| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   ফিচার -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
যে সময়ে হাঁটলে বেশি উপকার পাবেন

ফিচার ডেস্ক : হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, একথা কে না জানে! আপনি যদি প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটেন, তবে বেশকিছু উপকারিতা মিলবে। শরীর ভালো থাকার পাশাপাশি কমবে ওজনও। যাদের পক্ষে ভারী কোনো ব্যায়াম করা সম্ভব নয়, তাদের ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করতে হবে।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে যে. খাওয়ার পরে হাঁটলে অতিরিক্ত উপকার পাওয়া যায়। দিনের যেকোনো সময়ই কি হাঁটা যায়? নাকি নির্দিষ্ট কোনো সময় রয়েছে যখন হাঁটলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়? দিনে ঠিক কতক্ষণ হাঁটা প্রয়োজন? এ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান টাইমস-

সেরা সময়
দিনের যো কোনো সময়েই হাঁটা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ওজন কমানোর জন্য খাওয়ার পরে হাঁটতে পারেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেও খাওয়ার পরে হাঁটা ভালো। যাদের কোনো শারীরিক সমস্যা নেই, তারা নিরোগ ভবিষ্যতের জন্য প্রতিদিনই হাঁটতে পারেন।

কীভাবে হাঁটবেন
বাড়িতে হাঁটাচলা এবং কাজকর্ম করার ফলে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালোরি আমরা রোজ বার্ন করি। একে বলে রেস্টিং মেটাবলিজম। এর সঙ্গে আমরা ব্যায়াম বা জগিং করলে বা হাঁটাহাঁটি করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন হয়। আপনি যত নড়াচড়া বাড়াবেন, তত বেশি ক্যালোরি বার্ন হবে।

প্রতিদিন দ্রুত পায়ে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটলে শুধু যে ওজন কমে তাই নয়, এর ফলে ব্লাড সুগার লেভেলও নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রতিদিন খাওয়ার পরে দশ মিনিট হাঁটলে ডায়াবিটিস রোগীদের রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। দিনের যেকোনো সময় টানা ত্রিশ মিনিট হাঁটার থেকে খাওয়ার পরে দশ মিনিট হাঁটা অনেক বেশি কার্যকরী।

হাঁটার সময় আমাদের হার্টরেট বেড়ে যায় এবং মাসল শরীরে জমে থাকা কার্বোহাইড্রেট বা সুগার থেকে এনার্জি সংগ্রহ করে। খাওয়ার পরে হাঁটলে আপনার খাবার থেকে শরীর যে কার্বোহাইড্রেট সংগ্রহ করেছে, সেখান থেকে মাসল এনার্জি সংগ্রহ করে। ফলে অতিরিক্ত কার্বস শরীরে ফ্যাটের আকার নিতে পারে না। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানাচ্ছে যে সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হাঁটলে তা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।

যে সময়ে হাঁটলে বেশি উপকার পাবেন
                                  

ফিচার ডেস্ক : হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো, একথা কে না জানে! আপনি যদি প্রতিদিন নিয়ম করে হাঁটেন, তবে বেশকিছু উপকারিতা মিলবে। শরীর ভালো থাকার পাশাপাশি কমবে ওজনও। যাদের পক্ষে ভারী কোনো ব্যায়াম করা সম্ভব নয়, তাদের ওজন কমানোর জন্য প্রতিদিন হাঁটার অভ্যাস করতে হবে।

নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে যে. খাওয়ার পরে হাঁটলে অতিরিক্ত উপকার পাওয়া যায়। দিনের যেকোনো সময়ই কি হাঁটা যায়? নাকি নির্দিষ্ট কোনো সময় রয়েছে যখন হাঁটলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়? দিনে ঠিক কতক্ষণ হাঁটা প্রয়োজন? এ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করেছে ইন্ডিয়ান টাইমস-

সেরা সময়
দিনের যো কোনো সময়েই হাঁটা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। ওজন কমানোর জন্য খাওয়ার পরে হাঁটতে পারেন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতেও খাওয়ার পরে হাঁটা ভালো। যাদের কোনো শারীরিক সমস্যা নেই, তারা নিরোগ ভবিষ্যতের জন্য প্রতিদিনই হাঁটতে পারেন।

কীভাবে হাঁটবেন
বাড়িতে হাঁটাচলা এবং কাজকর্ম করার ফলে নির্দিষ্ট পরিমাণ ক্যালোরি আমরা রোজ বার্ন করি। একে বলে রেস্টিং মেটাবলিজম। এর সঙ্গে আমরা ব্যায়াম বা জগিং করলে বা হাঁটাহাঁটি করলে অতিরিক্ত ক্যালোরি বার্ন হয়। আপনি যত নড়াচড়া বাড়াবেন, তত বেশি ক্যালোরি বার্ন হবে।

প্রতিদিন দ্রুত পায়ে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটলে শুধু যে ওজন কমে তাই নয়, এর ফলে ব্লাড সুগার লেভেলও নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রতিদিন খাওয়ার পরে দশ মিনিট হাঁটলে ডায়াবিটিস রোগীদের রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। দিনের যেকোনো সময় টানা ত্রিশ মিনিট হাঁটার থেকে খাওয়ার পরে দশ মিনিট হাঁটা অনেক বেশি কার্যকরী।

হাঁটার সময় আমাদের হার্টরেট বেড়ে যায় এবং মাসল শরীরে জমে থাকা কার্বোহাইড্রেট বা সুগার থেকে এনার্জি সংগ্রহ করে। খাওয়ার পরে হাঁটলে আপনার খাবার থেকে শরীর যে কার্বোহাইড্রেট সংগ্রহ করেছে, সেখান থেকে মাসল এনার্জি সংগ্রহ করে। ফলে অতিরিক্ত কার্বস শরীরে ফ্যাটের আকার নিতে পারে না। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানাচ্ছে যে সপ্তাহে ১৫০ মিনিট হাঁটলে তা আমাদের স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী।

ফ্রিজে রাখা খাবারের স্বাদ অটুট রাখবেন যেভাবে
                                  

ফিচার ডেস্ক : ফ্রিজ আমাদের ব্যস্ত জীবনে এক প্রকার আশীর্বাদ। কারণ ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণের কারণে অনেক খাবার নষ্ট হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যায়, বেঁচে যায় অনেকটা সময়ও। কারণ খাবার ফ্রিজে না রাখলে তখন বারবার গরম করে রাখতে হয়। তাতে সময় নষ্ট হয় অনেকখানি।

নিঃসন্দেহে ফ্রিজে খাবার রাখার অনেক ভালো দিক আছে। কিন্তু ফ্রিজে খাবার রাখার কারণে অনেকসময় এর স্বাদ নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন অনেকে। অনেকে আবার ফ্রিজে রাখা খাবার থেকে এক ধরনের গন্ধ পান। তারা ফ্রিজে রাখা খাবার খেতে পারেন না। কী করলে ফ্রিজে রাখা খাবারের স্বাদ অটুট থাকবে? চলুন জেনে নেয়া যাক-

* কোনো খাবার ফ্রিজের গায়ে লাগিয়ে রাখবেন না, কোনো রকম ফল শাকসবজি একেবারেই রাখবেন না। যদি অনেকদিন ভালো রাখতে চান তাহলে একদম এয়ারটাইট পাত্রে ভরে ফ্রিজে রাখবেন।

* মজার একটা ব্যাপার হলো, চানাচুর, গুঁড়ো দুধ ফ্রিজে রাখলে তা অনেকদিন মুচমুচে থাকে। এর জন্য এটিকে প্লাস্টিকের পাত্রে সংরক্ষণ করতে হবে।

* ফ্রিজে যা-ই রাখুন না কেন, এয়ারটাইট পাত্রে ভরে রাখবেন। মাঝেমধ্যে পাত্র সোডা ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করবেন।

* একটি কাটা লেবু সবসময় ফ্রিজে রেখে দেয়ার চেষ্টা করবেন। এর ফলে কোনো দুর্গন্ধ ছড়াবে না। তবে একই লেবু অনেকদিন রাখবেন না। ক’দিন পরপর লেবু বদলে দিন।

* বেশি মাছ রাখলে তা অবশ্যই লবণ-পানি দিয়ে ধুয়ে রাখবেন। এতে করে ফ্রিজের ভেতর দুর্গন্ধ ছড়াবে না।

* যদি কাটা কোনো সবজি রাখতে হয় তাহলে একটি কনটেইনারের কিছুটা লবণ দিয়ে এয়ারটাইট ভাবে রাখবেন।

* ডিম রাখতে হলে ডিম রাখার ট্রেতে না রেখে একটি বাটিতে করে ভিতরে রাখবেন।

* ফল রাখার থাকলে যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু কেটে বাকিগুলো আস্ত রাখার চেষ্টা করবেন।

মিনি সিঙ্গারা তৈরির রেসিপি
                                  

ছোট ছোট সিঙ্গারা। এক কামড়েই একটি খেলে ফেলা যায় এমন ছোট। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, খেতেও তেমনই সুস্বাদু। মজার এই খাবারটি রাখতে পারেন বিকেলের নাস্তায় কিংবা অতিথি আপ্যায়নে। চলুন জেনে নেয়া যাক রেসিপি-

উপকরণ:
৩ কাপ ময়দা
পানি পরিমাণমতো
তেল (ডো তৈরি ও ভাজার জন্য)
লবণ স্বাদ মতো
১ চা চামচ কালোজিরা

পুরের জন্য:
১ কাপ কলিজা (ছোট কিউব করে টুকরো করা)
১ কাপ গাজর (ছোট কিউব করে টুকরো করা)
১ কাপ আলু (ছোট কিউব করে টুকরো করা)
১ কাপ পেঁয়াজ কুচি
১ টেবিল চামচ ধনে পাতা কুচি
১ চা চামচ আদা-রসুন বাটা
আধা চা চামচ গরম মসলা গুঁড়া
তেল পরিমাণ মতো।

প্রণালি:
প্রথমে ময়দা, লবণ ও তেল পরিমাণ মতো দিয়ে ভালো করে মেখে ডো তৈরি করে নিন। ডো তৈরি করে ১ ঘণ্টা ঢেকে রেখে দিন। একটি প্যানে তেল গরম করে এতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে নরম করে ভেজে নিয়ে এতে দিন আদা-রসুন বাটা, গরম মসলাগুঁড়া এবং লবণ। খানিকক্ষণ নেড়ে নিয়ে এতে দিন কলিজার টুকরোগুলো।

কলিজা একটু কষে এলে আলু, গাজর দিয়ে ভালো করে নেড়ে মিশিয়ে সেদ্ধ করার জন্য পরিমাণমতো পানি দিয়ে রান্না করতে থাকুন। রান্না শেষ হলে স্বাদ ঢেকে চুলা থেকে নামিয়ে নিয়ে ঠান্ডা হতে দিন।

ময়দার ডো থেকে ছোট ছোট বল তৈরি করে রুটি বেলে নিন। এরপর রুটি অর্ধেক করে কেটে ঠোঙার মতো তৈরি করে নিন। এরপর ঠোঙার মধ্যে কলিজার পুর দিয়ে মুখ বন্ধ করে সিঙ্গারা তৈরি করে নিন। প্যানে ডুবো তেলে ভাজার জন্য তেল গরম করে নিন। এরপর সিঙ্গারা লালচে করে ভেজে তুলে নিন। এরপর সস, পেঁয়াজ অথবা সালাদের সাথে গরম গরম পরিবেশন করুন।

চিকেন খাবসা তৈরির রেসিপি জেনে নিন
                                  

অ্যারাবিয়ান রেসিপি চিকেন খাবসা। এটি আমাদের দেশেও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে দ্রুত। অনেকটা বিরিয়ানির মতোই এটি রান্না করার পদ্ধতি। তৈরি করা যায় সহজেই। অতিথি আপ্যায়ন কিংবা উৎসবে রাখতে পারেন এই খাবার। চলুন রেসিপি জেনে নেয়া যাক-

উপকরণ:
সয়াবিন তেল- ১/২ কাপ।
মুরগি- দেড় কেজি
পোলাওর চাল- ৫০০ গ্রাম
পেঁয়াজ কুচি- ১/২ কাপ
রসুনকুচি- ৬ কোয়া
টমেটো কুচি- ৩ টি
টমেটো বাটা- ১/৪ কাপ
গাজর মিহিকুচি- ১ কাপ
মুরগির স্টক- ২ কাপ
কিসমিস- ১/৮ কাপ
গরম মসলা- ১/২ চা চামচ
সিরকা- ১/২ চামচ
এলাচি গুঁড়া- ১/৪ চামচ
দারুচিনি গুঁড়া- ১/২ চামচ
ফুড কালার/স্যাফরন- ১/২ চামচ
জিরা গুঁড়া- ১/২ চামচ
ধনিয়া গুঁড়া- ১/২ চামচ
পাপরিকা পাউডার- ১ চামচ
লবঙ্গ- ২ টা
সরিষাবাটা- ১ চা-চামচ
জায়ফল গুঁড়া- ১ চিমটি
কালো গোলমরিচ গুঁড়া- ১/২ চামচ
লবণ স্বাদ অনুযায়ী।


প্রণালি:
মশলার সব উপকরণ একটি বাটিতে আলাদা মিশিয়ে নিন। একটি ননস্টিক হাঁড়ি চুলায় বসান এবং এতে ১/৪ কাপ তেল দিন। তেল গরম হলে এতে পেঁয়াজ এবং রসুনকুচি দিন। হালকা বাদামি রং ধরলে এতে মুরগির টুকরোগুলো দিয়ে ভাজতে থাকুন হালকা বাদামি রং হওয়া পর্যন্ত। এরপর দিয়ে দিন টমেটোবাটা। এই মিশ্রণে এবার মশলার মিশ্রণটি ঢেলে দিন এবং সাথে দিন টমেটো কিউব ও সিরকা।

মুরগি সেদ্ধ হয়ে গেলে সস থেকে তুলে নিন এবং একে ওভেনে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বেক করুন বাদামি রং হওয়া পর্যন্ত। এখন এবার গ্রেভি সসের মধ্যে পোলাওয়ের চাল দিয়ে দিন, সাথে গরম পানি দিন। চাল সিদ্ধ হয়ে গেলে এর মধ্যে মুরগিগুলো বসিয়ে দিন, উপরে গরম মসলাগুঁড়া, গাজর কুচি, কিসমিস দিয়ে নামিয়ে নিন। গরম গরম পরিবশেন করুন ভিন্নস্বাদের এরাবিয়ান কাবসা বা খাবসা।

হুমকির মুখে অতিথি পাখির ক্যাম্পাস
                                  

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সবুজের মাঝে অতিথি পাখি, প্রজাপতি, গুইসাপ, বেজি, গিরগিটি, কাঠবিড়ালিসহ নানা ধরনের প্রাণীর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র। গ্রাম্য প্রকৃতির আবহের কারণেই জাহাঙ্গীরনগরকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বলা হয়ে থাকে। তবে যে জীববৈচিত্রের কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয়েকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বলা হয়ে থাকে তা হুমকির মুখে পড়েছে।

অধিক গাছপালা ও তৎসংলগ্ন ঝোপঝাড় বন্যপ্রাণীর জন্য প্রাকৃতিক অভয়াশ্রমের কাজ করে। তবে প্রশাসনের উদাসীনতাসহ নানা কারণে নষ্ট হচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বণ্যপ্রাণীদের আবাসস্থল।

সর্বশেষ রোববার (১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল সংলগ্ন জঙ্গলের তিন একরেরও বেশি জায়গা আগুনে পুড়েছে। রোববার দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সাড়ে ৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ওই এলাকা আগুনে পুড়তে থাকে। এর মধ্যে আগুন নেভাতে প্রশাসনের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। প্রায়ই জঙ্গলগুলোতে এমন আগুন জ্বলতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রাধ্যক্ষের বাসভবনের পাশে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ সড়ক থেকে একটু ভেতরের দিকের জঙ্গলে ছোট ছোট গাছপালা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সেখানে ৩৫ থেকে ৪০টি গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছিল। সেসবও আগুনে পুড়ে গেছে। এ সময় দুটি শিয়ালকে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। জঙ্গলের ভেতরের দিকে তখনও দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট কার্যালয়ে জানানো হলে তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে।

এভাবে প্রাণকূলের আবাসস্থল ও প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ার ফলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যও হারাতে বসেছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ক্যাম্পাসের জঙ্গলগুলোতে সাপ, বেজি, শিয়াল, বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ নানা ধরনের বন্যপ্রাণী বাস করে। কিন্তু প্রতি বছরই এসব জঙ্গলে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এতে করে এসব প্রাণীর খাবার ও বাসস্থানের সংকট সৃষ্টি হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা সময় ক্যাম্পাসে নানা ধরনের বন্যপ্রাণীর দেখা মিলতো। দিনকে দিন সেসব কমে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনই সতর্ক না হলে অদূর ভবিষ্যতে এসব প্রাণী হারিয়ে যাবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত এস্টেট কর্মকর্তা ও মুখ্য উদ্যানতত্ত্ববিদ নুরুল আমিন বলেন, ‘কে বা কারা আগুন জ্বালিয়েছে তা আমরা জানতে পারিনি। তবে আগুন লাগানোর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা নেভানোর চেষ্টা করি।’ এছাড়া এস্টেট কার্যালয়ে জনবল সংকট রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অসৎ নারী চেনার উপায় কী?
                                  

নতুনবাজার ডেস্কঃ

অনেকের মতে নারী বহু শক্তির অধিকারী। নারীতে পুরুষের ফাঁসি। সব নারী মমতাময়ী হয় না। কিছু নারী থাকে যে নিজের স্বার্থের জন্য সব কিছু করতে পারে। পুরুষ মনে করে নারী খুব জটিল প্রাণী। জেনে রাখুন, লোভী নারীর সংখ্যাই আমাদের সমাজে বেশি। ঘরে-বাইরে দীর্ঘদিনের ট্রেনিংয়ের ফলেই এই প্রকার নারীর আবির্ভাব।

একটা নির্বোধ টাইপ নারী আছে, যার কোনও ইগোফিগো নেই। যে নারী কোনও ছকে চলে না, তাকে নিয়েই যত জ্বালা। সে হাসলে পুরুষ ভেবে নেয় অনেক কিছু। খেতে দিলে, শুতে চায়। এই নারী নিতান্ত সরল টাইপ। এই টাইপটাকে মানুষ সহজেই ভুল বোঝে। সে যদি ভালো মনে কিছু করতেও যায়, খারাপটাই ভেবে নেয় সকলে। মনে করে অন্য কোনও মতলব আছে তার।

কিন্তু এই দুই প্রকার নারীর বাইরেও আরও একপ্রকার নারী আছে, যে ফ্লার্টিংকে শিল্পের পর্যায় নিয়ে গেছে। আলাপের প্রথম প্রথম এমন হাবভাব করে, যেন ভাজা মাছটা উল্টে খেতে শেখেনি। পৃথিবীর রং, রূপ, গন্ধ- সবই প্রথম দেখছে। শিহরিত হচ্ছে পলকে পলকে। সেই মেকি সারল্যের প্রেমে পড়ে পুরুষ।

তখনই অনেকটা জিতে যায় ছলনাময়ী। ক্রমে সুতো ছাড়তে শুরু করে। এই ধরনের নারী কিন্তু খুব ধীর স্থির। হড়বড় করে কথা বলে না। খুব মার্জিত চালচলন। মিষ্টি হাসিটাও ফেক। দীর্ঘ দিনের হোমওয়ার্ক করে আনা। সাধারণত কমিটমেন্টে বিশ্বাস করে না। একই সময় বহুপুরুষের সঙ্গে সদ্ভাব রাখতে পারে। এমন নারী বিশ্বাসের অযোগ্য হলেও, সবাই তাকে বিশ্বাস করে নেয়। সে আসে, দেখে, জয় করে।

কী করে চিনবেন এমন নারীকে, কী করে বুঝবেন তিনি ফ্লার্ট করছেন আপনার সঙ্গে। জেনে নিন –

১. লজ্জাই নারীর ভূষণ। এই ধরনের নারীরা আপাত ভদ্র হলেও তাদের মধ্যে নির্লজ্জ হাবভাব প্রকাশ পায়। পুরুষের চোখের দিকে চেয়ে থেকে এমনভাবে, যেন তার ভিতরটা পড়ে ফেলছে। নারীর ওই দৃষ্টি পুরুষের সর্বনাশের কারণ।

২. মাথার চুল নিয়ে নাড়াচাড়া করতে শুরু করে কথা বলার সময়। পুরুষকে বাধ্য করে তার রূপের দিকে নজর দিতে। ইচ্ছে করে ইঙ্গিতবাহী পোশাক পরে আসে তার সামনে। যাতে সহজেই আকৃষ্ট করতে পারে।

৩. পুরুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে প্রথমে। তারপর তার বাড়ির ব্যাপারে খোঁজ নিতে থাকে। যেহেতু এই নারীকে পুরুষ সহজেই বিশ্বাস করে নেয়, নিজের সম্পর্কে সবই তাকে বলে ফেলে। এমন নারী কিন্তু পুরুষকে ফাঁদে ফেলতে ওস্তাদ। নানাভাবে বিশ্বাস অর্জন করে, ব্ল্যাকমেইল করতেও পিছপা হয় না।

৪. নানা ছুতোয় কথা বলার সুযোগ খোঁজে এই নারী। এড়িয়ে গেলে বাড়ি চলে আসে। যেহেতু ততদিনে বাড়ির লোকের সঙ্গেও সদ্ভাব করে নেয়, তাই বাড়ির লোকের নজরেও সে বিশ্বাসযোগ্য।

৫. বারংবার দেখা করার ফাঁক খোঁজে। সেই দেখা হওয়া কিন্তু একান্তে। অন্য কাউকে ডাকে না তখন।

৬. মাঝরাতে মেসেজ করে। রাত ১টা, ২টার সময় মাখোমাখো মেসেজ পাঠাতে থাকে।

৭. এমন নারীর সঙ্গে কখনওই মদ্যপান করা উচিত নয়। হতেই পারে অচৈতন্য মুহূর্তের সুযোগ নিয়ে পরবর্তীকালে সমস্যায় ফেলে দিল।

৮. এই নারী নানা অছিলায় যৌনতাকে নিয়ে আসে আলোচনার মধ্যে। পুরুষকে যৌনভাবে উত্তেজিত করার চেষ্টা করে। সেই উত্তেজনার বশে পুরুষ যদি মাত্রাতিরিক্ত কিছু করেও ফেলে, বিপদ কিন্তু পুরুষেরই। এই নারী কিন্তু অবলীলায় দোষ চাপিয়ে দিতে পারে পুরুষের ঘাড়ে।

যেসব কারণে পরকীয়ায় নারীদের আগ্রহ বেশি!
                                  

ডেস্কঃ বিয়ের কিছুদিন কিংবা কয়েক বছর পরই দাম্পত্য কলহে ঘর ভাঙছে, স্বামী-স্ত্রীর ছাড়াছাড়ি হয়ে যাচ্ছে। স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে স্বামী হয়তো পাশের বাড়ির কোনও সুন্দরী নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে। আবার স্বামীর দায়িত্বহীনতা ও অক্ষমতা হয়তো কোনও কোনও স্ত্রীকে পরপুরুষের দিকে আকৃষ্ট করছে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, শতভাগ না হলেও অন্তত ৭৭ ভাগ নারী প্রেমিক কিংবা স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করে অন্য পুরুষকে সময় দেয়। যেখানে প্রতিবেশী কোনও পুরুষের সঙ্গেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলের নারীরা।

সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, পরকীয়ার জন্য ডেটিং অ্যাপগুলোতে প্রতিদিনই ভিড় বাড়ছে। বর্তমানে এই ডেটিং অ্যাপের সদস্য সংখ্যা ৬ লাখেরও বেশি। সদস্যদের অনেকের বয়সই ৩৪ থেকে ৩৯ বছর। যেখানে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাই বেশি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে- বিবাহিত নারীরা কেন পরপুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হন? কিসের টানে কিসের অভাবে তারা নিজের স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করেন? দাম্পত্য কলহ, অভাব-অনটন নাকি অন্য কিছু?

এ বিষয়ে সমীক্ষা বলছে, অনেক নারীই বিয়ের পর দীর্ঘ জীবন স্বামীর সঙ্গে কাটাতে চান না। তাদের মধ্যে এক ধরনের একঘেয়েমি চলে আসে। তাই নতুন কারও সঙ্গ পেতেই তারা পরপুরুষের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।

তথ্য মতে, প্রতিবেশীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান ৩১ শতাংশ নারী। ৫২ থেকে ৫৭ শতাংশ নারী বিজনেস ট্রিপের সময় অন্য পুরুষের শয্যাসঙ্গিনী হন।

আর এই পরকীয়া সম্পর্ককে কেন্দ্র করে প্রায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিবাহবিচ্ছেদ বাড়ছে। বাড়ছে পারস্পরিক বিশ্বাস ভালোবাসা আর আস্থা। কতশত সুখের সংসার পুড়ে ছাড়খার হচ্ছে।

সম্প্রতি মিসৌরি টেস্ট ইউনিভার্সিটির সমাজতত্ত্বের অধ্যাপক অ্যালিসিয়া ওয়াকার প্রায় ১০০০ বিবাহিত নারী-পুরুষের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখিয়েছেন, প্রত্যেক সুস্থ ও স্বাভাবিক নারী সপ্তাহে অন্তত দু‘বার শারীরিক সম্পর্কের চাহিদা অনুভব করেন। যখন কোনও নারী বিবাহিত জীবনে শারীরিক অপূর্ণতা অনুভব করেন তখনই হিতে বিপরীত ঘটে। তখনই ঘরের নারী বাইরের পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পরকীয়ায় জড়ান।

সীমান্ত হত্যা-চোরা চালান ও অপরাধ দমনে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে গড়ে ওঠেছে কৃষি খামার
                                  

আবুল খায়ের,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

সংসার চলছিল না বাবার রোজগারে। বিয়ের উপযুক্ত হয়ে দাঁড়াচ্ছে দুই বোন। এই চিন্তায় দুমড়ে মুছড়ে পড়ে শাহ্ আলম। অবশেষে ঠিক করে এলাকার গরু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওপারে(ভারত) যাওয়ার। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ ভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সে প্রতিবেশী দেশে যায় গরু আনতে । কিন্তু তার আর বাড়ি ফেরা হয়নি (নিজ দেশে)। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বি,এস,এফ) গুলিতে প্রাণ হারায় কিশোর বয়সী শাহ্ আলম। এই নির্মম ঘটনার শিকার হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার শুটকা বস্তি গ্রামের হত দরিদ্র শের আলীর ছেলে।
গত ২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর ৮ম শ্রেণীর ছাত্র শাহ্ আলম নিহত হয়। পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তরের সময় বিজিবির ঠাকুরগাঁও ৩০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.ক. তুষার বিন ইউনুস আবেগ প্রবল হয়ে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারটিকে শান্তনা দিতে গিয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেন শাহ্ আলমের মত আর কেউ যেন এভাবে ঝড়ে না পড়েন। যেই ভাবনা সেই কাজ শুরু করেন তিনি। এ গ্রামকে  ঘিরে বিজিবির তদারকিতে কর্মসৃজন একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। স্থাণীয় ভাবে সংগ্রহ দান-অনুদানের ৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫শ ২২ টাকা মুলধন নিয়ে এই প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয় ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল। এটিকে লোন দিয়ে সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিও। বিজিবির উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার (রংপুর) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহফুজুর রহমান এই প্রকল্পের উদ্ধোধন করেন। এলাকার ২৩টি পরিবারের ৮০ জন সদস্য এই প্রকল্প থেকে সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। কর্মসুচিতে গরুর খামার, হাঁস মুরগি কবুতর পালন, মাশরুম চাষ, মৌ পালন, বায়ো গ্যাস প্ল্যান্ট,জৈব সার তৈরি, বিভিন্ন প্রকার খাবার ফল,ঔষধি গাছ উৎপাদন ও সবজি চাষ,কুটির শিল্প সহ নানা প্রকল্প রয়েছে। এ ছাড়া শিশুদের চিত্ত বিণোদনের জন্য পার্ক স্থাপন করা হয়েছে।
ছেলেটি নেই কিন্তু আয়ের পথ তৈরি করে গেছে শাহ্ আলম। আজ ছেলেটা বেঁচে থাকলে কতটাই খুশি হতো। এই বলে শের আলী বার বার মুর্চ্ছা যাচ্ছিলেন। এ সময় ঘঁড়ির কাটায় বেজে ওঠে বিকাল ৩টা। সে দিনটি ছিলো রোববার(২০মার্চ)। দৈব ক্রমে হাজির হন স্থাণীয় ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী। তিনি জানান বিজিবির উদ্যোগ এলাকায় সাড়া ফেলেছে। প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ায় অনেক চোরা কারবারি সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে বলে জানান ঐ জনপ্রতিনিধি। শুটকা বস্তি গ্রামের পেয়ারা বেগম বলেন,তিনি সেখানে পাপোস তৈরির কাজ করে ছেলে মেয়ের লেখা পড়া শিখাচ্ছেন। একই সুরে বলেন সাবিনা বেগম তিনিও এ প্রকল্পের উপকার পাচ্ছেন।
বিজিবির ঠাকুরগাঁও -৩০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অধিনায়ক লে.কর্নেল তুষার বিন ইউনুস বলেন, সবার সহযোগিতা পেলে জেলার সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রসাশস মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, বিজিবি কর্তৃক যে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এ ধরনের প্রোগ্রাম সমস্ত সীমান্ত এলাকায় যদি চালু করা যায় তাহলে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সুদৃঢ হবে বলে এই মন্তব্য করেন তিনি।

সবুজ চা বিপ্লবে ঘুরে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের তেঁতুলিয়া
                                  

এস.কে.দোয়েল।।
সবুজ চা বিপ্লবে ঘুরে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী উপজেলা তেঁতুলিয়া। তিনদিক বেষ্টিত ভারতের কোলে এ উপজেলার অবস্থান। সীমান্ত ঘেষা এ উপজেলা হওয়ায় এখানেও ক্রমাগতভাবে বাড়ছে চা চাষ। সমুদ্র পৃষ্ঠ অনেক উপরে থাকায় এ অঞ্চলটিতে বর্ষাকালে তেমন বন্যা হয়না। তাই ভূমি উচু হলেও বেলে মাটি যুক্ত সমতল এখানকার জমাজমি। যে ভূমিতে বিগত সময় ধরে কৃষকরা আবাদ করে আসছিল ধান, পাট, আখ থেকে শুরু করে নানা ধরনের সবজি। এখানকার জমিতে ধানের তেমন উন্নত ফলন না হওয়ায় কৃষকরা পাট, আখ ও সবজি চাষ করেই পরিবারের খাদ্য সংস্থান করে আসছে। তবে এ অঞ্চলে সারা বছরই ব্যাপক শাক-সবজির বাম্পার ফলন হয়ে থাকে। এ সবজিগুলো এখানকার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলাসহ রাজধানীতেও চাহিদা মেটালেও কাংখিত ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা। ফলত সবুজ শাক সবজ্বি, আলু, মূলা, কপি, টমেটো ইত্যাদি জাতের রবি শস্য ও ধান চাষাবাদ করে সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারা এবং বাজারে আশাতীত দাম না পাওয়ার অন্যতম কারণই এসব ফসল উৎপাদনে হতাশ হয়ে আগ্রহ হারানোয় চা চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা।
অপরদিকে এ অঞ্চলের বেঁলে বালু দোঁ-আশ মাটির নীচে রয়েছে বিপুল পরিমাণ নুঁড়ি পাথরের খনি। একশ্রেণির পাথর ব্যবসায়ী চাষীদের জমিতে ছোট ছোট গর্ত বা কুপ খনন করে পাথরের খনি সন্ধান পেলেই জমির মালিককে মোটা অংকে ম্যানেজ করে সাময়িকভাবে পাথর উত্তোলণের জন্য জমিটুকু শর্তসাপেক্ষে লীজ নিচ্ছে। এক্ষেত্রে অনেক চাষী ফসলের তুলনায় স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফা দেখে আবাদি জমি খনন করে পাথর উত্তোলণের জন্য ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি লীজ দিচ্ছে। উপজেলার কাজীপাড়া, দর্জিপাড়া, মাঝিপাড়া, বালাবাড়ী, শালবাহান ডাহুক, রওশনপুর, কালিতলা,  বুড়াবুড়ী, ভজনপুর, কাউরগছ, হারাদিঘি, ঝালিঙ্গি, কাটাপাড়া, সাতমেরা, দেবনগরসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক পাথর উত্তোলন চলছে। এ পাথর উত্তোলণের ফলে মালিক ও ব্যবসায়ীরা ধনবান হলেও এসব স্থানগুলো প্রাকৃতিক দূর্যোগের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে এসব জমিতে বালুময় অবস্থা তৈরি হওয়ায় অন্য কোন আবাদ ফলার সম্ভাবনা নেই বিধায় স্থানগুলো মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখানে পাথর উত্তোলনের কাজে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক এ পেশায় নিয়োজিত রয়েছে। যার কারণে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে পাথরের জন্য বিখ্যাত বলে মনে করা হয় তেঁতুলিয়াকে।
একদিকে সবজির বাম্পার ফলন, অপরদিকে পাথরের রাজ্য আবার অন্যদিকে যুক্ত হয়েছে চা চাষের হিরিক। এ অঞ্চলে প্রবেশ করেছে বিভিন্ন টি কোম্পানী। এদের মধ্যে কাজী এন্ড কাজী টি এস্টেট, আগা ইন্ডাস্ট্রিসহ বেশ কিছু চা কোম্পানী গড়ে উঠায় বাড়ছে চা চাষ। এর মধ্যে প্রবেশ করেছে ইউরোপীয়ান একটি সংগঠন। তারা চা চাষকে উদ্ধুব্ধ করতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চা চাষীদের নিয়ে গঠন করেছে এক একটি সংগঠন। বিনামূল্যে বিতরণ করছে চা চারা। চা চাষের বিপ্লব ঘটাতে ক্ষুদ্র চাষীদের বাড়ির আঙিনা কিংবা পাশে কোন পতিত জমিন থাকলেই উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে চা চাষ করার। কেননা এদেশের প্রচুর চা পান করে থাকে। এছাড়াও চা চাষ দীর্ঘকালীন ফসল। একটি চা গাছের আয়ু একশ বছর। ফলে একটি বাগান করতে পারলে দীর্ঘ সময় সেই বাগান থেকে চা পাতা উঠিয়ে রপ্তানীসহ ব্যাপক লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে মর্মে সবুজ চা চাষে বাড়ছে কৃষকদের অত্যাধিক আগ্রহ। এতে করে কৃষকরা অন্যান্য আবাদ থেকে দূরে সরে আসায় ধান ও আখ চাষের জমির পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত হ্রাস পাচ্ছে।
তেঁতুলিয়া কৃষি সম্প্রসারনের তথ্য সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় মোট জমি রয়েছে ১৮ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে চাষাবাদের জমি রয়েছে ১৪ হাজার হেক্টর। এত স্বল্প পরিমাণ জমি ঘিরে চাষাবাদের জমি খনন করে নুঁড়ি পাথর উত্তোলনসহ বৃহৎ ও ক্ষুদ্র পরিসরে বর্তমানে শুরু হয়েছে চা বাগানের প্রতিযোগিতা। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ১ হেক্টর করে ধান চাষাবাদের জমি হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে তেঁতুলিয়ায় ১ হাজার ২শত ৯০ হেক্টর জমিতে সবুজ চা বাগান গড়ে উঠেছে। তবে তেঁতুলিয়ায় চা চাষাবাদে চাষীদের আগ্রহ বাড়ার বেশি দিনের নয়। ১৯৯৭-৯৮ সময়ে সর্বপ্রথম এখানে টিটিসিএল নামক কোম্পানী ক্ষুদ্র পরিসরে মাঝিপাড়া, ডাহুক, বালাবাড়ি ও খুটাগছ এলাকায় প্রাথমিকভাবে শুরু করে সবুজ চা চাষ।  এরপর রওশনপুরে কাজী এন্ড কাজী টি এসেস্ট লিমিটেড বৃহৎকারে অর্গানিক পদ্ধতিতে সবুজ চা চাষাবাদ শুরু করে। এই কোম্পানীর অধিনে উপজেলার লোহাকাচি, রওশনপুর, বালাবাড়ি, দর্জিপাড়া, সারিয়ালজোত, সাতমেরা, দেবনগরসহ পঞ্চগড় জেলার বেশ কিছু এলাকায় চা বাগান গড়ে তুলে।  এভাবে পর্যায়ক্রমে এ অঞ্চলে সিলেট ও চট্টগ্রাম এলাকার বেশ কিছু চা কারখানার মালিক তেঁতুলিযায় জমাজমি কিনে চা চাষ শুরু করেছে। বর্তমানে তেঁতুলিয়ায় ১১টি বড় ধরণের চা বাগানসহ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র চা বাগানের সংখ্যা প্রায় সহস্রাধিক ছড়িয়েছে। এসব বাগানের উৎপাদিত কাঁচা চা পাতা ১৮/২২/২৪/২৬ টাকা কেজি হিসেবে টিটিসিএল চা কারখানা, গ্রীণ এগ্রো কেয়ার চা কারখানা, করতোয়া চা কারখানা, নর্থ বেঙ্গল কারখানা ও ভজনপুর ফিলিং স্টেশনের মালিক আব্দুল জব্বারের চা কারখানায় চাষীরা নিজস্ব পরিবহণ পিকআপ ও ব্যাটারি চালিত ভ্যান নিয়ে বিক্রি করছে।  

চা শিল্প ঘিরে ক্রমাগত বাড়ছে যেমন নতুন নতুন চাষী, তেমনি চা বাগানের পরিচর্চা, পাতা তোলা/ছিড়া, ছাটাই বাছাইয়ের এসব কাজে শ্রম জীবীরা পাচ্ছেন কাজ। দল বেঁধে কাজ করছেন চা শ্রমিকরা। এসব শ্রমিকের মধ্যে রয়েছেন নারী, পুরুষ ও মধ্য বয়সী কিশোর-যুবাসহ ২০ হাজার শ্রমিক। যাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে উত্তরের এই জনপদে জেগে উঠা চা শিল্প। আর এতে চা চাষীদের বিভিন্ন রকম সুবিধা দিচ্ছেন কিছু বেসরকারী সংস্থা। এসব সংস্থার মধ্যে বিকাশ বাংলাদেশ অন্যতম। এ সংস্থা চা চাষে উদ্বুদ্ধ করণের লক্ষ্যে বাগান সৃজনের জন্য ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চা চাষীদের অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা দিতে দিচ্ছেন স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ। এসব ঋণ সহায়তার ভিত্তিতে ক্ষুদ্র চা চাষীরা তাদের বসতবাড়ির আশপাশসহ পতিত জমিতে চা চারা রোপন করে ছোট ছোট বাগান করেছে।
উত্তরের এই জনপদে চা শিল্পের বিস্তার ঘটলেও চরম হুমকির মধ্যে পড়েছে এ অঞ্চলের অন্যতম অর্থকরী ফসল আখ ও আনারস চাষ। চা বাগান অত্যাধিক বৃদ্ধির ফলে কমে যাচ্ছে এই দুটি ফসলের চাষবাদ। যার ফলে ব্যাপক লোকসানের মধ্যে পড়েছে জেলার একমাত্র ভারি শিল্প ‘পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানটি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছরই লোকসানের মুখে রয়েছে এই কারখানাটি। অথচ লোকসানের হাত থেকে একমাত্র শিল্প কারখানাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পঞ্চগড় চিনিকলের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ রীতিমত গ্রামে গ্রামে ঘুরে আখ চাষীদের মাঝে ঋণ প্রদান, ভূতর্কিসহ নানান সুযোগ সুবিধা দিয়ে আখ চাষের জন্য আগ্রহ সৃষ্টির চেষ্টা করে কোন রকম টিকে রয়েছে এ ভারি শিল্প কারখানাটি। আখ উৎপাদিত হলেও সঠিক সময়ে এর যথাযথ মূল্য বাজারে বিক্রি না করতে না পেরে চাষীদের বিক্রিত আখের মূল্য পরিশোধেও মিলস কর্তৃপক্ষ হিমসিম খাচ্ছে। প্রতি বছরই টনকে টন মজুত থাকে চিনি। ফলে এসব চিনি বিক্রি না হওয়ায় কর্মচারীদের বেতনের পরিবর্তে চিনি ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে যাই হোক, সবুজ চা বিপ্লবে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে উত্তরের এই জনপদ। চা অর্থকরী ফসল হিসেবে অর্থনীতির নতুন চাকা ঘুরবে এর চাষাবাদে। তবে এসব বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভূমি মালিকদের ভূমি ব্যবহারের জন্য নানামুখী প্রদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনার কথা চিন্তাভাবনা করছে। যতদ্রুত সম্ভব এখানে ভূমি জোনিং ও প্লানিং কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। অন্যদিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা যেখানে বিশাল অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু করেছে সেখানে সবুজ চা বিপ্লবে আরেকধাপ এগিয়ে যাবে হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের এই উপজেলাটি।

পৃথিবীর খুব কাছে আসছে জমজ ধুমকেতু
                                  

নতুনবাজার৭১ডটকম নিউজ ডেস্কঃ

পৃথিবীর খুব কাছে এসে সবুজের ছটা পৃথিবীর গায়ে ছড়িয়ে যাবে পান্না রঙা এক জোড়া জমজ ধূমকেতু। তবে নীল পৃথিবী থেকে নিরাপদ দূরত্বেই থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। সোমবার প্রথম ধূমকেতুটি দেখা যাবে আর ঠিক ২৬ ঘণ্টা পর আসবে পরেরটি।

নাসার জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই জমজ ধূমকেতুর একটি হতে যাচ্ছে স্মরণযোগ্য সময়ের মধ্যে সবচেয়ে কাছাকাছি আসা ধূমকেতুদের একটি । অপেক্ষাকৃত পরেরটিতো মোটে ২.২ মিলিয়ন মাইল দূর থেকে উড়ে যাবে। ২৫২/পি নামের এটি হতে যাচ্ছে দূরত্বের বিবেচনায় পৃথিবী থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ কাছের ধূমকেতু।

দুটি ধূমকেতুর মধ্যে সোমবার যেটি আসবে সেটির নাম দেওয়া হয়েছে ২৫২/লিনিয়ার। ২হাজার সালের ৭ এপ্রিল ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির লিঙ্কন নিয়ার আর্থ অ্যাস্টেরয়েড রিসার্চ (লিনিয়ার) ৭৫০ ফুট দির্ঘ এই অবজেক্টটি আবিষ্কার করেন। তাদের মতে এটি পৃথিবী থেকে ৩.৩ মিলিয়ন মাইল দূর থেকে ঘুরে যাবে এই ধূমকেতুটি।

আর দ্বিতীয় ধূমকেতুটি আবিষ্কৃত হয় মোটেই মাস দুয়েক আগে। হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যানস্টারস টেলেসকোপ থেকে এবছরের ২২ জানুয়ারি এটির ওপর চোখ পড়ে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের। প্রাথমিকভাবে এটিকে উল্কা বলেই মনে করা হচ্ছিলো কিন্তু পরে মেরিল্যান্ড ও লওয়েল এর বিজ্ঞানীরা ডিসকভারি চ্যানেলের টেলেকোপ থেকে দেখতে পান এর আবছা একটা লেজের দিকও রয়েছে।

এই ধূমকেতুটি পৃথিবীর ২.২ মিলিয়ন মাইল দূর থেকে ভেসে যাবে। জানা ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে কাছে আসে ধূমকেতু ডি/১৭৭০ এল ১ (ল্যাক্সেল) ১৭৭০ সালে আর অন্যটি সি/১৯৮৩ এইচ১ এসেছিলো ১৯৮৩ সালে।

ধূমকেতু ২৫২পি পৃথীবিকে অতিক্রম করে যাবে প্যাসিফিক ডেলাইট টাইম (পিডিটি) হিসেবে ২১ মার্চ সোমবার সকাল ৫ টা ১৪ মিনিটে। বাংলাদেশের সময় যা হবে ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১৪ মিনিট। আর ২২ মার্চে ধুমকেতুটি আসবে পিডিটি সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। ঢাকার সময় ওই দিন রাত ৯টা ৩০ মিনিটে।

আমাদের জীবদ্দশায় এমন ঘটনা আর হয়তো ঘটবেই না। আর কোনও ধুমকেতু এত কাছে আসবে না। তাই এক নজর দেখে নিতে পেশাদারি টেলিস্কোপে চোখ রাখতে হবে। বিশেষ করে ২২ মার্চ পি/২০১৬ এত কাছে আসবে যে আগামী দেড়শ’ বছরেও এমনটা আর ঘটবে না।

মার্চ মানেই অগ্নিঝরা রক্তক্ষয়ী মাস
                                  

আবু ইউসুফ ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধিঃ

বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার প্রথম শহীদ ল্যান্স নায়েক গানার ক্লার্ক শামছুল হক ফকির। তিনি ১৯৬৮ সনে আর্টিলারী কোরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। পশ্চিম পাকিস্তানে সামরিক ট্রেনিং গ্রহণ করে দীর্ঘ ছয় মাস তার পর পশ্চিম পাকিস্তান হতে পূর্বে পাকিস্তানে চট্রগ্রামে দায়িত্ব পালনে বদলি হয়ে আসেন। তারপর সৈয়দপুর, রংপুর, নেত্রকোনা, কুমিল্লা, ধাকার বিভিন্ন সেনানিবাসে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে জানুয়ারী মাসে আবার বদলি হয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে তিন মাস দায়িত্ব করেন ১৯৭০ সালে এপ্রিলের শেষ দিকে আবার পূর্বে পাকিস্তানে ময়মনসিংহ খাগডহর ই,পি আর ক্যাম্পে মুজাহিদ ট্রেনিং সেন্টারে আর্টিলারী রেজিমেন্টের গানার ক্লার্কে দায়িত্ব পালন করতে পাঠান হয়। তারপর দেশের সার্বিক দূরাবস্থার কথা বেভেন তাই স্বাধীনতা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তিনি কিছু সংখ্যক মুজাহিদ ময়মনসিংহ জেলা এবং তার নিজ এলাকা ভালুকা থানা থেকে বাছাই করে নিয়ে একটি সুপারিকপ্লিত নেটওয়ার্ক স্থাপনে নেতৃত্ব দেন। কেন এই নগণ্যতা এই প্রশ্নের উত্তর খোজে পেতে মাতৃভূমির স্বাধীনতার স্বপ্নে শহীদ শামছুল হক ফকির নিজের জীবনবাজী রেখে মাতৃভূমির ভালবাসায় । ভুলে গিয়েছিলেন স্ত্রী,পুত্র,ভাই, বোন । জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতা ঘোষণা করায় দেশের সার্বিক পরিস্থিতি খুবয় খারাপ দেখে শহীদ শামছুল হক কের বড় দুই ভাই ১২ মার্চ ১৯৭১ সালে ময়মনসিংহ খাগডহর ই,পি আর ক্যাম্পে গিয়ছিলেন তাকে বাড়ী আনার জন্য, বাড়ী আসার কথা বল্লে উত্তরে বেলেছিল সামরিক প্রতিটি সেনা সদস্য কোরবাণী মানা পশ্তর মত ইচ্ছে করলেয় চলে যাওয়া যায় না। তবে আমার জন্য দোয়া করবেন, জীবন মরণ আল্লাহর হাতে, জানিনা আর কোন দিন তুমাদের সাথে দেখা হবে কিনা। আমার  স্ত্রী,পুত্র,দেরকে আপনারা দেখবেন, আর যদি দেখা হয় বাংলার স্বাধীন পতাকা হাতে নিয়েই দেখা করব ইনশাল্লাহ। ২৫ শে মার্চ ১৯৭১ ঢাকার বাগ পুলিশ লাইনসহ ঢাকার সর্বত্র সাধারণ বাঙ্গালীর উপর সামরিক হামলা চালানো হয় । ২৬ শে মার্চ সামরিক বিশেষ ঘোষণা মোতাবেক বাঙ্গালী সৈনিকদের কাছ থেকে অস্ত্র জমা নেওয়া শুরু করেন পাকিস্তানী হানাদার পাক সেনারা। সে মোতাবেক ময়মনসিংহ খাগডহর ই,পি আর ক্যাম্পে অভিযানে শুরু করে । এই অভিযানে অনেক বাঙ্গালী বিক্ষপ্তভাবে অস্ত্র জমা দিয়ে দেন। কিন্তো শেষ পর্যান্ত শহীদ শামছুল হক সহ ১০/১৫ জন বাঙ্গালী সৈনিক ও মুজাহিদ অস্ত্র জমা দিতে অস্বীকার করেন। ২৬ শে মার্চ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২৭ শে রাত ১২.২০ মিনিটে শহীদ শামছুল হক অনেক বাকবিতন্ডয় নিজের জীবনের কথা ভুলে গিয়ে এক পর্যায়ে পাকিস্তানী পাঞ্জাবী সৈনিকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে বলেন, অস্ত্র জমা দেওয়া মানেই বাঙ্গালী সৈনিকদের আত্নসমর্পন করা । কাপুরুষের মত মরতে চাই না তোদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে পূর্ব বাংলায় স্বাধীনতা আনব। তারপর জয় বাংলা বলে সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হন। পাকিস্তানী পাঞ্জাবী সেনাদের বিরুদ্ধে । এই সম্মুখ বন্দুকযুদ্ধে গুলি বিনিময় অবস্থায় হঠাৎ পাক হানাদারদের একটি বুলেট শহীদ শামছুল হক ফকিরের মাথায় আঘাত করে, মাথার খুলি উড়িয়ে নেয়, সাথে সাথেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ে শাহাদৎ বরণ করেন। তিনি প্রথম নিজের তাজা রক্ত দিয়ে ময়মনসিংহ খাগডহর ই,পি আর ক্যাম্পের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ঘটান । সেদিনের যুদ্ধে শহীদ শামছুল হক ফকির সহ আরো কয়েকজন বাঙ্গালী সেনা ও মুজাহিদ শহীদ হন । শহীদ শামছুল হক ফকির সহ তাদের লাশ কালীরবাড়ী গোরস্থানে দাফন সুসম্পন্ন করা হয় । শহীদ শামছুল হক ফকিরের সৈনিক নং ১২৭৯৯৫০ (আর্টিলারি কোর) মুক্তি নং ০১১৫০৬০৪১৬ ।  এই বীর যুদ্ধা ১৯৪২ সালে ভালুকা থানার মাঠের ঘাঠ কাঠালী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন । শাহাদাৎকালে স্ত্রী এক ছেলে মোঃ রফিকুল ইসলাম, দুই কন্যা রেখে জান । 

টানা তিনবছর হেটে দশ হাজার মাইল!
                                  

নতুনবাজার৭১ডটকম ডেস্ক নিউজঃ

টানা একহাজার দিন ধরে হেটে বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পাড়ি দিয়েছেন একা একজন নারী। দশ হাজারেরও বেশি মাইল পথ হেঁটে একজন নারী দুটি মহাদেশের ছয়টি দেশ পাড়ি দিয়েছেন। সাইবেরিয়া থেকে পৌছেছেন অস্ট্রেলিয়ায়।

অসম্ভবকে সম্ভব করা এই নারী সুইজারল্যান্ডের সারাহ মারকুইস। ৪৩ বছর বয়সী এই পর্যটক অবিশ্বাস্য তার ভ্রমণ কাহিনী নিয়ে লিখেছেন সুইস ভাষায়‘এলেইন ওয়াল্ডনিস’ যার ইংরেজি অনুবাদ “ ওয়াইল্ড বাই নেচার”।

ওয়াইল্ড বাই নেচার বইয়ে তিনি বলেছেন, আমি এজন্যই হেটেছি যে আমি আদিম মানুষের জীবনকে উপলব্ধি করতে চেয়েছি। আমি হেটেছি নিভৃত পথ দিয়ে, বেশিরভাগ সময় প্রকৃতি থেকে বা শিকার করে নিজের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। কাজটা তাই ছিল অনেক কঠিন।

তিনি বলেন, "আমি চেয়েছিলাম মানব সভ্যতার একেবারে গোঁড়ায় ফিরে যেতে। ৬০ হাজার বছর আগে আদিবাসীরা এই ভাবে বাস করতো। কিন্তু এভাবে খাবার খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন। পৃথিবীতে খাবারের জন্য মানুষের যে সংগ্রাম সেটা আসলে আদিম সংগ্রাম। এই সময়েই আমি সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি।"

তিনি বলেন, "টানা তিনবছর ধরে হেটেছি। এই সুদীর্ঘ ভ্রমণে পায়ে ৮ জোড়া জুতার তলি ক্ষয়ে গেছে। অতিক্রম করেছি ২টি মহাদেশ এবং ৬টি দেশ। এ সময়ে পান করেছি ৩ হাজার কাপ চা।"

 

সারাহ মারকুইস সুইজারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের জুরা পর্বতমালার একটি ক্ষুদ্র গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি বেড়ে উঠেছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে। সুইস পল্লী অঞ্চলের প্রকৃতি, গাছপালা এবং পাখিরাই ছিল সারাহর সঙ্গী। এরাই আসলে তাকে কৌতূহলী করে তুলেছিল বাকি পৃথিবীর প্রতি। কেমন দেখতে পৃথিবীর অচেনা সব পাহাড়-মরু-সাগর?

৮ বছর বয়সে সারাহ একবার তার পোষা কুকুরকে নিয়ে ঘর পালিয়েছিলেন। সারা রাত কাটিয়েছিলেন একটি গুহার মধ্যে। রোমাঞ্চের প্রতি তার টান রয়েছে খুব ছোটবেলা থেকেই। যতই বড় হয়েছেন তার রোমাঞ্চের নেশা আরও বেড়েছে, তিনি গিয়েছেন দূর দূরান্তে।

সারাহ বলেন, "এটা ছিল আমার শৈশবের একটা স্বপ্ন। ভেতর থেকে কেউ একজন আমাকে সবসময় একটা তাগাদা দিত। আমি প্রকৃতিকে বুঝতে চাইতাম, বুঝতে চাইতাম আমার ভেতরের আমিকে।"

২০১০ সালে তিন বছর মেয়াদি এই ভ্রমণের সূচনা হয়েছিল সাইবেরিয়া থেকে। সেখান থেকে তিনি গোবি মরুভূমি পাঁড় হয়ে, চীন, লাওস এবং থাইল্যান্ডে পৌঁছলেন। থাইল্যান্ড থেকে উঠে বসলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনগামী একটি মালবাহী নৌকায়। ব্রিসবেনে পৌঁছে পাড়ি দিলেন সম্পূর্ণ অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ। তার এই আশ্চর্য ভ্রমণে সমাপ্তি হয়েছিল মরুভূমির একটি গাছ তলায়। এই গাছ তলাটি সারাহর কাছে ছিল বিশেষ একটি জায়গা। তিনি এই জায়গাটা প্রথম খুঁজে পেয়েছিলেন এক যুগ আগে।

যাত্রাপথে শুধু খাওয়ার সমস্যাই না, সারাহকে পোহাতে হয়েছে আরও অনেক সমস্যা। মন এবং শরীর সুস্থ রাখার জন্য প্রতিনিয়ত চেষ্টা করতে হয়েছে তাকে। তিনি আমি বলেন, "আমি আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে যে রকম স্থির ছিলাম, তেমনি গোটা জিনিসটা ভাগ ভাগ করে এক ধাপ একধাপ করে এগিয়েছি। আমাকে সদা সচেতন থাকতে হয়েছে।"

তবে এটা তিনি করেছেন বেশ কয়েকবার বিপদে পড়ার পর। বেঁচে থাকার জন্য আর কোনো উপায় ছিল না। তিনি বলেন, "আমি তখন গোবি মরুভূমিতে ক্যাম্প করে ছিলাম। ভোর ৫ টার দিকে আমার তাবুর চারপাশ ঘিরে ধরলো ৫টা নেকড়ে।" তবে সহজে ভয় পাওয়ার মত নারী সারাহ নন। নেকড়ের উপস্থিতি তাকে পৃথিবীতে নিজের উপস্থিতি সম্বন্ধে সচেতন করে দিয়েছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন পৃথিবীতে মানুষ ছাড়াও আরও অনেক প্রাণী রয়েছে। প্রকৃতিতে মানুষই সব না।

একজন নারী হয়ে এই ভয়ানক ভ্রমণ তার জন্য সহজ ছিল না। অনেক জায়গাতেই প্রচণ্ড শারীরিক ধকল গেছে তার উপর দিয়ে। লাওস জঙ্গলে বন্দুকধারী মাদক ব্যবসায়ীরা আক্রমণ করে তাকে। এটা শরীরে কাঁপন ধরিয়ে দেয়ার মতোই ভয়াবহ ব্যাপার। তিনি বলেন, "একজন নারী হিসেবে আমি গর্বিত। কিন্তু যাত্রা পথে মাঝে মাঝে এও ভেবেছি যে, আমার যদি পুরুষের পেশী শক্তি এবং লোমশতা থাকতো তাহলে ভালো হত।"

নারী হওয়ার কারণে তাকে যে সমস্ত সমস্যায় পড়তে হয় সেটা এড়ানোর উপায় নেই বলে মনে করেন সারাহ। তিনি বলেন, "কিছু কিছু দেশ অতিক্রম করার সময় আমাকে পুরুষের ছদ্মবেশ নিয়ে থাকতে হয়েছে। কারণ সেখানে নারীদের অধিকার নেই। যেমন, চীনের কিছু কিছু অঞ্চলে একলা নারীকে বিবেচনা করা হয় যৌনকর্মী হিসেবে।"

সারাহ বলেন, মানুষ যখন সাগর, মরু, পাহাড় এবং প্রকৃতির কাছাকাছি যায় তখন সেই শক্তিশালী নেশা উকি দেয়। পুরোপুরি বিষয়ী মানুষও হয়ে পড়েন উদাসিন। মানুষের উচিৎ এই নেশা আরও বেশি করে অনুভব করা। এটা প্রকৃতির সাথে একাত্মতার নেশা। সারাহ বলেন, গোবি মরুভূমির মাঝখানে যখন একলা হেঁটেছি আমি, তখন এই একাত্মতাই ছিল আমার সঙ্গী।

বেলুনে ওড়ানো চিঠি ১৪৬ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায়!
                                  

নতুনবাজার৭১ ডেস্কঃ

১৪৬ বছর আগে প্যারিস থেকে বেলুনে ওড়ানো একটি চিঠি অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া গেছে। এই চিঠিটি কিভাবে অস্ট্রেলিয়ায়  পৌঁছলও তারই খোঁজ করছে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল আর্কাইভ।

ফ্রাঙ্কো-প্রুসিয়ান যুদ্ধের সময় সময় মাকে উদ্দেশ্য করে এই চিঠিটি উড়িয়েছিলেন এক সন্তান। ১৮৭০ সালে ফ্রান্সের রাজধানীতে বসবাসকারী এক ব্যক্তি উত্তর ফ্রান্সের নরম্যান্ডিতে তার মাকে উদ্দেশ্য করে এই চিঠিটি লিখেছিলেন। চিঠিতে তার মা ও তার পরিবার নিরাপদ রয়েছে কিনা সেই ব্যাপারে তিনি জানতে চেয়েছিলেন।

ন্যাশনাল আর্কাইভ বলছে কীভাবে চিঠিবাহী বেলুনটি এতদূর আসলো সে সম্পর্কে কোনও তথ্যই তাদের কাছে নেই। ন্যাশনাল আর্কাইভের সহকারী মহাপরিচালক লুইস ডয়লি বিবিসিকে বলেছেন, এই চিঠিটি সেই সময়কার ফরাসি ইতিহাস জানার সুযোগ করে দিয়েছে।

ফ্রাঙ্কো-প্রুসিয়ান যুদ্ধের সময় ১৮৭০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৮৭১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত প্যারিসকে চার মাসের বেশি সময় দখলে রেখেছিল প্রুসিয়ান বাহিনী। শত্রুপক্ষ সিন নদী দিয়ে যাওয়া টেলিগ্রামের তার কেটে দেয়ায় প্রায় ২০ লাখ চিঠি গরম বাতাসের বেলুনে করে পাঠানো হয়েছিল। সাবধানতার সঙ্গে ছোট খামে ভরে চিঠিগুলো বেলুনে করে শত্রুপক্ষের ওপর দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হত।

এই চিঠিটির স্ট্যাম্পে দেখা যাচ্ছে ১৮৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর এটি পোস্ট করা হয়েছিল। কিভাবে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে পৌঁছল তা এখনও রহস্য। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল আর্কাইভ খুঁজে দেখার চেষ্টা করছে অস্ট্রেলিয়ার সাথে এর কোনও যোগাযোগ আছে কিনা বা প্রেরকের কোন আত্মীয় ব্রিসবেনে বাস করছে কিনা।

দিনাজপুরে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা খানসামা যার অন্যতম পুরাতন মুসলিম স্থাপত্য ‘আওকরা মসজিদ’
                                  

লায়ন ইসলাম বাবু

দিনাজপুর জেলার উত্তর-পূর্বের একটি উপজেলার নাম খানসামা। মাত্র ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলাটি প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা। যার অন্যতম আঙ্গারপাড়া ও গোয়ালডিহি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মির্জার মাঠে অবস্থিত পুরাতন মুসলিম স্থাপত্য ‘আওকরা মসজিদ’। উপজেলা পরিসংখ্যানের তথ্যে পাওয়া গেছে, ওই মসজিদটি প্রায় আড়াই’শ বছর পূর্বে বাংলা ১১৭২ সালে মীর্জা লাল বেগ মুসলিম সম্প্রদায়ের নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে এ মসজিদ নির্মাণ করেন। চিকন ইটে নির্মিত দেয়ালে নকশা করা মসজিদটি উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেলান নদীর পূর্ব ধারে মির্জার মাঠ নামক স্থানে অবস্থিত। ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা ধারণা করেন এক সময় মসজিদটির আশপাশে মুসলিম জনবসতি ছিল। যে কারণে এখানে ঐতিহাসিক মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল এবং ব্রিটিশ সরকারের আমলে অথবা অন্য কোন কারণে তারা মসজিটির আশপাশ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। ফলে এটি অযত্ন-অবহেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় দীর্ঘকাল পড়ে থাকে। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে মসজিদটি। তবে মির্জা লাল বেগের ওই মসজিদকে ঘিরে মির্জার মাঠে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। যা পরে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এছাড়াও একই স্থানে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মির্জার মাঠ আওকরা মসজিদ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে আরও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয়। মজার ব্যাপার হলো, মির্জা সাহেব মসজিদটি প্রতিষ্ঠার সময় কি নাম রেখেছেন তাও কেউ বলতে পারে না। লোকজন মসজিটির পাশ দিয়ে বয়ে চলা রাস্তায় যাওয়ার সময় এটির মধ্যবর্তী অংশের দূর থেকে দাঁড়িয়ে কথা বললে এক সময় জোরে প্রতিধ্বনির সৃষ্টি হত। তাই শুনে তারা ভাবত মসজিদটি তাদের কথার উত্তর দিচ্ছে। এ থেকে মসজিদটির নাম হয়ে যায় ‘আওকরা মসজিদ’ অর্থাৎ কথা বলা মসজিদ। এখনও এটির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শব্দ করে কথা বলে প্রতিধ্বনি শোনার আশায়। কিন্তু মসজিদের দেয়াল ফেটে গিয়ে নষ্ট হওয়ায় এবং এর গায়ে আগাছা পরিপূর্ণ হওয়ায় আগের মত আর আওয়াজ হয় না। ওই এলাকার একাধিক প্রবীণ লোকজনের সাথে আলোচনা করেও মসজিদটিতে সর্বশেষ কত সালে নামাজ আদায় হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে মীর্জা লাল বেগের ওই মাঠে উজ্জ্বলময় দুটি প্রতিষ্ঠান থাকলেও উপজেলার একমাত্র পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক আওকরা মসজিদটির প্রতি সরকারি বেসরকারি কোন প্রতিষ্ঠান কিংবা ধর্মভীরম্ন মুসলিম বিত্তশালীরা কেউই এটির প্রতি দৃষ্টিপাত করছেন না। ফলে মসজিদটির যে টুকু অংশ এখনও অবশিষ্ট রয়েছে তাও ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী দাবি করেন এ অবস্থাতেও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ কিংবা সরকারি কোনো পদক্ষেপ নিয়ে মসজিদটির সংস্কার করা হলে, এটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে হতে পারে

বৃক্ষমানবের আঙুলে অস্ত্রোপচার শনিবার
                                  

নতুনবাজার ৭১ প্রতিনিধিঃ

বৃক্ষমানব আবুল বাজনদারের প্রথম অস্ত্রোপচার হবে শনিবার সকালে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার বুড়ো আঙুল ও তর্জনীতে অস্ত্রোপচার হবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান আবুল কালাম এ কথা জানিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই চিকিৎসকদের একটি দল অস্ত্রোপচার করবে। চিকিৎসকেরা বলছেন, শুরুতে রোগী অপুষ্টিতে ভুগছিলেন। এখন আর সেটা নেই। অস্ত্রোপচারের জন্য আবুলের শরীর এখন উপযুক্ত।

বিরল এই রোগে হাত পায়ে গাছের শিকড়ের মতো গজায়। এ কারণে আক্রান্ত রোগীকে ট্রি ম্যান বা বৃক্ষমানব বলা। আবুল বাজনদারসহ পৃথিবীতে এখন পর্যন্ত এ ধরনের চারজন রোগীকে শনাক্ত করা গেছে। গণমাধ্যমে আসা ইন্দোনেশিয়ার বৃক্ষমানব গত ৩০ জানুয়ারি মারা গেছেন।


চিকিৎসকদের ধারণা, আবুল বাজনদার ‘এপিডার্মোডিসপ্লাসিয়া ভেরাসিফরমিস’ রোগে আক্রান্ত। রোগটি ‘ট্রি ম্যান’ (বৃক্ষমানব) সিনড্রম নামে পরিচিত। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে এ রোগ হয়। ১০ বছর ধরে আবুল এই রোগে ভুগছেন। তার হাত ও পায়ের আঙুলগুলো গাছের শিকড়ের মতো হয়ে গেছে এবং দিনে দিনে তা বড় হচ্ছে। তাকে ৩০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসক আবুল কালাম জানান, ইতিমধ্যে আবুলের সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। তার বায়োপসি শেষ হয়েছে। এতে ক্যানসারের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তারা অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

শাহরুখের গাড়িতে হিন্দু মৌলবাদীদে হামলা
                                  

নতুন সিনেমা ‘রাইস’-এর শুটিং করতে ভারতের আহমেদাবাদে গিয়ে এবার হামলার শিকার হয়েছেন বলিউড অভিনেতা শাহরুখ খান। ১৪ ফেব্রুয়ারি তার গাড়ি লক্ষ্য করে আকস্মিক পাথর ছোঁড়া শুরু করে হিন্দু মৌলবাদীরা। অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন শাহরুখ।

পুলিশের দেয়া তথ্য অনুসারে, শুটিং লোকেশনের কিছু দূরেই পার্ক করা ছিল শাহরুখের গাড়ি। হঠাৎ মৌলবাদীদের একটি ছোট্ট দল ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘শাহরুখ হায় হায়’ বলতে বলতে এসে তার গাড়িতে পাথর ছোঁড়া শুরু করেন।

তবে ততক্ষণে শুটিং-এ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন শাহরুক। গাড়িতে কেউ ছিল না।

হিন্দি সিনেমার এই অভিনেতার প্রতি হিন্দু মৌলবাদীদের আক্রোশের সূচনা হয় গত নভেম্বরে। ভারতে চলমান ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা প্রসঙ্গে শাহরুখ নিজের মত প্রকাশ করার পর তার উপর চড়াও হয় বিভিন্ন মহল। এমনকি ক্ষমতাসীন দলের নেতাদেরও চক্ষুশূল হয়ে পড়েন তিনি।

শুধুমাত্র নিজের মত প্রকাশের কারণে যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এই অভিনেতা, তেমনই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে তার সিনেমার ব্যবসাতেও।

ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়া তার বড় বাজেটের ছবি ‘দিলওয়ালে’ আশানুরূপ ব্যবসা করতে পারেনি নভেম্বরের সেই ঘটনার পরে। ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিবাদের মুখে প্রেক্ষাগৃহে থামিয়ে দেয়া হয়েছে ‘দিলওয়ালে’র প্রদর্শনী।

শাহরুখের নতুন সিনেমা ‘রাইস’ পরিচালনা করছেন রাহুল ধোলাকিয়া, যিনি এর আগে ২০০২ সালে গুজরাটে সংঘটিত ধর্মীয় দাঙ্গার ওপর সিনেমা নির্মাণ করে বিতর্কিত হন।

আহমেদাবাদে এখন ‘রাইস’এর শুটিং চলছে কড়া নিরাপত্তায়। ১৪ ফেব্রুয়ারি সেখানকার সারখেজ রোজা মসজিদ এবং দরগায় কয়েকটি দৃশ্যের শুটিং করেন শাহরুখ, তখন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের আন্দোলনকারীদের থামাতে ২০০ পুলিশ নিয়োজিত ছিলেন।

শুটিং লোকেশনের সামনে শাহরুখের কুশপুত্তলিকা পোড়ায় আন্দোলনকারীরা। ঐ অঞ্চলে শাহরুখ শুটিং করতে আসার আগে থেকেই চলছে প্রতিবাদ।


   Page 1 of 2
     ফিচার
যে সময়ে হাঁটলে বেশি উপকার পাবেন
.............................................................................................
ফ্রিজে রাখা খাবারের স্বাদ অটুট রাখবেন যেভাবে
.............................................................................................
মিনি সিঙ্গারা তৈরির রেসিপি
.............................................................................................
চিকেন খাবসা তৈরির রেসিপি জেনে নিন
.............................................................................................
হুমকির মুখে অতিথি পাখির ক্যাম্পাস
.............................................................................................
অসৎ নারী চেনার উপায় কী?
.............................................................................................
যেসব কারণে পরকীয়ায় নারীদের আগ্রহ বেশি!
.............................................................................................
সীমান্ত হত্যা-চোরা চালান ও অপরাধ দমনে ঠাকুরগাঁও সীমান্তে গড়ে ওঠেছে কৃষি খামার
.............................................................................................
সবুজ চা বিপ্লবে ঘুরে যাচ্ছে উত্তরাঞ্চলের তেঁতুলিয়া
.............................................................................................
পৃথিবীর খুব কাছে আসছে জমজ ধুমকেতু
.............................................................................................
মার্চ মানেই অগ্নিঝরা রক্তক্ষয়ী মাস
.............................................................................................
টানা তিনবছর হেটে দশ হাজার মাইল!
.............................................................................................
বেলুনে ওড়ানো চিঠি ১৪৬ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায়!
.............................................................................................
দিনাজপুরে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা খানসামা যার অন্যতম পুরাতন মুসলিম স্থাপত্য ‘আওকরা মসজিদ’
.............................................................................................
বৃক্ষমানবের আঙুলে অস্ত্রোপচার শনিবার
.............................................................................................
শাহরুখের গাড়িতে হিন্দু মৌলবাদীদে হামলা
.............................................................................................
দেশে বৈধ সিমের সংখ্যা ১৩ কোটি
.............................................................................................
সমুদ্রে মাছের চেয়েও বেশি প্লাস্টিক!
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ হাজী মোবারক হোসেন।। সহ-সম্পাদক : কাউসার আহম্মেদ।
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু।

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, মোবাইল : 01731190131, 01930226862, E-mail : mannannews0@gmail.com, mannan2015news@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- mannan dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop