ই পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরায় কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করেছেন। আশুরা এলে রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনয়ে বিনম্র থাকতেন এবং রোজা পালন করতেন। (তাফসিরে তাবারি, মুহাম্মাদ ইবনে জারির)।

আশুরা শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে এসেছে। এর অর্থ ১০। আর আশুরা মানে দশম। ইসলামি পরিভাষায় মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলে। সৃষ্টির শুরু থেকে মহররমের ১০ তারিখে তথা আশুরার দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ফলে আশুরার মর্যাদা ও মাহাত্ম্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে আমাদের প্রিয় নবী রাসুল ই পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রাঃ) এর শাহাদাত এই দিনকে মুসলিম বিশ্বে সর্বাধিক স্মরণীয় ও বরণীয় করে রেখেছে।

আশুরার রোজা সব নবীর আমলেই ছিল। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় থাকতেও আশুরার রোজা পালন করতেন। হিজরতের পর মদিনায় এসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতে পেলেন, ইহুদিরাও এই দিনে রোজা রাখছে। আমাদের প্রিয় নবী রাসুল ই পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এই দিনে রোজা রাখার কারণ জানতে পারলেন—এদিনে মুসা (আঃ) সিনাই পাহাড়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত কিতাব লাভ করেন। এই দিনেই তিনি বনি ইসরাইলদের ফেরাউনের জেলখানা থেকে উদ্ধার করেন এবং তাদের নিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করেন। আর ফেরাউন সেই সাগরে ডুবে মারা যান। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ইহুদিরা এই দিন রোজা রাখে।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুসা (আঃ)-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ ও অগ্রগণ্য। এরপর তিনি ১০ই মহররমের সঙ্গে ৯ই মহররম অথবা ১১ই মহররম মিলিয়ে ২টি রোজা রাখতে বললেন। কারণ, ইহুদিদের সঙ্গে মুসলমানদের যেন সাদৃশ্য না হয়। দ্বিতীয় হিজরিতে রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হলে আশুরার রোজা নফল হয়ে যায়। তবে রমজানের রোজা রাখার পর আশুরার রোজা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। এ মাসের নফল রোজা ও অন্যান্য ইবাদত রমজান মাস ব্যতীত অন্য যেকোনো মাস অপেক্ষা অধিক উত্তম। (মুসলিম ও আবু দাউদ)।

১০ই মহররম আশুরার রোজা রাখা সুন্নত। আশুরার দিনে ও রাতে নফল নামাজ পড়া। মহররম মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিদের সুন্নত রোজা; ২০, ২৯ ও ৩০ তারিখ নফল রোজা এবং প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সুন্নত রোজা। এ মাসে প্রতি রাতে ১০০ বার দরুদ শরিফ ও ৭০ বার ইস্তিগফার পড়া অত্যন্ত ফজিলতের আমল। [তরিকত শিক্ষা, খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ (রহ.) পৃষ্ঠা: ৩০ ও ৯৬; রাহাতুল কুলুব, ইমাম রাজিন (রহ.)]।

আশুরার রোজা রাখার চারটি নিয়ম রয়েছেঃ যথা—১ হতে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ১০টি রোজা রাখা। তা সম্ভবপর না হলে ৯, ১০ ও ১১ তারিখ মোট ৩টি রোজা রাখা। তাও সম্ভব না হলে ৯ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ মিলিয়ে ২টি রোজা রাখা। এটাও সম্ভব না হলে শুধু ১০ তারিখে ১টি রোজাও রাখা যাবে। যদি কেউ শুধু ১০ তারিখে রোজা রাখেন এবং ৯ বা ১১ তারিখ রাখতে না পারেন; তবে এই ১টি রোজার জোড়া মেলানোর জন্য অন্য দিন রোজা রাখার প্রয়োজন হবে না।

হজরত কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুলে আকরাম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী, আল্লাহ্ সুবাহনতালার অছিলায় অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমাদ)। 

হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের রোজার পরে মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ; যেমন ফরজ নামাজের পরে শেষ রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ সবচেয়ে বেশি মর্যাদা সম্পন্ন,ঠিক তেমনই।’

ইসলাম ধর্মে ভালো কাজের মর্যাদা অনেক। হাদিসে এসেছে, ‘অল্প আমল নাজাতের জন্য যথেষ্ট’। সামন্য ভালো কাজের মাধ্যমে আমলনামায় যুক্ত করা যায় দেদার সওয়াব। নেকির প্রাপ্তিতে ভারী হয়ে যায় আমলের পাল্লা। আশুরার রোজা পালনে বান্দার আমলের খাতা ভরে যায় পুণ্যে।

প্রশান্তি আসে অস্থির মনে। কাফ্ফারা হয়ে যায় যাপিত বছরের গোনাহের। একদিনের উপবাসে মানবজীবন হয় গোনাহ মাফে পাপমুক্ত।

পবিত্র আশুরার তাৎপর্য
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

মহররম হিজরি বছরের প্রথম মাস। এই মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলা হয়। বছরের প্রথম মাস আশুরা অত্যন্ত সম্মানিত; এর রয়েছে ঐতিহাসিক তাৎপর্য। অনুরূপ ১০ মহররম বা আশুরার রয়েছে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস।

সৃষ্টিকুলের প্রাথমিক বিভাজন-প্রক্রিয়ার সূচনা হয় আশুরায়। হজরত আদম আওয়াসাল্লাম এর সৃষ্টি, স্থিতি, উত্থান ও পৃথিবীতে অবতরণ সব ঘটনাই ঘটেছিল আশুরায়।
হজরত নুহ আয়াসাল্লাম এর নৌ যাত্রা আরম্ভ এবং বন্যা-প্লাবনের সমাপ্তি এই আশুরাতেই ঘটেছিল।

হজরত মুসা আয়াসাল্লাম এর  সমুদ্রপথে রওনা হওয়ার দিনটিও ছিল আশুরা। এরই ধারাবাহিকতায় রাসুল ই পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরায় কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনার কথা ব্যক্ত করেছেন। আশুরা এলে রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিনয়ে বিনম্র থাকতেন এবং রোজা পালন করতেন। (তাফসিরে তাবারি, মুহাম্মাদ ইবনে জারির)।

আশুরা শব্দটি আরবি ‘আশারা’ থেকে এসেছে। এর অর্থ ১০। আর আশুরা মানে দশম। ইসলামি পরিভাষায় মহররমের ১০ তারিখকে আশুরা বলে। সৃষ্টির শুরু থেকে মহররমের ১০ তারিখে তথা আশুরার দিনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ফলে আশুরার মর্যাদা ও মাহাত্ম্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফোরাত নদীর তীরে কারবালার প্রান্তরে আমাদের প্রিয় নবী রাসুল ই পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রাঃ) এর শাহাদাত এই দিনকে মুসলিম বিশ্বে সর্বাধিক স্মরণীয় ও বরণীয় করে রেখেছে।

আশুরার রোজা সব নবীর আমলেই ছিল। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় থাকতেও আশুরার রোজা পালন করতেন। হিজরতের পর মদিনায় এসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেখতে পেলেন, ইহুদিরাও এই দিনে রোজা রাখছে। আমাদের প্রিয় নবী রাসুল ই পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এই দিনে রোজা রাখার কারণ জানতে পারলেন—এদিনে মুসা (আঃ) সিনাই পাহাড়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওরাত কিতাব লাভ করেন। এই দিনেই তিনি বনি ইসরাইলদের ফেরাউনের জেলখানা থেকে উদ্ধার করেন এবং তাদের নিয়ে লোহিত সাগর অতিক্রম করেন। আর ফেরাউন সেই সাগরে ডুবে মারা যান। তাই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ইহুদিরা এই দিন রোজা রাখে।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুসা (আঃ)-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক তাদের চেয়ে বেশি ঘনিষ্ঠ ও অগ্রগণ্য। এরপর তিনি ১০ই মহররমের সঙ্গে ৯ই মহররম অথবা ১১ই মহররম মিলিয়ে ২টি রোজা রাখতে বললেন। কারণ, ইহুদিদের সঙ্গে মুসলমানদের যেন সাদৃশ্য না হয়। দ্বিতীয় হিজরিতে রমজান মাসের রোজা ফরজ করা হলে আশুরার রোজা নফল হয়ে যায়। তবে রমজানের রোজা রাখার পর আশুরার রোজা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। এ মাসের নফল রোজা ও অন্যান্য ইবাদত রমজান মাস ব্যতীত অন্য যেকোনো মাস অপেক্ষা অধিক উত্তম। (মুসলিম ও আবু দাউদ)।

১০ই মহররম আশুরার রোজা রাখা সুন্নত। আশুরার দিনে ও রাতে নফল নামাজ পড়া। মহররম মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে আইয়ামে বিদের সুন্নত রোজা; ২০, ২৯ ও ৩০ তারিখ নফল রোজা এবং প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার সুন্নত রোজা। এ মাসে প্রতি রাতে ১০০ বার দরুদ শরিফ ও ৭০ বার ইস্তিগফার পড়া অত্যন্ত ফজিলতের আমল। [তরিকত শিক্ষা, খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ (রহ.) পৃষ্ঠা: ৩০ ও ৯৬; রাহাতুল কুলুব, ইমাম রাজিন (রহ.)]।

আশুরার রোজা রাখার চারটি নিয়ম রয়েছেঃ যথা—১ হতে ১০ তারিখ পর্যন্ত মোট ১০টি রোজা রাখা। তা সম্ভবপর না হলে ৯, ১০ ও ১১ তারিখ মোট ৩টি রোজা রাখা। তাও সম্ভব না হলে ৯ ও ১০ তারিখ অথবা ১০ ও ১১ তারিখ মিলিয়ে ২টি রোজা রাখা। এটাও সম্ভব না হলে শুধু ১০ তারিখে ১টি রোজাও রাখা যাবে। যদি কেউ শুধু ১০ তারিখে রোজা রাখেন এবং ৯ বা ১১ তারিখ রাখতে না পারেন; তবে এই ১টি রোজার জোড়া মেলানোর জন্য অন্য দিন রোজা রাখার প্রয়োজন হবে না।

হজরত কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসুলে আকরাম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আশাবাদী, আল্লাহ্ সুবাহনতালার অছিলায় অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন।’ (তিরমিজি ও মুসনাদে আহমাদ)। 

হজরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘রমজানের রোজার পরে মহররমের রোজা হলো সর্বশ্রেষ্ঠ; যেমন ফরজ নামাজের পরে শেষ রাতের তাহাজ্জুদ নামাজ সবচেয়ে বেশি মর্যাদা সম্পন্ন,ঠিক তেমনই।’

ইসলাম ধর্মে ভালো কাজের মর্যাদা অনেক। হাদিসে এসেছে, ‘অল্প আমল নাজাতের জন্য যথেষ্ট’। সামন্য ভালো কাজের মাধ্যমে আমলনামায় যুক্ত করা যায় দেদার সওয়াব। নেকির প্রাপ্তিতে ভারী হয়ে যায় আমলের পাল্লা। আশুরার রোজা পালনে বান্দার আমলের খাতা ভরে যায় পুণ্যে।

প্রশান্তি আসে অস্থির মনে। কাফ্ফারা হয়ে যায় যাপিত বছরের গোনাহের। একদিনের উপবাসে মানবজীবন হয় গোনাহ মাফে পাপমুক্ত।

কোরবানি দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের যা করা নিষেধ
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

যদি যিলহজ্জ মাসে প্রবেশ করা সাব্যস্ত হয় তাহলে যিনি কোরবানি করতে ইচ্ছুক তার জন্যে তার শরীরের কোন চুল কাটা, নখ কাটা কিংবা চামড়া কাটা হারাম। কিন্তু, নতুন জামা-কাপড় পরিধান করা, মেহেদি দেয়া, সুগন্ধি ব্যবহার করা, স্ত্রী উপভোগ করা কিংবা সহবাস করা নিষিদ্ধ নয়।

এ বিধান শুধুমাত্র কোরবানিকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; তার পরিবারের অন্য সদস্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যাকে কোরবানির পশু জবাই করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য নয়। এ কারণে কোরবানিকারীর স্ত্রী-পুত্র কিংবা প্রতিনিধির উপর এসব কিছু হারাম হবে না।

উম্মে সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “তোমাদের কেউ যখন যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখে এবং সে ব্যক্তি যদি কোরবানি করতে ইচ্ছুক হয় তাহলে সে যেন চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকে”। [সহিহ মুসলিম (১৯৭৭)] অন্য এক রেওয়ায়েতে আছে, “সে যেন তার চুল ও চামড়ার কোন কিছু (কর্তন বা উপড়ে ফেলার মাধ্যমে) স্পর্শ না করে”।

বলিষ্ঠ মতানুসারে এখানে এ নির্দেশ ওয়াজিবের অর্থে এবং নিষেধ হারামের অর্থে ব্যবহার হয়েছে। কারণ, তা ব্যাপক আদেশ এবং অনির্দিষ্ট নিষেধ, যার কোন প্রত্যাহতকারীও নেই। কিন্তু যদি কেউ জেনে-শুনে ইচ্ছা করেই চুল-নখ কাটে, তবে তার জন্য জরুরি যে, সে যেন আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) করে। আর তার জন্য কোন কাফফারা নেই। সে সবাভাবিকভাবে কোরবানিই করবে। আবার প্রয়োজনে (যেমন নখ ফেটে বা ভেঙ্গে ঝুলতে থাকলে বা মাথায় জখমের উপর চুল থাকলে এবং ক্ষতির আশঙ্কা হলে) কেটে ফেলতে কোন দোষ নেই। কারণ, সে মুহরিম (যে হাজ্জ বা ওমরার জন্য ইহরাম বেঁধেছে তার) অপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যার জন্য অসুবিধার ক্ষেত্রে মাথা মুন্ডিত করাও বৈধ করা হয়েছে।

যে ব্যক্তির সামর্থ্য না থাকার কারণে তার কোরবানি করার ইচ্ছা নেই তার জন্য এগুলো কাটা হারাম নয়। আর কোরবানি করতে ইচ্ছুক এমন কেউ যদি এগুলো কেটে ফেলে তার উপর ফিদিয়া আবশ্যক হবে না। বরং তার উপর তাওবা ও ইস্তিগফার করা আবশ্যক হবে।

কোরবানি করার জন্য যদি কেউ কাউকে ভার দেয় অথবা অসীয়ত করে, তবে সেও নখ-চুল কাটবে না। অবশ্য ভারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা অসী এই নিষেধের শামিল হবে না। অর্থাৎ তাদের জন্য নখ-চুল কাটা দূষণীয় নয়।

অনুরূপভাবে পরিবারের অভিভাবক কোরবানি করলে এই নিষেধাজ্ঞা কেবল তার পক্ষে হবে; বাকি অন্যান্য স্ত্রী-পুত্র বা আত্মীয়রা শামিল হবে না। তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোরবানি না থাকলে তারা নিজেদের চুল-নখ কাটতে পারে। যেহেতু আল্লাহর রসূল (সা.) নিজ বংশধরের তরফ থেকে কোরবানি করতেন অথচ তিনি তাদেরকে নখ চুল কাটতে নিষেধ করেছেন বলে কোন বর্ণনা পাওয়া যায় না।

আজ থেকে হজ নিবন্ধন শুরু
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

করোনা পরিস্থিতিতে এবার হজে পারবেন সর্বোচ্চ ১০ হাজার হাজি। কারা হজের সুযোগ পাবেন তা নির্ধারণে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে নিবন্ধন। ১০ জুলাই পর্যন্ত এ নিবন্ধন চলবে। যারা হজের সুযোগ পাবেন তাদের নাম ঘোষণা করা হবে আগামী ১৩ জুলাই। সৌদি আরবস্থ বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর মাকসুদুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

গত মাসে সৌদির হজ ও ওমরাহ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, করোনার বিস্তার রোধে এ বছর এক হাজারেরও কম হাজির অংশগ্রহণে হজ পালিত হবে। পরে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, অনধিক ১০ হাজার হাজি হজে অংশ নিতে পারবেন। তবে শুধু সৌদি নাগরিক এবং দেশটিতে আগে থেকেই বাস করা বিদেশিরা এ বছর হজে অংশ নিতে পারবেন। বাংলাদেশ বা বিদেশ থেকে এবার কেউ হজে যেতে পারবেন না। মাকসুদুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে কেউ না পারলেও সৌদিতে বাস করা বাংলাদেশি নাগরিকরা হজে অংশ নিতে নিবন্ধন করতে পারবেন। তবে সৌদিতে বাস করা বাংলাদেশিদের কতজন হজ করার সুযোগ পাবেন, তা নির্ভর করছে সৌদি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর। এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক বার্তা দেওয়া হয়নি। সৌদি সংবাদমাধ্যমের বরাতে তিনি জানান, সৌদিতে থাকা বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গে সমন্বয় করে হাজি নির্বাচন করা হতে পারে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০ জুলাই হজ পালিত হবে।

যে ৫টি সময়ে দোয়া কবুল করা হয়
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

মহান আল্লাহ মহানের শান হচ্ছে- বান্দা তার কাছে চাইলে (প্রার্থনা বা দোয়া) খুশি, আর না চাইলে তিনি অ-খুশি হন। যে কোনো কাজেরই সুনির্দিষ্ট একটি সময় রয়েছে। কখন দোয়া করলে তা অবশ্যই কবুল কবে বা কখন দোয়া করা একেবাইরেই উচিত না- ইসলামে এমন বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা রয়েছে। ৫টি সোনালী সময়, যখন দোয়া কবুলের জন্য আসমানের দুয়ারসমূহ খুলে দেয়া হয়।

জোহরের আগমুহূর্তে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- নিশ্চয়ই আসমানের দুয়ারসমূহ খুলে দেয়া হয় সূর্য মধ্যাকাশ থেকে পশ্চিমাকাশের দিকে হেলে পড়ার সময়। এরপর জোহরের সালাত পর্যন্ত তা আর বন্ধ হয় না। আমি চাই সেই সময়ে আমার কোন ভালো কাজ ওপরে উঠুক। (সহিহুল জামি: ১৫৩২)

আজানের সময়
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- যখন আজান দেয়া হয়, তখন আসমানের দুয়ার খুলে দেয়া হয় এবং দোয়া কবুল করা হয়। (সহিহুত ত্বারগিব: ২৬০)

এক নামাজের পর অন্য নামাজের জন্য অপেক্ষার সময়
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- শুভ সংবাদ! তোমাদের রব আসমানের দুয়ার খুলে দিয়েছেন এবং তোমাদের নিয়ে ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করে বলছেন- ‘আমার বান্দারা আমার আরোপিত ফরজ (নামাজ) আদায়ের পর আরেক ফরজের জন্য অপেক্ষা করছে।’ (ইবনে মাজা: ৮০১)

রাতের শেষার্ধে
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- রাতের শেষার্ধ শুরু হলে একজন ঘোষক ঘোষণা দিতে থাকেন, কেউ কি কোন আর্জি পেশ করার আছো? তার আর্জি গৃহীত হবে। কারো চাওয়ার কিছু আছে? তা মঞ্জুর হবে। আছে কোন বিপদগ্রস্থ? তার বিপদ দুর করা হবে। তখন পেশাদার ব্যভিচারিনী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজী করা লোক ব্যতিত কোন মুসলিমের দোয়াই ব্যর্থ হয় না। (সহিহুত ত্বারগিব: ৭৮৬)

এই দোয়া পাঠের সময়
একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে নামাজ পড়ছিলাম। সে সময় সমাগত লোকদের মাঝে হতে এক লোক বলল, ‘আল্লাহু আকবার কাবিরা, ওয়াল হামদু লিল্লাহি কাছিরা ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতান ওয়া আসিলা’ (অর্থাৎ, আল্লাহ মহান, অতি মহান, আল্লাহ তাআলার জন্য অনেক অনেক প্রশংসা এবং সকাল-সন্ধ্যা আমি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করছি।)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- এই এই কথা কে বলেছে? উপস্থিত লোকদের মাঝে এক লোক বলল, আমি হে আল্লাহর রাসূল! তিনি বললেনঃ ‘এ দোয়ায় আমি খুব আশ্চর্য হয়েছি। এ বাক্যগুলোর জন্য আকাশের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়েছে।’

ইবনে উমার রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে আমি এ কথা শোনার পর থেকে কখনো তা পাঠ করা পরিহার করিনি। (মুসলিম, তিরমিজি: ৩৯৪১)

পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আজ পবিত্র জুমাতুল বিদা। মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার মুসলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত। আজ জুমার নামাজ আদায়ের পর ধর্মপ্রাণ ও রোজাদার মুসলমানরা নিজের জন্য দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি দেশের অগ্রগতি, সমৃদ্ধি তথা মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা করবেন।

আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক কয়েকটি পুণ্যময় দিন ও রাতকে মানুষের জন্য বিশেষভাবে মর্যাদাবান করা হয়েছে। রমজান মাসের সর্বোত্তম রজনী হলো লাইলাতুল কদর আর সর্বোত্তম দিবস হলো জুমাতুল বিদা, যা মাহে রমজানে পরিসমাপ্তিসূচক শেষ শুক্রবার পালিত হয়।

জুমাতুল বিদার জামাত আদায়ের জন্য প্রতি বছর রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশেই মসজিদগুলোতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য কল্যাণ কামনার পাশাপাশি দেশ-জাতি ও গোটা মুসলিম উম্মার মঙ্গল ও বিশ্বশান্তি কামনা করে মোনাজাত করেন। কিন্তু এবার করোনাভাইরাসের কারণে কিছুদিন মসজিদে যাওয়ায় বিধিনিষেধ থাকলেও পরে তা উঠিয়ে নেয়া হয়। এরপর থেকে দূরত্ব বজায়সহ বেশ কিছু শর্ত মেতে মুসল্লিরা মসজিদে নামাজ আদায় করছেন। গত দুই জুমআয় মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। আজ জুমাতুল বিদাতে অংশ নিয়ে মুসল্লিরা নিজের জন্য দোয়া চাওয়ার পাশাপাশি দেশের অগ্রগতি, সমৃদ্ধি তথা মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সম্প্রীতি কামনা করবেন।

ইতিমধ্যে রমজানে মুসলমানরা তিনটি জুমআ অতিবাহিত করেছেন। আজ রমজানের বিদায়ী জুমআর দ্বারপ্রান্তে। তাই কুরআন নাজিলের মাসের মর্যাদা ও বরকতের সঙ্গে জুমআর মর্যাদা ও ফজিলতে মুমিন রোজাদারের আমল ও হৃদয় হোক আলোকিত।

জুমআর নামাজের মর্যাদা সম্পর্কে হজরত সামুরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, `তোমরা জুমআর নামাজে উপস্থিত হও এবং ইমামের কাছাকাছি হয়ে দাঁড়াও। কেননা যে ব্যক্তি জুমআর নামাজে সবার পেছনে উপস্থিত হবে, জান্নাতে প্রবেশ ক্ষেত্রেও সে সবার পিছনেই পড়ে থাকবে।` (মুসনাদে আহমদ)

মুসলিম উম্মাহর কাছে জুমআর দিনটি সপ্তাহিক ইবাদতের দিন এবং ঈদ হিসেবে গণ্য। এ দিনের ফজিলত এমনিতেই বেশি। তবে রমজানের শেষ দশকে হওয়ার কারণে এ জুমআর সঙ্গে শেষ দশকের ফজিলতও যোগ হয়েছে। জুমআর ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সূর্যোদয় হওয়ার সবগুলো দিনের মধ্যে সর্বাপেক্ষা উত্তম ও শ্রেষ্ঠ হলো জুমআর দিন। এই জুমআর দিনেই হজরত আদম আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন এবং জুমআর দিনই তাকে জান্নাত দান করেন এবং জুমআর দিনেই তাকে জান্নাত থেকে এই দুনিয়ায় প্রেরণ করেন এবং কেয়ামতও এই জুমআর দিনেই অনুষ্ঠিত হবে। (মুসলিম)।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে রমজানের শেষ জুমআ আদায়ের মাধ্যমে নিজেদের বিগত জীবনের সব গোনাহ থেকে মুক্তি লাভের তাওফিক দান করুন। জুমআর ফজিলত ও মর্যাদাকে রমজনের ফজিলতের সঙ্গে বাড়িয়ে মুমিনের সব আমলকে কবুল করার মাধ্যমে তাদের হৃদয়ে হেদায়েতের আলোতে ভরপুর করে দিন। আমিন।

শবে কদরের আলামত ও ফজিলত
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

আল্লাহ তায়ালা তাঁর প্রিয়তম হাবিবের উম্মতদের জন্য বিশেষ কিছু রাত উপহার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, যে রাতগুলো অন্যান্য রাতের মতো সাধারণ নয়। আল্লাহ তায়ালা এবং তাঁর হাবিবের ঘোষণা অনুসারে এ রাত হয়ে উঠেছে অসাধারণ। হাদিসের মধ্যে অসাধারণ মর্যাদাসম্পন্ন যে পাঁচটি রাতের কথা বলা হয়েছে তন্মধ্যে অন্যতম একটি ‘শবে কদর’। ‘অন্যতম’ এই অর্থে যে, এ রাতের মর্যাদা-ফজিলত সম্পর্কে ইসলামের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়কে উপলক্ষ করে যত দল-মত রয়েছে সকলেই বিনা বাক্যে এ রাতের মর্যাদার আলোচনায় একমত পোষণ করেন। ‘শব’ শব্দটি ফারসি। এর অর্থ রাত আর ‘কদর’ শব্দটি নিয়েছি সরাসরি কুরআন থেকে, যার অর্থ সম্মান। পারিভাষিক অর্থে ‘শবে কদর’ মানে, সম্মানিত রাত, মর্যাদাসম্পন্ন রজনী। অর্থাৎ, এ রাতকে আল্লাহ তায়ালা সম্মানিত করেছেন, মর্যাদার মাধ্যমে অনন্য করেছেন।

সূরা বাকারায় রমজানের পরিচয় দিতে গিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, রমজান এমন একটি মাস যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে”। (বাকারা : ১৮৫) প্রশ্ন হলো, কুরআন কি আল্লাহ তায়ালা পুরো রমজান জুড়ে নাযিল করেছেন না নির্দিষ্ট কোনো রাতে? সূরা কদরের মধ্যে এ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর বিদ্যমান। কদরের প্রথম আয়াত: “নিশ্চয়ই আমি এটিকে নাযিল করেছি লাইলাতুল কদরে। আর কুরআন নাযিলের কারণেই আল্লাহ তায়ালা লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের মর্যাদা এতো বাড়িয়েছেন। এখন কোন রাতকে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হিসেবে গণ্য করা হয়?

 

রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, তোমরা রমজানের শেষ-দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। (বুখারী : ২০২০) শেষ-দশক মানে কি প্রতিদিন তালাশ করতে হবে? রাহমাতুল্লিল আলামীন নবী আমাদের জন্য আরও সহজ করেছেন এভাবে, তোমরা রমজানের শেষ-দশকের বেজোড় রাত সমূহে লাইলাতুল কদর তালাশ করো। (বুখারী : ২০১৭)অর্থাৎ, ২১-২৩-২৫-২৭-২৯ এ পাঁচটি রাতের মধ্যে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরের তালাশ কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। এখানে ‘তালাশ’ মানে হচ্ছে, ইবাদতের মাধ্যমে এ মহিমান্বিত রজনীর সদ্ব্যবহার করা, অফার লুফে 

নেওয়া। আমাদেরকে যদি শবে কদরের বরকত হাসিল করতে হয় বিশেষ সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে হয় তাহলে অবশ্যই রমজানের শেষ-দশকের পাঁচটি বেজোড় রাত্রিতে একনিষ্ঠতার সহিত ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকতে হবে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ২৭ রমজান যেভাবে আমরা মুসলমানগণ আনুষ্ঠানিক ভাবে শবে কদর পালন করে থাকি তার ভিত্তি কী? দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতের পেরেশানী লঘু করার জন্য এ রাতের ব্যাপারে আরও নির্দিষ্ট করে বলছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ যদি অক্ষম হয় বা দুর্বল থাকে তাহলে সে যেন ২৭ রমজানের রজনীকে লাইলাতুল কদর বলে বিবেচনা করে ইবাদত করে”। (মুসলিম : ১১৬৫) হযরত উবাই ইবনে কা’ব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, “রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে ২৭ রমজানকে লাইলাতুল কদর বিবেচনা করে ইবাদত করতে বলেছেন”। অতএব, হাদিসের ভাষ্যানুসারে ২৭ রমজান যেহেতু লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হবার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি সেজন্যই আমরা ২৭ রমজান রজনীতে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকি। যে রাতে লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হবে তার আরও কয়েকটি আলামত হাদিস শরীফে এসেছে:

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

১. আকাশ মেঘমুক্ত ও উজ্জ্বল থাকবে। (তিরমিযি)
২. ঠাণ্ডা ও গরমের মাঝামাঝি তথা নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া থাকবে। (তিরমিযি)
৩. রাতগত দিনে সূর্য উদিত হবে আলোক-রশ্মীহীন অবস্থায়, অর্থাৎ সূর্যের চিরচেনা তেজবিহীন অবস্থায়। (মুসলিম, সহিহ ইবনে খুযায়মা) 

এ রাতের ফজিলত সম্পর্কে বলতে গেলে সর্ব প্রথম বলতে হয় সূরা কদরের কথা। যে সূরাতে শবে কদরের মর্যাদা খুঁজে পেতে একটুও বেগ পেতে হয়না। করুণাময় প্রভু এ রাতের পরিচয় দিচ্ছেন এভাবে, “লাইলাতুল কদর হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম”। এ পরিচয়ের পর আরও বিস্তৃত বর্ণনায় আল্লাহ তায়ালা বলছেন, “এ রাতে ফেরেশতারা এবং জিবরাইল তাঁদের রবের অনুমতি ক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে (পৃথিবীতে) অবতরণ করে ; আর ফজরের সময়কাল পর্যন্ত এ শান্তিপূর্ণ রজনীর দৈর্ঘ্য”। সূরা কদর যতবার পড়া হয় এ রাতের মর্যাদা যেন তত অন্তরঙ্গ-আলোয় উপলব্ধি হয়। যে রাত ‘হাজার মাসের চেয়ে উত্তম’ সে রাতকে ইবাদত-বন্দেগীতে পূর্ণ করাই যেন তাঁর প্রতি আমাদের যথার্থ সম্মানের বহিঃপ্রকাশ।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঘোষণা করেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াব লাভের আশায় লাইলাতুল কদরে রাত জেগে নফল নামায আদায় করবে, ইবাদত করবে তার পূর্বের সমস্ত সগীরা গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে”। (বুখারী : ১৯০১) ইবনে মাজাহ নামক হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত রয়েছে, প্রিয় নবী সাবধান করে দিয়ে বলেন, “যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর থেকে বঞ্চিত হলো সে যেন সমগ্র কল্যাণ থেকে পরিপূর্ণ বঞ্চিতহলো”।আবু দাউদ নামক হাদিস গ্রন্থে রয়েছে, রাসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর পেলো কিন্তু ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করতে পারলোনা তার মতো হতভাগা-বদ নসিব আর কেউ নেই”। আম্মাজান হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা নবীজিকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি যদি লাইলাতুল কদর পেয়ে যাই তাহলে কোন দোয়া পড়বো?”নবীজি বললেন, “তুমি পড়বে আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি ইয়া গাফুর”, অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, আমাকেও ক্ষমা করুন। (তিরমিযি : ৩৫১)

এ রাত যেহেতু কুরআন নাযিলের কারণে মর্যাদা সম্পন্ন হয়েছে তাই এ রাতে আমাদের নামায, জিকির, তাসবিহ ইত্যাদির পাশাপাশি কুরআন তেলাওয়াত করাও উচিত হবে। হাজার মাসের ইবাদত একরাতে সম্পন্ন করার যে দুর্লভ সুযোগ আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দান করেছেন তার সদ্ব্যবহার করতে লাইলাতুল কদর বা শবে কদরে সারা রাত ব্যাপী ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকা অপরিহার্য। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে পবিত্র শবে কদরের পূর্ণ বরকত হাসিল করার তৌফিক দান করুক, আমিন।

শারীরিক সুস্থতায় রোজার কার্যকরীতা
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

রমজানের রোজা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যেমন উত্তম, তেমন শারীরিক সুস্থতার জন্য কার্যকরী একটি ব্যবস্থাপনা।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সাহরি এবং ইফতারে পরিমিত খাবার খান।

অতি ভোজন এড়িয়ে চলেন, তারা রোজা রাখার ফলে শুধু শারীরিকভাবেই উপকৃত হন না, বরং মানসিকভাবেও প্রশান্তি ও প্রফুল্লতা অনুভব করতে থাকেন।

বিশ্বজগতের মহান চিকিৎসক হজরত মোহাম্মদ মুস্তফা (সা.) বলেছেন, প্রতিটি বস্তুর জাকাত আছে; শরীরের জাকাত রোজা। অতএব, আমাদের রোজা রাখা উচিত।

রোজা রাখার ক্ষেত্রে কয়েকটি সহজ ফর্মূলা যদি অনুসরণ করা হয়, তাহলে রোজার সমস্ত উপকার এবং কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব।

আমরা জানি, শরীরের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং শিরা-উপশিরাগুলো সচল রাখতে খাবারের প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু এই খাবারই যদি নিয়মিত এবং পরিমিত না হয়, তাহলে শরীরে শক্তি জোগানোর পরিবর্তে রোগ সৃষ্টি করে।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে, অসময়ে, অসম ভক্ষণ, হজম প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে । চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এ ব্যাপারে একমত যে, শরীরের অধিকাংশ রোগ সৃষ্টি হয় অস্বাভাবিক খাদ্য গ্রহণের কারণে।

আশ্চর্যের বিষয় হল, এই রোগের উপসর্গ ও কারণগুলো নবীজী (সা.) বহু শতাব্দী পূর্বেই বলে গেছেন। তিনি বলেন, রোগের কেন্দ্রবিন্দু হল পেট, অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাস এড়িয়ে চলা রোগের আরোগ্যতা।

এই বিবেচনায় রোজা আমাদের আধ্যাত্মিক ও শারীরিকভাবে কিছু বিষয় পরিত্যাগ করার শিক্ষা দেয়।

বছরব্যাপী অপরিমিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে শরীরে যে অতিরিক্ত মেদ জমে থাকে তা রোজা রাখার ফলে দূরীভূত হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের শরীরে এইচডিএল (high-density lipoprotein) এবং এলডিএল (low-density lipoprotein) পাওয়া যায়।

এইচডিএল এমন ফ্যাট, যা বহু রোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করে এবং এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে মোটেও ক্ষতিকারক নয়। রোজা রাখার ফলে এইচডিএলের পরিমাণ বহুগুণে বেড়ে যায়। বিপরীতে এলডিএল, যা মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে চরম ক্ষতিকারক।

রোজা রাখার ফলে এটা হ্রাস পেতে থাকে এবং রক্ত সঞ্চালনের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকত্ব এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো বিভিন্ন রোগ থেকে আমাদের রক্ষা করে।

রোজা রাখার ফলে ইউরিক অ্যাসিড এবং রক্তের ইউরিয়ার ঝুঁকিও হ্রাস পায়। যা শরীরে অধিক পরিমাণে বিদ্যমান থাকলে স্ট্রোক, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগের কারণ হয়ে থাকে।

আসল কথা হল রোজা কেবল সারাদিন উপোস থেকে নির্ধারিত সময়ে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণের নাম নয়। বরং এর দ্বারা আল্লাহ তায়ালা শারীরিক বহুবিধ রোগব্যাধি থেকেও আমাদের রক্ষা করেন।

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের মতে ১৬-১৭ ঘণ্টা ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত থাকার ফলে শরীরের অঙ্গগুলো স্বাভাবিক হতে থাকে এবং পাচনতন্ত্রের উন্নতি হয় এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল রোগ, যেমন- গ্যাস, বদহজম, লিভারের রোগ, জয়েন্টে ব্যথার ঝুঁকি ইত্যাদি কমে যায়।

কিন্তু আমাদের দেশের মানুষেরা না জানার কারণে কিংবা অসতর্কতাবসত সাহরি ও ইফতারে অপরিমিত খাবার খেয়ে থাকেন। যা রোগব্যাধি হ্রাসের পরিবর্তে বাড়ার দিকে ধাবিত করে।

সাহরি ও ইফতার রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আমরা যদি এটিকে সুন্নাত অনুসারে পালন করি তবে তা কেবল শারীরের পক্ষেই ভালো নয় বরং প্রভূত কল্যাণ ও পুরস্কার লাভের কারণও হয়ে থাকে।

সময় মতো সাহরি খাওয়া যেমন সুন্নত তেমন সময় মতো ইফতার করাও সুন্নত। নবীজী (সা.) এমনই করতেন। তিনি বলেন, তোমরা সাহরি খাও; কারণ এতে বরকত রয়েছে । খেজুর দিয়ে ইফতার করা নবীজীর (সা.) সুন্নত।

আধুনিক গবেষণা অনুসারে, খেজুরে ভিটামিন এ, বি, সি এবং ডির পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, স্টিল, ফসফরাস এবং আরও অনেক দরকারী খনিজ রয়েছে যা কেবল হৃদ, মস্তিষ্ক, লিভার, পেট এবং স্নায়ুকেই মজবুত করে না, বরং শরীরে প্রচুর পরিমাণে শক্তিও সঞ্চার করে।

গ্রীষ্মকালের রোজায় আপনি যদি তৃষ্ণার্ত বোধ করেন, তাহলে প্রাচীন চিকিৎসকদের গবেষণা অনুসারে আপনি যদি সাহরির সময় ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দু’চামচ খাঁটি মধু পানির সঙ্গে মিশিয়ে পান করেন তাহলে আপনি সারা দিন প্রশান্ত থাকবেন। পানির তৃষ্ণা কম হবে।

কারণ মধুর মতো বরকতময় খাবার এবং চিকিৎসা মাল্টিভিটামিনের খনিজ হওয়ার কারণে এটি রোজার সময় শারীরিক শক্তি পুনরুদ্ধার করে থাকে।

মক্কা-মদিনা লকডাউন
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আরো গভীর হচ্ছে সৌদি আরবে। দেশটিতে প্রায় দশ দিন ধরে জারি রয়েছে সান্ধ্য কারফিউ। কিন্তু করোনা রোগী বেড়ে যাওয়ায় মক্কা ও মদিনায় ২৪ ঘণ্টার পূর্ণকালীন কারফিউ জারি করেছে সৌদি। এর ফলে এই পবিত্র নগরী সম্পূর্ণ লকডাউন করা হলো।

সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুরো পবিত্র মক্কা ও মদীনা নগরী আজ (বৃহস্পতিবার) হতে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত পূর্ণকালীন (২৪ ঘন্টা ব্যাপী) কারফিউ ও লক ডাউনের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই দুই নগরী হতে বের হওয়া বা এতে প্রবেশ করা সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ থাকবে।

এসময় এই দুই নগরীতে যার যার বাসস্থান থেকে বের হওয়া সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ থাকবে। তবে একান্ত জরুরী চিকিৎসা সেবা ও জরুরী খাদ্যদ্রব্য কেনাকাটা ও জরুরী ব্যাংকিং সেবার জন্য যার যার নির্দিষ্ট বসতি এলাকার ভেতরে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে (সকাল ছয়টা হতে বিকেল তিনটার মধ্যে) বের হওয়া যাবে। শুধু প্রাপ্ত বয়স্করা বের হতে পারবেন। বের হতে হলে প্রতি গাড়িতে ড্রাইভারসহ আরেকজন অর্থাৎ মাত্র দুইজন বের হতে পারবেন।

গ্রোসারি শপ/ তামউইনাত , ফার্মেসী, ফিলিং স্টেশন ও ব্যাংক ছাড়া সকল প্রকার ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে। যত বড় পদধারী ব্যক্তি হোক না কেন কারফিউ আইন ভংগ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একইভাবে পূর্বে যাদেরকে কাজের স্বার্থে কারফিউর আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল তারা এসব এলাকায় অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিতভাবে চলাফেরা করতে পারবে। এই নির্দেশনা জনস্বার্থ বিবেচনায় জারি করা হয়েছে।

সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮৮৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের।

কোয়ারেন্টাইন ধারণা মহানবীর: মার্কিন গবেষক
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নিয়েছে সংক্রমিত করোনাভাইরাস। এর থেকে বাঁচতে কোয়ারেন্টাইন (জনবিচ্ছিন্ন) হয়ে ঘরে বন্দি হয়ে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষেজ্ঞরা। করোনাভাইরাস মহামারি রুখতে এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু মহামারিতে এই কোয়ারেন্টাইনের ধারণা সর্বপ্রথম যিনি দিয়েছিলেন তিনি হলেন মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)।

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থিত রাইস ইউনিভার্সিটির গবেষক এবং আন্তর্জাতিক বক্তা ড. ক্রেইগ কন্সিডাইন তার লেখায় এমনটি উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গবেষণা ও সংবাদভিত্তিক ম্যাগাজিন নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে এমনটি বলা হয়েছে।

ইমিউনোলজিস্ট ডা. অ্যান্থনি ফসি এবং মেডিকেল রিপোর্টার ডা. সঞ্জয় গুপ্তের মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি সুন্দর ব্যবস্থাপনায় হোম কোয়ারেন্টাইন থাকতে। একই সঙ্গে সুস্থ লোকদের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, এসব উপায়ই করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) থেকে বেঁচে থাকার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম।

মার্কিন গবেষক ড. ক্রেইগ কন্সিডাইন লিখেছেন, আপনারা কি জানেন মহামারির সময়ে সর্বপ্রথম কে এই সবচেয়ে ভালো কোয়ারেন্টাইনের উদ্ভাবন করেছেন? আজ থেকে প্রায় ১৩শ বছর আগে ইসলাম ধর্মের নবী হযরত মোহাম্মাদ (সা.) পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম কোয়ারেন্টাইনের ধারণা দেন। যদিও তার সময়ে সংক্রামণ রোগের মতো কোনো বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। তারপরেও তিনি এসব রোগব্যাধিতে তার অনুসারীদের যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা ছিল কভিড-১৯ এর মতো প্রাণঘাতী রোগ মোকাবেলায় দুর্দান্ত পরামর্শ। তার সেই পরামর্শ মানলেই করোনার মতো যেকোনো মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ (স.) কথা উল্লেখ করে ওই গবেষক লেখেন, ‘মোহাম্মাদ বলেছেন, যখন তুমি কোনো ভূখণ্ডে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ার খবর শুনতে পাও তখন সেখানে প্রবেশ করো না। পক্ষান্তরে প্লেগ যদি তোমার অবস্থানস্থল পর্যন্ত পৌঁছে যায় তাহলে ওই জায়গা ত্যাগ কোরো না।’ তিনি আরও বলেছেন, যারা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে তাদের সুস্থ মানুষ থেকে দূরে থাকতে হবে।’

এভাবে বিভিন্ন সময়ে মানব জাতিকে সংক্রামণ থেকে রক্ষা করতে মোহাম্মাদ (সা.) রোগব্যাধিতে আক্রান্ত লোকদের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও উদ্বুদ্ধ করতেন। এ ব্যাপারে তার অমূল্য বাণীগুলো হচ্ছে- ‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।’ ‘ঘুম থেকে ওঠার পরে হাত ধৌত করো। কেননা ঘুমের সময় তোমার হাত কোথায় স্পর্শ করেছে তা তুমি জান না।’ ‘খাওয়ার আগে ও পরে হাত ধোয়ার মধ্যে বরকত রয়েছে।’ ইত্যাদি।

সবচেয়ে বড় কথা, মোহাম্মাদ (সা.) এটা বলেননি যে, শুধু তুমি প্রার্থনা করে বসে থাকবে। বরং তুমি প্রার্থনার পাশাপাশি চিকিৎসা নেবে। সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা পেতে মৌলিক নিয়মগুলি মেনে চলবে।

এর উদাহরণ হিসেবে মোহাম্মাদ (সা.)-এর সময়ের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন মার্কিন গবেষক। তিনি তিরমিজি শরিফের বরাত দিয়ে লিখেন, ‘একদিন, মোহাম্মাদ এক বেদুইনকে লক্ষ্য করলেন যে, সে তার উটটি না বেঁধে চলে যাচ্ছে। তখন তিনি বেদুইনকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুমি তোমার উটটি বেঁধে রাখছো না কেন?’ জবাবে বেদুইন বললো, ‘আমি ইশ্বরের (আল্লাহ) উপর ভরসা রেখেছি।’ তখন নবী বললেন, ‘তোমার উটটি আগে বেঁধে রাখ, তারপর আল্লাহ উপর আস্থা রাখ।’

মোহাম্মাদ (সা.) ধর্মীয় ক্ষেত্রে যেমন অবদান রেখে অমর হয়ে আছেন। ঠিক তেমনই মানুষের জীবনযাপন বিষয়ক মহামূল্যবান যে পরামর্শ তিনি দিয়ে গেছেন তা আজও অনুকরণীয়।

আজ পবিত্র শবে মেরাজ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

পবিত্র শবে মেরাজ আজ। আরবি শব্দ ‘লাইলাতুল’ অর্থ রাত, আর ‘মেরাজ’ অর্থ ঊর্ধ্বগমন। মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব দিবাগত রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.) আল্লাহ তায়ালার সাক্ষাৎ লাভ করেছিলেন।

এই রাতেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা শরিফ থেকে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে সপ্তম আসমান পেরিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাক্ষাৎ লাভ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসেন। পৃথিবীতে ফিরে রাসুল (সা.) পুরো ঘটনা হযরত আবু বকর (রা.)-এর কাছে বর্ণনা করেন। মক্কার কাফেররা রাসুল (সা.) মেরাজের ঘটনাকে অবিশ্বাস করলেও তিনি নিঃসংশয়ে তা বিশ্বাস করেন। রাসুল (সা.) তাকে সিদ্দিকি বা বিশ্বাসী খেতাব দেন। লাইলাতুল মেরাজ মুসলমানদের কাছে বিশেষ মর্যাদার। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল ইবাদত বন্দেগির মধ্য দিয়ে এই মূল্যবান রাত কাটান। অনেকে নফল রোজাও রাখেন এ দিন।

মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববীতে নিষেধাজ্ঞা
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

সারা বিশ্বের ইসলাম অনুসারিদের প্রিয় মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীতে সাধারণ মুসল্লিদের উপস্থিতি সাময়িক স্হগিত করা হয়েছে। পবিত্র হারামাইন কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র হানি বিন হোসনি হায়দার বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ করোনার বিস্তৃতি রোধে গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আজ শক্রবার থেকে এই স্হগিতাদেশ জারি করেছে ।

তিনি হারামাইনের উদ্দেশ্যে আসা মুসলিমদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে এই নির্দেশ মেনে চলার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান। তিনি আরো বলেন হারামাইন কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিভাগসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে ভবিষ্যতে কিভাবে হারামাইনকে তার মুসল্লীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর করে প্রস্তুত করা যায় সেই লক্ষে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। মসজিদ দুইটিতে পাঁচ ওয়াক্ত আজান এবং জামায়াতে নামাজ অব্যাহত থাকবে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং কর্মরতদের নিয়ে। এর আগে মসজিদে নববীর গাড়ী পার্কিং বন্ধ করা হয়েছে ।

 

এই দিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে আগামীকাল শনিবার থেকে সৌদির অভ্যন্তরীণ সমস্ত রুটে বিমান, বাস, ট্যাক্সি ও ট্রেন চলাচল ১৪ দিনের জন্য বন্ধ থাকবে ।

অন্যদিকে একই দিন জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া এক ভাষনে সৌদি বাদশাহ দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম, সালমান বিন আব্দুল আজিজ বিন সউদ বলেছেন, আমরা এখন কঠিন দিন পার করছি, সামনে আরো কঠিনতম সময় আসছে। মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা দেওয়া আমার প্রথম অগ্রাধিকার ।

তিনি বলেন, সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রিয় নাগরিক এবং রেসিডেন্টগন ( মহান আল্লাহ আপনাদের সুস্থ ও নিরাপদে রাখুক) নিশ্চয় আমরা ইতিহাসের এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই সময় চলে যাবে এবং সুদিন আসবে ইনশাআল্লাহ।
আপনাদের প্রিয় এই দেশের পক্ষ হতে বৈশ্বিক মহামারিকে (করোনাভাইরাস) মোকাবেলা করার জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আমি আপনাদের নিশ্চিত করতে চাই যে এই পবিত্র ভূমি আপনাদের ঔষধ চিকিৎসা ও খাদ্যের পর্যাপ্ত পরিমাণ ব্যবস্থা করছে। সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান অবশ্যই তাদের সর্বাগ্রে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রত্যেকটি নাগরিক এবং অভিবাসীদের চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান সহ এই ক্ষেত্র সমূহে সম্পৃক্ত সকলকে আমি আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।

তাছাড়া স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বৃহস্পতিবার সৌদিতে নতুন করে ৩৬ জন করোনাভাইরাসের আক্রান্ত চিহ্নিত করা হয়েছে, এইনিয়ে সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ শত ৭৪ জন। তবে, স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন করে আক্রান্ত ১৭ জন মরক্কো, স্পেন, ইরান, ব্রিটেন, পাকিস্তান, ভারত, ইরাক, কুয়েত, আমেরিকা এবং মিশর থেকে আসা । ১৯ জন তাদের সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তি । এই পর্যন্ত মোট আটজন করোনা রোগী সুস্হ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। পূর্বের একজন বাংলাদেশী আক্রান্ত হওয়া ছাড়া নতুন করে কোন বাংলাদেশী আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবে কোন করোনা রোগী মারা যায়নি ।

মন্ত্রণালয় জনসাধারণকে সরকারের অফিসিয়াল উৎস থেকে তথ্য নেওয়ার এবং গুজবে বিশ্বাস না করার জন্য আহবান জানান ।

করোনা থেকে মুক্তির জন্য আজ দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস মহামারী আকার ধারণ করেছে। এ পরিস্থিতিতে করোনাভাইরাস থেকে মুক্তির জন্য শুক্রবার মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)।

ইফার সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ নিজামউদ্দিনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানানো হয়।

গত ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে এই প্রাণঘাতি ভাইরাস করোনার প্রচণ্ড হানায় বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলছে। ভাইরাসটির কারণে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ২৮৫ জনের প্রাণহানীর খবর পাওয়া গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ হাজার ৩৮২ জন। এর মধ্যে চীনে মোট মৃত্যুর সংখ্যা তিন হাজার পেরিয়েছে। নতুন করে মৃত্যু হয়েছে ৩১ জনের। এ ছাড়া দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৪০৯ জনে। এর মধ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৯ জন।

বিবিসি বলছে, চীনের চেয়ে এখন চীনের বাইরে এ ভাইরাস ছড়াচ্ছে দ্রুতগতিতে। তবে অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রে কেবল মৃদু উপসর্গ দেখা যাচ্ছে।

এদিকে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের উচ্চঝুঁকিতে বাংলাদেশ রয়েছে বলে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। বুধবার দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশসহ ২৫টি দেশ উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে এসব দেশের জন্য ৩ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জরুরি তহবিলের অঙ্গীকার করা হয়।

পবিত্র শবে মেরাজ ২২শে মার্চ
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

দেশের কোথাও রজব মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই আগামী ২২শে মার্চ পবিত্র শবে মেরাজ পালন করা হবে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি শেখ মো. আব্দুল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু: আ: হামিদ জমাদ্দার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো: মুশফিকুর রহমান, তথ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব এস. এম. মাহফুজুল হক, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সচিব কাজী নূরুল ইসলাম,ওয়াক্ফপ্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম. হুমায়ুন কবির সরকার, সিনিয়র উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো: শাহেনুর মিয়া, বাংলাদেশ টেলিভিশনের পরিচালক(প্রশাসন)মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন জুয়েল, বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানআবু মোহাম্মদ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক মো: আবদুর রহমান, ঢাকা জেলারসিনিয়র সহকারি কমিশনার হাসান মারুফ, বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতীব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান ও লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব মুফতি মো: নেয়ামতুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সভায় বিশেষজ্ঞ আলেম-ওলামা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নবুওয়াত লাভের একাদশ বর্ষের রজব মাসের ২৬ তারিখ দিনগত রাতে আল্লাহর বিশেষ মেহমান হিসেবে আরশে আজিমে আরোহণ করেন। তিনি আল্লাহ তায়ালার দিদার লাভ করেন এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের হুকুম নিয়ে দুনিয়ায় প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি অবলোকন করেন সৃষ্টিজগতের সমস্ত কিছুর অপার রহস্য।
মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনের সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা ‘মিরাজ’।

হযরত মুহাম্মদ ছাড়া অন্য কোনো নবী এই পরম সৌভাগ্য লাভ করতে পারেননি। এ মেরাজ রজনীতেই মানবজাতির শ্রেষ্ঠ ইবাদত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। এজন্য মুসলিম ধর্মালম্বীদের কাছে মিরাজের তাৎপর্য অনেক গুরুত্ব বহন করে।

ইন্দোনেশিয়ায় একসঙ্গে ৩০০ নারী-পুরুষের ইসলাম গ্রহণ
                                  

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে তাওতাওয়ানা উপজাতির ৩০০ নারী-পুরুষ একসঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার সুলাওসি দ্বীপের এসব অধিবাসী ৮ হাজার বছরের পুরনো পুনরুজ্জীবন মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন।

গত শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার সুলাওসি দ্বীপের উত্তর মোরওয়ালির আল ফোরকান মসজিদে জুমাআর নামাজের পর কালেমা পাঠ করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন এসব মানুষ।

আল-জাজিরার শনিবারের আরবি প্রতিবেদনের তথ্যে এ কথা জানা যায়। সেখানে বলা হয়, ৩০০ নওমুসলিমের সকলেই পুনরুজ্জীবন মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন। এসব নওমুসলিম তাওতাওয়ানা উপজাতীর সদস্য ছিলেন। তারা মধ্য সুলাওসি দ্বীপের টোকালা পর্বতের বাসিন্দা।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির তথ্যে উঠে এসেছে, শুক্রবার আল-ফোরকান মসজিদে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিতে ৩০০ মানুষ একত্রিত হন। ইসলাম গ্রহণের আগে তাদেরকে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়াবলি সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়। তাদের মাঝে ইসলামের সৌন্দর্যগুলো তুলে ধরা হয়। এরপরই তারা সম্মিলিত কণ্ঠে কালেমায়ে শাহাদাত পড়ে ইসলাম গ্রহণ করেন।

উল্লেখ্য, সুলাওসি দ্বীপের টোকালা পর্বতে বসবাসকারী তাওতাওয়ানা উপজাতির এসব মানুষ দীর্ঘ ৮ হাজার বছর যাবত পুনরুজ্জীবন মতবাদে বিশ্বাস স্থাপন করে আসছিলেন বলে জানা যায়।

কোরআনের ভাষায় অভিশপ্ত যারা
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

ভালো-মন্দ দুটোই আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করেছেন। তবে ভালো কাজ করতে তিনি বান্দাদের আদেশ দিয়েছেন। মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। কিছু মন্দ কাজ খুবই নিকৃষ্টমানের। এসব কাজ যারা করে আল্লাহ তাদের প্রতি লানত করেছেন; তাদের ধ্বংস কামনা করেছেন। কোরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তাআলা সেসব মানুষের বিবরণ দিয়েছেন।



কোরআনের ভাষায় অভিশপ্ত যারা

কোরআনের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অভিশপ্তদের একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো :

ক. কাফির

খ. আল্লাহর কিতাব বিকৃতকারী

গ. মিথ্যুক

ঘ. সত্য ও ইসলামের প্রমাণ গোপনকারী

ঙ. মুনাফিক

চ. অত্যাচারী

ছ. আল্লাহর ব্যাপারে অপবাদদাতা

জ. আল্লাহর অঙ্গীকার ভঙ্গকারী

ঝ. সম্মানিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো এবং অপবাদ দেওয়া

ঞ. আল্লাহ ও রাসুলের অসন্তুষ্টিজনক কথা বলা

ট. আল্লাহর ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণ করা।

এই তালিকা দেখে নির্দ্বিধায় বলা যায়, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করে তাদের জন্যই আল্লাহর অভিশাপ নির্দিষ্ট নয়। বরং মিথ্যুক, প্রতারক, মুনাফিক ও আল্লাহর ব্যাপারে খারাপ ধারণা পোষণকারীদের জন্যও তা প্রযোজ্য। তাদের পরিণামও হবে ভয়াবহ।



অভিশপ্তদের পরিণাম

আল্লাহ যাদের অভিশাপ দিয়েছেন তাদের নিকৃষ্ট পরিণতির কথা কোরআনে তিনি উল্লেখ করেছেন। পার্থিব জীবনে আল্লাহ তাদের সাহায্য করবেন না। পরকালে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি এবং নিকৃষ্ট পরিণাম। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘এরাই তারা, যাদের আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন। আল্লাহ যাকে অভিশাপ দেন কখনো তুমি তার কোনো সাহায্যকারী পাবে না।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৫২)

তিনি আরো বলেন, ‘আল্লাহ তাদের প্রতি রুষ্ট হয়েছেন। তাদের অভিশাপ দিয়েছেন। তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন জাহান্নাম। তা কত নিকৃষ্ট আবাসস্থল!’ (সুরা : ফাতহ, আয়াত: ৬)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম। তোমার কোনো সাহায্যকারী নেই।’ (সুরা : জাসিয়া, আয়াত : ৩৪)

আরো ইরশাদ হচ্ছে, ‘তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ। তাদের জন্য রয়েছে নিকৃষ্ট আবাস।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ৫২)

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আল্লাহ তাদের দুনিয়া-আখিরাতে অভিশপ্ত করেন। তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত: ৫৭)

অন্য আয়াতে বলেন, ‘তাদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন জ্বলন্ত আগুন।’ (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৬৪)



অভিশপ্ত হওয়ার কারণ

কুফর : আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অস্বীকার করার নাম কুফর। কাফিরদের জন্য রয়েছে আল্লাহর অভিশাপ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা কুফরি করে এবং কাফিররূপে মারা যায় তাদের প্রতি আল্লাহ, সব ফেরেশতা ও মানুষের অভিশাপ।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৬১)

মিথ্যাবাদিতা : মিথ্যা কথা বলা খুবই জঘন্য কাজ। মিথ্যুকদের আল্লাহর অভিশাপ অনিবার্য। আল্লাহ বলেন, ‘তোমার কাছে জ্ঞান আসার পর যে ব্যক্তি এ বিষয়ে তোমার সঙ্গে তর্ক করে তাকে বলো, এসো, আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রদের এবং তোমাদের পুত্রদের, আমাদের নারীদের এবং তোমাদের নারীদের, আমাদের নিজেদের এবং তোমাদের নিজেদের। তারপর আমরা বিনীত আবেদন করি এবং মিথ্যুকদের দিই আল্লাহর অভিশাপ।’ (সুরা আলে-ইমরান, আয়াত : ৬১)

হত্যা ও খুনাখুনি : হত্যা ও খুনাখুনি আল্লাহ মোটেও পছন্দ করেন না। তাই তিনি হন্তারককে অভিশপ্ত বলেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘ইচ্ছা করে কেউ কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হবেন। তাকে অভিশাপ দেবেন। তার জন্য প্রস্তুত রাখবেন মহাশাস্তি।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৯৩)

বিশ্বাসঘাতকতা : বিশ্বাসঘাতকতা এক অমার্জনীয় অপরাধ—আল্লাহর কাছেও, মানুষের কাছেও। তাই বিশ্বাস ভঙ্গকারী অভিশপ্ত। আল্লাহ বলেন, ‘অঙ্গীকার ভাঙার জন্য আমি তাদের অভিশাপ দিয়েছি। তাদের হৃদয় কঠোর করেছি। তারা শব্দগুলোর আসল অর্থ বিকৃত করে। তাদের যা উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তার একাংশ তারা ভুলে গেছে। তাদের মধ্যে অল্পসংখ্যক ছাড়া সবাইকে তুমি সর্বদা বিশ্বাসঘাতকতা করতে দেখবে। তাদের ক্ষমা করো এবং উপেক্ষা করো। আল্লাহ সৎ লোকদের ভালোবাসেন।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ১৩)

মুনাফিকি : দুমুখো কপট মানুষ খুবই ইতর প্রকৃতির লোক। তাই মুখে ঈমান রেখে অন্তরে কুফরি গোপন করা মুনাফিকদের আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মুনাফিক নারী-পুরুষ ও কাফিরদের আল্লাহ জাহান্নামের আগুনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। সেটাই তাদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাদের অভিশাপ দিয়েছেন। তাদের জন্য রয়েছে স্থায়ী শাস্তি।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৬৮)

আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা : মানুষকে আল্লাহ সামাজিক জীব হিসেবেই সৃষ্টি করেছেন। সমাজের ভারসাম্য রক্ষায় এ বন্ধন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আত্মীয়-স্বজনের প্রতি সুসম্পর্ক বজায় রাখার তাগিদ ইসলামে অপরিসীম। তাই এ সম্পর্ক ছিন্ন করা অভিশপ্ত হওয়ার অন্যতম কারণ। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকার করার পর যারা তা ভাঙে, যে সম্পর্ক আল্লাহ অক্ষুণ্ন রাখতে আদেশ দিয়েছেন তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে, তাদের জন্য রয়েছে অভিশাপ এবং তাদের জন্য রয়েছে মন্দ নিবাস।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৫)

সাধ্বী নারীদের অপবাদ দেওয়া : নারীর অধিকার রক্ষায় ইসলাম কঠোর আইন প্রণয়ন করেছে। তাদের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলাকে ইসলামে অপরাধ সাব্যস্ত করা হয়েছে। যথাযথ প্রমাণ ছাড়া কোনো নারীর প্রতি কেউ অভিযোগের আঙুল তুললে তার জন্য শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। অপবাদদাতা ব্যক্তিকে আল্লাহ অভিশপ্ত ঘোষণা করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘সাধ্বী, সরলমনা ও ঈমানদার নারীদের প্রতি যারা অপবাদ দেয় তারা দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশপ্ত। তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ২৩)

রাসুল (সা.)-কে কষ্ট দেওয়া : শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর প্রিয়তম বান্দা। তাঁর অনন্য-অতুলনীয় আখলাক-শিষ্টাচারের নজির সৃষ্টির ইতিহাসে আর নেই। তাই তাঁর বিরুদ্ধে কথা বলা আল্লাহর অভিশাপ-অসন্তুষ্টির অন্যতম কারণ। আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ ও রাসুলকে যারা পীড়া দেয়, আল্লাহ তাদের দুনিয়া ও আখিরাতে অভিশাপ দেন। তাদের জন্য তিনি প্রস্তুত রেখেছেন লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি। (সুরা : আহজাব, আয়াত : ৫৭)

আল্লাহর অভিশাপ থেকে বাঁচতে হলে, জাহান্নামের কঠিন শাস্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে অবশ্যই এসব মন্দ কাজ পরিত্যাগ করতে হবে। নিজেকে রাঙাতে হবে ইসলামের আলোয়। আল্লাহ তাআলা আমাদের তাঁর অভিশাপ থেকে রক্ষা করুন। দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দিন। আমিন।

বৃষ্টি ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে দোয়া পড়বেন
                                  

ডেস্কঃ ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ো বাসাত থেকে মুক্ত থাকতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন। কেননা মহান আল্লাহই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়দাতা।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা বাতাসকে গালি দিও না। তবে যদি তোমরা একে তোমাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে দেখতে পাও, তবে এ দোয়া করবে-

اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْئَالُكَ مِنْ خَيْرِ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ خَيْرِ مَا فَيْهَا وَ خَيْرِمَا أُمِرَتْ بِهِ وَ نَعُوْذُبِكَ مِنْ شَرِّ هَذِهِ الرِّيْحِ وَ شَرِّ مَا فَيْهَا وَ شَرِّ مَا أُمِرَتْ بِهِ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্না নাসআলুকা মিন খাইরি হাজিহির রিহি ওয়া খাইরি মা ফিহা ওয়া খাইরি মা উমিরাত বিহি, ওয়া নাউজুবিকা মিন শাররি হাজিহির রিহি ওয়া শাররি মা ফিহা ওয়া শাররি মা উমিরাত বিহি’ (তিরমিজি, মিশকাত)

অর্থ : হে আল্লাহ! আমরা তোমার নিকট এ বাতাসের ভালো দিক, এতে যে কল্যাণ রয়েছে তা এবং যে উদ্দেশ্যে তা নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার উত্তম দিকটি প্রার্থনা করছি। এবং তোমার নিকট এর খারাপ দিক হতে, এতে যে অকল্যাণ রয়েছে তা হতে এবং এটা যে উদ্দেশ্যে আদেশপ্রাপ্ত হয়ে এসেছে তার মন্দ দিক হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

বিপদাপদ থেকে আত্ম-রক্ষায় প্রতিদিনের দোয়া
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় নিন্মোক্ত দোয়াটি পড়ে; তাকে কোনো বিপদাপদ ও বালা-মুছিবত স্পর্শ করবে না-
بِسْمِ اللهِ الَّذِيْ لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِيْ الْأَرْضِ وَلَا فِيْ السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيْعُ الُعَلِيْم
উচ্চারণ : ‘বিসমিল্লাহিল লাজি লা ইয়াদূররু মাআস মিহি শাইয়ুন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামিই ওয়াহুয়া সামিয়ুল আলিম।’ (তিরমিজি, ইবনু মাজাহ, মিশকাত)

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন, যেন তাঁর উম্মতকে দুর্যোগ ও বিপর্যয় দিয়ে এক সঙ্গে ধ্বংস করে দেয়া না হয়।

এ সব বিপদকালীন সময়ে বিশ্বনবি বেশি বেশি তাওবা ও ইসতেগফার করতেন এবং অন্যদেরকেও তা পড়তে নির্দেশ দিতেন।

সুতরাং মুসলিম উম্মাহর উচিত ঘূর্ণিঝড়, প্রবল ঝড়ো বাতাস ও বিপদ-আপদে উল্লেখিত দোয়া পড়া এবং বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঘূর্ণিঝড়ে হাদিসের শেখানো দোয়া পড়ার এবং বেশি বেশি তাওবা-ইসতেগফার করার তাওফিক দান করুন। আমিন।


   Page 1 of 2
     ইসলাম
পবিত্র আশুরার তাৎপর্য
.............................................................................................
কোরবানি দিতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের যা করা নিষেধ
.............................................................................................
আজ থেকে হজ নিবন্ধন শুরু
.............................................................................................
যে ৫টি সময়ে দোয়া কবুল করা হয়
.............................................................................................
পবিত্র জুমাতুল বিদা আজ
.............................................................................................
শবে কদরের আলামত ও ফজিলত
.............................................................................................
শারীরিক সুস্থতায় রোজার কার্যকরীতা
.............................................................................................
মক্কা-মদিনা লকডাউন
.............................................................................................
কোয়ারেন্টাইন ধারণা মহানবীর: মার্কিন গবেষক
.............................................................................................
আজ পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
মসজিদুল হারাম এবং মসজিদে নববীতে নিষেধাজ্ঞা
.............................................................................................
করোনা থেকে মুক্তির জন্য আজ দেশের সব মসজিদে বিশেষ দোয়া
.............................................................................................
পবিত্র শবে মেরাজ ২২শে মার্চ
.............................................................................................
ইন্দোনেশিয়ায় একসঙ্গে ৩০০ নারী-পুরুষের ইসলাম গ্রহণ
.............................................................................................
কোরআনের ভাষায় অভিশপ্ত যারা
.............................................................................................
বৃষ্টি ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে দোয়া পড়বেন
.............................................................................................
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা মঙ্গলবার
.............................................................................................
রূপগঞ্জে হজ্জ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
হাশরের ময়দানের উত্তাপ ও আতংক
.............................................................................................
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুরে ইসলামি সুন্নি মহা সম্মেলন ২০১৬ ইং অনুষ্ঠিত
.............................................................................................
৪ মে পবিত্র শবে মেরাজ
.............................................................................................
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত
.............................................................................................
বিশ্ব শান্তির আহবান।
.............................................................................................
মহা পবিত্র ওরশ শরীফ কংশপুর পাক দরবার শরীফ
.............................................................................................
সিদ্ধিরগঞ্জে শিমরাইল নূরে রহমানিয়া পাক দরবার শরীফের উদ্যোগে দুই দিন ব্যাপি বাৎসরিক সুন্নি সম্মেলনের প্রস্তুতি
.............................................................................................
জুমার দিনে ৮০ বছরের গুনাহ মাফের দোয়া
.............................................................................................
ঈমান ও ইসলাম সম্পর্কে রাসুল(স:)যা বলেছেন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ হাজী মোবারক হোসেন।। সহ-সম্পাদক : কাউসার আহম্মেদ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু।

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, মোবাইল : 01731190131, 01930226862, E-mail : mannannews0@gmail.com, mannan2015news@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- mannan dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop