| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   মুক্তিযুদ্ধ -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
অনলাইনে মিলবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ৩৮ সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সরকারের মাইগভ প্ল্যাটফরমের আওতায় র‌্যাপিড ডিজিটাইজেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৩৮টি সেবা ডিজিটাইজেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক একসঙ্গে এসব সেবা উদ্বোধন করেন। গতকাল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। ডিজিটাইজেশনের ফলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সেবা গ্রহীতারা নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্তকরণ, মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা
প্রাপ্তি, মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্য সংশোধনসহ প্রায় সব বিষয়ে অত্যন্ত সহজে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবার আবেদন, সেবাসংশ্লিষ্ট পেমেন্ট, সেবার অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম সেবা গ্রহীতা ৫টি এক্সেস পয়েন্টের মাধ্যমে (মাইগভ ওয়েব, মাইগভ অ্যাপ, ৩৩৩, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে) সম্পাদন করতে পারবেন।
রূপান্তরিত ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে সেবা গ্রহীতারা একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফরম থেকে জানতে পারবেন কোথায়/কীভাবে/কখন সংশ্লিষ্ট পরিষেবা পাওয়া যাবে। এর ফলে সেবা গ্রহীতা ও প্রদানকারী উভয়ের সময় ও অর্থের অপচয় কমে আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ অন্যদের মধ্যে এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবদুল মান্নান, এটুআইয়ের যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (ই-গভর্নেন্স) দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দেওয়ান মো. আবদুস সামাদ, এটুআইয়ের পলিসি উপদেষ্টা আনীর চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইনে মিলবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ৩৮ সেবা
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সরকারের মাইগভ প্ল্যাটফরমের আওতায় র‌্যাপিড ডিজিটাইজেশন কার্যক্রমের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৩৮টি সেবা ডিজিটাইজেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক একসঙ্গে এসব সেবা উদ্বোধন করেন। গতকাল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। ডিজিটাইজেশনের ফলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সেবা গ্রহীতারা নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্তকরণ, মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা
প্রাপ্তি, মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্য সংশোধনসহ প্রায় সব বিষয়ে অত্যন্ত সহজে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সেবার আবেদন, সেবাসংশ্লিষ্ট পেমেন্ট, সেবার অগ্রগতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দাখিল এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম সেবা গ্রহীতা ৫টি এক্সেস পয়েন্টের মাধ্যমে (মাইগভ ওয়েব, মাইগভ অ্যাপ, ৩৩৩, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে) সম্পাদন করতে পারবেন।
রূপান্তরিত ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে সেবা গ্রহীতারা একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফরম থেকে জানতে পারবেন কোথায়/কীভাবে/কখন সংশ্লিষ্ট পরিষেবা পাওয়া যাবে। এর ফলে সেবা গ্রহীতা ও প্রদানকারী উভয়ের সময় ও অর্থের অপচয় কমে আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এনএম জিয়াউল আলম। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষসহ অন্যদের মধ্যে এটুআইয়ের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আবদুল মান্নান, এটুআইয়ের যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব (ই-গভর্নেন্স) দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব দেওয়ান মো. আবদুস সামাদ, এটুআইয়ের পলিসি উপদেষ্টা আনীর চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বীর বিক্রম আব্দুল খালেক আর নেই
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৫০ বছর পর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বীর বিক্রম আব্দুল খালেক মারা গেছেন। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গত সোমবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁর মৃতদেহ আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বাড়ির আঙিনায় দাফন করার কথা।

বীর বিক্রম আব্দুল খালেকের শরীরে কোভিডের উপসর্গ থাকায় তাঁকে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে পরীক্ষায় তাঁর করোনা নেগেটিভ আসে। তার পরও তাঁকে করোনা ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল।


মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেকের বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চাপাল গ্রামে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। গত ৬ জুন নতুন প্রকাশিত খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেটে তাঁর নাম উঠেছে। গেজেট বিভ্রাটের কারণে তাঁর ‘বীর বিক্রম’ স্বীকৃতি পেতে এই বিলম্ব হয়েছে।


হাসপাতালে ভর্তির সময় আব্দুল খালেকের সঙ্গে ছিলেন তাঁর বড় ছেলে মাসুম আক্তার জামান। তিনি জানান, তিন-চার দিন থেকে তাঁর বাবার জ্বর ও কাশির সমস্যা দেখা দেয়। গত রোববার রাতে তিনি মাথার যন্ত্রণায় খুব কাতরাচ্ছিলেন। সোমবার সকাল ১০টার দিকে তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু জরুরি বিভাগ থেকে তাঁকে করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত মিশন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছিল। করোনা পরীক্ষার আগেই তাঁরা সেখানে যেতে রাজি হননি। অবশেষ বেলা ১টার দিকে তাঁর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়া হয়। এখানেও তাঁর বাবাকে হাসপাতালের ২৯ নম্বর করোনা ওয়ার্ডে নেওয়া হয়।

বুধবার দিবাগত রাতে আব্দুল খালেকের ছোট ছেলে আবুল হাসনাত এই প্রতিবেদককে ফোন করে জানান, তাঁর বাবা করোনা রোগী নন, তার পরও তাঁকে ওই ওয়ার্ডেই রেখে দেওয়া হয়েছে। এখন তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের চিকিৎসা দরকার। শেষ পর্যন্ত রাত দেড়টার দিকে বীর বিক্রম আব্দুল খালেক ২৯ নম্বর ওয়ার্ডেই মারা যান।

জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, বীর বিক্রম আব্দুল খালেক কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মারা গেছেন।

গেজেট বিভ্রাটের কারণে এত দিন বীর বিক্রম আব্দুল খালেক স্বীকৃতি পাননি। ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত গেজেটে এক ধরনের ভুল ছিল, ২০০৪ সালের গেজেটে আরেক ধরনের ভুল। প্রথমবার লেখা হলো ‘এক্স নেভী’। পরেরবার সেনাবাহিনী। তাঁর অফিশিয়াল নম্বরের শেষে ১৯ এর জায়গায় ভুলবশত লেখা হয়েছে ৯১ ;যা ছিল পাঞ্জাবি সৈন্যের। ২০১১ সালে জনতা ব্যাংকের পক্ষ থেকে ঠিকানাবিহীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে তাঁর বাবার নাম ও নৌবাহিনীর পদবি ও সার্ভিস নম্বর দেওয়া ছিল। তার ভিত্তিতে তাঁরা গেজেট সংশোধন করার জন্য আবেদন করেন। সে আবেদন মন্ত্রণালয় থেকে হারিয়ে যায়। গত বছর নতুন করে আবার আবেদন করেন।

১১৮১ জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

১ হাজার ১৮১ জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আজ রোববার এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রথীন্দ্র নাথ দত্ত জানান, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ৪৭ জন এবং বিজিবির ১ হাজার ১৩৪ জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল করা হয়েছে।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন-২০০২ এর ৭(ঝ) ধারা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৬৬তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধ কাউন্সিল আইন, ২০০২ (৮ নং আইন) সনের ৭ (ঝ) ধারা অনুযায়ী জামুকার সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর বিজিবি ও বিমান বাহিনীতে যোগদানকৃতদের মুক্তিযোদ্ধ গেজেট বাতিল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।

নতুন করে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন ১২৫৬ জন
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নতুন করে আরও এক হাজার ২৫৬ ব্যক্তিকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৬৬তম সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে মঙ্গলবার গেজেট প্রকাশ করেছে।

প্রায় দেড় লাখ আবেদন তিন ধাপে যাচাই-বাছাই শেষে নতুন করে এক হাজার ২৫৬ জনকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হল। এখন এরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রের সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। নতুন করে পাওয়া আবেদনের মধ্যে খুলনা বিভাগেরগুলো এখনও যাচাই-বছাই শেষ হয়নি। ওই তালিকা যাচাই-বাছাই শেষ হলে মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যার আরও বাড়বে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ সাংবাদিকদের জানান, আগের মুক্তিযোদ্ধাদের সব তালিকা নতুন করে যাচাই-বাছাই এবং সারা দেশের নতুন আবেদন যাচাই শেষে কয়েক মাস পরে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত সংখ্যা বলা যাবে।

সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ বলেন, আগের তালিকাগুলোতে একজনের নাম একাধিক জায়গায় আছে। একাধিক তালিকায় থাকা নাম একটি তালিকায় রেখে অন্যগুলো থেকে বাদ দেওয়া হবে।

নতুন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়াদের তালিকা সরকারি মুদ্রণালয়ের (বিজি প্রেস) ওয়েবসাইটে (www. bgpress.gov.bd) পাওয়া যাবে।

মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাইয়ে উপজেলা এবং বিভাগীয় কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভায় এক হাজার ২৫৬ জনের তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়।

আজ সেই ২৫ মার্চের কালরাত
                                  

মোঃ মনির হোসেনঃ

ভয়াল পঁচিশে মার্চের কালরাত আজ। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর আগমুহূর্তে ১৯৭১ সালের এই কালরাতেই পূর্ব পাকিস্তান তথা বাংলাদেশে পৃথিবীর ইতিহাসের ভয়াবহতম গণহত্যা সংঘটিত হয়। সেই রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকাসহ এদেশের বড় শহরগুলোতে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে কমপক্ষে ৫০ হাজার ঘুমন্ত বাঙালিকে হত্যা করে।

বিশ্ব ইতিহাসের ঘৃণ্যতম ও তমসাচ্ছন্ন এক অধ্যায় ২৫ মার্চের মর্মন্তুদ গণহত্যার দিনটি মুক্তিযুদ্ধের ৪৬ বছর পর ২০১৭ সাল থেকে `জাতীয় গণহত্যা দিবস` হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। সেইসঙ্গে দিনটিকে আন্তর্জাতিকভাবেও `গণহত্যা দিবস` হিসেবে পালনের দাবিও অব্যাহত রয়েছে।
তবে এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের মহামারি বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়ায় এবার কোনো কর্মসূচিই থাকছে না দিনটিকে ঘিরে। করোনা সংকটের কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কার্যত অচলাবস্থা চলছে। সব ধরনের সভা-সমাবেশ, জনসমাগমসহ পরিবহন চলাচল, মার্কেট ও বিপণিবিতান বন্ধ হয়ে গেছে। ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। দেশের সিংহভাগ মানুষও নিজ নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে সংকট মোকাবিলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এর পরও দেশের মানুষ আজ নীরবে স্মরণ করবেন, শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাবেন ২৫ মার্চের গণহত্যার শিকার অগণিত শহীদকে।

পঁচিশ মার্চের ভয়াল রাতে গণহত্যার নীলনকশা `অপারেশন সার্চলাইট` বাস্তবায়নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী মেতে উঠেছিল বাঙালি নিধনযজ্ঞে। অন্যদিকে এই নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতার বিরুদ্ধে অসম সাহসী বাঙালিরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে মুক্তিযুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। পাকিস্তানি সেনাদের হাতে গ্রেপ্তারের আগমুহূর্তে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় বাঙালির সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম। জাতির অস্তিত্ব রক্ষার এ লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম আর ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৬ ডিসেম্বর জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ।

একাত্তরের পঁচিশে মার্চ দিনভর অশান্ত-উদ্বেল পরিস্থিতি ছিল দেশজুড়ে। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত অবধি মিছিল-মিটিং-স্লোগানে মুখরিত রাজধানী ঢাকাবাসীর প্রায় সবাই ঘুমিয়ে পড়েন এক সময়। গভীর উৎকণ্ঠা নিয়ে অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঘুমাতে যাওয়ার। কিন্তু নিরীহ-নিরস্ত্র মানুষগুলোর কেউই ঘুণাক্ষরে জানতে পারেননি ততক্ষণে খুলে গেছে নরকের দরজা। রাত সাড়ে ১১টায় ক্যান্টনমেন্ট থেকে প্রথম রাস্তায় নেমে আসে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। তারা প্রথমে ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং পরে একে একে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমন্ডি ও পিলখানা পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর) সদর দপ্তরসহ রাজধানীর সর্বত্র আক্রমণ চালিয়ে নৃশংস হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। পাশাপাশি নিধনযজ্ঞ চালিয়েছে চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি বড় শহরেও।

তবে রাজারবাগ পুলিশ সদর দপ্তরে পাকিস্তানি সেনাদের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বাঙালি পুলিশ সদস্যরা রাইফেল তাক করে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তবে শত্রুর ট্যাঙ্ক আর ভারী মেশিনগানের ক্রমাগত গুলির মুখে মুহূর্তেই গুঁড়িয়ে যায় সব ব্যারিকেড। গ্যাসোলিন ছিটিয়ে আগুনে ভস্মীভূত করা হয় পুলিশ সদর দপ্তর। পরে পাকিস্তানি সেনাদের ভারী ট্যাঙ্ক ও সৈন্যবোঝাই লরিগুলো নল উঁচিয়ে ঢুকে পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। একে একে জগন্নাথ হল, ইকবাল হল ও রোকেয়া হলসহ সব হলেই ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ৯ শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীসহ তিন শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে হত্যা করে।

এর পাশাপাশি নগরজুড়ে রাতভর চলেছে বর্বরোচিত নিধনযজ্ঞ ও ধ্বংসের তাণ্ডব। দানবীয় বাহিনীর আক্রমণের বিভীষিকায় নিমজ্জিত হয় নগরীর রাজপথ, অলিগলি, ফুটপাত, খেলার মাঠ ও ক্যাম্পাস। মানুষের কান্নায় ভারি হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। মর্মন্তুদ সে কান্না ছাপিয়ে চারপাশে তখন কেবলই আগুনের লেলিহান শিখা ও ধ্বংসযজ্ঞ। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়েছে লাশের স্তূপ। একসময় গোটা নগরীই পরিণত হয় লাশের শহরে। স্তম্ভিত বিশ্ব অবাক হয়ে দেখেছে বর্বর পাকিস্তানি সেনাদের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ।

অবশ্য এ পরিস্থিতিতেও রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বাঙালি ছাত্র-জনতা। ঢাকার ফার্মগেট থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার চারপাশ এবং চট্টগ্রামেও এ প্রতিরোধ ছিল। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংস বর্বরতার মুখে সেদিন কিছুই করতে পারেননি অকুতোভয় বাঙালি।

পঁচিশে মার্চ শুরু হওয়া এ বাঙালি নিধনযজ্ঞ চলেছে পরের টানা ৯ মাস ধরে। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে গোটা বাংলাদেশই হয়ে উঠেছিল বধ্যভূমি। নৃশংস ও বর্বরোচিত এ হত্যাযজ্ঞে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল তাদের এদেশীয় দোসর ঘাতক দালাল রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনীর সদস্যরা।

আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ডের রায় শোনানো হলো
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামকে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় পড়ে শোনানো হয়েছে।

গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি মানবতাবিরোধী অপরাধে এই অভিযুক্তকে আজ মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে পড়ে শোনানো হয় আদালতের রায়।

কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) গভীররাতে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছায়। পরে আজ মঙ্গলবার সকালে কারাগারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় পড়ে শোনান।

এর আগে গত রবিবার (১৫ মার্চ) জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রকাশিত হয়। রায়ের কপি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ গতবছর ৩১ অক্টোবর এক রায়ে এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখেন।

এদিকে এই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আসামি পক্ষে রিভিউ আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আজহারুল ইসলাম এ রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ পিটিশন করবেন বলে কারা কর্তৃপক্ষকে জানান।

কারা কর্তৃপক্ষ আরো জানান, দণ্ডপ্রাপ্ত এ টি এম আজহারুল ইসলাম আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রিভিউ পিটিশন জমা দিতে পারবেন।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল দাখিল করেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ থেকে খালাস চেয়ে এ আপিল করা হয়। ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিল আবেদনের সঙ্গে ১১৩টি গ্রাউন্ডসহ মোট দুই হাজার ৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল আবেদন দাখিল করা হয়।

গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর এক রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সে সময় ট্রাইব্যুনালের রায়ে বলা হয়, পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এর তিনটি অভিযোগে (একাত্তরের ১৬ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জ থানার ধাপপড়ায় ১৫ জন নিরীহ, নিরস্ত্র বাঙালিকে গুলি করে গণহত্যা, একইবছরের ১৭ এপ্রিল রংপুরের বদরগঞ্জের ঝাড়ুয়ার বিল এলাকায় ১২শ`র বেশী নিরীহ লোককে ধরে নিয়ে গণহত্যা এবং ১৭ এপ্রিল কারমাইকেল কলেজের চারজন অধ্যাপক ও একজন অধ্যাপক পত্নীকে ধরে দমদম ব্রিজের কাছে নিয়ে গুলি করে হত্যা) মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল।

একটি অভিযোগে (একাত্তরের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রংপুর শহর ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নারীদের ধরে এনে টাউন হলে আটকে রেখে ধর্ষণসহ শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা) ২৫ বছর এবং একটি (একাত্তরের নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রংপুর শহরের গুপ্তাপাড়ায় একজনকে শারীরিকভাবে নির্যাতন) অভিযোগে পাঁচ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন আজহার। মামলায় ট্রাইব্যুনালের আদেশে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট আজহারকে গ্রেপ্তারের পর থেকে কারাবন্দি রয়েছেন এই জামায়াত নেতা।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের জন্য অধীর প্রতীক্ষা
                                  

মোঃ মনির হোসেনঃ

আজ ৬ মার্চ, ১৯৭১। বাংলার সংগ্রামী জনগণ মার্চের এই দিনগুলোতে সভা-সমাবেশ, মিছিল আর মিটিংয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল। ঢাকায় ষষ্ঠ দিনের মতো হরতাল পালনকালে সর্বস্তরের জনতা রাস্তায় নেমে আসে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন শেষে তারই নির্দেশে বেলা আড়াইটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংক এবং যেসব বেসরকারি অফিসে ইতিপূর্বে বেতন দেওয়া হয়নি সেসব অফিস বেতন প্রদানের জন্য খোলা থাকে। বাঙ্গালি অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন আগোমীকাল ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু জাতির উদ্দেশ্যে কি ভাষন দিবেন। তাদের সেই অধীর অপেক্ষা যেন ফুরাতে চায়না।

দিন যতই গড়াচ্ছিল, অসহযোগ আন্দোলনের গন্তব্যও ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে কি ভাষণ দেবেন তা শোনার জন্য সারা দেশের মানুষ ও আন্তর্জাতিক মহল অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিল। জনসভাটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য সম্পর্কে তখন কারো সন্দেহ ছিল না।

৭ মার্চের জনসভায় বঙ্গবন্ধু কি ঘোষণা দেবেন তা ঠিক করতে বঙ্গবন্ধু দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে চলেছেন। পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান দুপুরে এক বেতার ভাষণে ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। ভাষণে তিনি বলেন, যাই ঘটুক না কেন যত দিন পর্যন্ত পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আমার হুকুমে রয়েছে এবং আমি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছি তত দিন পর্যন্ত আমি পূর্ণাঙ্গ ও নিরঙ্কুশভাবে পাকিস্তানের সংহতির নিশ্চয়তা বিধান করব।

এ সময় তিনি ১০ মার্চ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্টের বেতার ভাষণের অব্যবহিত পরেই বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক শাখার ওয়ার্কিং কমিটির এক যুক্ত জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রেসিডেন্টের বেতার ভাষণের আলোকে দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনা শেষে ইশতেহারে বঙ্গবন্ধু বলেন, শহিদদের রক্ত মাড়িয়ে তিনি ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন না। ইয়াহিয়া খানের বেতার ভাষণের পরপরই ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বেশ কয়েকটি প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। রাওয়ালপিণ্ডিতে পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার ভাষণকে স্বাগত জানিয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, তার দল ২৫ মার্চ জাতীয় পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনের আগেই আলোচনার মাধ্যমে শাসনতন্ত্রের মোটামুটি একটি কাঠামো স্থির করতে চায়।

উড়েছিল মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আজ ২ মার্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। সবুজ, লাল, সোনালি—এই তিন রঙের পতাকাটি সেই যে বাংলার আকাশে উড়েছিল তা আর নামাতে পারেনি পাকিস্তানের সুসজ্জিত সেনাবাহিনী ও সরকার।
 

‘জয় বাংলা’, ‘পিন্ডি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর’— মার্চে বাংলার আকাশ বাতাস স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছিল। দিকে দিকে শুরু হয় পাকিস্তানের পতাকা পোড়ানো। আর এই সময়টাকেই ছাত্রনেতারা বেছে নিলেন বাংলার স্বাধিকার আন্দোলনকে স্বাধীনতা সংগ্রামে পরিপূর্ণভাবে রূপান্তর করার মোক্ষম মুহূর্ত হিসেবে। এই দিনটিই পরবর্তীকালে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পর পতাকা উত্তোলন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

কোনো রকম প্রস্তুতি ছিল না। কে পাশে এসে দাঁড়াবে, কে দেবে সহযোগিতা—কিছুই জানতো না বাংলার খেটে খাওয়া সাধারণ জনগণ। পাকিস্তানের সুশিক্ষিত সামরিক বাহিনীর সঙ্গে লড়তে হলে যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, ছিল না তার কোনো কিছুই। তারপরও অপমান, বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়তে সমস্ত কিছুকে তুচ্ছ জ্ঞান করে বাংলার কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, চাকরিজীবী সবাই যুদ্ধে নামতে এককথায় প্রস্তুত হয়েছিল। কারণ, ২৩ বছর ধরে পাকিস্তানিদের অন্যায় নিষ্পেশন থেকে মুক্ত হতে জনযুদ্ধের যে কোনো বিকল্প নেই সেটা পুরোপুরি উপলব্ধি করেছিল এই ভূখণ্ডের বাসিন্দারা।

আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরে গোপনে একটি স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ গঠন করেছিলেন এই ছাত্র সংগঠনের মূল নেতারা। এই কাজটি তারা করেছিলেন ১৯৬৯ সালে, ১১ দফা আন্দোলন চলার সময়। এই বিপ্লবী পরিষদের সদস্যদের ভাবনায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার নকশা ছিল। ১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ পাকিস্তানিদের বিশ্বাসঘাতক চেহারা আবারও উন্মোচিত হয় বাংলার মানুষের সামনে। এর প্রতিবাদে ছাত্রনেতারাও তার জবাব দেবার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক জনসভা আহ্বান করা হয় ২ মার্চ। সেই বিশাল সভায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস মাখন, ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সিরাজ স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

ছাত্রনেতারা পরদিন অর্থাত্ ৩ মার্চ, ১৯৭১ পল্টন ময়দানে জনসভা করে সেখানে বাংলাদেশের পতাকা তোলেন এবং একই সঙ্গে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে শুরুতেই উল্লেখ করা হয়, ‘স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ ঘোষণা হয়েছে।’

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম, বিদ্রোহ করব
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

২৫ মার্চ তারিখে পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকা শহরের বিভিন্ন জনপদে, ছাত্রাবাসে, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ভয়াবহ গণহত্যা চালায়। নিহত হয় অসংখ্য ছাত্র, শিক্ষক, পুলিশ, ইপিআর সৈনিক ও সাধারণ মানুষ। আমরা এই হত্যাকা- সম্পর্কে কোনো সংবাদই পাইনি। ২৬ মার্চ চট্টগ্রামে ইস্ট বেঙ্গল, জয়দেবপুরে ২য় ইস্ট বেঙ্গল, ব্রাহ্মনবাড়িয়ায় ৪র্থ ইস্ট বেঙ্গল, ২৮ মার্চ সৈয়দপুরে ৩য় ইস্ট বেঙ্গল গণহত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে এবং প্রতিরোধ সংগ্রামে লিপ্ত হয়। চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গলের উপ-অধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। আশ্চর্যের বিষয় সীমান্ত এলাকার গন্ডগ্রামে অবস্থান করার কারণে এসব চাঞ্চল্যকর ঘটনা সম্পর্কে আমরা কিছুই জানতে পারিনি।
সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম তার সদ্য প্রকাশিত ‘সৈনিক জীবন: গৌরবের একাত্তর, রক্তাক্ত পঁচাত্তর’ বইতে এসব কথা লিখেছেন। আত্মজৈবনিক বইটি প্রকাশিত হয়েছে প্রথমা থেকে। এতে হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরো লিখেছেন, ২৯ মার্চ বেতার মারফত নির্দেশ পেলাম যশোর সেনানিবাসে ফির আসার জন্য।
৩০ মার্চ ’৭১। সকাল সাড়ে সাতটায় ১০৭ ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার আবদুর রহিম দুররানি ১ম ইস্ট বেঙ্গলে এসে সিও লে. কর্নেল জলিলকে জানালেন যে এই মুহূর্ত থেকে ব্যাটালিয়নকে নিরস্ত্র করা হলো। সৈনিকেরা কোনো অস্ত্র বহন করতে পারবে না। আদেশ জারি করেই তিনি ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে চলে গেলেন। আমার ব্যাটম্যান দৌড়ে এসে অফিসার মেসে আমাকে জানায়, ‘স্যার, আমাদের নিরস্ত্র করা হয়েছে। একটু পরই বালুচ অফিসার এসে আমাদের কোতের (অস্ত্রাগার) চাবি নিয়ে যাবে।’ হতভম্ব হয়ে গেলাম! একজন সৈনিকের অস্ত্র কেড়ে নেওয়া চরম অবমাননার শামিল। সেকেন্ড লে. আনোয়ার আমার রুমেই ছিল। তাকে এ খবর জানাতেই সে উত্তেজিত হয়ে বলল, ‘স্যার, পাকিস্তান আর্মিতে আর চাকরি করব না। আমি অফিসে গিয়েই সিওর সামনে বেল্ট খুলে পদত্যাগ করব।’ ‘চলো, আগে অফিসে যাই, হারি আপ।’ শান্তভাবে বললাম। পাশের রুমে তিনজন পাঞ্জাবি অফিসার নিসার, নাজির, ইকরামকে নিরস্ত্র করার খবর জানালাম। তারাও অবাক হলো। বললাম, চলো, সবাই অফিসে যাই।
আমরা পাঁচজন ইউনিফর্ম পরে দ্রুত অফিস অভিমুখে ছুটলাম। অফিস এলাকায় প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই শুনতে পেলাম বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের অবিশ্রান্ত গুলিবর্ষণ, ট্যা-টা, ঠা-ঠা-ঠা। দৌড়ে সিওর অফিসরুমে ঢুকলাম আমরা। তিনি উদভ্রান্তভাবে পায়চারি করছেন, দুচোখ থেকে অবিরল ধারায় অশ্রু ঝরছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘স্যার, হোয়াট হ্যাপেন্ড (কী হয়েছে)?’
‘উই হ্যাভ বিন ডিসআর্মড (আমাদের নিরস্ত্র করা হয়েছে)।’ তাঁর জবাব। এ সময় দৌড়ে রুমে এলেন সুবেদার মেজর আজিম খান, ‘স্যার, গজব হো গিয়া। জওয়ানেরা কোত ভেঙে হাতিয়ার বের করে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ইঞ্জিনিয়ার কোম্পানির (পাঞ্জাবি) ওপর গুলিবর্ষণ করছে। বাঘাওয়াত হো গিয়া (বিদ্রোহ করেছে আমাদের জওয়ানেরা)। খোদাকে লিয়ে কুছ কিজিয়ে (আল্লাহর ওয়াস্তে কিছু একটা করুন)। কান্নাভেজা কণ্ঠে মিনতি আজিম খানের। সবাই স্তম্ভিত। পাকিস্তানি বাহিনীতে বিদ্রোহ, এও কি সম্ভব? নিরস্ত্র করার খবর পেয়েই বাঙালি সৈনিকদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তারা কমবেশি ক্ষিপ্ত ছিল, নিরস্ত্র করার পেছনে পাঞ্জাবিদের দুরভিসন্ধি রয়েছে ভেবে তারা চরমভাবে উত্তেজিত হয়ে অস্ত্রাগার ভেঙে হাতিয়ার বের করে নেয়। আমাদের সৈনিকেরাই প্রথম গুলিবর্ষণ করে পাঞ্জাবি ইউনিটের ওপর। পাঞ্জাবিরা এ বিদ্রোহের জন্য প্রস্তুত ছিল। কারণ, ইতিমধ্যেই ইস্ট বেঙ্গলের চারটি ব্যাটালিয়ন পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। এ খবর অবশ্য আমাদের জানা ছিল না। কিন্তু পশ্চিম পাকিস্তানি সৈনিকেরা বিদ্রোহ দমনের প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছিল। যশোর সেনানিবাসে আমাদের বিদ্রোহের ২০ মিনিটের মধ্যেই তারা পাল্টা গুলিবর্ষণ করে এবং তিন দিক থেকে আমাদের অফিস এরিয়ার ওপর আক্রমণ চালায়।
আমি একসময় সিওকে জিজ্ঞাসা করলাম, ‘স্যার, আমাদের ওপর আক্রমণ আসছে। আমরা এখন কী করব?‘ তিনি জবাব দিলেন না, শুধু বললেন, ‘ও মাই গড, এখন কী হবে?’ উপ-অধিনায়ক মেজর ইকবাল কোরেশি সাহসী পুরুষ। সিওর চার কোর্স সিনিয়র ছিলেন পিএমএতে। তিনি টেলিফোন হাতে নিলেন এবং ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারে টেলিফোন করে পাঞ্জাবি ভাষায় ব্রিগেড মেজর আসলাম খানকে আমাদের ওপর আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করলেন। ব্রিগেড মেজর জানালেন, আগে বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণ করুক।
পরিস্থিতি ভালোভাবে দেখার জন্য অফিস ঘর থেকে বেরিয়ে পেছনের আমবাগানে গেলাম। আমাদের অফিস এরিয়ার চারদিকে পরিখা খনন করা ছিল আগে থেকেই। আমাদের সৈনিকেরা অস্ত্র হাতে নিয়ে পরিখায় অবস্থান নিয়েছে। ২৫ বালুচ এবং ২২ ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের সৈনিকেরা উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিক থেকে আমাদের ঘিরে রেখেছে এবং আক্রমণের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের সৈনিকেরা ইতিমধ্যেই কয়েকটি আক্রমণ প্রতিহত করেছে। শত্রুর যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে।
একদল সৈনিক ও এনসিও নিয়ে এগিয়ে এলেন ‘সি’ কোম্পানির সিনিয়র জেসিও সুবেদার আবদুল মজিদ।
‘স্যার, একটু কথা বলতে চাই আপনার সঙ্গে। ধৈর্য ধরে শুনবেন?’ বললেন মজিদ।
‘অবশ্যই, বলুন।’ আমার উত্তর।
‘স্যার, ২০ বছর চাকরি করেছি এ পল্টনে, আর এক সপ্তাহ পরই আমার রিটায়ারমেন্ট। আজ এক মহাবিপদ এবং পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছি আমরা। হয় বিজয়, নয়তো ধ্বংস অনিবার্য। আমরা পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছি কিন্তু আমাদের বিদ্যাবুদ্ধি অতি সামান্য। একজন অফিসারও নেই আমাদের সঙ্গে। আপনি এখন থেকে আমাদের নেতৃত্ব দেবেন, প্লিজ।’ মজিদ মিনতি করেন।
‘আমি কেন, কমান্ডিং অফিসার আছেন। তাঁর কাছে যান।’ আমার পরামর্শ।
‘গিয়েছিলাম স্যার, ওনার বয়স হয়েছে। তাঁর পক্ষে বিদ্রোহ করা সম্ভব নয়। এখন আপনিই আমাদের একমাত্র ভরসা।’ বললেন মজিদ।
‘ঠিক আছে। আপনারা এখানেই অপেক্ষা করুন, আমি সিওর সঙ্গে কথা বলে দেখি।’ আমি বললাম।
অফিস ঘরে ফিরে এলাম। মেজর কোরেশি পাঞ্জাবি ভাষায় তখন পর্যন্ত ব্রিগেড হেডকোয়ার্টারের সঙ্গে কথাবার্তা চালাচ্ছেন। শত্রু থেমে থেমে গুলিবর্ষণ করছে। কয়েকটি এসে আমাদের অফিসের দেয়ালে আঘাত করেছে। মাঝেমধ্যে মর্টারের গোলা বিকট শব্দ করে অফিসের আশপাশে ফাটছে। ভাবলাম, এই তাহলে যুদ্ধ, এত দিন যার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। শত শত উড়ন্ত বুলেটের একটিই একজনের জন্য যথেষ্ট।
আমাকে দেখে সিও বারান্দায় বেরিয়ে এলেন। বাংলাতে বললাম, ‘স্যার, এভাবে বসে থাকার কোনো মানে হয় না। আপনি নির্দেশ দিন আমাদের, লেট আস ফাইট ইট আউট।’ তিনি কিছু বলার উদ্যোগ নিলেন, এ সময় পাশে এসে দাঁড়াল ক্যাপ্টেন ইকরাম। কোনো জবাব পেলাম না, তিনি তাঁর ঘরে ফিরে গেলেন।
বারান্দায় একটি খামের আড়ালে দাঁড়িয়ে চিন্তা করছি, আমার করণীয় কী? এখানে অফিসরুমে ছয়জন অফিসারের সঙ্গে বসে থাকব, নাকি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেব? এ বিদ্রোহের পরিণতিই-বা কী হবে? দুই মিনিট চিন্তাভাবনা করেই সিদ্ধান্ত নিলাম জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমি বিদ্রোহ করব এবং পল্টনের সৈনিকদের নেতৃত্ব দেব।

শর্ষিণার পীর এবং রইজ উদ্দিন স্বাধীনতা পদক পেলেন কিভাবে?
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা `স্বাধীনতা পদক`। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ আর কয়েক লক্ষ নারীর সম্ভ্রম জড়িয়ে আছে এই পদকের সঙ্গে। অথচ এই সর্বোচ্চ পদক পেয়েছেন একাত্তরের ঘৃণ্য রাজাকার শর্ষিণার পীর আবু সালেহ! আর এবার সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কার পেয়েছেন রইজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি, যাকে কেউ চেনেই না! ভুলভাল শব্দে লেখা এই ব্যক্তির কবিতার বই দেখে লোকে এখন ভিরমি খাচ্ছেন! তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন, যদিও সার্টিফিকেট অনুযায়ী একাত্তরে তার বয়স ছিল মাত্র ১১!
ই দুই বিতর্কিত ব্যক্তির স্বাধীনতা পুরস্কার কেড়ে নেওয়ার দাবি উঠেছে দেশের বিভিন্ন মহল থেকে। প্রখ্যাত জাদুশিল্পী জুয়েল আইচও নিজের ফেসবুকে এই দাবি তুলেছেন। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা লিখেছেন, ` একাত্তরের ভয়াবহ পিশাচ শর্ষিণার `পীর` আবু সালেহকে দেওয়া স্বাধীনতা ও একুশে পদক আর ২০২০ এর `মহাকবি` রইজ উদ্দিনদের স্বাধীনতা পদক কেড়ে নিতেই হবে। জাতীয় পাপ স্খলনের এটাই সময়। এর কোন বিকল্প নেই।`
উল্লেখ্য, নরঘাতক টিক্কা খানের আমলে ঢাকার ফরাসগঞ্জের লালকুঠিতে যারা রাজাকার বাহিনী গঠন করা, প্রতিটি মাদ্রাসাকে রাজাকার ক্যাম্পে পরিণত করা এবং সকল মাদ্রাসার ছাত্রকে রাজাকার ও পুলিশ বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় শর্যিণার পীর তাদের অন্যতম। একাত্তরের ১২ই নবেম্বর ৫ শতাধিক রাজাকার, দালাল ও সাঙ্গপাঙ্গসহ মুক্তিবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করলে তাকে আটক করা হয়। অথচ এই রাজাকার ও স্বাধীনতাবিরোধী ঘৃণ্য দালাল আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহকে ১৯৮০ সালে জনসেবা এবং ১৯৮৫ সালে শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে দু`দুবার স্বাধীনতা পদক প্রদান করে!
বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে শর্ষিণার পীর সম্পর্কে লিখেছেন, `জামান সাহেব ও মুসলিম লীগ যখন দেখতে পারলেন তাদের অবস্থা ভালো না, তখন এক দাবার ঘুঁটি চাললেন। অনেক বড় বড় আলেম, পীর ও মওলানা সাহেবদের হাজির করলেন। গোপালগঞ্জে আমার নিজের ইউনিয়নে পূর্ব বাংলার এক বিখ্যাত আলেম মওলানা শামসুল হক সাহেব জন্মগ্রহণ করেছেন। আমি তাকে ব্যক্তিগতভাবে খুবই শ্রদ্ধা করতাম। তিনি ধর্ম সম্বন্ধে যথেষ্ট জ্ঞান রাখেন। আমার ধারণা ছিল, মওলানা সাহেব আমার বিরুদ্ধাচরণ করবেন না। কিন্তু এর মধ্য তিনি মুসলিম লীগে যোগদান করলেন এবং আমার বিরুদ্ধে ইলেকশনে লেগে পড়লেন। ঐ অঞ্চলের মুসলমান জনসাধারণ তাকে খুবই ভক্তি করত। মওলানা সাহেব ইউনিয়নের পর ইউনিয়নে স্পিড-বোট নিয়ে ঘুরতে শুরু করলেন এবং এক ধর্ম সভা ডেকে ফতোয়া দিলেন আমার বিরুদ্ধে যে, `আমাকে ভোট দিলে ইসলাম থাকবে না, ধর্ম শেষ হয়ে যাবে।` সাথে শর্ষিণার পীর সাহেব, বরগুনার পীর সাহেব, শিবপুরের পীর সাহেব, রহমতপুরের শাহ সাহেব সকলেই আমার বিরুদ্ধে নেমে পড়লেন এবং যত রকম ফতোয়া দেওয়া যায় তাহা দিতে কৃপণতা করলেন না। দুই চার জন ছাড়া প্রায় সকল মওলানা, মৌলভী সাহেবরা এবং তাদের তালবেলেমরা নেমে পড়ল।`
অন্যদিকে ২০২০ স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত রইজ উদ্দিনকে কেউ চেনেনই না। তার সাহিত্যকর্মের সঙ্গেও কেউ পরিচিত নন। পুরস্কার ঘোষণার পর তার বইয়ের কিছু পাতার ছবি সোশ্যাল সাইটে ঘুরছে। যার ভাষ অতি উদ্ভট, উত্তেজক এবং ভুলভাল। বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ফোকলোর বিশারদ অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান বিস্ময় প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, `এবার সাহিত্যে স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন রইজউদ্দীন, ইনি কে? চিনি না তো। নিতাই দাসই বা কে! হায়! স্বাধীনতা পুরস্কার!`

স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন গোলাম দস্তগীর গাজী
                                  

নিজামউদ্দিন আহমেদঃ

জাতীয় পর্যায়ের গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী। এটি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় পুরস্কার।

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে এই জেলা থেকে এই পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন ভাষা সৈনিক একেএম শাসুজ্জোহা (মরোণত্তর)। নারায়ণগঞ্জের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে এবার এই স্বীকৃতি পাচ্ছেন গোলাম দস্তগীর গাজী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৫ মার্চ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার দেবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এবারের স্বাধীনত পুরস্কার গোলাম দস্তগীর গাজী ছাড়াও আর যারা পাচ্ছেন, ফেরদৌসী মজুমদার, মরহুম কমান্ডার (অব.) আবদুর রউফ, মরহুম মুহম্মদ আনোয়ার পাশা, আজিজুর রহমান, অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুক্তাদির, মুক্তিযোদ্ধা এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদ এবং কালীপদ দাস।

সরকারের এ নির্দেশনাবলী অনুযায়ী, স্বাধীনতা পুরস্কারের ৫ লাখ টাকা পাবেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পাবেন ১৮ ক্যারেট মানের পঞ্চাশ গ্রাম স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র।

উল্লেখ্য, গোলাম দস্তগীর গাজী নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে টানা তিনবার আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। বর্তমান সরকারে তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতাপূর্ণ অবদান রাখায় গাজীকে বীরপ্রতীক খেতাবে ভূষিত করা হয়। সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখার জন্য তাকে ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক মাদার তেরেসা পদকে ভূষিত করা হয়।

১৯৪৮ সালে ১৪ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন গোলাম দস্তগীর গাজী। তার বাবার নাম গোলাম কিবরিয়া গাজী এবং মায়ের নাম সামসুননেছা বেগম।

গোলাম দস্তগীর পড়াশোনা শুরু করেন পুরান ঢাকার বিদ্যাপীঠে। মাধ্যমিক পাশ করার পর ভর্তি হন নটরডেম কলেজে। ১৯৭১ সালে গোলাম দস্তগীর গাজী ছাত্র থাকাকালীন সময়ে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের ২নং সেক্টরে বিভিন্ন সম্মুখ যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি ক্র্যাক প্লাটুনের সদস্য হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন এবং ঢাকার কয়েকটি সফল অপারেশনে অংশ নিয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন গ্যানিজ ও দাউদ পেট্রল পাম্পের অপারেশনে গোলাম দস্তগীর গাজীর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

মুজিববর্ষে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা পাচ্ছেন ১৪ হাজার বাড়ি
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মুজিববর্ষে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। ১৪ হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি করে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।


জাতীয় সংসদ অধিবেশনে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে আওয়ামী লীগের সদস্য শাজাহান খানের আনা নোটিশের উত্তরে মন্ত্রী একথা বলেন। এসময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্ব করেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম সন্মানিত করা শুরু হয়। তখন ৩শ টাকা করে ভাতা দেওয়া হতো ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে। সেখান থেকে পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে আজ ১২ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে এবং ৪০ হাজারের স্থলে শতভাগ মুক্তিযোদ্ধাই এই ভাতার আওতাভুক্ত হয়েছেন। আগামী বাজেটে ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনাধীন।

‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য মুজিববর্ষে বাড়ি নির্মাণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ১৪ হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি করে বাড়ি করে দেবো। মুজিববর্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের এভাবে সন্মানিত করা হবে। এছাড়া স্বাধীনতার ৫০ বছরেও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অনেক উপহার থাকবে। মুক্তিযোদ্ধারা অনেক সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার জন্য প্রত্যেক বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোকে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আগাম দিয়েছি। যাতে কোনো মুক্তিযোদ্ধা এসে টাকার অভাবে চিকিৎসা না করে ফিরে না যান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী ৫০ শতাংশ টাকা খরচ করার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যখন দাবি করবে তখনই তাদের টাকা বরাদ্দ হয়ে যায়।

গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দেখুন
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে যে কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য দেখতে পারবেন। আর মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

মুক্তিযোদ্ধাদের সকল তথ্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.molwa.gov.bd) পাওয়া যাচ্ছে। ওয়েবসাইটে মোট ২৫টি বিভাগে এসব তথ্য সন্নিবেশ করা হয়েছে।

বিভাগগুলো হলো
মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকা, প্রধানমন্ত্রী প্রতিস্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা, বেসামরিক গেজেট, সাময়িক সনদ, শহীদ বেসামরিক গেজেট, সশস্ত্র বাহিনী শহীদ গেজেট, শহীদ বিজিবি গেজেট, শহীদ পুলিশ গেজেট, যুদ্ধাহত গেজেট, খেতাবপ্রাপ্ত গেজেট, মুজিবনগর গেজেট, বিসিএস ধারণাগত জৈষ্ঠতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গেজেট, বিসিএস গেজেট, সেনাবাহিনী গেজেট, বিমানবাহিনী গেজেট, নৌবাহিনী গেজেট, নৌ-কমান্ডো গেজেট, বিজিবি গেজেট, পুলিশবাহিনী গেজেট, আনসার বাহিনী গেজেট, স্বাধীন বাংলা বেতার শব্দ সৈনিক গেজেট, বীরঙ্গনা গেজেট, স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল গেজেট, ন্যাপ কমিউনিস্ট পার্টি ছাত্র ইউনিয়ন বিশেষ গেরিলা বাহিনী গেজেট ও লাল মুক্তিবার্তা।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সকল তথ্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত হতে একজন মুক্তিযোদ্ধা তার তথ্য দেখতে পারবেন। আর কষ্ট করে মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

কিভাবে দেখবেন তালিকা?

 
http://ff.molwa.gov.bd/ps

প্রথমে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (www.molwa.gov.bd) গিয়ে ‘মুক্তিযোদ্ধা অনুসন্ধান‘ পেজে যেতে হবে। এজন্য আপনাকে হোমপেজের ‘মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা’ অপশন থেকে যেকোনো একটি বিভাগ বেছে নিতে হবে। অথবা এই লিংকে ক্লিক করেও যেতে পারবেন।

এরপর তালিকা নির্বাচন করতে হবে। ওয়েবসাইটে মোট ২৫টি বিভাগ দেওয়া আছে। ‘তালিকা নির্বাচন করুন’ অপশন থেকে গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিভাগ নির্বাচন করুন, তারপর ব্যক্তির ক্ষেত্রে গেজেট নম্বর লিখুন (এটি অবশ্যই ইংরেজিতে লিখতে হবে) অথবা নিজ নাম ও পিতার নাম লিখুন এবং নিজ জেলা সনাক্তক্রমে ‘অনুসন্ধান’ বাটনে ক্লিক করুন। তবে সনদ নম্বর লেখার প্রয়োজন নেই।

আর উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধার নাম জানতে চাইলে নিজ জেলা ও উপজেলা নির্বাচন করে ‘অনুসন্ধান’ বাটনে ক্লিক করুন। প্রিন্ট করতে চাইলে ‘প্রিন্ট’ বাটনে ক্লিক করুন। মুক্তিযোদ্ধার দলিলও প্রিন্ট করতে পারবেন।

মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউল্যাহ সরকার চলে গেলেন না ফেরার দেশে
                                  

মতলব উত্তর প্রতিনিধি : মতলব উত্তর ছেংগারচর পৌরসভার প্রবীন আওয়ামীলীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালি উল্যাহ সরকার শুক্রবার বিকাল ৪.৩০ মিনিটে সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে (ইন্নানিল্লাহ…… রাজেউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি আজ জুম্মা নামাজও আদায় করেন। শনিবার বেলা ১০:৩০ মিনিটে ছেংগারচর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হবে।

ছেংগারচর পৌরসভাস্থ বালুরচর গ্রামের ওয়ালি উল্যাহ সরকার সাবেক ছেংগারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। ছেংগারচর ইউনিয়নকে পৌরসভা গঠনে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। পরবর্তীতে ছেংগারচর পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও পৌর কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি ছিলেন। তাঁর পরিবার ছেংগারচর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের জমিদাতা। এছাড়াও এ উপজেলার সরকারী মডেল মসজিদ কমপ্লেক্স ভবনটি তাঁর জমিতেই নির্মিত হচ্ছে।

তিনি দীর্ঘ্যদিন ছেংগারচর সরকারী ডিগ্রী কলেজ ও ছেংগারচর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে ছিলেন। দীর্ঘ দু’যুগ যাবৎ তিনি ছেংগারচর পৌর বনিক সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি সদা হাসিমুখ, সদালাপি ও পরোপকারী স্বভাবের ছিলেন।

সূচকে মিশ্র প্রবণতা, বেড়েছে লেনদেন
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা: সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন সোমবার দেশের পুঁজিবাজারে মিশ্র প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। আজ লেনদেন বেড়েছে দুই বাজারে। সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ৫১৫ কোটি টাকার শেয়ার। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ৩৩ কোটি টাকার শেয়ার। ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫১৫ কোটি টাকার শেয়ার। যা গতকালের তুলনায়  ৮৭ কোটি টাকা বেশি। আগের দিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ৪২৭
কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার। আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৩২৬টি কো¤পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৮টির, কমেছে ১৪৬টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪২টির শেয়ার দর।
ডিএসইএক্স বা প্রধান মূল্য সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৬২০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ১ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে এক হাজার ১১৭ পয়েন্টে। ডিএস৩০ সূচক দশমিক ৩৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৭৫০ পয়েন্টে।
টাকার পরিমাণে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা দশ কো¤পানি হচ্ছে- সাইফ পাওয়ারটেক, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, ইফাদ অটোস, আইটিসি, আরএকে সিরামিকস (বাংলাদেশ) লিমিটেড,
গোল্ডেন হার্ভেস্ট অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কো¤পানি, এমারেল্ড অয়েল, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল এবং কাশেম ড্রাইসেলস।
একইসঙ্গে আজ সিএসই সার্বিক সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২৪৪ পয়েন্টে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৫০টি কো¤পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর
বেড়েছে ১১১টির, কমেছে ১১৫টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির।

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএমবিএ’র সভাপতি সায়েদুর, মহাসচিব বাশার
                                  

 স্টাফ করেসপন্ডেন্ট:

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি হিসেবে ইবিএল ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পরিচালক সায়েদুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন। আর মহাসচিব নির্বাচিত
হয়েছেন এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ।
লেকশোর হোটেলে শনিবার অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ২০১৬-১৭ মেয়াদের জন্য তাদের নির্বাচিত করা হয়।
নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন ফাস্ট সিকিউরিটিজ সার্ভিসেস লিমিটেডের সিইও মোস্তফা কামাল ও আইসিবি ক্যাপিটালের সিইও নাসরিন সুলতানা।
কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত হয়েছেন লঙ্কা বাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সিইও খন্দকার কায়েস হাসান।

এ ছাড়া নতুন কমিটিতে সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোশাররফ হোসেন এফসিএ, এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান
নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব হোসেন মজুমদার, সিটিজেন সিকিউরিটিজ এন্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তাহিদ আহমেদ চৌধুরী, এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সারোয়ার ভুঁইয়া, বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াদ মতিন ও সিএপিএম অ্যাডভাইজারি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা
মোফাখখারুল ইসলাম।
এ বিষয়ে বিএমবিএ’র নবনির্বাচিত সভাপতি সায়েদুর রহমান দ্য রিপোর্ট টুয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘২০১৬-১৭এে দুই মেয়াদের জন্য বিএমবি ‘র নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ
কমিটিতে আমাকে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।’
মহাসচিব খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ বলেন, ‘শনিবার লেকশোর হোটেলে বিএমবিএ’র এজিএম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ২০১৬-১৭ মেয়াদে দুই
বছরের জন্য নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।’


   Page 1 of 2
     মুক্তিযুদ্ধ
অনলাইনে মিলবে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ৩৮ সেবা
.............................................................................................
বীর বিক্রম আব্দুল খালেক আর নেই
.............................................................................................
১১৮১ জনের মুক্তিযোদ্ধা গেজেট বাতিল
.............................................................................................
নতুন করে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন ১২৫৬ জন
.............................................................................................
আজ সেই ২৫ মার্চের কালরাত
.............................................................................................
আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ডের রায় শোনানো হলো
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর ভাষণের জন্য অধীর প্রতীক্ষা
.............................................................................................
উড়েছিল মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা
.............................................................................................
জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম, বিদ্রোহ করব
.............................................................................................
শর্ষিণার পীর এবং রইজ উদ্দিন স্বাধীনতা পদক পেলেন কিভাবে?
.............................................................................................
স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন গোলাম দস্তগীর গাজী
.............................................................................................
মুজিববর্ষে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা পাচ্ছেন ১৪ হাজার বাড়ি
.............................................................................................
গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দেখুন
.............................................................................................
মুক্তিযোদ্ধা ওয়ালিউল্যাহ সরকার চলে গেলেন না ফেরার দেশে
.............................................................................................
সূচকে মিশ্র প্রবণতা, বেড়েছে লেনদেন
.............................................................................................
বিএমবিএ’র সভাপতি সায়েদুর, মহাসচিব বাশার
.............................................................................................
ফের ৭০০ কোটি টাকার ঘরে ডিএসইর লেনদেন
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ হাজী মোবারক হোসেন।। সহ-সম্পাদক : কাউসার আহম্মেদ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু। র্বাতা সম্পাদক আবু ইউসুফ আলী মন্ডল, ফোন ০১৬১৮৮৬৮৬৮২

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, মোবাইল : 01731190131, 01930226862, E-mail : mannannews0@gmail.com, mannan2015news@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- notunbazar / সম্পাদক dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop