| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   কৃষি -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
খাগড়াছড়িতে কফি চাষ: সফল কৃষকরা

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারা বিশ্বের সবার কাছেই পানীয় হিসেবে বেশ জনপ্রিয় কফি। এই কফি সাধারণত পশ্চিমা দেশের অন্যতম পানীয়। বাংলাদেশেও এর বিস্তার শুরু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি কৃষি গবেষণায় পরীক্ষামূলক কফি চাষ শুরুর পর নতুন করে জেলার ১০টি বাগানে ১০ হাজার চারা লাগিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পাচ্ছেন পাহাড়ের কৃষকরা।
 
 
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ কফি চাষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দ্রæতগতিতে। ধান, পাট ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কফিও এদেশকে এনে দিতে পারে রফতানি খাতে আর্থিক সাফল্য ও বৈদেশিক মুদ্রা।
 
 
কৃষি গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের দিকে খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে কফি চাষ শুরু হয়, যা ইতিমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছে। কফি চাষ সম্প্রসারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
 
 
কৃষিবিদদের মতে, কফি গাছ দেখতে অনেকটা বেলি ফুল গাছের মতো। তবে তার উচ্চতা কম হলেও ঘেরের দিক থেকে অনেকটা বড়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ ফুট ওপরে যে কোনো মাটিতে কফি চাষ করা সম্ভব। তবে পাহাড়ি উপত্যকা ও ঝরনার পাশের জমি এবং যেসব জমিতে লবণাক্ততা নেই, সেসব জমি কফি চাষের উপযোগী।
 
 
চারা রোপণের ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে কফির ফল-গোটা সংগ্রহ করা যাবে। কফির গোটাগুলো দেখতে অনেকটা গমের মতো। তবে তা আকারে একটু বড়। একটি গাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছের জন্য খরচ হয় মাত্র এক থেকে দেড়’শ টাকা। একটি গাছ থেকে বছরে আধা কেজির বেশি কফির শুকনো ফল সংগ্রহ করা যায়।
 
 
কফিগাছ থেকে শুধু পানীয়ই নয়। অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে মধু ও শ্যাম্পু তৈরি করা যাবে। একটি কফি গাছের ফুল থেকে প্রতিবারে ১০০ গ্রাম মধু সংগ্রহ করা সম্ভব। পাশাপাশি ওই গাছের উপকরণকে প্রক্রিয়া করে উন্নত মানের ‘শ্যাম্পু’ তৈরি করা যাবে।
 
 
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কফি প্রক্রিয়াজাতকারী মো. জামাল হোসেন জানান, কফি-বাগান করতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। গাছ থেকে কফি সংগ্রহ করে খুব কম সময়ে কফির বিনগুলো শুকিয়ে গুঁড়া করে তাৎক্ষণিক কফি তৈরি হয়ে যায়। ‘অ্যারাবিয়ান’ জাতের এ কফি বাজারের প্যাকেটজাত সাধারণ কফির চেয়ে বহুগুণ সুস্বাদু। বাজারজাত করলে এটি অনেক লাভজনক হবে বলেও জানান তিনি।
 
 
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী আব্দুর রশিদ বলেন, ২০০১ সাল থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে এখানে আমরা কফি চাষ শুরু করি। বর্তমানে জেলার ১০টি বাগানে নতুন করে ১০ হাজার চারা লাগানো হয়েছে। কফি চাষের জন্য পাহাড়ি অঞ্চল খুবই উপযোগী। কম খরচ ও পরিশ্রমে একটি বাগান থেকে দীর্ঘদিন ধরে কফি উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের দুই একর পাহাড়ি টিলাভূমিতে ৪৫০টি গাছে কফি ধরেছে, যা ইতোমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছে।
 
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম কফি চাষের জন্য খুবই উপযোগী জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মর্তুজ আলী জানান, কম সময়ে কফি চাষে ফলন পাওয়া যায় বলে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে কফি চাষে সচ্ছলতা ফিরে আসবে পাহাড়ি জীবনে।
 
 
আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে খাগড়াছড়িতে কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে কৃষি পর্যায়ে কফি চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলতে পারলে এটি ভবিষ্যতে দেশের অর্থকরী ফসলে পরিণত হবে।
খাগড়াছড়িতে কফি চাষ: সফল কৃষকরা
                                  
সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সারা বিশ্বের সবার কাছেই পানীয় হিসেবে বেশ জনপ্রিয় কফি। এই কফি সাধারণত পশ্চিমা দেশের অন্যতম পানীয়। বাংলাদেশেও এর বিস্তার শুরু হয়েছে। খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি কৃষি গবেষণায় পরীক্ষামূলক কফি চাষ শুরুর পর নতুন করে জেলার ১০টি বাগানে ১০ হাজার চারা লাগিয়ে বাণিজ্যিকভাবে সফলতা পাচ্ছেন পাহাড়ের কৃষকরা।
 
 
ইতিমধ্যে বাংলাদেশ কফি চাষের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দ্রæতগতিতে। ধান, পাট ও অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কফিও এদেশকে এনে দিতে পারে রফতানি খাতে আর্থিক সাফল্য ও বৈদেশিক মুদ্রা।
 
 
কৃষি গবেষণা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের দিকে খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে কফি চাষ শুরু হয়, যা ইতিমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছে। কফি চাষ সম্প্রসারণে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
 
 
কৃষিবিদদের মতে, কফি গাছ দেখতে অনেকটা বেলি ফুল গাছের মতো। তবে তার উচ্চতা কম হলেও ঘেরের দিক থেকে অনেকটা বড়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০০ ফুট ওপরে যে কোনো মাটিতে কফি চাষ করা সম্ভব। তবে পাহাড়ি উপত্যকা ও ঝরনার পাশের জমি এবং যেসব জমিতে লবণাক্ততা নেই, সেসব জমি কফি চাষের উপযোগী।
 
 
চারা রোপণের ৪ থেকে ৫ বছরের মধ্যে কফির ফল-গোটা সংগ্রহ করা যাবে। কফির গোটাগুলো দেখতে অনেকটা গমের মতো। তবে তা আকারে একটু বড়। একটি গাছ থেকে ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে ফল পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছের জন্য খরচ হয় মাত্র এক থেকে দেড়’শ টাকা। একটি গাছ থেকে বছরে আধা কেজির বেশি কফির শুকনো ফল সংগ্রহ করা যায়।
 
 
কফিগাছ থেকে শুধু পানীয়ই নয়। অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে মধু ও শ্যাম্পু তৈরি করা যাবে। একটি কফি গাছের ফুল থেকে প্রতিবারে ১০০ গ্রাম মধু সংগ্রহ করা সম্ভব। পাশাপাশি ওই গাছের উপকরণকে প্রক্রিয়া করে উন্নত মানের ‘শ্যাম্পু’ তৈরি করা যাবে।
 
 
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের কফি প্রক্রিয়াজাতকারী মো. জামাল হোসেন জানান, কফি-বাগান করতে খুব বেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। গাছ থেকে কফি সংগ্রহ করে খুব কম সময়ে কফির বিনগুলো শুকিয়ে গুঁড়া করে তাৎক্ষণিক কফি তৈরি হয়ে যায়। ‘অ্যারাবিয়ান’ জাতের এ কফি বাজারের প্যাকেটজাত সাধারণ কফির চেয়ে বহুগুণ সুস্বাদু। বাজারজাত করলে এটি অনেক লাভজনক হবে বলেও জানান তিনি।
 
 
খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মুন্সী আব্দুর রশিদ বলেন, ২০০১ সাল থেকে পরীক্ষামূলক ভাবে এখানে আমরা কফি চাষ শুরু করি। বর্তমানে জেলার ১০টি বাগানে নতুন করে ১০ হাজার চারা লাগানো হয়েছে। কফি চাষের জন্য পাহাড়ি অঞ্চল খুবই উপযোগী। কম খরচ ও পরিশ্রমে একটি বাগান থেকে দীর্ঘদিন ধরে কফি উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের দুই একর পাহাড়ি টিলাভূমিতে ৪৫০টি গাছে কফি ধরেছে, যা ইতোমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছে।
 
 
পার্বত্য চট্টগ্রাম কফি চাষের জন্য খুবই উপযোগী জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মর্তুজ আলী জানান, কম সময়ে কফি চাষে ফলন পাওয়া যায় বলে সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে কফি চাষে সচ্ছলতা ফিরে আসবে পাহাড়ি জীবনে।
 
 
আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে খাগড়াছড়িতে কফি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গড়ে উঠবে, এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে সংশ্লিষ্ট গবেষক ও কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে কৃষি পর্যায়ে কফি চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলতে পারলে এটি ভবিষ্যতে দেশের অর্থকরী ফসলে পরিণত হবে।
নবাবগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধান মাড়াই পাওয়ার থ্রেসার মেশিন বিতরণ
                                  

নবাবগঞ্জ (দিনিজপুর)থেকে এম এ সাজেদুল ইসলাম(সাগর)

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বৃহঃপতিবার সকালে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধান মাড়াই পাওয়ার থ্রেসার মেশিন বিতরণ করা হয়েছে।

আজ সোমবার দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে রংপুর বিভাগীয় কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫৭ জন কৃষকের মাঝে এসব যন্ত্রপাতি বিতরণ কর হয়।

এসময় দিনাজুর ৬ আশনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন্নাহার, নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান, উপজেলা মহিলা ভাইচ চেয়ার ম্যান মোছাঃ পারুল বেগম, উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, উপ সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলামসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

করোনাকালীন দুর্যোগেও উৎপাদন থেমে নেই কৃষি দপ্তরে উত্তর জনপদে ধানের পাশাপাশি খাদ্য শষ্য হিসেবে বেড়েছে গমের উৎপাদন
                                  

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে এম এ সাজেদুল ইসলাম(সাগর)

করোনাকালীন দূর্যোগেও উৎপাদন থেমে নেই কৃষি দপ্তর। গেলো বছরের চেয়ে এবছরে দিনাজপুরে গমের বাম্পার ফলনের সম্ভবনা রয়েছে। ধানের পাশাপাশি কৃষকরা গম চাষে মনোযোগ দিয়েছেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে সবুজে ছেয়ে গেছে গমের মাঠ। ধানের চেয়ে গম চাষে খরচ কম এবং এ ফসল উৎপাদন করতে কৃষকের শ্রমও লাগে কম। প্রতি বিঘা জমিতে গম চাষে কৃষকের খরচ হয় ছয় থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা। তাই অল্প শ্রমে স্বল্প ব্যয়ে কৃষকরা গম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এক বিঘা জমিতে ১৪ থেকে ১৮ মণ গম ঘরে তোলে কৃষকেরা। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, কৃষি অফিসের জনবল বৃদ্ধি করে গম চাষে আরও বেশী সেবা দিলে তারা আরও বেশী গম উৎপাদন করতে পারবে। কৃষক আকরাম হোসেন বলেন,অনেক আশা করে জমি প্রস্তুত করে গমের বীজ বোপন করেছি ।গম ভাল হলে পরিবার পরিজনদের নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারবো।তাই যতœসহকারে জমি তৈরি করে এবং গমের বীজ বোপন করেছি।আশা করছি এবার গমের ফলন ভাল পাবো। দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল জানায়,গত বছরের চেয়ে এবছরে গমের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। গেলো বছরে জেলায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকরা গম চাষ করেছে।তা বৃদ্ধি পেয়ে চলতি মৌসুমে জেলার ১৩ টি উপজেলায় প্রায় ৬ হাজার ১’শ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধারা হয়েছে। তিনি আরও জানান,চাষিরা সঠিকভাবে গম চাষ করতে পারে সে জন্য জেলার প্রতিটি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। কোভিড-১৯ এ দূর্যোগে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ফসল উৎপাদনে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সহ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ। এবিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে নবাবগঞ্জ উপজেলা উপ সসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন সহ মানবদেহে পুষ্টিকর খাদ্য বৃদ্ধি করতে মাঠে নিরলস ভাবে কাজ করা হচ্ছে। ফসল উৎপাদনে মাঠে সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ সহ সরকারি বিভিন্ন সার, বীজ, প্রণদনা সহায়তা করা হচ্ছে। এবিষয়ে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে প্রধান ফসল ধানের পাশাপাশি গম খাদ্য হিসেবে চাষ হচ্ছে । কোভিড-১৯ এ তার দপ্তরেও আক্রান্ত হয়ে তারা সুস্থ্য হয়ে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। গম চাষীরা উচ্চ ফলনশীল বারি ২৫,বারি ২৬,বারি ২৮,বারি ৩০ ও বারি ৩১ জাতের গম জমিতে চাষ করেছে। আমরা প্রতিনয়িত মাঠে কৃষকদের পাশে থেকে সুপরামর্শ দিয়ে আসছি। আশাবাদী আগামী মার্চ মাসের শেষের দিকে কৃষকরা তাদের গম কেটে ঘরে তুলতে পারবেএদিকে হাকিমপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা ড. মোছাঃ মমতা সুলতানা জানান, এ বছরে চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ১৬০ হেক্টর জমিতে গম উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে।

ফুলবাড়ীতে কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরনের উদ্বোধন
                                  


মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরের রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষক গ্রæপের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরনের উদ্বোধন।
গতকাল রবিবার সকাল ১০ টায় ফুলবাড়ী উপজেলা হলরুমে কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরনের উদ্বোধন করেন ও প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়াম্যান আতাউর রহমান মিল্টন। কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরনে সভাপতিত্ব করেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিয়াজ উদ্দীন। যন্ত্রপাতি বিতরণ কালে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষদের মাঝে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার রুম্মান আক্তার। আয়োজনে ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ফুলবাড়ী। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মোঃ হাফিজুল ইসলাম। উদ্বোধন শেষে ৫জন কৃষদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি তুলে দেন। এসময় প্রিন্ট ও ইলেকট্্িরক মিডিয়ার সাংবাদি ৃন্দ উপস্থি ছিলেন।

 

পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকার সচেষ্ট
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেছেন, সরকার কৃষকের উৎপাদিত পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সচেষ্ট রয়েছে। এজন্য বর্তমান সরকার ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, পাট ক্রয়-বিক্রয় সহজিকরণের জন্য এসএমএসভিত্তিক পাট ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থাকরণ, কাঁচাপাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিকরণ, পাটজাত পণ্য রফতানিতে প্রণোদনা ও অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধিকরণে কাজ করছে। এছাড়া দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বিবেচনায় পাটচাষীদের উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি পাটশিল্পের সম্প্রসারণে সবধরনের সহায়তা করবে সরকার।

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে সোমবার বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং এর অধীনস্থ দফতর/সংস্থাসমূহের কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় বস্ত্র ও পাট সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম, এনডিসিসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সোমবার মন্ত্রীর অফিস কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

মন্ত্রী বলেন, বহুমুখী পাটপণ্যের বর্তমান বাজার ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার প্রেক্ষিতে পাটপণ্যের উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পুনঃবিন্যাস করে বিজেএমসি’র বন্ধ ঘোষিত মিলসমূহ জরুরি ভিত্তিতে পুনঃচালু করতে কাজ করছে সরকার। অবসায়নের পরে দেশের পাটকলগুলো তথা মিলগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), যৌথ উদ্যোগ জিটুজি বা লিজ মডেলে পরিচালনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হবে। একই সাথে মিলগুলোকে উপযুক্ত ব্যবস্থায় আধুনিকায়ন ও পুনঃচালু এবং বিজেএমসি’র জনবল কাঠামো পরিবর্তিত পরিস্হিতির আলোকে যৌক্তিকীকরণের বিষয়ে সুপারিশ প্রদানের জন্য গঠিত উচ্চ পর্যায়ের দুটি কমিটি ইতোমধ্যেই কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের চাকুরী অবসান এবং পাটকলসমূহ বন্ধ ঘোষণার ক্ষেত্রে শ্রম আইনের সংশ্লিষ্ট সকল বিধান অনুসরণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের পাওনার পরিমাণ নির্ধারণ এবং তা পরিশোধের ক্ষেত্রেও যথাযথ আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শ্রমিকদের চাকুরী ১ জুলাই হতে অবসান করায় শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী ৬০ দিনের অর্থাৎ নোটিশ মেয়াদের মজুরি ব্যতীত ওই তারিখের পর তাদের আর কোনো দাবি বা পাওনা নেই। ইতোমধ্যে অর্থ বিভাগ হতে প্রাপ্ত অর্থ দ্বারা নোটিশ মেয়াদের অর্ধেক অর্থাৎ ৩০দিনের মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে।

 

নওগাঁয় লেবু চাষে বদলে গেছে কৃষকদের ভাগ্যের চাকা!
                                  

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর বদলগাছীতে দিনে দিনে লেবু চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা।। অধিক লাভজনক এই লেবু চাষ করে উপজেলার শত শত কৃষকের ভাগ্যের চাকা বদলে গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় মোট ২৫০-৩০০ বিঘা জমিতে লেবু চাষ হয়েছে। লেবু চাষ খুবই লাভজনক। লেবুর পাশাপাশি মাল্টাও চাষ হচ্ছে।

লেবু চাষিদের কাছে লেবু এখন অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিত। লেবু যেন কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তনের ফসল। অন্যান্য বছরের তুলনায় লেবু চাষিরা এবার লাভবান হচ্ছেন তিনগুণ বেশি।

চলতি মৌসুমে করোনাভাইরাস সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল লেবুর চাহিদা বেড়ে যায়। মূল্য বেড়ে যাওয়ায় লাভবান হচ্ছেন চাষিরা। একটি লেবু সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সর্বনিম্ন ৬ থেকে ৭ টাকায় একটি লেবু বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার সব এলাকায় ২-৪ জন কৃষক লেবু চাষ শুরু করলেও ব্যাপকভাবে লেবু চাষ শুরু হয়েছে আধাইপুর ইউপিতে। এ ইউপির আধাইপুর, পারিচা ব্যাসপুর, বৈকুণ্ঠপুর, কার্তিকাহার, পাথরাবাড়ী গ্রাম এলাকায় কৃষকদের এখন প্রধান ফসল হচ্ছে লেবু।

আধাইপুর গ্রামের লেবু চাষি বিল্লু হোসেন বলেন, ১৬ কাঠা জমিতে লেবু চাষ করেছি। এখন পর্যন্ত এ বছর দেড় লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছি। আশা করছি আরো দেড় থেকে দুই লাখ টাকার লেবু বিক্রি হবে।

পারিচা গ্রামের লেবু চাষি এনামুল জানান, তার নিজস্ব জমি নেই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে ১০ কাঠা জমিতে লেবু চাষ শুরু করেন প্রায় ৫ বছর আগে। এখন তার কোনো অভাব নেই। একদিনে ৯টি গাছ থেকে গড়ে ৮ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেছেন। ১০ কাঠা জমি থেকে ১৫ দিন পরপর ৩ দিন লেবু তোলেন। বিক্রি হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায়। চলতি বছর প্রায় ১ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন। বিক্রি হবে সারা বছর একইভাবে।

লেবুচাষি ফিরোজ জানান, সে ৪ কাঠা জমিতে লেবু চাষ করে বিক্রি করেছেন ৭ হাজার ৬০০ টাকা। পরে আছে এখনো সারা বছর। সুরুজ চাষ করেছেন ১০ কাঠা,আইনুল চাষ করেছে ১০ কাঠা।

লেবু চাষিরা জানান, যারা ২ থেকে ৩ বিঘা জমিতে লেবু চাষ করেছেন তারা প্রতিদিন ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেন। প্রথম দিকে ১০০ লেবু বিক্রি হয়েছে ৬০০-৭০০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৫০ টাকায়। এক বিঘা জমিতে লেবু থাকলে প্রতিদিন কমপক্ষে ১ হাজার লেবু তুলতে হবে। যারা ২-৪ কাঠা লেবু চাষ করছেন সংসারে তাদের কোনো অভাব নেই। যারা আরো বেশি চাষ করছেন বদলে যাচ্ছে তাদের ভাগ্যের চাকা। অধিক লাভজনক হওয়ায় লেবু চাষ করে খুশি এলাকার কৃষকরা।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান আলী বলেন, লেবু চাষে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি। লেবু চাষের পাশাপাশি লেবু জাতীয় ফসল যেমন মাল্টা চাষের জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেসঙ্গে মসলা চাষ করার জন্যও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ভবনগর গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে ধানের গোলা
                                  

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ
যেখানে গ্রামাঞ্চল থেকে ধানের গোলা হারিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময় ঝিনাইদহ মহেশপুরের ভবনগর গ্রামে পাড়ায়-পাড়ায়, বাড়িতে বাড়িতে ধানের গোলা চোখে পড়ছে। গ্রামের কৃষকরা বলছেন, তারা এখনও অনেকে গোলায় ধান রাখেন, আবার অনেকের গোলা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যেগুলো তারা স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন। তাদের গ্রামে এখনও অর্ধশত বাড়িতে গোলা রয়েছে বলে জানিয়েছেন গ্রামবাসি। সরেজমিনে মহেশপুর উপজেলার শ্যামকুড় ইউনিয়নের ভবনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ধানের গোলা রয়েছে। একই স্থানে পাশাপাশি একাধিক গোলা আছে। গ্রামের আমির হোসেন তরফদার জানান, তাদের গ্রামের সব বাড়িতে গোলায় ধান রাখা হতো। কিন্তু এখন ধানের চাষ কম হওয়ায় অনেক পড়ে আছে। অবশ্য কয়েকজন আছেন যারা এখনও গোলা ব্যবহার করেন, তারা গোলায় ধান রাখেন। ঝন্টু মন্ডল জানান, গ্রামের আবুল কাশেম, আসমত আলী, শুকুর আলী, আব্দুল কাদের, নাসির উদ্দিন, রমজান আলী, আমির হোসেন তরফদার, আকুল খাঁ, রিপন মিয়া, আজগর আলী, মমিনুর রহমান, মহসিন আলী, লাল্টু মোল্লা, মিনারুল ইসলাম, মজনুর রহমান, আবু তাহের, সিরাজুল ইসলাম, ফজলুর রহমান মোল্লা, জামান মিয়াসহ কমপক্ষে ৫০ টি বাড়িতে ধানের গোলা রয়েছে। ভবনগর গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, একটি গোলা তৈরী করতে কৃষকের খরচ হয় ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত। যেগুলোতে ১৫০ থেকে ২৫০ মন ধান রাখা যায়। কৃষক শাহাজ উদ্দিন জানান, ১৯৭৭ সালের পর তাদের গ্রামে ব্যাপকহারে ধান চাষ শুরু হলে গ্রামের মানুষের মধ্যে গোলা বানানোর হিড়িক পড়ে যায়। সেই থেকে গোলাগুলো ঐতিহ্য বহন করে আসছে। শ্যামকুড় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, ভবনগর গ্রামের বাসিন্দা হারুন-অর রশিদ জানান, কৃষকরা এখনও গোলায় ধান রাখতে আগ্রহী। কিন্তু উৎপাদন খরচ মিটিয়ে ধান সংরক্ষণ করা তাদের জন্য কষ্টকর। তারপরও অনেকে গোলায় ধান রাখেন। বস্তার চেয়ে গোলায় ধান রাখলে ধান ভালো থাকে। স্থানীয় চেয়ারম্যান মোঃ আমানুল্লাহ জানান, গোলায় ধান রাখা কৃষকের জন্য খুবই ভালো। কিন্তু এগুলো আমাদের সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

 

নবাবগঞ্জে আম লিচুর উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা
                                  

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) থেকে এম এ সাজেদুৃল ইসলাম(সাগর):
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজলায় হাজার হাজার বিঘা জমিতে থাকা উন্নতমানের  বিভিন্ন প্রজাতির আম বাগানে শুরুতেই দেখা দিয়েছে প্রচুর পরিমান মুকুল। ছোট বড় গাছে ভরে গেছে আমের মুকুল। উপজেলার বিভিন্ন বাগানের মালিক ও আম লিচু উৎপাদনের সাথে জড়িত থাকা কৃষকেরা জানায় এ বছর বাগানগুলোতে প্রচুর আম-লিচুর উৎপাদন প্রচুর পরিমাণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। এর কারণে বাগান মালিকেরা পরিচর্যাসহ গাছগুলোতে বিভিন্নভাবে স্প্রে করেছিল। শুক্রবারে অল্প পরিমাণ আর শনিবারে সমস্তদিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমের মুকুল আর লিচুর মুকুলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন কৃষকেরা। উপজেলার আম উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনার স্থান মাহমুদপুর ইউনিয়ন। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমিতে ধানের সাথে আম গমের সাথে আম, লিচু সাথী ফসল হিসেবে আবাদ করছে কৃষকেরা। এ বিষয়ে মাহমুদপুর ইউনিয়নে আম বাগান মালিক ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ ইকরামূল হক জানান গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির কারণে বাগান গুলোতে প্রচুর ক্ষতি হবে। গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের ১০০ বিঘা আম, লিচু চাষী মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান অনেক গাছে মুকুল থেকে আমের গুটি এসেছে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ায় বের হওয়া আমের গুটি গুলোর ক্ষতি হবে। তবে লিচুর খুব একটা ক্ষতি হবে না। চকনওদা গ্রামের বাগান মালিক সাজেদুর রহমান জানান তার প্রায় ১০ বিঘা জমিতে থাকা উন্নতমানের আম বাগানে মুকুলের ক্ষতি হবে। এ বিষয়ে নবাববগঞ্জ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার দপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মুক্তাদির হোসেন জানান বৃষ্টির কারণে বাগানের মুকুলের ক্ষতি হবে।

মহাদেবপুরে লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে গম চাষ
                                  

নওগাঁ প্রতিনিধিঃ

নওগাঁর অন্যতম খাদ্য ভান্ডার মহাদেবপুর উপজেলায় কৃষি ব্যবস্থায় ঘটছে পরিবর্তন। উন্নত জাত এবং অর্থকরী স্বল্প সময়ের ফসলের প্রতি ঝুঁকছেন কৃষকরা। অন্যদিকে কম মুনাফা ও ঝামেলা যুক্ত ফসলের চাষ পাচ্ছে হ্রাস।

এ বছর রেকর্ড পরিমান জমিতে উন্নত জাতের গম চাষ করছেন কৃষি যোদ্ধাগণ। গত কয়েক বছর যাবত বাম্পার ফলন ও অধিক লাভজনক ফসল হওয়ায় সচেতন কৃষকরা “বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট” উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের গম চাষে ঝুঁকছেন। কম সেচে অধিক ফসল উৎপাদনসহ রোগ-বালাইয়ের আক্রমন কম হওয়ায় গম চাষে উৎপাদন ব্যয় কম। পাশাপাশি ধানের সাথে তুলনামূলকভাবে গমের দামও ভাল। ফলে কৃষক কম খরচে অধিক আয়ের লক্ষে গম আবাদে ঝুঁকছেন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। বোরো ধানের চেয়ে গম চাষে রাসয়নিক সারের ব্যবহারও কম। ফলে কৃষকের বিনিয়োগ কম; আয় বেশী। বারি-১৪, ২৫, ২৬, ২৮, ২৯, প্রদীপ, বিজয় ও শতাব্দী জাতের গমে পোকার আক্রমণ কম হয়। আর তুলনামূলকভাবে অন্য জাতের গমের চেয়ে এসব জাতের চাষে উৎপাদন ব্যয় কম। ফলে কৃষকরা এসব জাতের গম চাষ করে বেশি লাভবান হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে এবার ৫০০ হেক্টর জমিতে গম চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কৃষকরা ৬৮০ হেক্টর জমিতে গম চাষ করেছেন।

উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের কৃষক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত বছর ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় এবার দুই বিঘা জমিতে গম আবাদ করেছি। কৃষি অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচর্যা করছি।’ একই গ্রামের কৃষক সুজন বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারো ৪ বিঘা জমিতে গম চাষ করেছি। আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় বলেন, কৃষকরা যেন গম চাষে কোন প্রকার সমস্যায় না পড়েন এ জন্য আমরা সর্বাক্ষণিক নজর রাখছি। কৃষি বিভাগ কৃষকদের পাশে থেকে নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

কৃষিতে যোগহল স্কোয়াশ চাষাবাদ
                                  

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধিঃ

দিন যতই যাচ্ছে ততই কৃষিতে দেখা দিচ্ছে নতুন মাত্রা। সৃষ্টিশীল মনোভাব নিয়ে কৃষকরা এখন এগিয়ে চলছে। দেশী ফসলের পাশাপাশি কৃষকরা এখন বিদেশী ফসল চাষাবাদে ঝুকে পড়ছে। এতে করে গ্রাহকের যেমন রুচির পরিবর্তন হচ্ছে তেমনি করে অধিকহারে লাভবান হচ্ছে কৃষক। নতুন নতুন জাতের ফসল চাষাবাদ যেন কৃষকদের মাঝে আনন্দ যোগাচ্ছে। সুদুর দক্ষিণ আমিরিকার রবি মৌসুমের ফসল স্কোয়াশ এখন চাষাবাদ হচ্ছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তিস্তার চরাঞ্চলে।

উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের রামডাকুয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য কৃষক মোস্তফা মিয়া চলতি রবি মৌসুমে ৪০ শতক জমিতে স্কোয়াশ চাষ করেছে। এতে তার ব্যয় হয়েছে ২৫ হতে ৩০ হাজার টাকা। তিনি আশা করছেন যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা না দেয় তা হলে প্রায় ২ হতে আড়াই লাখ টাকার স্কোয়াশ বিক্রি হবে। তিনি চাকরি কালিন সময়ে বিদেশে স্কোয়াশ সর্ম্পকে ধারনা নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসারসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং সার্বিক সহযোগিতায় স্কোয়াশ চাষাবাদ করেন। ফলন মোটামোটি ভাল হয়েছে। তবে এখন বিক্রি করার মত সময় আসেনি। এটি শশা এবং খিরা জাতীয় ফসল। অধিক পুষ্টিগুন সম্পূর্ণ ফসল স্কোয়াশ। রংপুর বিভাগীয় শহরে এর বাজার দর কেজি প্রতি ৬০ হতে ৮০ টাকা। এটি সাধারনত সালাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে তাকে। তবে তরকারি হিসেবেও ব্যবহার হয়।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সৈয়দ রেজা-ই মাহমুদ জনান উপজেলার কৃষিতে স্কোয়াশ নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে। নতুন ফসলের প্রতি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের আগ্রহ অনেক বেশি। উপজেলার মাটি নানাবিধ ফসল চাষাবাদের জন্য অত্যন্ত উপযোগি। বিশেষ করে তিস্তার চরাঞ্চলের মাটি রবি ফসল চাষাবাদে অধিক উপযোগি। কৃষকরা এখন ধান চাষাবাদের পাশাপাশি সবজি জাতীয় ফসল চাষাবাদে ঝুকে পড়ছে।

মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক
                                  

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :

গাইবান্ধার সাঘাটায় সম্ভাবনাময় ফল মাল্টার চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে কৃষক আমির হোসেন। সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের পুটিমারি গ্রামে আমির হোসেনের মাল্টা বাগান। বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে ছোটবড় হাজারো মাল্টা। প্রথমে ৩৩ শতক জমিতে মাল্টা ফলের চাষ শুরু করেন আমির হোসেন। বর্তমানে ১ একর ২০ শতক জমিতে মাল্টা চাষ করছেন তিনি।

পিরোজপুর জেলা থেকে প্রতিটি চারা ২৭০ টাকা দরে ক্রয় করে মাল্টা চাষ শুরু করেন তিনি। দেড় বছর যেতে না যেতেই ফল আসতে শুরু করে তার বাগানে। ২০১৯ সালে বন্যায় বাগানের কিছু অংশের ক্ষতি হলেও তা কাটিয়ে উঠেছে এই কৃষক। মাল্টার গাছে মুকুল আসলে এক থেকে দেড় সপ্তাহের মধ্য গুটি কাটতে শুরু করে। দৈনিক আধা মণ থেকে এক মণ মাল্টা উৎপাদন হয় বাগানে। বিদেশি মাল্টার চেয়ে এ মাল্টা রসালো ও বেশ সুস্বাদু। জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে এ মাল্টা। বাগানে শুধু মাল্টা চাষ নয়, মিষ্টি কুমরা, কচুসহ বিভিন্ন সবজির চাষও রয়েছে বাগানে। প্রতিদিন বাগান পরিচর্যার মধ্য দিয়ে দিন শুরু হয় তার। এ বাগানের মাল্টা খেতে সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ফলে বাজার জাতের কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না এ কৃষককে। কাঁচা অবস্থায় মাল্টা গাড় সবুজ এবং পাকলে হালকা হলুদ রং ধারণ করে। একটি মালটা ওজনে দেড় থেকে ২শ গ্রাম হয়ে থাকে।

আমির হোসেন বলেন, আমার বাগানের মাল্টার যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে বাজারে। প্রথমে ৩৩ শতক জমিতে চারাসহ খরচ হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। মাল্টার চারা পর্যায়ক্রমে সংগ্রহ করেছি। চারা রোপণের ১৫ মাসের মাথায় মাল্টা ফল ধরতে শুরু করে। বছরে একবার ফল হওয়ার কথা শোনা গেলেও আসলে বাগানে ১২ মাসই মাল্টার গাছে ফল পাওয়া যায়। গাছের মাল্টা শেষ না হতেই অন্য গাছে মুকুল আসে। প্রথম তেমন ফল পাওয়া না গেলেও তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে বেশী ফল পাওয়া যায়। তিনি বলেন বাজারে মাল্টা কেজি প্রতি ১৭০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি করে থাকি। উৎপাদিত মাল্টা স্থানীয় বাজার ছাড়াও শহরের বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করে থাকি।

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান বলেন, এটি একটি সুস্বাদু ফল। জেলায় দুই দশমিক ৫০ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ হয়েছে। দোআঁশ মাটি মাল্টা চাষের জন্য বেশ ভালো। সে ক্ষেত্রে সাঘাটার মাটি ও আবহাওয়া মাল্টার জন্য খুবই উপযোগী। আমির হোসেন মাল্টার বাগান করে লাভবান হয়েছেন। কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হচ্ছে। আমির হোসেনের মাল্টার বাগান দেখে অন্য কৃষকরা মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পেঁয়াজ
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন মুড়ি পেঁয়াজ। এতে কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে পুরাতন পেঁয়াজের দাম।

চাষীরা বলছেন, একদিকে যেমন ফলন ভালো অন্যদিকে বাড়তি বাজার চাহিদার কারণে দামও বেশি। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। কৃষি কর্মকর্তাদের আশা, এবার দেড়-দুই গুন লাভ গুনতে পারবেন চাষীরা।

পেঁয়াজের ক্ষেতে ব্যস্ত কৃষক। পাতাসহ মুড়ি পেঁয়াজ তুলতে ভোর থেকে ব্যস্ত চাষীরা। বেশ কয়েকদিন ধরে পেঁয়াজের চড়া বাজার দরের কারণে এবার আগে ভাগেই তুলতে শুরু করেছেন পাতাসহ পেঁয়াজ। এতে নতুন পেঁয়াজের যেমন বেশি দাম পাচ্ছেন চাষীরা। তেমনি তা পুরান পেঁয়াজের ঝাঁজেও লাগাম পরাতে শুরু করেছে এতে কমছে বাজার দর।

পেঁয়াজ রোপনের পর তুলতে সময় লাগে ৪৫ দিন। তবে বাড়তি মুনাফার আশায় অনেক কৃষক ৩০/৩৫ দিনেই তুলে ফেলছেন পেঁয়াজ।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী জানান, এ বছর অসময়ে বৃষ্টির কারণে কিছুটা পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে। তবুও উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে মুড়ি পেঁয়াজের চাষ করা হয়েছে। পেঁয়াজের ফলনও ভালো হয়েছে। পাশাপাশি বাড়তি দামের কারণে অন্যান্য বারের তুলনায় বেশি লাভবান হবেন কৃষকেরা।

ঝিনাইদহে পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পাছেনা
                                  

ঝিনাইদহে পুকুর ডোবায় নেই পানি, পানির অভাবে পাট জাগ দিতে মহাবিপাকে পাটচাষীরা

জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহঃ দেশের নদীবিধৌত জেলাগুলো বানের জলে ভাসলেও ঝিনাইদহের জলাশয় গুলোতে পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানি নেই। ফলে জাগ দিতে পারবেন না, এই আশঙ্কায় এখনও জমি থেকে পাট কাঁটা শুরু করেননি কৃষকেরা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ বছর জেলার ৬ উপজেলায় ২০ হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৪ হাজার ৯০০, কালীগঞ্জে ১ হাজার ৩৪০, কোটচাঁদপুরে ৬৫০, মহেশপুরে ৩ হাজার ১৫০, শৈলকুপায় ৭ হাজার ১৩৫ ও হরিণাকুন্ডুতে ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু পাট কাটার উপযুক্ত সময় হলেও মাঠে গিয়ে দেখা যায়,
পাট কাটতে ব্যস্ততা নেই কৃষকদের। দু’একজন কৃষক ধান লাগানোর জন্য পাট কাটছেন। তবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তারা।

উপজেলার হাবিবপুর গ্রামের চাষি আবদুল মালেক জানান, এ বছর তিনি আড়াই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। জমির আশপাশের পুকুর বা ডোবায় পানি না থাকায় পাট জাগ দিতে হচ্ছে দূরে। দূরবর্তী নদী বা বিলে জাগ দিতে গাড়ি বা ভ্যান ভাড়া লাগছে প্রতি আঁটি ৩/৪ টাকা। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বাখরবা গ্রামের চাষি মনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। পাট কাটতে শ্রমিকরা বিঘা প্রতি দুই হাজার টাকা করে নিচ্ছে। জাগ দিতে প্রতি আঁটি দুই টাকা ও ধুতে প্রতি আঁটি তিন টাকা করে নিচ্ছেন।

শুরু থেকে ঘরে তোলা পর্যন্ত প্রতি বিঘা পাট চাষে ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। পাট হয় ১০ থেকে ১১ মণ। এখন পাটের যে বাজার মূল্য আছে, তাতে কিছুটা লাভ থাকবে। বাজার পড়ে গেলে লাভ থাকবে না। উদয়পুর গ্রামের কৃষক রাসেল হোসেন বলেন, পাট কাটার সময় হয়ে গেছে। কিন্তু পানি না থাকায় পাট কাটতে পারছি না। আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করছি, যদি নদীতে পানি হয় তাহলে পাট কাটব। একই এলাকার কৃষক জামিরুল ইসলাম বলেন, জমিতে ধান লাগানোর জন্য পাট কাটছি। নদীতে পানি না থাকার কারণে বাড়ির পাশের পুকুরে সেচ দিয়ে সেখানে পাট জাগ দেব।

এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এখন বাজারে ১৪০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। আর একটু দাম পেলে সেই খরচটা পুষিয়ে নেওয়া যাবে। এ ব্যাপারে ঝিনাইদহ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জি এম আবদুর রউফ বলেন, এ বছর পাটের দামও ভালো আছে। তবে পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে চাষিরা সমস্যায় পড়েছেন। অনেক স্থানে চাষিরা পাট কেটে জমিতে ফেলে রেখেছেন। ভারী বৃষ্টির অপেক্ষোয় আছেন তারা। খাল-বিলে পানি জমলে জাগ দিতে পারবেন তারা।

খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভালো বীজের ভূমিকা অনেক
                                  

কৃষির উন্নয়নে বীজই প্রধান ও মুখ্য উপকরণ। বীজ ভালো না হলে অন্যান্য উপকরণের ব্যবহার ফলপ্রসূ হয় না, কখনও কখনও একেবারেই অপচয় হয়। এটা পরীক্ষিত যে, মানসম্পন্ন বীজ ব্যবহারে শতকরা ১৫-২০ ভাগ উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব। সুতরাং মানসম্পন্ন বীজকে কেন্দ্রবিন্দু ধরেই স্থিতিশীল খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনের কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে উন্নত জাত ও মানের বীজের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই দেশে মানসম্পন্ন বীজের ব্যবহার ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানসম্পন্ন বীজের গুরুত্ব অনুধাবন করে এবারের জাতীয় বীজ মেলা ২০১৯-এর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখবে মানসম্পন্ন বীজের ব্যবহার’।

বাড়ছে মানুষ; কিন্তু বাড়ছে না জমি। মানুষের খাদ্য চাহিদা ক্রমাগত বেড়েই চলছে। বর্ধিত জনসংখ্যার স্থিতিশীল খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বর্তমান সময়ে কৃষির মূল চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ১৬০.৭৫ মিলিয়ন, ধারণা করা হচ্ছে ২০২০ সালের মধ্যে তা বেড়ে গিয়ে হবে ১৭০ মিলিয়ন। এ অবস্থায় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ২০২১ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৫-৬ মিলিয়ন টন খাদ্যশস্য উৎপাদন করতে হলে দরকার বীজ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ।

কম জমিতে অধিক ফলন পেতে হলে সব চাষের জমিতে পর্যায়ক্রমে মানসম্মত বীজ ব্যবহারের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশ এখন নিু আয়ের দেশ থেকে নিুমধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ফলে দ্রুত গতিতে আমাদের শিল্পেরও উন্নতি হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষিতে নানাবিধ প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে উৎপাদনশীলতা পূর্বের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে এবং কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ হচ্ছে। অর্থাৎ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় কৃষি কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেছে।

 

মানুষ কৃষি পেশাকে বাদ দিয়ে অধিক আয়ের জন্য শহরমুখী হয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ দানাদার খাদ্যশস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে; জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্যমতে বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে বিশ্বে ৪র্থ, পাট উৎপাদনে ২য়, আলু উৎপাদনে ৮ম, সবজি উৎপাদনে ৩য়, চা উৎপাদনে ৪র্থ, আম উৎপাদনে ৮ম স্থান অর্জন করেছে। এ উৎপাদনের পেছনে ভালো বীজের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বীজ প্রযুক্তির ব্যবহার : পৃথিবীর অনুন্নত, উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে বীজ কর্মসূচি রয়েছে, যা থেকে কৃষিতে ভালো বীজের ব্যবহার হচ্ছে। বীজ ব্যবহারের পরিমাণ ও মান নির্ভর করে সে দেশে ব্যবহৃত বীজ প্রযুক্তির উৎকর্ষের ওপর। যে দেশ যত উন্নত, সে দেশে ভালো বীজের ব্যবহারও তত বেশি।

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বীজ ব্যবসার জন্য ৩২,০০০ বীজ ডিলারকে নিবন্ধন প্রদান করা হয়েছে। প্রায় ৯০,০০০ চুক্তিবদ্ধ চাষীর মাধ্যমে সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরে বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের চাষীদের হাতের নাগালে এখন উন্নত জাত ও মানের বীজ পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান বাংলাদেশেও হাজার হাজার টন বীজ ব্যবহার হচ্ছে, অনেক বড় বড় দেশীয় ও বহুজাতিক কোম্পানি বীজ ব্যবসা করছে। বীজ ব্যবসার সফলতার মূল ভিত্তি হল ‘বীজ প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়ন’।

বীজকে নিয়ে এখন শিল্প গড়ে উঠেছে। এ শিল্পের উৎপাদিত পণ্য হচ্ছে ভালো বীজ। বীজ প্রযুক্তি প্রয়োগ করে ভালো বীজ পাওয়া যায়। তাই বীজ শিল্পের অন্তর্নিহিত চালিকাশক্তি হচ্ছে বীজ প্রযুক্তি। বিভিন্ন ফসলের বীজে বীজ প্রযুক্তি ব্যবহার করে বীজ শিল্পের জন্য ভালো বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। সভ্যতা শুরুর আদি প্রযুক্তি হচ্ছে বীজ প্রযুক্তি। সভ্যতার সময় বিকাশের সঙ্গে বীজ তথা বীজ প্রযুক্তির অবস্থান অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং সুদৃঢ় হয়েছে। উদ্যান সভ্যতার উন্নততর হতে উন্নততর স্তরে নিয়ে বীজ প্রযুক্তি বিষয়ক নব নব আবিষ্কার বীজ প্রযুক্তিকে উন্নত হতে উন্নততর স্তরে নিয়ে যাচ্ছে। তাই বীজ প্রযুক্তির ব্যবহার আগামীতে সভ্যতার স্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখেই বেড়ে চলবে।

ফসল চাষের জন্য ব্যবহৃত গাছের যে কোনো অঙ্গকে সাধারণভাবে কৃষিকাজে বীজ হিসেবে ধরে নেয়া হয়। যেমন ধান বা গমের দানা, গোল আলু, আদা, রসুন, কচুর কন্দ, কলা গাছের গুঁড়ি ইত্যাদি। প্রকৃতপক্ষে এর সব ক’টিই বীজ নয়। ধান বা গমের দানা প্রকৃত বীজ। অন্যগুলো রূপান্তরিত কাণ্ড বা মূল। এ পরিপ্রেক্ষিতে কৃষিকাজে ব্যবহৃত বীজকে বীজ না বলে কৃষিবীজ বলা যেতে পারে। দেশের বীজ আইনেও বীজকে সংজ্ঞায়িত করে দেয়া হয়েছে।

‘বীজ’ অর্থ মাদকদ্রব্য অথবা চেতনানাশক হিসেবে ব্যবহার ব্যতীত, পুনঃউৎপাদন এবং চারা তৈরিতে সক্ষম নিুবর্ণিত যে কোনো জীবিত ভ্রূণ বা বংশ বিস্তারের একক (প্রপাগিউল), যেমন- খাদ্য-শস্য, ডাল ও তৈল বীজ, ফলমূল এবং শাক-সবজির বীজ, আঁশ জাতীয় ফসলের বীজ, চারা, কন্দ, বাল্ব, রাইজোম, মূল ও কাণ্ডের কাটিংসহ সব ধরনের কলম এবং অন্যান্য অঙ্গজ বংশ বিস্তারের একক।

ফসল উৎপাদনের পরিমাণ ও মান বৃদ্ধির জন্য ভালো বীজ ব্যবহার করার এবং ভালো বীজের ব্যবহার বৃদ্ধি করার গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভালো বীজ ব্যবহার করা এবং ভালো বীজের ব্যবহার বৃদ্ধি করার জন্য গৃহীত সমুদয় কাজকে একত্রে বীজ প্রযুক্তি বলা যেতে পারে। বীজের বিভিন্ন গুণ ও গুণাবলি সংরক্ষণ সম্পর্কিত জ্ঞান এবং ভালো বীজ ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য গৃহীত কার্যক্রম নিয়ে বীজ প্রযুক্তি।

বীজ প্রযুক্তির কার‌্যাবলি : একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য সাধারণত ধাপে ধাপে এগোতে হয়। ফসল উৎপাদনে ভালো বীজ ব্যবহারের জন্যও এমনি ধাপে ধাপে কিছু কাজ করতে হয়। যথা-

গবেষণা ও জাত উন্নয়ন : জাত হচ্ছে বীজ প্রযুক্তি বাস্তবায়নের চাবি। সঠিক চাবি না থাকলে তালাবদ্ধ ঘরে প্রবেশ করা কষ্টসাধ্য। তেমনি একটি নির্দিষ্ট জাত না হলে বীজপ্রযুক্তির অন্য কাজগুলো বাস্তবায়ন শুরু করা যায় না। এজন্য দরকার জাত উন্নয়নের মাধ্যমে সঠিক জাত উদ্ভাবন এবং বাছাই করা। বাংলাদেশে জাতীয় গবেষণা সিস্টেমের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি পর্যায় থেকে জাত গবেষণা ও উন্নয়ন করা হয়।

বীজ পরিবর্ধন : কাক্সিক্ষত জাতের সামান্য পরিমাণ বীজ প্রজননবিদ অতি যত্নের সঙ্গে উৎপাদন করে। এ অল্প পরিমাণ বীজ চাষ করে পরিমাণে বৃদ্ধি করা হয়। এভাবে দু’তিন বছর ধরে পরিমাণ বৃদ্ধি করে তা কৃষকের কাছে ফসল ফলানোর জন্য বিতরণ বা বিক্রি করা হয়। বর্তমানে প্রজনন বীজকে ভিত্তি, প্রত্যায়িত ও মানঘোষিত এ চারটি শ্রেণিতে পরিবর্ধন করা হয়। মানঘোষিত শ্রেণির বীজ ছাড়া অন্য তিনটি শ্রেণির বীজকে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি মাঠমান এবং বীজমান যাচাই করে জাতীয় বীজবোর্ডের নির্ধারিত মান অনুযায়ী প্রত্যয়ন দিয়ে থাকে; প্রকৃতপক্ষে প্রত্যায়িত বীজই ভালো বীজ।

প্রক্রিয়াজাতকরণ : পরিবর্ধিত বীজের মধ্যে নানারকম খড়কুটো, অবীজ, চিটা, পোকা ইত্যাদি থাকতে পারে। তাই পরিবর্ধিত বীজ সরাসরি চাষে ব্যবহারের যোগ্য হয় না। তাছাড়া বীজ সংগ্রহের পর পরবর্তী ফসল চাষের মৌসুম পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে হয়। বীজ পরিষ্কার করা, সংরক্ষণ করা, প্যাকিং করা ও শোধন করা এ কাজগুলো একত্রে বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ।

মান নিশ্চিতকরণ : বীজমান নিশ্চিত করতে না পারলে সে বীজ ভালো বীজ হয় না। তাই মান নিশ্চিতকরণ বীজ প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এজন্য বীজ ফসলের মাঠ পরিদর্শন এবং পরিবর্ধিত বীজ গবেষণাগারে পরীক্ষা করা হয়। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে মান নিশ্চিত করা হয় এবং নিু মানসম্পন্ন বীজ বিপণন করা হয় না। মান নিশ্চিতকরণের কাজ বীজ প্রযুক্তির অন্তর্গত কাজগুলোর সব ক’টিতে প্রয়োগ করতে হয়। বীজের মান নিশ্চিতকরণের জন্য বীজ ফসলের মাঠমান এবং বীজ সংরক্ষণাগারে বীজের বীজমান বজায় রাখতে হয়।

মাঠমান বলতে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির কর্মকর্তা কর্তৃক পৃথকীকরণ দূরত্ব বীজ ফসলের রোগ পোকা-মাকড়ের উপস্থিতি, অন্য জাতের উপস্থিতি ইত্যাদি পরিদর্শন করা বোঝায় এবং বীজমান বলতে বীজের ন্যূনতম অংকুরোদগমক্ষমতা বীজের মধ্যে পানির সর্বোচ্চ পরিমাণ বীজের সজীবতা, বীজের বিশুদ্ধতা এবং জাতের বিশুদ্ধতা ইত্যাদি বুঝায়।

বীজ বিপণন : বীজ প্রযুক্তি সিঁড়ির শেষ ধাপ হচ্ছে বীজ বিপণন। বীজ বিপণনের মাধ্যমে কৃষক ভালো বীজের সরবরাহ পায় এবং ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষক তা ব্যবহার করে থাকে। বীজ বিপণন সুষ্ঠু না হলে ভালো বীজ সঠিক সময়ে, সঠিক মোড়কে, সঠিক মূল্যে কৃষকের কাছে সরবরাহ সম্ভব হয় না। অন্যান্য কার‌্যাবলি ফলপ্রসূ করতে বীজ বিপণন অপরিহার্য। বর্ণিত কার‌্যাবলি ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে হয়।

জাত না পেলে যেমন অন্যান্য ধাপের প্রয়োগ সম্ভব নয়, তেমনি সরাসরি বীজ বিপণন করা সম্ভব নয় যদি ভালো বীজ পরিবর্ধন বা প্রক্রিয়াজাতকরণ না করা যায়। আবার মান নিশ্চিতকরণ ধাপ পালিত না হলে অন্যান্য ধাপ কোনো কাজে আসে না। তাই কাজগুলো শুধু সম্পাদন করা নয় ধারাবাহিকভাবে করলে ফলপ্রসূ হয়।

বীজ ব্যবস্থাপনা : বাংলাদেশে বীজ উৎপাদন ও সরবরাহের সর্ববৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)। এ সংস্থাটি ১৯৬২-৬৩ সালে প্রতিষ্ঠাকালীন মাত্র ১৩ টন বীজ সরবরাহের মাধ্যমে বীজ কর্মসূচি শুরু করে। পরবর্তীতে ক্রমান্বয়ে চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে বীজ উৎপাদন ও সরবরাহের পরিমাণ বেড়ে যায়। তখন বীজের গুণগতমান রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বীজের মান নিয়ন্ত্রণ ও প্রত্যয়নের জন্য ১৯৭৪ সালে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

বর্তমানে নার্সভুক্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে জাতীয় বীজবোর্ড কর্তৃক ছাড়কৃত জাতের প্রজনন শ্রেণির বীজ সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএডিসি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সরবরাহ করা হয়। বিএডিসি ও বেসরকারি কোম্পানি/বীজ ডিলার ও এনজিও অনুমোদিত জাতের ভিত্তি, প্রত্যয়িত ও মানঘোষিত শ্রেণির বীজ উৎপাদন করে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করে।

বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি জাতীয় বীজ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত মাঠমান ও বীজমান অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উৎপাদিত নিয়ন্ত্রিত ফসলের (ধান, গম, আলু, পাট, মেস্তা ও কেনাফ) বীজের মাঠ ও গুদাম পরিদর্শন করে প্রজনন, ভিত্তি ও প্রত্যয়িত শ্রেণির বীজের প্রত্যয়ন করে। মানঘোষিত শ্রেণির বীজ উৎপাদক নিজেই প্রত্যয়িত মানের প্রত্যয়ন দিয়ে থাকে।

এক্ষেত্রে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির প্রত্যয়নের প্রয়োজন হয় না। বর্তমানে আনুষ্ঠানিক বীজ ব্যবস্থাপনা থেকে সব ফসলের গড়ে ২৬ শতাংশ গুণগতমানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ করা হয়। উপ-আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা থেকে ৩৬ শতাংশ এবং অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা অর্থাৎ কৃষকের নিজস্ব উৎপাদিত বীজ গড়ে ৩৮ শতাংশ ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশের দ্রুত ধাবমান কৃষি প্রযুক্তির যুগে বীজ প্রযুক্তিও কোনো ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই; সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশের চাষীরা বেশি মাত্রায় গুণগতমানসম্পন্ন বীজ ব্যবহার করছে। তিন মৌসুমে ধান চাষ করা হয়। আউশ মৌসুমে প্রায় ৬০ শতাংশ মানসম্পন্ন বীজ ব্যবহার করা হয়, আমনে ৩০ শতাংশ এবং বোরো মৌসুমে ১০০ শতাংশ মানসম্পন্ন বীজ ব্যবহার করে চাষীরা। গম বাংলাদেশের দ্বিতীয় ফসল; এক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ বীজ মানসম্পন্ন।

ভুট্টার ক্ষেত্রে ৯৮ শতাংশ জমিতে আমদানিকৃত হাইব্রিড ভুট্টা বীজ ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও পাটের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ মানসম্পন্ন বীজ ব্যবহার করা হয়। আলু বীজের ক্ষেত্রে চাষীরা ১৩ শতাংশ মানসম্পন্ন প্রত্যয়িত বীজ ব্যবহার করে। সবজি বীজের ক্ষেত্রে ৮৫ শতাংশ জমিতে চাষীরা হাইব্রিড সবজি বীজ ব্যবহার করে।

বর্তমানে সরকার বেসরকারি সেক্টরকে সব ফসলের বীজ গবেষণার সুযোগ দিয়ে বাস্তবসম্মত যুগোপযোগী ‘বীজ আইন-২০১৮’ প্রণয়ন করেছে। উদ্ভিদের জাত সুরক্ষা ও জাতের অধিকার প্রদানের জন্য উদ্ভিদের জাত সংরক্ষণ আইন-২০১৯ প্রণয়ন করেছে। বীজ আমদানি-রফতানি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য ‘উদ্ভিদ সংগনিরোধ আইন-২০১১ ও বিধি-২০১৮’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

এছাড়াও দেশ-বিদেশে প্রতিযোগিতাসম্পন্ন একটি যুগোপযোগী বীজ নীতি-২০১৯ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা অচিরেই গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সংরক্ষিত জার্মপ্লাজমগুলো সংরক্ষণ ও ডকুমেন্টেশনের জন্য ন্যাশনাল প্ল্যান্ট জেনেটিক রিসোর্স ইন্সটিটিউট আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে। আগামী কয়েক বছরে আইনগুলোর সফল বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের বীজ শিল্প এশিয়া মহাদেশের মধ্যে একটি স্থায়ী অবস্থান অর্জন করবে।

কৃষিবিদ মো. আজিম উদ্দিন : প্রধান বীজ প্রযুক্তিবিদ, কৃষি মন্ত্রণালয়

ফুলবাড়ী শিবনগর ইউনিয়নে সুইচ গেইট নির্মাণ ॥ ৬৬৩ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাবে এলাকার কৃষকেরা ॥
                                  

মোঃ আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ী দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নে ২ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সুইচ গেইট নির্মাণ। ৬৬৩ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাবে এলাকার কৃষকেরা। দিনাজপুরের উত্তরাঞ্চলের শিবনগর ইউনিয়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইডি থেকে ক্ষুদ্র পানি সেচ প্রকল্পের আওতায় সরকার গোপালপুর এলাকায় ২ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য একটি সুইচ গেইট নির্মাণ করেন। পাশাপাশি সুইচ গেইট থেকে উত্তরদিকে প্রায় ১০ কি.মি. একটি খাল খনন করেছেন। ঐ খাল খনন করার পর সারাবছর ঐ খালে পানি ধরে রাখতে পারে সে জন্য এই সুইচ গেইটটি নির্মাণ করেন।
গত ২১শে মার্চ ২০১৬ ইং তারিখে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী এ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার (এমপি) এই সুইচ গেইটির আনুষ্ঠানিক উদ্ভোধন করেন। সুইচ গেইটি নির্মাণের পুরো তদারক করেন দিনাজপুরের এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খলিলুর রহমান। দীর্ঘ ৪ মাস দিন রাত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তার জনবল নিয়োগ করে সুইচ গেইটটি নির্মাণ নির্মাণ করেন। বর্তমান সুইচ গেইটটির ৯৫শতাংশ কাজ শেষ। এই সুইচ গেইটটির কাজ শেষ হওয়ার পর চালু হলে শিবনগর ইউনিয়ন শুধু নয় তার আশপাশ এলাকার শত শত  একর জমিতে এই ক্যানেলের পানি ব্যবহার করে কৃষি কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারবে।
ভবিষ্যতে এই ক্যানেলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা করে পানি সরবরাহ করবে তিলাই খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ। ইতিমধ্যে ক্যানেলটি পুনঃখনন কাজ প্রক্রিয়াধীন। এতে ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪ লক্ষ টাকা। এই সমিতি পরিচালনার জন্য সদস্য রয়েছে প্রায় ৪২০ জন। প্রকল্পটির কাজ সম্পূর্ণ করা হলে ৬৬৩ হেক্টর জমিতে কৃষকেরা সেচ সুবিধা পাবে। এ ব্যাপারে ফুলবাড়ী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এলজিইিডির কার্যসহকারী মোঃ আবুল কালাম আজাদ এ সাথে প্রকল্প এলাকায় কথা বললে তিনি জানান, আমরা কাজটি শুরু থেকে এ পর্যন্ত শেষ করেছি। যতসামান্য কাজ আছে। আশা করছি আগামি জুলাই মাসের  শেষের দিকে কাজটি সম্পূর্ণ হবে। এরপর সুইচ গেইটটির আনুসাঙ্গিক কাজ ঠিকাদার করবে।
তবে কাজটি যথেষ্ট মান সম্পূর্ণ ভাবে করা হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খলিলুর রহমান তিনি নিজেই  প্রকল্পটির কাজ তদারক করেছেন। যাতে কাজের কোন ক্রুটি না থাকে। এ ব্যাপারে তিলাই খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহিদুল ইসলাম এর সাথে কথা বলের তিনি জানান, এই সমিতিটি আমি তদারক করছি। ভবিষ্যতে  এই ক্যানেলে মাছ চাষের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষক ও মৎস্যজীবীরা লাভবান হবে।
এদিকে দুধিপুকুর গ্রামের কৃষক হাসান আলী ও পূর্ব জাফরপুর গ্রামের কৃষক মাহমুদ আলী জানান, দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল তা বাস্তবায়ন হল। এই সুইচ গেইট নির্মাণ হওয়ায় বাধের এই পানি আমাদের কৃষি কাজে এবং মৎস্য চাষে ব্যবহার হবে। আমরা সেচ সুবিধা পাবো এবং মাছ চাষ করে দেশের মৎস্য ঘাটতি পূরণ হবে। পাশাপাশি কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কৃষকের সফলতা ফিরে আসবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে লিচুর বাগানে মৌ চাষ খাঁটি মধু সংগ্রহ শুরু
                                  

আবুল খায়ের,ঠাকুরগাঁও ॥

ঠাকুরগাঁও জেলার সুস্বাদু ও মিষ্টি লিচুর পরিচিতি দেশ জুড়ে। তাই এবার লিচু বাগানে মৌ মাছির বাক্স বসিয়ে মধু আহরন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কয়েকজন মৌ চাষি। এর ফলে একদিকে যেমন মৌ চাষিরা মধু সংগ্রহ করে লাভবান হচ্ছেন অন্যদিকে মৌ মাছির মাধ্যমে মুকুলে মুকুলে পরাগায়ন ঘটায় লিচু গাছ মালিকরা বাম্পার ফলনের আশা করছেন। এক কথায় বাগানে মৌ চাষ করে চাষিরাও খুশি এবং মালিকরাও খুশি।

ঠাকুরগাঁও জেলায় গড়ে উঠেছে বেশ কিছু লিচু বাগান। প্রতি বছর খরচ হয়না এবং অল্প পরিচর্যায় প্রতি বছর মোটা অঙ্কের অর্থ আয় হয় বলে অনেকে লিচুর বাগান করেছেন। চলতি বছর ঠাকুরগাঁওয়ের ৫ উপজেলায় ৮শ হেক্টর জমিতে প্রায় ৫ হাজার বাগানে লিচু চাষ হয়েছে। বর্তমানে লিচুর বাগানগুলো মুকুলে ছেয়ে গেছে।

ঠাকুরগাঁও-রুহিয়া সড়কের পাশে উত্তর ঠাকুরগাঁও এলাকায় অবস্থিত লিচু বাগানগুলোতেও বেশ মুকুল এসেছে। এরমধ্যে ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুমের লিচু বাগানটি বড় এবং ৩ শতাধিক লিচু গাছ থাকায় সুদুর জামালপুর ও সিরাজগঞ্জ থেকে নুরুল আমিন ও নজরুল ইসলাম নামে ২ মৌ চাষি সে বাগানে ছোট বড় বিভিন্ন আকৃতির মৌমাছির বাক্স বসিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৌ চাষ করে মধু সংগ্রহ করছেন।

মৌ চাষি নুরুল আমিন জানান, প্রশিখা এনজিও’র উদ্ভাবিত মৌচাষ পদ্ধতি ব্যবহার করছেন তারা। ওই বাগানে তারা শতাধিক ব্রড ও নিউক্লিয়াস নামের ছোট বড় কাঠের বাক্স স্থাপন করেছেন। প্রতিটি বাক্সে একটি রানী মৌমাছি, একটি পুরুষ মৌমাছি ও অসংখ্য এপিচ মেইলিফ্রা জাতের কর্মী মৌমাছি রয়েছে। কর্মী মৌমাছিরা মৌ মৌ গন্ধে ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে যায় লিচুর মুকুলে। পরে মুকুল হতে মধু সংগ্রহ করে মৌমাছির দল নিজ নিজ কলোনিতে মৌচাকে এনে জমা করছে। ১০/১৫ দিন অন্তর অন্তর প্রতিটি বাক্স হতে চাষিরা ৬/৭ মণ মধু সংগ্রহ করছেন। যে লিচু গাছে মৌমাছির আগমন বেশি হয় সে গাছের মুকুলে পরাগায়ন ভাল হয়। ফলে ওই গাছে বা বাগানে লিচুর যেমন বাম্পার ফলনের সম্ভবনা থাকে, তেমনি মৌ চাষিরা বেশি মধু সংগ্রহ করে বানিজ্যিকভাবে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারে। জেলার বিভিন্ন বাগান থেকে শতাধিক মৌ চাষী প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মণ মধু সংগ্রহ করে বাজারজাত করছে।

কাঠের তৈরী শত শত বিশেষ বাক্সের মাধ্যমে মৌ চাষ মধু সংগ্রহ করা দৃশ্য দেখে এলাকাবাসীও উদগ্রীব হয়ে ছুটে আসছেন মধু কেনার জন্য লিচু বাগানে।

ক্রেতা নারগিস আক্তার জানান, বাজারে খাঁটি মধু পাওয়া যায়না। তাই স্ব চোখে নির্ভেজাল মধু সংগ্রহ করতে পেরে তারা নিজেকে ধন্য মনে করছেন।

ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আরশেদ আলী জানান, চলতি বছর প্রতিটি লিচু বাগানে ভালো মুকুল এসেছে। আর এ কারণে প্রচুর মৌ মাছির আগমন দেখা দিয়েছে। লিচু গাছ থেকে মৌ মাছি মধু আহরণের ফলে গাছে গাছে বেশি করে পরাগায়ন হয় এবং শতকরা ৩০-৪০ ভাগ লিচুর বেশি ফলন হয়।

লিচু এবং মধু দু’টি প্রাকৃতিক সম্পদ-এ দু’টি সম্পদ সংগ্রহে সঠিক প্রশিক্ষণ ও বাজারজাত করণে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হলে চাষিরা যেমন লাভবান হবে তেমনি দেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে মনে করছেন ঠাকুরগাঁওবাসী।


   Page 1 of 2
     কৃষি
খাগড়াছড়িতে কফি চাষ: সফল কৃষকরা
.............................................................................................
নবাবগঞ্জে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ধান মাড়াই পাওয়ার থ্রেসার মেশিন বিতরণ
.............................................................................................
করোনাকালীন দুর্যোগেও উৎপাদন থেমে নেই কৃষি দপ্তরে উত্তর জনপদে ধানের পাশাপাশি খাদ্য শষ্য হিসেবে বেড়েছে গমের উৎপাদন
.............................................................................................
ফুলবাড়ীতে কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরনের উদ্বোধন
.............................................................................................
পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে সরকার সচেষ্ট
.............................................................................................
নওগাঁয় লেবু চাষে বদলে গেছে কৃষকদের ভাগ্যের চাকা!
.............................................................................................
ভবনগর গ্রামে বাড়িতে বাড়িতে ধানের গোলা
.............................................................................................
নবাবগঞ্জে আম লিচুর উৎপাদন কম হওয়ার সম্ভাবনা
.............................................................................................
মহাদেবপুরে লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে গম চাষ
.............................................................................................
কৃষিতে যোগহল স্কোয়াশ চাষাবাদ
.............................................................................................
মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষক
.............................................................................................
বাজারে উঠতে শুরু করেছে নতুন পেঁয়াজ
.............................................................................................
ঝিনাইদহে পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পাছেনা
.............................................................................................
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভালো বীজের ভূমিকা অনেক
.............................................................................................
ফুলবাড়ী শিবনগর ইউনিয়নে সুইচ গেইট নির্মাণ ॥ ৬৬৩ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাবে এলাকার কৃষকেরা ॥
.............................................................................................
ঠাকুরগাঁওয়ে লিচুর বাগানে মৌ চাষ খাঁটি মধু সংগ্রহ শুরু
.............................................................................................
টেকসই উন্নয়নে কৃষক ও কৃষির উন্নয়নের বিকল্প নেই: রাষ্ট্রপতি
.............................................................................................
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম গতিশীল হবে
.............................................................................................
সাতক্ষীরায় গমের আবাদ বেড়েছে
.............................................................................................
২ লাখ টাকা বেতন, একজনের আবেদন
.............................................................................................
পথে পথে শাক-সবজি সংগ্রহ করে সংসার চালায়
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ হাজী মোবারক হোসেন।। সহ-সম্পাদক : কাউসার আহম্মেদ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু। র্বাতা সম্পাদক আবু ইউসুফ আলী মন্ডল, ফোন ০১৬১৮৮৬৮৬৮২

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, মোবাইল : 01731190131, 01930226862, E-mail : mannannews0@gmail.com, mannan2015news@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- notunbazar / সম্পাদক dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop