| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   অর্থ-বাণিজ্য -
                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                 
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা তিনশ’ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানির আদেশ একশ’ কোটি টাকার পণ্য বিক্রয়

মোঃ শফিকুল ইসলাম 

  

মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা গতকাল ৩১ জানুয়ারি মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। বাণিজ্য মেলাকে কেন্দ্র করে ৩শত কোটি টাকার পণ্য রপ্তানির আদেশ পাওয়া গেছে। বিক্রি হয়েছে একশত কোটি টাকার পণ্য। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যৈষ্ঠ অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাফিজুর রহমান। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক এমপি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি, এফবিসিসিআই-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ বাবু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান। 

 এবারের বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩৩১টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট অংশ নেয়। মেলায় ভারত, হংকং, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও নেপালের ১৭ টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন ধরণের বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস, ইলেক্ট্রনিক্স, বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়া কিংবা আরটিফিসিয়াল চামড়া, জুতা, চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারীওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারী, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারী, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ও ফার্ণিচার প্রদর্শন করা হয়। 

 ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য ঢাকার কুড়িল থেকে পূর্বাচল উপশহরের ৪নং সেক্টরের মেলাপ্রাঙ্গণ পর্যন্ত বিআরটিসি ডেডিকেটেড শাটল বাস নিয়মিত পরিচালনা করা হয়। মেলায় পর্যাপ্ত ব্যাংকিং সুবিধা, বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, রক্তদান, ফায়ার সার্ভিস, শিশুদের জন্য বিনোদনমূলক শিশুপার্ক ও মেলার আশপাশ সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

গত ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল ৩১ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া সহ বিভিন্ন অনিয়মে ১১টি প্রতিষ্ঠান থেকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মেলায় ঢাকা পূর্ব কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এ জরিমানার টাকা আদায় করে।

বাণিজ্য মেলায় বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি, বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রক্রিয়া করা ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ও মেয়াদ, মোড়কে মূল্যবিহীন পণ্য বিক্রি করার অপরাধে ৬টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এছাড়া আর কখনো অনিয়ম করবেনা এ মুসলেকা দিয়ে ১০টি প্রতিষ্ঠান তাদের অপরাধ থেকে মুক্তি পেয়েছে।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে ট্রফি প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। ১ম পুরস্কার গোল্ড কালার ট্রফি বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১০টি সেরা প্যাভিলিয়ন ও স্টলে মধ্যে প্রদান করা হয়েছে। দ্বিতীয় পুরস্কার সিলভার কালার ট্রফি অপর প্রতিষ্ঠানের ১৩টি স্টল ও প্যাভিলিয়নকে ও তৃতীয় পুরস্কার ব্রোঞ্জ কালার ট্রফি বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১১টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলকে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে, বেস্ট ইলেক্ট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে, বেস্ট ফার্ণিচার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে এবং ইনোভেটিভ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২টি প্রতিষ্ঠানকে ট্রফি প্রদান করা হয়েছে।

 সভায় বক্তারা বলেন, দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। যা দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের বিনোদন, ক্রয়-বিক্রয় ও বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশিন সেন্টারের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর আকর্ষণ ডিঅইটিএফকে একটি জাতীয় অনুষ্ঠান হিসেবে প্রসিদ্ধ করেছে।

প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন-এ ক্যাটাগরিতে আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেড প্রথম, ডায়মন্ড ওয়ার্ড ও তানভীর ফুড (এমজেআই) দ্বিতীয় এবং সেভয় আইসক্রিম ফ্যাক্টরী লিমিটেড তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

 

রিপোর্ট

 দৈনিক নতুন বাজার ৭১.কম

প্রধান সহকারী সম্পাদক

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা তিনশ’ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানির আদেশ একশ’ কোটি টাকার পণ্য বিক্রয়
                                  

মোঃ শফিকুল ইসলাম 

  

মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা গতকাল ৩১ জানুয়ারি মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। বাণিজ্য মেলাকে কেন্দ্র করে ৩শত কোটি টাকার পণ্য রপ্তানির আদেশ পাওয়া গেছে। বিক্রি হয়েছে একশত কোটি টাকার পণ্য। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যৈষ্ঠ অতিরিক্ত সচিব মোঃ হাফিজুর রহমান। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক এমপি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি, এফবিসিসিআই-এর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ বাবু। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান। 

 এবারের বাণিজ্য মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩৩১টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্টুরেন্ট অংশ নেয়। মেলায় ভারত, হংকং, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালেশিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও নেপালের ১৭ টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন ধরণের বস্ত্র, মেশিনারিজ, কার্পেট, কসমেটিকস, ইলেক্ট্রনিক্স, বঙ্গবন্ধু প্যাভিলিয়ন, পাট ও পাটজাত পণ্য, গৃহসামগ্রী, চামড়া কিংবা আরটিফিসিয়াল চামড়া, জুতা, চামড়াজাত পণ্য, স্পোর্টস গুডস, স্যানিটারীওয়্যার, খেলনা, স্টেশনারী, ক্রোকারিজ, প্লাস্টিক, মেলামাইন পলিমার, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারী, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ফাস্টফুড, হস্তশিল্পজাত পণ্য, হোম ডেকর ও ফার্ণিচার প্রদর্শন করা হয়। 

 ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের যাতায়াতের জন্য ঢাকার কুড়িল থেকে পূর্বাচল উপশহরের ৪নং সেক্টরের মেলাপ্রাঙ্গণ পর্যন্ত বিআরটিসি ডেডিকেটেড শাটল বাস নিয়মিত পরিচালনা করা হয়। মেলায় পর্যাপ্ত ব্যাংকিং সুবিধা, বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা, রক্তদান, ফায়ার সার্ভিস, শিশুদের জন্য বিনোদনমূলক শিশুপার্ক ও মেলার আশপাশ সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করা হয়। 

গত ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল ৩১ জানুয়ারি মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ভ্যাট ফাঁকি দেওয়া সহ বিভিন্ন অনিয়মে ১১টি প্রতিষ্ঠান থেকে লক্ষাধিক টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। মেলায় ঢাকা পূর্ব কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এ জরিমানার টাকা আদায় করে।

বাণিজ্য মেলায় বেশি মূল্যে পণ্য বিক্রি, বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রক্রিয়া করা ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ও মেয়াদ, মোড়কে মূল্যবিহীন পণ্য বিক্রি করার অপরাধে ৬টি প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এছাড়া আর কখনো অনিয়ম করবেনা এ মুসলেকা দিয়ে ১০টি প্রতিষ্ঠান তাদের অপরাধ থেকে মুক্তি পেয়েছে।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে ট্রফি প্রদানের মাধ্যমে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে। ১ম পুরস্কার গোল্ড কালার ট্রফি বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১০টি সেরা প্যাভিলিয়ন ও স্টলে মধ্যে প্রদান করা হয়েছে। দ্বিতীয় পুরস্কার সিলভার কালার ট্রফি অপর প্রতিষ্ঠানের ১৩টি স্টল ও প্যাভিলিয়নকে ও তৃতীয় পুরস্কার ব্রোঞ্জ কালার ট্রফি বিভিন্ন ক্যাটাগরির ১১টি প্যাভিলিয়ন ও স্টলকে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা ক্যাটাগরিতে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে, বেস্ট ইলেক্ট্রনিক পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে, বেস্ট ফার্ণিচার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ৪টি প্রতিষ্ঠানকে এবং ইনোভেটিভ পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২টি প্রতিষ্ঠানকে ট্রফি প্রদান করা হয়েছে।

 সভায় বক্তারা বলেন, দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে ১৯৯৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। যা দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের বিনোদন, ক্রয়-বিক্রয় ও বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশিন সেন্টারের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর আকর্ষণ ডিঅইটিএফকে একটি জাতীয় অনুষ্ঠান হিসেবে প্রসিদ্ধ করেছে।

প্রিমিয়ার প্যাভিলিয়ন-এ ক্যাটাগরিতে আবুল খায়ের মিল্ক প্রোডাক্টস লিমিটেড প্রথম, ডায়মন্ড ওয়ার্ড ও তানভীর ফুড (এমজেআই) দ্বিতীয় এবং সেভয় আইসক্রিম ফ্যাক্টরী লিমিটেড তৃতীয় স্থান অর্জন করে।

 

রিপোর্ট

 দৈনিক নতুন বাজার ৭১.কম

প্রধান সহকারী সম্পাদক

কৌশলগত ব্যবসা পরিচালনায় গ্রামীণফোনের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি
                                  

স্টাফ রিপোর্টার

 

২০২২ অর্থবছরে ১৫,০৪০.৩৫ কোটি টাকা টাকা রাজস্ব অর্জন করেছে গ্রামীণফোন। গত বছর একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব বৃদ্ধির হার ৫.১ শতাংশ। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে সিম বিক্রির ওপরে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিষেধাজ্ঞার কারণে আগের বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ কম গ্রাহক গ্রামীণফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পেরেছেন। সব মিলে, বছর শেষে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭.৯১ কোটি। গ্রামীণফোনের মোট গ্রাহকের মধ্যে ৫৫ শতাংশ বা ৪.৩৬ কোটি গ্রাহক ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন, যা ২০২১ সালের শেষের তুলনায় ২.২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

 

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী ইয়াসির আজমান বলেন, ‘২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে বাহ্যিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও গ্রামীণফোন নিজেদের পারফরমেন্সে উন্নতি বজায় রেখেছে এবং ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে বছর শেষ করেছে। নেটওয়ার্কে আমাদের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ, নতুন তরঙ্গের ব্যবহার, মোট সাইটের সংখ্যা ২০ হাজারে উন্নীত করার মাইলফলক অর্জন এবং ১৯.৬ হাজার ফোরজি সাইট নেটওয়ার্কে যুক্ত করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগই মূলত আমাদের বছরপ্রতি ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা পালন করেছে। ২০২২ সালের ২৯ জুন টেলিকম খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আমাদের সিম কার্ড বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়, যা বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের গ্রাহক প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কম গ্রাহক নিয়ে বছর শেষ করলেও, গ্রাহক অভিজ্ঞতার মানোন্নয়নে গুরুত্বারোপ করার ক্ষেত্রে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতির ফলে, ডেটা ব্যবহার গত বছরের তুলনায় ৩৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২২ শেষে ফোরজি ডেটা ব্যবহারকারী বৃদ্ধি পেয়েছে ২৩.৬ শতাংশ এবং বছর শেষে মোট ফোরজি গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩.৪২ কোটিতে। ধারাবাহিক গঠনমূলক আলোচনার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে ২০২৩ সালের অর্থাৎ এ বছরের ২ জানুয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিম বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।’

 

ইয়াসির আজমান বলেন, “নিজেদের ব্যবসায়িক ভিত্তির জায়গা শক্তিশালী করা ছাড়াও, অত্যাধুনিক মোবাইল প্রযুক্তি ও সক্ষমতার পাশাপাশি বিভিন্ন পার্টনারশিপের মাধ্যমে গ্রামীণফোন উদ্ভাবন ও গ্রাহক-কেন্দ্রিক সল্যুশন নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। আমরা গুগল ও ফেসবুকের সাথে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ করেছি এবং বিভিন্ন সল্যুশন ব্যবহার করছি, যা আমাদের গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক সেবা নিশ্চিতে ভূমিকা রাখছে। বিকাশের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে আমরা ঝামেলাবিহীন স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট ফিচার সুবিধা নিয়ে এসেছি। আমাদের সমন্বিত এ প্রচেষ্টাগুলো ডিজিটাল চ্যানেলে গ্রাহকদের সাথে আমাদের সম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে। এটুআই -এর সাথে আমাদের পার্টনারশিপের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের জন্য আমাদের সেবাকে আরও বিস্তত করতে চাই এবং বিভিন্ন সল্যুশন নিয়ে আসার ব্যাপারে প্রত্যাশী। পাশাপাশি, আমরা দেশের ডিজিটালাইজেশন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যেতে চাই।”         

 

গ্রামীণফোন লিমিটেডের সিএফও ইয়েন্স বেকার বলেন, “রাজস্ব ও ইবিআইটিডিএ প্রবৃদ্ধির ফলে ২০২২ সালে গ্রামীণফোনের আর্থিক পারফরমেন্সে ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। পুরো বছরে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.১ শতাংশ এবং রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ১৫,০৪০.৩৫ কোটি টাকায়। অন্যদিকে, সাবক্রিপশন ও ট্র্যাফিক রাজস্ব বেড়েছে ৫.৫ শতাংশ। নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ ও তরঙ্গ ব্যবহারের ফলে ডেটা ও বান্ডল সেগমেন্টে প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। যার ফলে, সিম বিক্রির ওপরে নিষেধাজ্ঞার কারণে লোয়ার সাবস্ক্রিপশন-বেজ থাকা সত্ত্বেও টানা সাত প্রান্তিকে রাজস্বে বছরপ্রতি প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।’’

 

ইয়েন্স বেকার বলেন, “সামস্টিক ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপ এবং মুদ্রাস্ফীতি সংশ্লিষ্ট ব্যয় বৃদ্ধি সত্ত্বেও, রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি এবং কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে ধারাবাহিক ইবিআইটিডিএ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে গ্রামীণফোন। পুরো বছরে ৬২.৪ শতাংশ মার্জিন নিয়ে ইবিআইটিডিএ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪.৮ শতাংশ। ২০ শতাংশ মার্জিন নিয়ে ২০২২ সালে কর পরবর্তী নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৩,০০৯.১৬ কোটি টাকা। বৈদেশিক লেনদেন ও পূর্ববর্তী মামলায় নেতিবাচক রায়ের কারণে ২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে নিট লাভের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, ” 

 

২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় গ্রামীণফোনের পরিচালনা পর্ষদ ২০২২ সালের জন্য প্রতি শেয়ারে ৯.৫ টাকা চূড়ান্ত লভ্যাংশ সুপারিশ করেছেন। এর ফলে, মোট আর্থিক লভ্যাংশ দাড়িয়েছে পরিশোধিত মূলধনের ২২০ শতাংশ, যা ২০২২ সালের কর পরবর্তী মুনাফার ৯৮.৭২ শতাংশ (১২৫ শতাংশ অর্ন্তবতী নগদ লভ্যাংশ সহ)। রেকর্ড তারিখ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত যারা শেয়ারহোল্ডার থাকবেন, তারা এই লভ্যাংশ পাবেন, যা ০২ মে, ২০২৩, তারিখে অনুষ্ঠাতব্য ২৬তম বার্ষিক সাধারণ সভার দিন শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।

 

২০২২ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে গ্রামীণফোন লিমিটেড ৫০০.৪ কোটি টাকা নেটওয়ার্ক কাভারেজ ও বিস্তৃতিতে বিনিয়োগ করেছে। প্রান্তিক শেষে গ্রামীফোনের মোট নেটওয়ার্ক সাইটের সংখ্যা দাড়িয়েছে ২০,০৮০টিতে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি কর, ভ্যাট, শুল্ক, ফি, ফোরজি লাইসেন্স এবং তরঙ্গ বরাদ্দ বাবদ ১০,৪২৭ কোটি টাকা সরকারি কোষগারে জমা দিয়েছে, যা এর মোট রাজস্বের ৬৯.৩ শতাংশ।

বাণিজ্যমেলার সময় বাড়ানোর দাবি
                                  

মোঃ রাসেল মোল্লা 

 

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে মেলার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। গতকাল ২৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মেলার প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে কফি হাউজের সামনের মাঠে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি এ দাবি করে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া। 

সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মেলার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম, সহ-সভাপতি ও ইরাণী পণ্য সমাহারের মালিক আজাহারুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ও রূপ সিঙ্গার কালেকশনের মালিক হাজী আব্দুর রহিম অপু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও রংপুর ক্রাফটের মালিক মনির হোসেন, প্রচার সম্পাদক ও বাংলাদেশ এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট কোম্পানির পরিচালক বিপ্লব হোসেন, মহিলা সম্পাদিকা- শাহিরা ফ্যাশনের মালিক শিল্পী আক্তার, ব্যবসায়ী মাছুম চৌধুরী অপু, ইমন হাসান খোকন ও রিটন প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্য মেলা ব্যবসায়ী কল্যান সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ছালাউদ্দিন ভুঁইয়া লিখিত বক্তব্যে বলেন, বাণিজ্য মেলার প্রথম দিকে কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা, ৩০০ফুট সড়কে ম্যারাথন দৌঁড়, টঙ্গীতে দ্বিতীয় দফা বিশ্ব ইজতেমা, মেলার সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে অবস্থিত ঢাকা বাইপাস সড়কের সম্প্রসারণ কাজে সৃষ্ট যানজটে ক্রেতা দর্শনার্থীরা মেলায় আসতে পারেনি। কেউ কেউ একবার আসলেও নানা প্রতিকূলতায় ভোগান্তিতে পড়ে দ্বিতীয়বার মেলায় আসেনি। তাই মেলার ব্যবসায়ীরা মারাত্মক ভাবে আর্থিক ক্ষতির সমুখ¥ীন হতে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিনা ভাড়ায় আরো ৭দিন সময় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। 

তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রী ও বাণিজ্য সচিবের বরাবর আবেদন করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিকূলতায় মেলায় বরাদ্দ নেওয়া স্টল তৈরি করতে ৭দিনের বেশি সময় লেগেছে। কনকনে শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্য প্রবাহে রাজমিস্ত্রি, কাঠমিস্ত্রি ও বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির সংকট ছিল। তাই স্টল সাজিয়ে ব্যবসা শুরু করতে ৭দিন সময় পেরিয়ে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টির মানবিক দিক বিবেচনা করে বিনা ভাড়ায় ৭দিন সময় বৃদ্ধি করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

মেলা চলাকালীন টঙ্গীতে ২দফায় ইজতেমা অনুষ্ঠিত ও ঢাকা বাইপাস সড়ক সম্প্রসারণের কাজ চলমান থাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। যার কারণে মেলায় মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। পূর্বাচল ৩০০ফিট সড়কে একদিন ম্যারাথন অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনও মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল নঘন্ন। বাণিজ্য মেলার সময় বাড়ানো না হলে ব্যবসায়ীদের অনেক পণ্য অবিক্রিত থাকবে। তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। তাই বিনা ভাড়ায় ৭দিন সময় বাড়ানো দাবি জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা। 

এব্যাপারে বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন,ব্যবসায়ীদের বিনা ভাড়ায় বাণিজ্য মেলার ৭দিন সময় বাড়ানোর দাবি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা হবে।

 

রিপোর্ট 

সহ সম্পাদক 

দৈনিক নতুন বাজার ৭১.কম

বাণিজ্য মেলায় লোকসানের ঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা
                                  

মোঃ রাসেল মোল্লা 

 

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৭তম আসর প্রায় শেষের দিকে। তৃতীয় সপ্তাহে এসে ক্রেতা ও দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, শুরুতে মেলায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতির ঘাটতি থাকা ও শীতের কারণে মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থী বিশেষ ছিল না। যে কারণে আশানুরূপ বেচাকেনা হয়নি। এজন্য ব্যবসায়ীরা মেলার সময় ৭ দিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। এদিকে শেষ সময়ে এসে ব্যবসা জমাতে পণ্যের ওপর ছাড়সহ নানা ধরনের সুবিধা চালু করেছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মেলায় উপস্থিত হচ্ছেন। মেলার স্থায়ী প্যাভিলিয়নসহ বিভিন্ন স্টলে ভিড় দেখা গেছে। দুপুরের পরে ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেলে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ জমজমাট হয়ে ওঠে। তবে কেনাকাটার চেয়ে মেলায় আগতরা ঘোরাফেরা বেশি করেছেন।

মেলায় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, পহেলা জানুয়ারি বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন হলেও অনেকে স্টল নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ৭/৮ তারিখে। এতে বেশিরভাগ স্টল মালিকরা ব্যবসায় পিছিয়ে গেছেন। এ ছাড়া মেলা জমতেও সময় লেগেছে। একটি স্টলের মালিক জহির রায়হান বলেন, এবারের আসর শুরুর আগে সময় কম পাওয়ায় স্টল নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে দেরি হয়েছে। তাই মেলার অষ্টম দিন থেকে পুরোপুরিভাবে স্টলে বেচাকেনা শুরু করতে পেরেছি। এক সপ্তাহ সময় বাড়ানো না হলে লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে।

মেলার আরেক ব্যবসায়ী জিয়াউর হোসেন বলেন, মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি হলেও বেচাকেনা হচ্ছে কম। বেচাকেনা বাড়াতে ছাড় দিতে হচ্ছে। তার পরও আশানুরূপ বেচাকেনা হচ্ছে না।

তুর্কি প্যাভিলিয়নের নাইম ইসলাম বলেন, মেলায় আগতরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বেশি কিনছেন। বিলাসবহুল বা কম প্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন কম। এজন্য কয়েকদিন সময় বাড়ানো প্রয়োজন।

মেলায় প্যাভেলিয়ন, প্রিমিয়ার প্যাভেলিয়ন, মিনি প্যাভেলিয়ন, সাধারণ স্টলে বিভিন্ন সৌন্দর্যবর্ধক সামগ্রী, ইলেকট্রনিকস পণ্য, পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা, খেলার সামগ্রী, খেলনা, স্টেশনারি, জুয়েলারি, সিরামিকস পণ্য, মেলামাইন পণ্য, দেশি বস্ত্র, আসবাবপত্র, হস্তশিল্প পণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সচিব ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, মেলা শেষের দিকে জমজমাট হচ্ছে। বিক্রিও প্রায় প্রতিদিনই বাড়তে শুরু করেছে। তবে স্টল মালিকরা অনেকেই সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দেশীয় পণ্যের প্রচার, প্রসার, বিপণন ও উৎপাদনে সহায়তার জন্য এ মেলার আয়োজন করা হয়। আগে বাণিজ্য মেলা শেরেবাংলা নগরের চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের পাশের খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত হতো। ২০২২ সাল থেকে পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টার প্রাঙ্গণ মেলার জন্য নির্ধারিত হয়েছে। পূর্বাচলে তুলনামূলকভাবে জনসমাগম কম হচ্ছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

মেলার প্রবেশদ্বার ইজারাদার অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন রাজিব বলেন, আগের তুলনায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম।

 

রিপোর্ট 

সহ সম্পাদক 

দৈনিক নতুন বাজার ৭১.কম

১১টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে, উৎকন্ঠায় গ্রাহকরা
                                  

মাসুম হাসান

বার্তা সম্পাদক, দৈনিক নতুন বাজার ৭১.কম

বাংলাদেশের এগারোটি ব্যাংক -বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী, জনতা, সোনালী, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক এবং পদ্মা ব্যাংক- সম্মিলিতভাবে সেপ্টেম্বরে ৩২,৬০৬ কোটি টাকার মূলধন ঘাটতির মুখোমুখি হয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে চলা অনিয়মের কারণে ব্যাংকগুলোর এমন অবস্থা হয়েছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ 

তাদের মতে, ব্যাংকগুলিতে সংঘটিত দুর্নীতি প্রধানত এইরকম বড় মূলধন ঘাটতির জন্য দায়ী।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, ১১টি ঋণদাতার মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সবচেয়ে বেশি ঘাটতি ছিল ১৩,৪৯১ কোটি টাকা৷ 

 

 

রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৮৫১ কোটি টাকা। রাষ্ট্র পরিচালিত রূপালী ব্যাংকের ঘাটতি ছিল ২৩৯০ কোটি টাকা এবং অন্য একটি সরকারী মালিকানাধীন জনতা ব্যাংকের ঘাটতি ২৩০০ কোটি টাকা।

 

বিশ্লেষকরা কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সমস্যা সমাধানের জন্য অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান৷ কারণ এই ধরনের পরিস্থিতি বহির্বিশ্ব এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে একটি নেতিবাচক বার্তা পাঠায় যে দেশের ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে পড়ছে।

 

বাংলাদেশের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, "বড় মূলধনের ঘাটতি বিদেশী ব্যাংকগুলোর জন্য একটি নেতিবাচক সংকেত দেয়। তাই দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।" তিনি আর্থিক দুর্নীতি এবং কোটাভিত্তিক ঋণের উচ্চ অনুপাতকে ঘাটতির জন্য দায়ী করেন।

 

সেপ্টেম্বরে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যার সর্বশেষ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, যা খাতের মূলধন ভিত্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

 

বাংলাদেশে কর্মরত ৬০টি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ সেপ্টেম্বরে রেকর্ড ১৩৪,৩৯৬ কোটি টাকা বেড়েছে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ১৪৩৬২০০ কোটি টাকার মোট বকেয়া ঋণের ৯.৩৬ শতাংশ। এক বছর আগে এর অনুপাত ছিল ৮.১২ শতাংশ।

 

 

মূলধনের ভিত্তি গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় সেপ্টেম্বরে হ্রাস পেয়েছে কারণ মূলধন পর্যাপ্ততা অনুপাত (CAR) ১১.০৮ শতাংশের বিপরীতে ১১.০১ শতাংশে সঙ্কুচিত হয়েছে৷

 

CAR মূলত একটি ব্যাংকের মূলধন এবং সম্পদের পরিমাণ ব্যবহার করে তার আর্থিক শক্তি পরিমাপ করে। এটি আমানতকারীদের রক্ষা করতে এবং বিশ্বজুড়ে আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা প্রকাশ করতে ব্যবহৃত হয়।

 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের একজন প্রাক্তন কর্মকর্তা মনসুর বলেন, "যদি কোনো ব্যাংক মূলধনের ঘাটতির সম্মুখীন হয়, তাহলে তার ধাক্কা মোকাবেলা করার ক্ষমতা কমে যায়।"

 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর আগে ব্যাংকগুলোতে বিপুল পরিমাণ পুঁজি ঢুকিয়েছিল, কিন্তু উদ্যোগটি সঠিকভাবে কাজ করেনি।

 

তিনি বলেন, "কর্পোরেট গভর্নেন্সের অভাব হল মূলধনের ঘাটতির প্রধান সমস্যা। যদি কেলেঙ্কারি অব্যাহত থাকে, তাহলে মূলধনের ঘাটতির অবস্থার উন্নতি হবে না।"

ব্যাংকগুলোর মূলধনের ভিত্তি শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা৷ 

 

#দ্য ডেইলি স্টার থেকে অনূদিত ও সম্পাদিত 

 

লাইসেন্স ছাড়া চলবে না সিএনজি স্টেশন
                                  

লাইসেন্স ছাড়া চলতে পারবে না সিএনজি স্টেশন। জবাবহিদিতার আওতায় আনতে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত সাড়া দিয়েছেন স্টেশন মালিকরা। যদিও মালিকদের সংগঠন বলছে, বিপুল অঙ্কের লাইসেন্স ফি তাদের জন্য চাপ হয়ে যায়।

বিইআরসি সূত্র বলছে, দেশে সব ধরনের জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য লাইসেন্স প্রয়োজন। বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে শুরু করে ৫০০ কিলোওয়াটের ঊর্ধ্বে সব ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু সিএনজি স্টেশনগুলোকে বারবার বলার পরও তারা লাইসেন্স নিচ্ছিলো না। তাদের অনেকবার চিঠি দিয়েও বিইআরসি কোনও সাড়া পায়নি। শেষ পর্যন্ত জ্বালানি বিভাগ এবং পেট্রোবাংলাকে এ বিষয়ে কঠোর হতে বলে বিইআরসি।তালিকা অনুযায়ী লাইসেন্স ছাড়া সিএনজি স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে শুরু করে তিতাস গ্যাস কোম্পানি– এমন খবর প্রচারের পরপর সিএনজি স্টেশন মালিকরা লাইসেন্স নেওয়ার জন্য বিইআরসিতে যোগাযোগ শুরু করেন। গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত এক হিসাবে বিইআরসি বলছে, তারা লাইসেন্সবিহীন ৯৯টি সিএনজি স্টেশনের তালিকা করেছিল। এরমধ্যে ৩৫টির লাইসেন্স দিয়েছে কমিশন। আর লাইসন্সের জন্য ৪৩টিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও ৮টি।  এছাড়া নতুন আবেদন পাওয়া গেছে ২১টির মতো।

অন্যদিকে নবায়নের ক্ষেত্রে ২২টি লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। সমপরিমাণ সিএনজি স্টেশন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া ৪৪টি লাইসেন্স নবায়নের জন্য অনুমোদন করা হয়েছে।

বিইআরসির সদস্য (গ্যাস) মো. মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা এ খাতে যে অব্যবস্থাপনা রয়েছে সেগুলোকে শেষ করতে চাইছি। দেশে ব্যবসা করে, কিন্তু তার কোনও লাইসেন্স নেই। এটা কেমন কথা! তিনি বলেন, সাধারণ পান দোকানদারকেও লাইসেন্স করতে হয়। কিন্তু এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থার লাইসেন্স নেই জ্বালানির বড় ব্যবসায়ীদের, এটা ভাবা যায়! শুরুতে তারা নানা টালবাহানা করলেও এখন বুঝেছে এটা করাটা জরুরি। তিনি জানান, বার বার চিঠি দিয়ে তাগাদা দেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু হলো।

 

বিইআরসি সূত্র বলছে, সব কিছুই রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রাখাটা জরুরি। কোনও প্রতিষ্ঠান যদি লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা করে তাহলে তাকে কোনও দিনই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না।ব্যবসায়ী কি সুবিধা পাবেন তার চাইতে বড় বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ। এত দিন যারা নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিলেন তারা এখন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসলেন। সেটিই বিইআরসির বড় সাফল্য।

জানতে চাইলে সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারহান নূর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা সরকারের আইন মানবো না বা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবো না বিষয়টি মোটেই এমন কিছু নয়। লাইন কাটা তো কোনও সমাধান না। আমরা বলেছিলাম, একটু ধীরে চলতে। যারা লাইসেন্স নেননি তাদের লাইসেন্স নেওয়ার জন্য আমরা একটা সার্কুলার জারি করেছিলাম। তারা আবেদনও করতে শুরু করেছে। তিনি বলেন, এই লাইসেন্স না নেওয়ার পেছনে একটা ঘটনা আছে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত লাইসেন্স ফি ছিল ১ লাখ টাকা।আমাদের এটি নিয়ে বিরোধিতা ছিল। এরপর তা কমিয়ে নতুন লাইসেন্স ৫০ হাজার, নবায়ন ২০ হাজার করা হয়েছে। এরপর লাইসেন্স নেওয়া শুরু হয়। এরমধ্যে কিছু বাকি পড়ে যায়। এখন তাদের লাইন কাটার পর তারাও লাইসেন্স নিয়ে নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে সিএনজি সংশ্লিষ্ট আরেকজন জানান, এখন গ্যাসের চাপ কম, ছয় ঘণ্টা বন্ধ। আরও দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুতের জন্য বন্ধ থাকে। এর মধ্যে বছরে এত টাকা লাইসেন্স ফি পরিশোধ করা আমাদের জন্য বাড়তি চাপ হয়ে যায়। এটি আরও সহনীয় করার দাবি জানান তিনি।

ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাকে মা ডেকেও রেহাই পেলেন না ব্যবসায়ীরা
                                  

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ‘মা’ বলে সম্বোধন করেও মাফ পেলেন না রাজধানীর পাঁচ চাল ব্যবসায়ী। উল্টো, অযৌক্তিক লাভে চাল বিক্রি এবং প্রকারভেদে আলাদা আলাদা দাম না লেখার অপরাধে, তাদেরকে গুনতে হলো জরিমানা। 

বৃহস্পতিবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেটের চাল বাজারে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে দেখা যায়, কেজিতে ১০-১১ টাকা লাভ করছেন চাল ব্যবসায়ীরা। এছাড়া প্রতি চালের আলাদা আলাদা মূল্য লেখার নির্দেশনা থাকলেও, সেটিও মানা হচ্ছে না। 

ফলস্বরুপ মোবাইল টিমের কর্মকর্তাদের ‘মা’ বলে সম্বোধন করেও মাফ পেলেন না ব্যবসায়ীরা। বরং গুনতেই হলো জরিমানা। 

বৃহস্পতিবারের অভিযানে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও বাসাবোতে পাঁচ চাল ব্যবসায়ীকে সবমিলিয়ে ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক (তদন্ত) শাহনাজ সুলতানা। 

তিনি বলেন, ‘চাল নিয়ে চালবাজি’ করলে কাওকেই ছাড় দেয়া হবে না। ভোক্তাদের একটু স্বস্তি দিতে চালসহ নিত্যপণ্যের বাজার তদারকিতে নিয়মিত অভিযান করবেন তারা। 

উল্লেখ্য, ডিজেলের দাম ৪২ দশমিক পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধিতে প্রতি কেজি চালে পরিবহন খরচ ১০ পয়সার মতো বাড়লেও, সে অযুহাতে রাজধানীতে চালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বাড়িয়েছে ব্যবসায়ীরা। যেটি তদারকি করতেই চালের বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের এ অভিযান।

মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে আরেক দফা ।
                                  

মোট জ্বালানি তেলের ৬৫ শতাংশ ব্যবহার হয় পরিবহণ ও ১৬ শতাংশ কৃষি খাতে। মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহণ ও কৃষি খাতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। অপরদিকে মূল্যস্ফীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে চালের অবদান ৬০ শতাংশ।

আর পরিবহণ ও বাসস্থানের অনুপাত ১০ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির হার বৃদ্ধি ও হ্রাসের ৭০ শতাংশই নির্ভর এ তিনটি পণ্য ও সেবার ওপর। ফলে শুক্রবার জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহণ সেবা ও কৃষি উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। এতে আরেক দফা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে। নিম্ন ও মধ্যম শ্রেণির মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে।

অবশ্য আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে ২০২২ সালে অগ্রসর অর্থনীতির দেশগুলোর গড় মূল্যস্ফীতি ৬.৬ শতাংশে উঠবে। এপ্রিলে যা ৫.৭ শতাংশ হওয়ার আভাস দেওয়া হয়েছিল।

মূল্যস্ফীতি আগের ধারণার চেয়েও বেশি সময় উচ্চমাত্রায় থাকবে। এছাড়া চলতি বছরে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর গড় মূল্যস্ফীতি ৯.৫ শতাংশ হওয়ার আভাস দেওয়া হয়েছে, যা এপ্রিলে দেওয়া হয়েছিল ৮.৭ শতাংশ। 

জানতে চাইলে বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক এমকে মুজেরি যুগান্তরকে জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিরূপ প্রভাব সবকিছুর ওপর পড়বে। পরিবহণ খরচ ও পণ্যের দাম বাড়বে।

ফলে আশঙ্কা অমূলক হবে না আগামী দিনগুলোতে মূল্যস্ফীতির। তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কয়েক দিন আগে সারের মূল্য বাড়ানো হয়। এতে কৃষিতে উৎপাদন খরচ বাড়বে।

বিশেষ করে বোরো মৌসুমে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি হবে। তবে মূল্য এত অস্বাভাবিক হারে না বাড়িয়ে অল্প হারে বাড়লে প্রভাব এত বেশি হতো না।

সার ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বড় ধরনের আঘাত করবে বোরো ধানের উৎপাদনকে। কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়বে। পাশাপাশি পণ্যবাহী পরিবহণ ব্যয়ও বাড়বে। আরও মূল্যস্ফীতির ৬০ শতাংশ উঠানামা করে চালের মূল্যের ওপর নির্ভর করে।

ফলে সামনের দিনে এর বিরূপ প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়বে। এছাড়া পরিবহণ ভাড়া বাড়ানো হবে। সব ধরনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের বেশি পরিবহণ ভাড়া প্রভাবিত করে। ফলে এক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জুলাইতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অর্থনীতিবিদদের মতে এ হার প্রকৃতপক্ষে আরও বেশি।

যদিও চলতি বাজেটে ৫ দশমিক ৫ শতাংশের ঘরে মূল্যস্ফীতির হার রাখার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কিন্তু জ্বালানি তেল ও সারের মূল্য বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়া এবং সামনের দিনগুলোতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির আভাস সব মিলে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশের ঘরে থাকবে না। মূল্যস্ফীতি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার মতে, সরকার মূল্যস্ফীতি হার ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ঘোষণা করলেও অর্থবছর শেষে এটি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে এমনটি ধরে নেওয়া হচ্ছে।

জীবনযাত্রায় মূল্যস্ফীতি যেভাবে প্রভাব ফেলে : ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটের কারণে এমনিতে মূল্যস্ফীতির রের্কড সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে। খাদ্য, পরিবহণ ও বাসস্থান এ তিনটি ছাড়া মানুষ চলতে পারে না।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিটি খাদ্য পণ্যের দাম বাড়বে। বাড়বে পরিবহণ সেবার মূল্য এবং বাসস্থান ব্যয়ও। সব মিলে মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়বে। এখনই ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ মূল্যস্ফীতি।

অর্থাৎ গত বছর একশ টাকায় যে পণ্য ও সেবা পাওয়া যেত বর্তমানে সেটি পেতে ১০৭.৪৮ টাকার প্রয়োজন হচ্ছে। ফলে কোনো ব্যক্তি আগে এক হাজার টাকা ব্যয় করে ১০টি পণ্য ক্রয় করতে পারতেন। এখন এক হাজার টাকা ব্যয় করে ১০টি পণ্য কিনতে পারবেন না। এরচেয়ে কম কিনতে হবে।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের সব উদ্যোগ অকার্যকর : চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে বাজেট ঘোষণা করা হয়। সরকারের ব্যয় কমিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে বাজেটে।

এবার বাজেটে ব্যয়ের অনুপাত জিডিপির ১৫ দশমিক ২ শতাংশ ধরা হয়। এর আগের বাজেটের ব্যয়ের অনুপাত ছিল জিডিপির ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ। একই ভাবে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়।

ডিসেম্বর পর্যন্ত যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে সেখানে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। আগের মুদ্রানীতিতে ঋণ প্রবাহের হার ছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ।

বাজারে ঋণের অনুপাত টেনে অর্থ প্রবাহ কমিয়ে রাখা হয়। কিন্তু এসব উদ্যোগের পর এখন জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সব হিসাব-নিকাশ পালটে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
 

দ্রব্যমূল্য বেশি নিলে কঠোর ব্যবস্থা- বাণিজ্যমন্ত্রী
                                  

রংপুর সংবাদদাতা: নিত্যপণ্যের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিলে ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। আজ শুক্রবার (১৮ই ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রংপুর সার্কিট হাউজে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে এরই মধ্যে বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, পেঁয়াজ এর মতো আমদানি নির্ভর পণ্য যাতে সঠিক ম‚ল্যে বিক্রয় হয়, সেজন্য সরকার কঠোর নজরদারি করছে। 

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণেই তেল, চিনি ও ডালের দাম বাড়ানো হয়েছে। ট্যারিফ কমিশনের বাইরে দাম বাড়ালে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

ডিএসই পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর
                                  

ঢাকা: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন সূচক অত্যন্ত ভালো অবস্থানে সে তুলনায় পুঁজিবাজারের উন্নয়নে অনেক সুযোগ রয়েছে। ডিএসই পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর।

 

এক্ষেত্রে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য সহায়ক হবে।  

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। ডিএসই থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বৈঠকে দেশের পুঁজিবাজারে বন্ড মার্কেটের প্রসার ও উন্নয়ন বিশেষত গ্রিন বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহ করে দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন, ঢাকা স্টক একচেঞ্জকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিকমানে উন্নয়ন, দেশের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজি সংগ্রহের সুযোগ সৃষ্টি, নতুন প্রোডাক্ট ও বাজার উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে উপস্থিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক ড. শামসুদ্দিন আহমদ বলেন, বাজারের গভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ইকুইটি মার্কেটের পাশাপাশি পণ্যবৈচিত্রময় বাজার গড়ে তুলতে বর্তমান কমিশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কমিশন গ্রিন বন্ড, মিউনিসিপাল বন্ডসহ বিভিন্ন বন্ড, ইটিএফ, ডেরিভেটিপস প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছে। তিনি এসব পণ্যগুলোকে ডুয়েল লিস্টিংয়ের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া এবং পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সর্বক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে যৌথভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন৷

লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধিরা ডিএসই প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ বৈঠকের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হলো। বাংলাদেশের পুঁজিবাজার উন্নয়নে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ কাজ করতে আগ্রহী৷ একই সঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের প্রতিনিধিরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিনিধি দলের মধ্যে ছিলেন ডিএসইর পরিচালক মো. শাকিল রিজভী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূইয়া, মহাব্যবস্থাপক ও কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আসাদুর রহমান, উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া, সহকারী মহাব্যবস্থাপক রুহুল আমিন ও উপ-ব্যবস্থাপক মো. শাহাদাত হোসেন।

বৈঠকে লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের পক্ষে ছিলেন পুঁজিবাজারের প্রাইমারি মার্কেটের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ডেভেলপমেন্টের প্রধান টম অ্যাটেনবরো, এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড প্রোডাক্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অর্ডার বুক-এর বিজনেস ডেভেলপমেন্টের প্রধান লিডা এসলাম, লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের আফ্রিকা এবং সাউথ এশিয়ান স্ট্র্যাটেজির পরিচালক ইবুকুন আদেবায়ো এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্টের সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট মাল্টি-অ্যাসেট প্রাইমারি মার্কেট ফেদেরিকা গিয়াকোমেটি।

বিশ্বের অন্যতম সেরা বিনিয়োগ গন্তব্য বাংলাদেশ
                                  

ঢাকা: বাংলাদেশে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ব্রিটেনের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

শুক্রবার (৫ নভেম্বর) লন্ডনে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (বিবিসিসিআই) সঙ্গে নেটওয়ার্কিং বিজনেস মিটিংয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি এই আহ্বান জানান।

 

বৈঠকে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সক্রিয় অংশ নিচ্ছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদার হওয়ার পরও যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের রপ্তানি তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, হিমায়িত মাছসহ অল্প কিছু পণ্যের মধ্যে আটকে আছে।

এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম সেরা বিনিয়োগ গন্তব্য বলে মন্তব্য করেন এফবিসিসিআই সভাপতি। বলেন, তাই অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিশাল সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।

এফবিসিসিআইর সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংকে উন্নত করতে এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকে সহজতর করার জন্য একত্রে কাজ করতে পারে এফবিসিসিআই ও বিবিসিসিআই। এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যা কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ সময় তিনি প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

সহ-সভাপতি এম এ মোমেন ব্যবসায়িক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য এফবিসিসিআই ও বিবিসিসিআইর মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশের যে কোনো ব্যবসায়িক স্বার্থের সুবিধার্থে এফবিসিসিআই সব সময় পাশে থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন তিনি।

এদিন কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান হুগো সোয়ারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ
                                  

জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল। বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক প্রতিক্রিয়ায় দলগুলো অবিলম্বে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে কৃষি উৎপাদনে সেচ খরচ বাড়বে, ডিজেলের দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহনে যাত্রী ভাড়া ও পণ্য পরিবহন ব্যয় বাড়বে। এলপিজির দাম বৃদ্ধিতে পরিবহন ও গৃহস্থালিতে, হোটেল-রেস্টুরেন্টে রান্নার ব্যয় বাড়বে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত সাধারণ জনগণ।

 

খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের যখন নাভিশ্বাস উঠছে, ঠিক সেই সময়ে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম হঠাৎ করে ২৩% বৃদ্ধি করে জনগণের সঙ্গে অন্যায় করা হচ্ছে।’

ভারতে শুল্ক কমিয়ে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছে আর আমাদের দেশে মূল্য বৃদ্ধি করা হলো— উল্লেখ করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘বিপিসিকে তেল আমদানি করতে ৩ ধরনের শুল্ক ও  ট্যাক্স প্রদান করতে হয়, যা কমালে তেলের দাম বৃদ্ধি না করে কমানো সম্ভব। কিন্তু সরকার লোকসানের দোহাই দিয়ে জনগণের পকেট কাটার দিকেই মনোযোগী বেশি, যা অত্যন্ত অযৌক্তিক ও গণবিরোধী।’

ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধি আত্মঘাতী বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ  চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া। বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ড ও অবস্থান দেখলে মনে হয়, তারা দেশের জনগণ নয়, লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত। ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধির সরকারি সিদ্ধান্ত জনবিরোধী।’

বাসদ (মার্কসবাদী)-এর ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী ফখরুদ্দিন কবির আতিক উল্লেখ করেন, ‘অসংখ্য মানুষ কাজ হারিয়ে বেকারত্বের বোঝা বহন করছে। সংসার চালানোই হয়ে পড়েছে দুষ্কর। এই অবস্থায় সরকার পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে কার্যকর কোনও ব্যবস্থা তো নেয়ইনি, উল্টো এখন ডিজেল-কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে পণ্যমূল্য আরও বৃদ্ধির পথ করে দিলো। ফলে জীবনযাপন ব্যয় আরও বাড়বে। জনগণের জীবন হয়ে উঠবে দুঃসহ।’

এছাড়া বিবৃতিতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সভাপতি হাফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান কবির। ইসলামি আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টও প্রতিবাদ জানিয়েছে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে।
এদিকে, ডিজেল-কেরোসিনের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে  শুক্রবার (৫ নভেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি ডেকেছে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল। 

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে এক্সিম ব্যাংকের কম্বল
                                  

ঢাকা: আসন্ন শীতে দেশের বিভিন্ন স্থানের অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে দেড় লাখ কম্বল দিয়েছে এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশ লিমিটেড।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে গণভবন থেকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউস এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম মজুমদারের কাছ থেকে কম্বল গ্রহণ করেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. নূরুল আমিন ফারুক এবং অঞ্জন কুমার সাহা।

আবারও বাড়লো ডলারের দাম
                                  

ঢাকা: আমদানির জোয়ার ও প্রবাসী আয়ের ভাটায় আবারও বেড়েছে ডলারের দাম। গত দুদিনে ডলারের দাম বেড়েছে আরও ছয় পয়সা।

 

এর মধ্যে সোমবারই (১ নভেম্বর) বেড়েছে ৪ পয়সা। আর খোলা বাজারে গত কয়েক দিন ধরে বিক্রি হচ্ছে ৯১ টাকা পর্যন্ত।  

আমদানির জোয়ার ও প্রবাসী আয়ের ভাটার কারণে দিন দিন ডলার সংকট প্রকট হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে ডলার সরবরাহ করেও দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।  

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, আট কর্মদিবস স্থির থাকার পরে আবারও বাড়ছে ডলারের দাম। রোববার ও সোমবার বেড়েছে ছয় পয়সা। সোমবারই বেড়েছে চার পয়সা।  

কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের দাম বাড়ানোর ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও ডলারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করছে ৮৫ টাকা ৬৭ পয়সায়। দুদিন আগেও বিক্রি করতো ৮৫ টাকা ৬১ পয়সায়। আর নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯১ টাকায়।  

এদিকে গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে কমেছে প্রবাসী আয়। অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১ হাজার ৬৪৭ মিলিয়ন ডলার। মহামারির কারণে আমদানি কমে যাওয়ায় এবং বৈধপথে প্রবাসী আয় বাড়ায় ডলারের দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রিত ছিল। 

দাম বেড়েছে পেঁয়াজ-তেলের, তবে ডিমে...
                                  

দুই সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলেছে নিত্যপণ্যের দাম। পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, চিনি, মসুর ডাল, তেল ও মুরগির দাম বেড়েছে। তবে বাজার ভেদে ডিমের দামে তারতম্য রয়েছে। কোথাও ডজনপ্রতি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়, কোথায় ১১০টাকায়। আর হাঁসের ডিম কোথাও ডজনপ্রতি ১৬৫ টাকা, কোথাও ১৭৫ টাকা।

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ও কাওরান বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

কাওরান বাজারে গত দুই সপ্তাহ ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। তবে ডিমের দাম কমেছে বলে জানালেন কয়েকজন বিক্রেতা।

হামিদ স্টোরের বিক্রেতা ফাহিম হোসেন বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েছে। তবে ডিমের দাম কমেছে।’

মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজ ৪৫ টাকা থেকে বেড়ে ৬৫, চিনি ৬১ থেকে ৮০ ও মসুর ডাল ৭০ টাকা থেকে ৯০ টাকা। তবে চালের দাম কমেছে বলে জানালেন বিক্রেতারা। মিনিকেট দাম কমে ৬৫ টাকা থেকে ৬০, আটাশ ৫৫ থেকে ৫০ ও নাজিরশাইল ৭০ থেকে কমে ৬৫ টাকা।

 

তবে বেড়েছে মুরগির দাম। বয়লার মুরগি ১৪০ থেকে বেড়ে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু দেশি মুরগির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সোনালী মুরগি ২২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

 বিভিন্ন ব্যান্ডের তেলের দাম প্রতি লিটারে ৭ টাকা বেড়েছে। প্রতি ৫ লিটার তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৬০ টাকা।

 

প্রতিদিন জেনারেল স্টোরের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল কুদ্দুস জানান, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, এজন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

 দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘আমদানি কম হচ্ছে, এজন্য দাম বেড়ে গেছে।’

তবে, দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ভিন্নমত দিলেন বরিশাল জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. খালিদ হোসেন চৌধুরী। দাম কেন বাড়ছে এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে দাম বেড়েছে। আমাদের পাইকারি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, এজন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

এদিকে নিত্যপ্রয়োজনী পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন আয়ের মানুষের। বেড়েছে ব্যয়। এজন্য আয়-ব্যয়ের সামঞ্জ্যহীনতা দেখা দিচ্ছে।কাঁচামরিচ কিনছিলেন একটি বেসরকারি ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করেন আব্দুল আলীম। বর্তমানে কাঁচামরিচ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েকদিন আগে কাঁচা মরিচের দাম ছিলো ৮০ টাকা।তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। এজন্য পরিবার নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ কাওরান বাজারের ডিম বিক্রেতা সাহেদ আলী জানান, বর্তমানে ডিমের সরবরাহ বেশি। এজন্য ডিমের দাম কমেছে।তবে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটে ডিমের দাম বেশি দেখা গেছে। বিক্রেতা মুহিউল্লাহ জানান, ডিমের চাহিদা বেশি। পাইকারি বাজার থেকে বেশি দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে, এজন্য দাম বেশি।

শেওড়াপাড়া কাঁচা বাজারের বিক্রেতা আলীম উদ্দিন জানান, তেল, ডাল, আদা ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

 

 

 

বাজার করতে এসেছিলেন গার্মেন্টসকর্মী মোছা. ফরিদা খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমরা নিম্ন আয়ের মানুষ। সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে।’

 

বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে এডিবি
                                  

করোনা মহামারির অর্থনৈতিক ধকল কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশকে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার নীতিভিত্তিক ঋণ সহায়তা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক(এডিবি)।শুক্রবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে ব্যাংকটি জানিয়েছে, টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচির ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রথম কিস্তি হিসেবে এই অর্থ দেওয়া হবে।

যত দ্রুত সম্ভব করোনা মহামারির অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠা, কর্মসংস্থান তৈরি ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্ত থেকে ছোট ব্যবসার সম্প্রসারণ ঘটাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

এডিবি বলছে, নীতি সংস্কারের মাধ্যমে এই কর্মসূচি কার্যকর করা হবে। যাতে, ক্ষুদ্র, কুটির, ছোট ও মাঝারি আকারের উদ্যোক্তা (সিএমএসএমইএস)-সহ জনগণের ব্যয় বাড়ানো যায় এবং নতুন রাজস্বের সুযোগ তৈরি হয়।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, অবকাঠামো খাতে সরকারি বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক তৎপরতা ও পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা থেকে দেওয়া হচ্ছে এই ঋণ সহায়তা।

এডিবির প্রধান অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ শ্রীনিভাষণ জানার্দানাম বলেন, এই কর্মসূচির অধীন সরকারের নতুন রাজস্বের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে সুযোগ করে দেবে।

তিনি বলেন, এই ঋণ সহায়তায় সরকারি বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণদের ঋণ সহায়তায় প্রবেশের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

রাজস্ব স্থায়িত্ব বাড়াতে মারাত্মকভাবে প্রয়োজনীয় স্বাভাবিক ও সামাজিক অবকাঠামোরর সীমাবদ্ধতা দূর করতে এই কর্মসূচি সরকারকে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

এছাড়া ২০২১-২২ সালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের প্রাক্কলন কমিয়ে ছয় দশমিক আট শতাংশ করেছে ম্যানিলাভিত্তিক ব্যাংকটি। গত এপ্রিলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি সাত দশমিক দুই শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পূর্বাভাস দিয়েছিল। সরকারও একই ধরনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২১-২২ রাজস্ব বছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে পাঁচ দশমিক এক শতাংশ।

কেবল বাংলাদেশ নয়, প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্যই কমিয়েছে এডিবি। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সম্মিলিত প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ এপ্রিলের ৯ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ ধরা হয়েছে।

প্রক্ষেপণ কমিয়ে আনার মূল কারণ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ। যা এ বছর পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দারুণভাবে ব্যাহত করেছে। করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক ডেল্টা ধরনের প্রাদুর্ভাবে এ বছরও কয়েক দফা লকডাউনের বিধিনিষেধ দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

পাশাপাশি টিকাদানের ধীরগতির কারণেও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না বলে এডিবি মনে করছে।
 

 

 
 

   Page 1 of 7
     অর্থ-বাণিজ্য
ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা তিনশ’ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানির আদেশ একশ’ কোটি টাকার পণ্য বিক্রয়
.............................................................................................
কৌশলগত ব্যবসা পরিচালনায় গ্রামীণফোনের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি
.............................................................................................
বাণিজ্যমেলার সময় বাড়ানোর দাবি
.............................................................................................
বাণিজ্য মেলায় লোকসানের ঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
১১টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে, উৎকন্ঠায় গ্রাহকরা
.............................................................................................
লাইসেন্স ছাড়া চলবে না সিএনজি স্টেশন
.............................................................................................
ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাকে মা ডেকেও রেহাই পেলেন না ব্যবসায়ীরা
.............................................................................................
মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে আরেক দফা ।
.............................................................................................
দ্রব্যমূল্য বেশি নিলে কঠোর ব্যবস্থা- বাণিজ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
ডিএসই পুঁজিবাজারকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর
.............................................................................................
বিশ্বের অন্যতম সেরা বিনিয়োগ গন্তব্য বাংলাদেশ
.............................................................................................
জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে রাজনৈতিক দলের প্রতিবাদ
.............................................................................................
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভাণ্ডারে এক্সিম ব্যাংকের কম্বল
.............................................................................................
আবারও বাড়লো ডলারের দাম
.............................................................................................
দাম বেড়েছে পেঁয়াজ-তেলের, তবে ডিমে...
.............................................................................................
বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে এডিবি
.............................................................................................
খুলনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রাক-বাজেট আলোচনা সভা
.............................................................................................
ময়মনংসিহরে ভালুকা উথুরা বাজারে অগ্রণী ব্যাংক এজেন্ট শাখার কার্যক্রম চালু
.............................................................................................
বর্ডারে চালের ট্রাক আটকে আছে, এলেই দাম কমবে: খাদ্যমন্ত্রী
.............................................................................................
মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে বাংলাদেশ
.............................................................................................
ঘরে বসেই যেভাবে ৩৬ টাকায় মিলবে পেঁয়াজ!
.............................................................................................
৩০ টাকায় টিসিবির পেঁয়াজ মিলবে কাল থেকে
.............................................................................................
ফের অস্থিতিশীল পেঁয়াজের বাজার!
.............................................................................................
‘পিঁয়াজের দাম মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে’
.............................................................................................
নতুন মাইলফলকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ
.............................................................................................
শস্য ও ফসল চাষের ঋণে আগ্রহ নেই ২৮ ব্যাংকের
.............................................................................................
দাম কমেছে স্বর্ণ ও রুপার
.............................................................................................
দেশে মাথাপিছু গড় আয় বেড়েছে ১৫৫ ডলার
.............................................................................................
আজ থেকে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম
.............................................................................................
সারা দেশে পানির দামে চামড়া বিক্রি!
.............................................................................................
চামড়া শিল্প নগরীতে অভিযান
.............................................................................................
নির্ধারিত দামের চেয়েও কমে বিক্রি হচ্ছে চামড়া
.............................................................................................
১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খুলে নেয়া যাবে নগদ সহায়তা
.............................................................................................
দাম বাড়বে যেসব পণ্যের
.............................................................................................
যেসব পণ্যের দাম কমবে
.............................................................................................
মোবাইল রিচার্জে ১০০ টাকায় ২৫ টাকা নেবে সরকার
.............................................................................................
বিড়ি-সিগারেটসহ তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়বে
.............................................................................................
দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের
.............................................................................................
বুড়িমারী স্থালবন্দর বন্ধ করে দিল ভারত
.............................................................................................
১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ঘাটতি বাজেট আসছে
.............................................................................................
১০ লাখ নতুন করদাতা শনাক্তের টার্গেট
.............................................................................................
দ্বিতীয় দিনেই শেয়ারবাজারে বড় দরপতন
.............................................................................................
শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু
.............................................................................................
৩১ মে থেকে স্বাভাবিক হচ্ছে ব্যাংকিং কার্যক্রম
.............................................................................................
ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি শুরু
.............................................................................................
৮০০ মিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা
.............................................................................................
দেড় মাস পর ভারত-বাংলাদেশের বানিজ্য শুরু
.............................................................................................
পোশাক শিল্পে ৫ হাজার কোটি টাকা অনুদান নয়, স্বল্পসুদে ঋণ
.............................................................................................
করোনা: অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবেলায় সিগারেটের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব
.............................................................................................
করোনার ধাক্কায় মন্দার কবলে বিশ্ব অর্থনীতি
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
নির্বাহী সম্পাদক: মোহাম্মদ রাসেল মোল্লা

ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু, সহ সম্পাদক: কাওসার আহমেদ । র্বাতা সম্পাদক: আবু ইউসুফ আলী মন্ডল, মাসুম হাসান৷ সহকারী-বার্তা সম্পাদক লাকী আক্তার । বার্তা বিভাগ ফোন০১৬১৮৮৬৮৬৮২

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, রেজিস্ট্রেশন নং 134 / নিবন্ধন নং 69 মোবাইল : 01731190131,E-mail- notunbazar2015@gmail.com, E-mail : mannannews0@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- notunbazar / সম্পাদক dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD