| বাংলার জন্য ক্লিক করুন
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|

   শেয়ার করুন
Share Button
   মতামত
  স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও ইন্দিরা গান্ধীর দায়িত্বশীল ভূমিকা
  14, March, 2020, 10:46:51:AM

শামীমা চৌধুরীঃ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭১ আর ইন্দিরা গান্ধী এই কটি শব্দ-উচ্চারণ বাংলাদেশের ইতিহাসকে অবিচ্ছেদ্য করে রেখেছে। ’৭১ সালের পুরো মুক্তিযুদ্ধে এই শব্দাবলি আমাদের নিরন্তর ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল এক সবুজ স্বাধীন স্বপ্নের ঠিকানার সন্ধানে। তাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধে আমরা কখনোই ভুলতে পারব না প্রতিবেশী ভারতের ভ্রাতৃপ্রতিম সহযোগিতার কথা। তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর অবদানের কথা।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি বহু জাতি, বহু ভাষাভাষী, বহু ধর্ম, বহু বর্ণের দেশ ভারত। ইন্দিরা গান্ধীর রাজনৈতিক জীবনের উত্থান সেই ভারতে। কংগ্রেস নেতা মতিলার নেহরু, মা কমলা নেহরু, পিতা পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ছিলেন ভারতের স্বাধীনতার অগ্রদূত। এই পরিবারে জন্ম নেওয়া ইন্দিরা যে স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রতি সহানভূতিশীল হবেন, এটাই স্বাভাবিক।

১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর ভারতের প্রভাবশালী ও বিখ্যাত পরিবার নেহরু পরিবারে জন্ম হয় ইন্দিরা গান্ধীর। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পথিক কংগ্রেস নেতা মতিলাল নেহরুর নাতনি, বাবা বিখ্যাত পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু আর মা কমলা দেবীর মেয়ে ইন্দিরা জন্মের পর থেকেই রাজনীতির সঙ্গে পরিচিত হয়েছিলেন। রক্তের সঙ্গেই তার মিশেছিল রাজনীতি। যেটা কি না সময় পেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে হয়ে উঠেছিল আরও গভীর। তিনি পড়াশোনা শেষ করেন অক্সফোর্ডে। সেখান থেকে ফিরে ১৯৩৪-৩৫ সালে যোগ দেন শান্তিনিকেতনে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার নামকরণ করেন প্রিয়দর্শিনী গান্ধী। সেই থেকে প্রিয়দর্শিনী গান্ধী নামেই পরিচিত হন ইন্দিরা। তবে ১৯৪২ সালে ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর ধীরে ধীরে নিজের মূল জায়গা অর্থাৎ রাজনীতিতে যোগ দিতে শুরু করেন ইন্দিরা। ১৯৬৪ সালে যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর কেবিনেটে তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেন তিনি। তবে তার রাজনৈতিক জীবনে বড় রকমের ঢেউ আসে যখন ১৯৬৬ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আসন অলংকৃত করেন তখন। মাঝখানে বেশ কিছু ঝামেলা পোহাতে হলেও নিজের কাজ দিয়ে অনেকটা এগিয়ে যান এই নারী। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও স্বীকৃতি পান ইন্দিরা। মোট ১৫ বছর ধরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আর তার দায়িত্বের এই ১৫ বছরের ভেতরেই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ঘটে যায় মুক্তিযুদ্ধ।

১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভ করা পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে কেবল পরিচয়গত নয়, বিদ্যমান ছিল ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনমানসহ বহু পার্থক্য। স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর হাতে সব বিষয়েই বৈষম্যের শিকার হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা। অর্থনীতি, রাজনীতি, সমাজ উন্নয়ন ইত্যাদিতে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের অনেক বেশি অবদান থাকা সত্ত্বেও পশ্চিম পাকিস্তানের কপালেই ছিল লাভের সিংহভাগ। অবহেলা আর বঞ্চনার বেদনা পুঞ্জীভূত হতে হতে তা রূপ নেয় প্রতিরোধ, আন্দোলনে। ধাপে ধাপে আন্দোলনটা গড়ায় স্বাধীনতা সংগ্রামে, সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে। বাংলাদেশ স্বাধীন হয় এক সাগর রক্তের বিনিময়ে। এ অর্জনের পেছনে মিত্র দেশগুলোর ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এদের অন্যতম হচ্ছে প্রতিবেশী দেশ ভারত আর ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে স্বাধীনতাকামী বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। তারা শুরু করে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ। মানুষ প্রাণের ভয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে আশ্রয় নেয়। ইন্দিরা সরকার তাদের খাদ্য ও জীবনের নিরাপত্তা দেয়।

১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল অবরুদ্ধ বাংলাদেশের মুজিবনগরের আম্রকাননে গঠিত হয় বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু পাকিস্তানি বাহিনীর ক্রমাগত হামলার কারণে সরকার পরিচালনা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে এ সরকারের কার্যক্রম চালানো বেশ দুরূহ ব্যাপার হয়ে পড়েছিল তখন। সে সময়ই এগিয়ে এলেন ইন্দিরা গান্ধী। তিনি ব্যবস্থা করে দেন এ সরকারকে অস্থায়ীভাবে ভারতে অবস্থান করার। ভারতের কলকাতায় প্রধান দপ্তর হিসেবে শুরু হয় প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের কাজ। এখান থেকেই বিশ্বের কাছে নিজেদের চাওয়ার কথা, অসহায়ত্বের কথা, পাকিস্তানের অন্যায় আক্রমণের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ। ধীরে ধীরে পৃথিবীর সব দেশে জোরদার সমর্থন গড়ে ওঠে বাংলাদেশের পক্ষে। ভারতে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর আমেরিকা আর লন্ডনের সঙ্গে ইতিবাচক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও আর খুব বেশি বাধা আসেনি বাংলাদেশের।

ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপন আর পরিচালনার ব্যবস্থাও করে দেন। এর মাধ্যমে কেবল বাইরের দেশের কাছেই নিজেদের কথা বলতে পারত না বাংলাদেশ, নিজেদের যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদেরও মানসিক সাহায্য ও অনুপ্রেরণা জোগাত সবসময়। যুদ্ধের সময় এতটাই ভালো প্রভাব রাখতে শুরু করে এ রেডিও স্টেশনটি যে, ধীরে ধীরে পাকিস্তানের রেডিও স্টেশনের প্রচারণা হুমকির মুখে পড়ে যায়। এ সময় দিল্লিতে ইন্দিরা গান্ধীর অনুমোদনে আয়োজন করা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ওপর তিন দিনের একটি বিশেষ সম্মেলন ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বাংলাদেশ। যেখানে অংশ নেয় ২৪টি দেশের প্রায় ১৫০ জন দূত। ১৯৭১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এ সম্মেলনের মাধ্যমেও পুরো বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের কথা তুলে ধরে ভারত। আর সবাইকে অনুরোধ করে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে। ১৯৭১ সালের ১৩ মে বেলগ্রেডের রাজধানী বুদাপেস্টে বিশ্বশান্তি কংগ্রেসের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেও ভারতের প্রতিনিধিদের দিয়ে বাংলাদেশের কথা বলেন ইন্দিরা গান্ধী। এ সম্মেলনে ৮০টি দেশের মোট ৭০০ জন প্রতিনিধি অংশ নেয়। আর তাদের কাছে নির্দিষ্ট একটি বার্তা পাঠান ইন্দিরা গান্ধী। বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২ লাখ মানুষ ভারতে চলে এসেছে। যেটা কি না ভারতের ওপর বেশ চাপ ফেলছে। উদ্বাস্তুরা যাতে নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারে সে রকম পরিবেশ তৈরি করার জন্য পাকিস্তানকে বাধ্য করা উচিত। আর সেটার জন্যই সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

আরব রাষ্ট্রগুলোর কাছে তুলে ধরেছিলেন সে সময়। আরব দেশগুলোকে বাংলাদেশের পক্ষে টানার জন্য ১৯৭১ সালের ২৩ মে মিশরের রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাতের কাছে একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠান। এতে বাংলাদেশে চলা গণহত্যার বিবরণ দেন তিনি। সেই সঙ্গে বিশ্বশান্তি বজায় রাখতে হলে যে আর সব দেশের মতো মিশরকেও বাংলাদেশকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে হবে সেটাও জানান সুস্পষ্টভাবে। কেবল রাষ্ট্রপতিদের কাছেই নয়, ইন্দিরা গান্ধী তখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিশেষ করে বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস, লন্ডন টাইমসে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও বাংলাদেশের স্বীকৃতি নিয়ে কথা বলেন। ১৯৭১ সালের ৮ আগস্ট বিশ্বের সব রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রাণরক্ষা ও মুক্তির দাবিতে একটি চিঠি পাঠান ভারতের এই বাঙালি দরদি প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী নিজেদের সর্বশক্তি প্রয়োগ করে বাংলাদেশের মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত ছিল। চালাচ্ছিল ব্যাপক গণহত্যা। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশে গণহত্যার পরিমাণ গিয়ে পৌঁছে তিন লাখে। ফলে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে মানুষ দলে দলে আশ্রয় নেয় প্রতিবেশী ভারতের মাটিতে। ইন্দিরা গান্ধী তাদের কাউকে ফিরিয়ে দেননি। উদ্বাস্তুদের সংখ্যা প্রতিদিন ৬০ হাজার করে হলেও তাদের জন্য আলাদা জায়গা, খাবার আর প্রয়োজনীয় সবকিছুর তদারকি করে ইন্দিরা গান্ধী সরকার। পুরো ৯ মাস এ কাজ চলে তার নির্দেশনায়। তখন ভারতের অর্থনৈতিক অবস্থা আজকের মতো ছিল না। ছিল দারিদ্র্য, বেকারত্ব। উন্নয়নশীল একটি দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। মানবতার জন্য সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি তিনি।

ইন্দিরা গান্ধী কেবল বেসামরিকই নয়, সামরিকভাবেও বাংলাদেশকে সাহায্য করে গেছেন মুক্তিযুদ্ধে। ২৫ মার্চের কালোরাতের পর শ্রমিক, কৃষক, ছাত্রসহ সব পেশার লোকজন মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। শুরু হয় যুদ্ধ। তবে পশ্চিম পাকিস্তানের বিশাল ও আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র আর অগণিত সৈন্যের কাছে সেটা ছিল নিতান্তই অপ্রতুল। আর এ সময়ই মুক্তিবাহিনীকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন ইন্দিরা গান্ধী। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ছিল না ভালো কোনো প্রশিক্ষণ। অদক্ষ, আনাড়ি বহু মানুষ ভারতের সামরিক বাহিনীর সহযোগিতায় গেরিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। গড়ে তোলা হয় মুক্তিযোদ্ধা গেরিলা বাহিনী। তাদের প্রয়োজনীয় সব অস্ত্রও ভারত সরকার সরবরাহ করে। ভারত সরকারের অনুরোধে রাশিয়াও এক্ষেত্রে সাহায্য করে মুক্তিযোদ্ধাদের। বাংলাদেশের মানুষের স্বাধীনতার এ যুদ্ধে প্রশিক্ষণ প্রদান আর অস্ত্রের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য তিনি খরচ করেন ভারতের প্রায় সাত হাজার কোটি রুপি। এমনকি ইন্দিরা গান্ধী বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে ভারতীয় সৈন্যদের পাঠিয়ে দেন বাংলাদেশকে সাহায্য করতে। এই যুদ্ধে ভারত হারায় তার প্রায় ৩ হাজার ৬৩০ সৈন্য। নিখোঁজ হয় আরও ২১৩ জন কর্মকর্তা।

একাধিক পরাশক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে রীতিমতো ঝুঁকি নিয়ে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এখানে বলা দরকার, ১৯৭১ সালে ভারতের রাজনীতি ও সরকার ব্যবস্থায় যেমন ছিল আমেরিকা-ঘেঁষা মানুষ, তেমনি ছিল রাশিয়াপন্থীরাও। রাশিয়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সমর্থক হলেও আমেরিকা ও চীন ছিল এর ঘোর বিরোধী। এই দেশ দুটি মনে করত এটা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ফলে ইন্দিরা গান্ধী সে সময় যে সিদ্ধান্তই নিতে গিয়েছিলেন, সেটাতেই কোনো না কোনো সমস্যার উদ্ভব হয়েছিল। কেউ না কেউ এসে ঠিক বাধা হয়ে দাঁড়ায়। একদিকে রাশিয়াপন্থী অন্যদিকে ভারতীয় বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আমেরিকাপন্থী এই দুই শক্তির অনৈক্য। প্রতিবেশী দেশ চীনের বাধা ও হুমকি, আমেরিকার মতো বড় একটি প্রতিপক্ষের বিরোধিতা সব মিলিয়ে বেশ অস্থিরতার ভেতরে ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী ও তার সরকার। তবে এসব কিছুকে ছাপিয়েই সে সময় অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে গেছেন তিনি। যদিও সঙ্গে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্য ছিল, কিন্তু সেটার অবস্থাও খুব একটা জোরালো ছিল না। বিশ্বযুদ্ধের পর অনেকটাই নমনীয় হয়ে পড়েছিল দেশটি বিশ্বের দরবারে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাও প্রবল ছিল। সবকিছুকে মানিয়ে প্রতিবেশী যুদ্ধাক্রান্ত দেশ বাংলাদেশকে সাহায্য করেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক নানা রকম বেড়াজালও ছিল তার চারদিকে। সেগুলোকে কাটাতে খানিকটা সময় লাগে ইন্দিরা গান্ধীর। যদিও এর ভেতরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বিভাগ এই বিষয়টি নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি বারবার শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির দাবি জানান। এই বিষয়টি নিয়ে একমাত্র শেখ মুজিবুর রহমানেরই বলার অধিকার আছে বলে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। কিন্তু এত কিছুর পরও সরাসরি স্বীকৃতি দিতে পারেননি তিনি বাংলাদেশকে তখনও।

১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তিনি সব ধরনের সমস্যার মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে ‘বাংলাদেশ’ বলে স্বীকৃতি দেন নিজের বক্তব্যের মাধ্যমে। নিজের বক্তব্য থেকে খুব সচেতনভাবে ‘পূর্ব বাংলা’ শব্দটি এ সময় কেটে ফেলে বাংলাদেশ শব্দটি উচ্চারণ করেন তিনি। তার এই বক্তব্য সারা বিশ্বে আলোড়িত হয়।

বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা চেয়েছিল। স্বাধীনতার জন্য বুকের রক্ত ঢেলেছিল। অসংখ্য নারী সম্ভ্রম হারিয়েছিল। সশস্ত্র যুদ্ধ করেছিল। তবে সেদিন যদি এই মমতাময়ী নারী স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের পাশে সর্বশক্তি নিয়ে না দাঁড়াতেন তা হলে এই অর্জনের জন্য জাতিকে আরও অনেক কঠিন আর দুঃসহ পথ পাড়ি দিতে হতো।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী, গণমাধ্যম গবেষক, সংস্কৃতিকর্মী



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 335        
   আপনার মতামত দিন
     মতামত
দুঃসময়ের দলীয় কান্ডারীদের মনে চাপা ক্ষোভ
.............................................................................................
কোভিড-১৯ ও আমাদের অনলাইন শিক্ষা
.............................................................................................
স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও ইন্দিরা গান্ধীর দায়িত্বশীল ভূমিকা
.............................................................................................
সড়ক পরিবহন আইনঃ আরো কঠোর করা সময়ের দাবি
.............................................................................................
বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত ৩,আহত ২৫
.............................................................................................
চট্টগ্রামে দেওয়ানহাটে স্বামীর হাতে স্ত্রী খুন
.............................................................................................
চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ
.............................................................................................
পিকআপ-অটোরিকশা সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ নিহত ৩
.............................................................................................
চট্টগ্রামে শিশু গৃহকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যু
.............................................................................................
রাঙামাটির লংগদুতে গলায় ফাঁস দিয়ে দুই স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা।।
.............................................................................................
খালুর সঙ্গে স্ত্রীর পরকীয়া, দু’জনকেই খুন করলো যুবক
.............................................................................................
রাঙামাটিতে পুলিশের গুলিতে পুলিশ সদস্য নিহত
.............................................................................................
চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল খালেদ ইকবাল
.............................................................................................
‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ প্রত্যাহার, দায় দিলেন ডিজাইনারক: বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি
.............................................................................................
লাঠি-বন্দুক উঁচু করবেন না পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে
.............................................................................................
চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় পোশাকশ্রমিক নিহত
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতি: এমপি লতিফের বিরুদ্ধে মামলা
.............................................................................................
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার প্রতিবাদে ছাত্রদলের বিক্ষোভ: চট্টগ্রাম মহানগর
.............................................................................................
কক্সবাজারে ১০ লাখ পিস ইয়াবাসহ ৭ জনকে গ্রেফতার
.............................................................................................
সাবেক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা
.............................................................................................
চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের অনুমতি পাচ্ছে ভারত
.............................................................................................
বঙ্গবন্ধুর মাথা কেটে নিজের শরীরে লাগালেন এমএ লতিফ
.............................................................................................
দেশের প্রথম বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রের উদ্বোধন চট্টগ্রামে
.............................................................................................
ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি, এএসআই প্রত্যাহার
.............................................................................................
চট্টগ্রামে হত্যা মামলায় ২ ভাইয়ের ফাঁসির আদেশ
.............................................................................................

|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
|
সম্পাদক ও প্রকাশকঃ এম.এ মান্নান
ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ খন্দকার আজমল হোসেন বাবু। র্বাতা সম্পাদক আবু ইউসুফ আলী মন্ডল, ফোন ০১৬১৮৮৬৮৬৮২

ঠিকানাঃ বার্তা ও বানিজ্যিক কার্যালয়- নারায়ণগঞ্জ, সম্পাদকীয় কার্যালয়- জাকের ভিলা, হাজী মিয়াজ উদ্দিন স্কয়ার মামুদপুর, ফতুল্লা, নারায়ণগঞ্জ। শাখা অফিস : নিজস্ব ভবন, সুলপান্দী, পোঃ বালিয়াপাড়া, আড়াইহাজার, নারায়ণগঞ্জ-১৪৬০, রেজিস্ট্রেশন নং 134 / নিবন্ধন নং 69 মোবাইল : 01731190131, 01930226862, E-mail : mannannews0@gmail.com, web: notunbazar71.com, facebook- notunbazar / সম্পাদক dhaka club
    2015 @ All Right Reserved By notunbazar71.com

Developed By: Dynamic Solution IT Dynamic Scale BD & BD My Shop